বইটির
নাম
Markets,
Morals and Development: Rethinking Economics from a Developing Country
Perspective. এটি লিখেছেন
বাংলাদেশের
একজন
স্বনামধন্য
অর্থনীতিবিদ
অধ্যাপক
ওয়াহিদউদ্দিন
মাহমুদ।
সম্প্রতি
পুস্তকটি
‘Routledge-UK’
কর্তৃক
প্রকাশিত
হয়েছে।
এখনই
এর
ই-সংস্করণ
পাওয়া
যাচ্ছে।
শিগগির
পুস্তকাকারে
ছাপা
কপিও
বাজারে
আসবে।
ঢাকায়
দেয়া
লেখকের
কয়েকটি
জনবক্তৃতার
আধেয়
নিয়েই
প্রধানত
তৈরি
হয়েছে
এ
গ্রন্থের
অবয়ব।
বইটির
প্রকাশনা
উৎসব
উপলক্ষে
গত
৭
নভেম্বর
বিআইডিএস
ঢাকার
‘লেক
শোর’
হোটেলে
একটি
অনাড়ম্বর
অনুষ্ঠানের
আয়োজন
করে।
এতে
লেখক
নিজে
তার
সদ্য
প্রকাশিত
বইয়ের
বিষয়বস্তু
সংক্ষেপে
উপস্থাপন
করেন।
অর্থশাস্ত্রকে
কীভাবে
আরো
মানবিক
করা
যায়,
এর
তত্ত্বকথাকে
ব্যবহার
করে
আমাদের
বাস্তব
জীবনের
সমস্যাগুলোকে
কী
করে
অধিকতর
সহজে
বোঝা
যায়,
পুঁজিবাদী
বাজার
ব্যবস্থায়
কেমন
করে
মুনাফাকে
নৈতিকতার
সঙ্গে
কার্যকরভাবে
সমন্বিত
করা
যায়
এবং
কী
করে
অর্থনৈতিক
উন্নয়নের
সঙ্গে
সমাজে
গণতন্ত্র
ও
জবাবদিহিতা
কায়েম
করা
যায়—এসব
বিষয়ের
ওপর
উপস্থাপক
গভীর
আলোকপাত
করেন।
ওই
আয়োজনে
ঢাকার
অনেক
জ্ঞানী-গুণী
ব্যক্তি
হোটেলের
বলরুমে
সরজমিনে
জড়ো
হয়েছিলেন।
এছাড়া
‘জুম’-এর
মাধ্যমে
দেশ-বিদেশের
আরো
প্রায়
৫০
জন
বিদ্যানুরাগী
নারী-পুরুষ
এ
আনন্দ
উদ্যোগে
যুক্ত
হন।
সৌভাগ্যক্রমে
আমিও
ছিলাম
তাদের
মধ্যে
একজন।
সেদিন
যা
শুনেছি
এবং
পরে
বইটির
পিডিএফ
ফাইলের
ওপর
চোখ
বুলিয়ে
যা
বুঝেছি
তার
ভিত্তিতেই
আমার
আজকের
এই
রচনা।
উন্নয়নশীল দেশে অর্থনীতি যেভাবে পড়া ও পড়ানো হয়, তাতে দুটো সমস্যার কথা লেখক শুরুতেই উল্লেখ করেছেন। ১. অনেক সময় তত্ত্বের সঙ্গে বাস্তবের খুব একটা মিল খুঁজে পাওয়া যায় না; ২. পশ্চিমা দেশের পাঠ্যবইয়ে যেসব উদাহরণ দেয়া হয়, তা অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের জন্য জুতসই নয়। ফলে অর্থশাস্ত্রের গতানুগতিক জ্ঞানের তালিম দিতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর শিক্ষকদের বেশকিছু অসুবিধা হয়। কীভাবে