বিশ্ব শিক্ষক দিবসে আমাদের কী নিয়ে আলোচনা করা উচিত

‘‌শিক্ষকতাকে একটি অংশীদারত্বমূলক পেশা হিসেবে পুনর্বিন্যাস’ স্লোগানের মধ্য দিয়ে আমরা প্রতি বছরের মতো এবারো আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালন করছি। এর বাংলা অর্থ হচ্ছে সহযোগিতামূলক পেশা হিসেবে শিক্ষকতাকে নতুন করে সাজাতে হবে। শিক্ষকতা একটি সহযোগিতামূলক পেশা, কিন্তু একে অন্যকে আমরা কতটা সহযোগিতা করছি? দিবসটি পালনের মধ্যে দিয়ে কী অর্জন হয়? একটু নাড়াচাড়া, কথাবার্তা, আবেগি কিছু আশ্বাস, মৌখিক কিছু সাজেশন—তাতে শিক্ষকদের প্রকৃত অবস্থার কোনো উন্নতি হয় কি? শিক্ষায় এর কোনো প্রভাব পড়ে না। তার পরও দিবসটি পালন করতে হয় এজন্য, কারণ শিক্ষা ও শিক্ষকদের নিয়ে অন্তত কিছু কথাবার্তা হয়। দিবসটিতে শিক্ষকদের উৎসাহিত করার জন্য আমাদের দেশে একটি ব্যবস্থা চালু আছে। সেটি হচ্ছে উপজেলা থেকে শুরু করে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচন। এটি কি প্রকৃতঅর্থে কোনো গুরুত্ব বহন করে বা শিক্ষকদের পেশাগত কোনো উন্নতির নির্দেশক? এটি দ্বারা কি শিক্ষকদের আসলেই উৎসাহিত করা যায় ও অন্য শিক্ষকদের জন্য বিষয়টি কতটা অনুকরণীয়?

একজন শিক্ষক যদি তার নিজ বিষয়ে অনেক সীমাবদ্ধতা ও সংকটের মধ্যেও এমন কিছু করতে পারেন যা অন্য শিক্ষকদের জন্য অনুকরণীয়, তাহলে তার একটি মূল্য আছে। শিক্ষকরা প্রাইভেট পড়ান, কিন্তু এমন একজন শিক্ষক যদি পাওয়া যায় যে তিনি গরিব শিক্ষার্থীদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে পড়াচ্ছেন, গরিব শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে কোনো অর্থ নিচ্ছেন না, কিংবা তিনি জীবনে কোনোদিন কোনো ঐচ্ছিক ছুটি নেননি অথবা কোনোদিন ক্লাসে বিলম্ব করেননি। সারা জীবন নিজে প্রশ্ন করেছেন, কোনো গাইড, নোট বা টেস্ট পেপারস থেকে হুবহু প্রশ্ন তুলে দেননি, যদি তার ক্লাসে সব অমনোযোগী শিক্ষার্থীও থাকেন। একজন শিক্ষক শ্রেণীকক্ষেও ভালো আবার সাংস্কৃতিক জগতেও রয়েছে সুনাম, এ জাতীয় কোনো বিষয়ের রেকর্ড থাকলে সেটি হাইলাইট করে একজন শিক্ষককে ক্রেডিট, উপহার ও স্বীকৃতি দেয়া যেতে পারে। কিংবা এমন কিছু শিক্ষক আছেন যারা শত সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও আধুনিক যুগের অনলাইন লার্নিং ডিজিটাল লার্নিংয়ের সঙ্গে খুব ভালোভাবে পারিচিত, নিজের জন্য, সহকর্মীদের জন্য এবং সর্বোপরি নিজেদের শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল লার্নিংয়ের সুযোগ-সুবিধা অবারিত করেছেন, তারা স্বীকৃতি পাওয়ার দাবিদার। কিন্তু শিক্ষা অফিসার, প্রধান শিক্ষক কিংবা অধ্যক্ষের সুনজরে থাকার কৌশল আয়ত্ত করে উপজেলা, জেলা, বিভাগ বা জাতীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক বনে যাওয়ার মানে আমি এখনো বুঝি না। রাষ্ট্রইবা এ ধরনের একটি বিতর্কিত বিষয়কে কেন লালন করছে তাও বুঝে আসে না। এর মাধ্যমে বিশ্ব শিক্ষক দিবসের কী তাৎপর্য উঠে আসে সেটিও বুঝতে পারি না। কিছু কিছু শিক্ষকের ক্ষেত্রে পত্রিকায় দেখতে পাই উপজেলা বা জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষক হয়েছেন, তার কিছু দিন পরে দেখা যায় তাদের নামে দুর্নীতির বিরাট খতিয়ান বের হয়।

