জ্বালানির উচ্চ মূল্যের অভিঘাতে এশিয়ার বহু দেশ ঋণ সংকটে পড়তে পারে

ভারত তুলনামূলকভাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে শক্তিশালী অবস্থানের কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সামাল দিতে পারলেও বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলংকার মতো দেশ বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

জ্বালানির দাম হঠাৎ বেড়ে গেলে তা শুধু আমদানি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতি বাড়ায় না, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে চাপ সৃষ্টি করে একটি দেশকে ঋণ সংকটের দিকেও ঠেলে দিতে পারে। এশিয়ার জ্বালানি আমদানিনির্ভর অর্থনীতিগুলো বিশেষত এ ঝুঁকিতে রয়েছে। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে এ অঞ্চলের নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলো নতুন বৈদেশিক অর্থায়নের তুলনায় ঋণ পরিশোধ ও সুদ বাবদ ৭৪১ বিলিয়ন ডলার বেশি ব্যয় করেছে। ফলে ভবিষ্যৎ জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় তাদের আর্থিক সুরক্ষা বলয় আরো দুর্বল হয়েছে।

ভারত তুলনামূলকভাবে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে শক্তিশালী অবস্থানের কারণে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি সামাল দিতে পারলেও বাংলাদেশ, পাকিস্তান ও শ্রীলংকার মতো দেশ বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। বাংলাদেশের ২০২৫ সালের জুনে রিজার্ভ ছিল ২৬ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার, যা দিয়ে চার মাসেরও কম সময়ের আমদানি ব্যয় মেটানো যেতে পারে। পাকিস্তানের বৈদেশিক অর্থায়নের প্রয়োজন প্রায় তার রিজার্ভের সমান এবং শ্রীলংকার সামনে রয়েছে বড় ঋণ পরিশোধের চাপ।

এ পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে ‘এনার্জি টু ডেবট স্ট্রেস টেস্ট’ চালুর প্রস্তাব দিয়েছে। পাশাপাশি সংকটকালে দ্রুত তারল্য সহায়তা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগের মাধ্যমে আমদানিনির্ভরতা কমানোর ওপর জোর দিয়েছে। জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ভবিষ্যৎ ঋণ সংকট প্রতিরোধের গুরুত্বপূর্ণ উপায়।

[সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের নিবন্ধ থেকে অনূদিত]

সৈয়দ মুনির খসরু: চেয়ারম্যান, আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংক আইপিএজি এশিয়া-প্যাসিফিক

আরও