এ দুটো সমস্যা সামাল দেয়া যেতে পারে, সুন্দর সুন্দর উদাহরণ দিয়ে অধ্যাপক মাহমুদ তা বুঝিয়ে দিয়েছেন। আমি এখানে তার সঙ্গে আরেকটু যোগ করতে চাই। যেমন অর্থনীতি প্রথম বর্ষে মাইক্রোইকোনমিকস ক্লাসে পড়ানো হয়—একটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ততক্ষণ পর্যন্ত পণ্য উৎপাদন বাড়াতে থাকে যতক্ষণ না তার MC = MR হয়। কিন্তু আমরা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কোথাও এর কোনো প্রয়োগ চোখেও দেখি না, অনুভবেও পাই না। তার পরও এটা আমরা পড়ি এবং পড়াই একটা আদর্শিক অবস্থাকে বোঝা ও বোঝানোর জন্য। ম্যাক্রোইকোনমিকসে শেখানো হয় AD ও AS সমান সমান হলেই অর্থনীতিতে ‘ইকুইলিব্রিয়াম’ অবস্থা বিরাজ করে। এ দাবিও অবাস্তব ও অবান্তর, কারণ কোনো দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি কখনই ইকুইলিব্রিয়ামে থিতু থাকে না। তার পরও এটা আমাদের পক্ষে শেখা ও শেখানো দরকার। না জানলে বুঝব কী করে, আমরা ইকুইলিব্রিয়াম থেকে কতটা দূরে আছি। পাঠ্যপুস্তকের উদাহরণের কথা যদি বলি, যেভাবে আমেরিকায় ‘মুক্ত বাজার কার্যক্রম’ নীতির অধীনে খোলাবাজারে ‘Treasury bills’ কেনাবেচা হয়, তা তো আর বাংলাদেশে হয় না। তাই স্বদেশের মাটিতে মুদ্রানীতি ভিন্নভাবে কাজ করে। এমন বাস্তবতায় যারা শ্রেণীকক্ষে ছাত্রছাত্রীদের পড়ান তাদেরকে বিদেশী পাঠ্যবইয়ের বাইরে গিয়ে অনেক পড়াশোনা করে যথাযথ প্রস্তুতি নিয়েই ক্লাসে যেতে হয়।
গ্রন্থটির বিভিন্ন
জায়গায়
বিভিন্ন
প্রসঙ্গে
লেখক
সম্পদ,
আয়-বণ্টন
ও
আয়বৈষম্য
নিয়ে
কথা
বলেছেন।
হয়তোবা
সীমিত
পরিসরের
কারণে
তিনি
বিষয়টির
গভীরে
যাওয়ার
সুযোগ
পাননি।
সমস্যাটির
গুরুত্ব
বিবেচনায়
আমি
তথ্য-উপাত্ত
সহকারে
দু-চারটি
কথা
বলতে
চাই।
৩০
বছর
আগে
‘সোভিয়েত
ইউনিয়ন’
ভেঙে
যাওয়া
এবং
দুই
জার্মানির
এক
হয়ে
যাওয়ার
পর
থেকে
বিশ্বমঞ্চে
সমাজতন্ত্রের
পশ্চাত্পদযাত্রা
শুরু
হয়।
বর্তমানে
‘কিউবা’
ও
‘উত্তর
কোরিয়া’
ছাড়া
প্রায়
গোটা
দুনিয়া
পুঁজিবাদের
পথ
ধরেই
এগোচ্ছে।
এ
সময়ে
বৈষয়িক
দিক
থেকে