শিক্ষার দুর্দশার সঙ্গে শিক্ষকদের দুর্দশা! দুটোই আমাদের দেশে প্রযোজ্য। বিশাল জনসংখ্যার দেশে শিক্ষাদানের জন্য যে পরিমাণ শিক্ষক দরকার সে পরিমাণ মানসস্মত গ্র্যাজুয়েট আমরা তৈরি করতে পারছি না। ফলে শিক্ষকতায় ঢুকে যাচ্ছেন মানহীন শিক্ষক। মানহীন শিক্ষক ঢুকে যাওয়ায় রাষ্ট্রের একটি দর্শনে মনে হচ্ছে যারা শিক্ষকতায় আছেন তারা যে সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন সেটিই যথেষ্ট, তাদের অতিরিক্ত আর কিছু দরকার নেই। কিন্তু সেটি কোনোক্রমেই যথেষ্ট নয়। তাদের সার্ভিস রুলস সেভাবে নেই। সেদিন এক বিদেশী সংস্থায় কর্মরত এক কর্মকর্তা আমাকে বললেন, ‘স্যার আমাদের সংস্থা দেশের বিভিন্ন প্রান্তে কিছু স্কুল-কলেজ চালাচ্ছে। সেখানে যেসব শিক্ষক ছিলেন তাদের সক্ষমতা ও অবদান আমি দেখলাম শূন্যের কোঠায়। এখানে নিয়মিত মনিটরিং হয়, শিক্ষকদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ হয়, তাদের পারফরম্যান্স মূল্যায়ন করা হয়।

অথচ অনেক শিক্ষক এগুলো থেকে বাঁচার জন্য বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষ (এনটিআরসিএ) পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে এমপিওভুক্ত বিদ্যালয়ে চলে গেছেন। তারা সেখানে বাচ্চাদের কী শিক্ষা দেবেন?’ আমি বললাম, ‘এনটিআরসিএ থেকে যদি তাদের পাস করানো না হয়, তাহলে তারা রাস্তাঘাট বন্ধ করে দেবেন। আর সেখান থেকে পাস করলেই যে সে খুব ভালো শিক্ষক তা তো নয়। তার কোনো ডিমনস্ট্রেশন হয় না, যা শিক্ষকতায় একান্ত দরকার। শিক্ষকতায় ঢুকে পড়ার পর তার কোনো মনিটরিং নেই, পারফরম্যান্স মূল্যায়ন নেই, উপরস্থদের কোনো চাপ নেই। বরং আপনাদের ওখানে প্রাইভেট পড়ালেও তার মধ্যে একটি জবাবাদিহিতা ছিল, এখন তো সেটিও নেই। এসব স্বাধীনতার জন্য তারা ওখানে চাকরি নিয়েছেন। দ্বিতীয় বিষয়টি হচ্ছে, বিশ্বব্যাংকের রিপোর্ট বলছে যে বাংলাদেশের শিক্ষার্থী যারা উচ্চ মাধ্যমিক পাস করেন, তাদের মান বা স্টান্ডার্ড বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সপ্তম শ্রেণীর সমান। এটি আমরা প্রত্যক্ষ করছি, শুধু আমাদের সে ধরনের কোনো তথ্য-উপাত্ত নেই। কারণ এ নিয়ে কেউ চিন্তা বা গবেষণা করেন না। এখানে শিক্ষা ব্যবস্থা, রাষ্ট্রীয় নীতি ও রাজনীতি সম্পৃক্ত। কিন্তু তার পরও এ মান উন্নয়নের জন্য শিক্ষকদের কি কিছুই করার নেই? এখানে শিক্ষকদের ভূমিকাও কিন্তু তলানিতে।

শিক্ষার মূল সমস্যাগুলোয় হাত না দিয়ে বড় বড় প্রকল্প নিয়ে আসা শিক্ষা দিবস পালনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। শিক্ষকদের মূল সমস্যাগুলোয় হাত দেয়া হচ্ছে না, শিক্ষার উন্নয়নের জন্য মূল জায়গাগুলোয় হাত দেয়া হচ্ছে না। শিক্ষকরা রাস্তায়, বৃষ্টি ও কাঁদার মধ্যে আন্দোলনরত আর মন্ত্রণালয় বড় বড় প্রকল্প নিয়ে ব্যস্ত! কীসের জন্য প্রকল্প, কাদের জন্য প্রকল্প? কারা বাস্তবায়ন করবেন এসব প্রকল্প? এমপিও-ভুক্ত বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারীদের উৎসব ভাতা বাড়ি ভাড়া ও চিকিৎসা ভাতা বাড়ানোর জন্য চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে অতিরিক্ত ৭৬৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা চেয়ে অর্থ উপদেষ্টার কাছে চিঠি দিয়েছেন শিক্ষা উপদেষ্টা। অর্থ মন্ত্রণালয় জানায়, এ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সিদ্ধান্ত হলেও সেটি সংশোধিত বাজেটে হতে পারে। বর্তমানে এমপিও-ভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সংখ্যা প্রায় ৩ লাখ ৯৮ হাজার ৬৮ জন। তাদের বাড়ি ভাড়া ভাতা মাসিক ২ হাজার টাকা করা হলে অতিরিক্ত লাগবে ৪৫৬ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

একইভাবে তাদের চিকিৎসা ভাতা মাসিক ১ হাজার টাকা হলে ২২৮ কোটি ৪৫ টাকা এবং কর্মচারীদের উৎসব ভাতার হার ৭৫ শতাংশ করা হলে ৮৪ কোটি টাকার প্রয়োজন। শিক্ষকদের উৎসব ভাতা ২৫-৫০ শতাংশে বাড়নো হয়েছে, কিন্তু কর্মচারীদের বিদ্যমান বোনাস ৫০-৭৫ শতাংশ বাড়ানো প্রয়োজন, তা না হলে তাদের মধ্যে হতাশা দেখা দেবে। উক্ত অর্থের জন্য শিক্ষা উপদেষ্টা অর্থ উপদেষ্টার কাছে চিঠি দিয়েছেন, যাতে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে অতিরিক্ত ৭৬৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকার সংস্থান করা হয়। শিক্ষকদের অর্থনৈতিক সমস্যা ও চাকরির বিষয়গুলোর অধিকাংশই চলছে এডহক ভিত্তিতে। এমপিও সিস্টেমটাই একটি এডহক পদ্ধতি! এর স্থায়ী সমাধান নিয়ে চিন্তা না করে শত শত ও হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প নেয়া হয় তথাকথিত শিক্ষার উন্নয়নের জন্য! তাতে কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

আমদের শিক্ষার উন্নয়নের নাম দিয়ে বড় বড় প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। শিক্ষায় হাজার হাজার মূল সমস্যা, শিক্ষার্থীদের সমস্যা, পরীক্ষার পদ্ধতিতে সমস্যা, পড়ানোয় সমস্যা, শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থী না আসার সমস্যা, শিক্ষকদের অর্থনৈতিক সমস্যা, চাকরিবিধির সমস্যা, সরকারি বেসরকারি এমপিও নন-এমপিও সমস্যা, গ্রাম ও শহরের প্রতিষ্ঠানবিষয়ক সমস্যা—এগুলোর ধারে কাছেও না গিয়ে বিশাল অংকের প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে। এগুলোর প্রভাব শিক্ষাক্ষেত্রে পড়ে না, পড়লেও বৈষম্যসহ পড়ে।

প্রকল্পগুলো গ্রহণ করা হয় অ্যাডমিন ক্যাডারের কর্মকর্তাদের পদ বাড়ানো, নতুন গাড়ি বিলাস, বিদেশ যাত্রা বিলাস আর সঙ্গে কিছু সরকারি শিক্ষকদের অতিরিক্ত অর্থ উপার্জনের ব্যবস্থা করার জন্য! তারা যেহেতু নিজেদের প্রতিষ্ঠানের, নিজ নিজ শ্রেণীকক্ষে পড়ানো বাদ দিয়ে এসব প্রকল্পে মাস্টার বা ট্রেইনার হতে পারেন, তাই তারা বিষয়টিকে খুব আগ্রহ ভরে নেন। কারণ এর মাধ্যমে আমলাদের সঙ্গে যোগাযোগের একটি পথও খুলে যায়। তাই তারা বিষয়টিকে আশীর্বাদ হিসেবে দেখেন আর অতিরিক্ত অর্থোপার্জন তো আছেই। কিন্তু শিক্ষার মূল সমস্যা বা উন্নয়নের ক্ষেত্রে এসব প্রকল্পের অবদান একেবারেই ক্ষীণ!

এসব প্রকল্প ও বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু শিক্ষক আছেন, যারা শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন নিয়ে ব্যস্ত! কত ধরনের মূল্যায়ন, কত প্রকারে করা যায়, কোন দেশে কীভাবে করা হয় ইত্যাদি নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু কাদের মূল্যায়ন করবেন? ঢাকার তথাকথিত নামকরা দু’চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া অধিকাংশ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা বাংলা বা ইংরেজি, কোনো বইই ভালোভাবে পড়তে পারেন না। সেই বিষয়ের খোঁজ কি আমরা রাখছি? কী অ্যাসেস করব? তাদের পড়া, বোঝা, কোনো বিষয় হৃদয়ঙ্গম করানোর বাস্তব উপায়গুলো কী, সেগুলো নিয়ে কথা বলতে হবে, আলোচনা করতে হবে। তাদের ক্রিয়েটিভিটি নিয়ে অনেক কথা হয়, কিন্তু ক্রিয়েটিভিটি বাড়ানো বা তা চর্চা করানোর কোনো সঠিক ব্যবস্থা কি আমরা চালু করতে পেরেছি?

শিক্ষার্থীরা শ্রেণীকক্ষে আসেন না, শ্রেণীকক্ষের আকর্ষণ বাড়াতে আমাদের অনেক গবেষক মাল্টিমিডিয়ায় বিভিন্ন ধরনের ডিভাইস ব্যবহার করার পরামর্শ দেন। কিন্তু আমাদের অধিকাংশ বিদ্যালয় আধুনিক সুবিধার বাইরে, তাদের জন্য কী করা যায়, সে আলোচনা নেই। আজ বিশ্ব শিক্ষক দিবসে এসব আলোচনা করতে হবে, শিক্ষকদেরই এগিয়ে আসতে হবে। আলোচনা, সমাধান ও সম্ভাব্য ক্ষেত্রে লাগসই প্রযুক্তির কথা বলতে হবে, পরামর্শ দিতে হবে যেগুলো বাস্তবে করা যায়। এসব নিয়ে কথা না বলে একজন শিক্ষককে বিভিন্ন বিশেষণে বিশেষায়িত করা আর শিক্ষাক্ষেত্রে বিরাজমান সমস্যার পাহাড় তুলে ধরা, সেই সঙ্গে সরকারে যারা আছেন চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করা নিয়ে ব্যস্ত থাকলে এ দিবসের প্রকৃত তাৎপর্য অর্জিত হবে কি?

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের আওতায় মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৮ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত মেয়াদকালে লেইস (লার্নিং অ্যাক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন) প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের শিখন ত্বরান্বিতকরণ ও ধরে রাখার হার বৃদ্ধি, শিক্ষকদের দক্ষতা উন্নয়ন এবং মাধ্যমিক শিক্ষাব্যবস্থা ও সহনক্ষমতা উন্নয়নের লক্ষ্যে। এ ধরনের বহু প্রকল্প সরকার গ্রহণ করে, বাস্তবায়ন করে। কিন্তু শিক্ষকদের অবস্থা, শিক্ষার অবস্থা আর শিক্ষার্থীদের অবস্থা দিন দিন যেন আরো নিম্নগামী হচ্ছে। আমি একজন এসএসসি পরীক্ষার্থীকে কোনো এক প্রসঙ্গে জিজ্ঞেস করলাম, ‘আচ্ছা ‘‘রাইট’’ শব্দটির পাস্ট ফর্ম আর পাস্ট পার্টিসিপল ফরম কী। ছেলেটি রাইট ঠিকভাবে বলতে পারল না, অনেকক্ষণ চেষ্টা করল। কিন্তু পাস্ট ফরম বলতে পারল না। আমি গল্প করছি না, এটি বাস্তব ও ঢাকার একটি বিদ্যালয়ের চিত্র। এভাবে শিক্ষার্থীদের আত্মার উন্নতি হচ্ছে না।

শিক্ষকদের পড়ানোয় কোনো পরিবর্তন আসেনি। একটি অনুষ্ঠানে বেশ কয়েক দিন উপস্থিত থাকতে হয়েছে গণিতে দুর্বল শিক্ষার্থীদের বিশেষ ব্যবস্থায় পড়ানোর জন্য শিক্ষকরা ম্যাটেরিয়ালস তৈরি করছেন, সেটি দেখার জন্য। তারা গণিত বোঝানোর জন্য বাস্তব উদাহরণ কতটা ব্যবহার করছেন, সেটি দেখার বিষয়। কিন্তু দেখলাম, সে পুরনো স্টাইলে, বইয়ে যা আছে তাই যা দুর্বল শিক্ষার্থীদের বোঝার কথা নয়। তাই তারা করে যাচ্ছেন। অর্থাৎ কোথাও তেমন উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি। পরিবর্তন যদি হয়ে থাকে সেটি হয়েছে ব্যক্তিগত প্রচেষ্টায় কিংবা ব্যক্তিগত বা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের কমিটির কারণে। সরকারের প্রচেষ্টায় কোনো পরিবর্তন হয়নি। শুধুই বাহ্যিক চেহারায় হয়তো কিছু পরিবর্তন হয়েছে, কিন্তু প্রকৃত জায়গায় অনেক ফাঁকা! আজ আমাদের এসব বিষয় নিয়ে খোলাখুলি কথা বলা উচিত।

মাছুম বিল্লাহ : শিক্ষা বিশেষজ্ঞ ও গবেষক

আরও