বিশ্ব
অর্থনীতি
অনেক
দূর
এগিয়েও
গেছে।
১৯৯০
সালে
বৈশ্বিক
জিডিপি
ছিল
২২
দশমিক
৫৯
ট্রিলিয়ন
ডলার।
এর
পরিমাণ
বেড়ে
২০২০-এ
এসে
দাঁড়িয়েছে
৮৪
দশমিক
৫৪
ট্রিলিয়ন
ডলার
(Source:
Google.com)। এ
সময়ে
সারা
দুনিয়ায়
যেমন
বেড়েছে
মানুষের
আয়-উপার্জন,
তেমনি
জায়গায়
জায়গায়
গড়ে
উঠেছে
সম্পদের
পাহাড়
এবং
দেশে
দেশে,
মানুষে
মানুষে
বৈষয়িক
বৈষম্য
উল্লেখযোগ্য
পরিমাণ
বৃদ্ধি
পেয়েছে।
ক্রেডিট
সুইস
গ্লোবাল
ওয়েলথ
রিপোর্ট-২০২১ অনুযায়ী
দেখা
যায়,
গত
বছর
নাগাদ
মোট
বৈশ্বিক
সম্পদের
পরিমাণ
দাঁড়িয়েছে
আনুমানিক
৪১৮
ট্রিলিয়ন
ডলার।
আশ্চর্যজনক
হলেও
সত্য,
এর
মধ্যে
সবচেয়ে
উপরের
মাত্র
১
শতাংশ
মানুষের
কব্জায়
আছে
৪৩
শতাংশ
সম্পদ
এবং
নিচের
৮০
শতাংশ
মানুষের
ভাগ্যে
জুটেছে
মাত্র
৬
শতাংশ।
অবশিষ্ট
মধ্যবিত্ত
নামধারী
১৯
শতাংশ
‘হতভাগা’র
ভাগ্যে
আছে
৫১
শতাংশ
সম্পদ।
মধ্যবিত্তদের
হতভাগা
বলছি
এজন্য
যে
তারা
না
পারে
১
শতাংশের
মতো
কর
ফাঁকি
দিতে
আর
না
পারে
৮০
শতাংশের
সঙ্গে
গিয়ে
সরকারি
সাহায্যের
লাইনে
দাঁড়াতে।
উপরন্তু,
করের
বড়
অংশের
জোয়াল
কাঁধে
নিয়ে
শক্ত
জমিনে
তারা
যখন
লাঙলখানা
টানে
তখন
হাড়ে
হাড়ে
টের
পায়
‘মড়ার
উপর
খাঁড়ার
ঘা’
কাকে
বলে।
ইউটিউবে দেখলাম
এক
ভদ্রলোক
বিষয়টি
অন্যভাবে
তুলে
ধরেছেন।
আজ
পৃথিবীর
সেরা
৩০০
ধনী
লোকের
হাতে
যত
অর্থবিত্ত
কুুক্ষিগত
আছে
তা
গরিব
৩০০
কোটি
মানুষের
সম্মিলিত
সম্পদের
চেয়েও
বেশি।
চীন,
ভারত,
মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্র
ও
ব্রাজিলের
তাবৎ
মানুষ
যোগ
করলেও
৩০০
কোটি
হয়
কিনা
আমার
সন্দেহ।
বিশ্ব
গরিবদের
জন্য
এই
‘দানবিক’
বৈষম্যমূলক
ভাগ্যবিড়ম্বনা
একদিনে
তৈরি
হয়নি।
এরও
আছে
একটি
গুরুত্বপূর্ণ
ঐতিহাসিক
প্রেক্ষাপট।
এখন
থেকে
প্রায়
২৬০
বছর
আগে
পৃথিবীর
ধনী
দেশগুলো
গরিব
দেশগুলোর
চেয়ে
মাত্র
তিন
গুণ
সম্পদশালী
ছিল।
১৭৬০-এর
দশক
থেকে
পরবর্তী
৮০
বছরের
মধ্যে
ইউরোপে
ঘটে
যায়
‘শিল্প
বিপ্লব’-এর
মতো
একটি
অভূতপূর্ব
ঘটনা।
ফলে
উপনিবেশবাদের
শেষ
প্রান্তে
এসে
১৯৬০-এর
দিকে
ধনী
দেশগুলোর
ধনদৌলত
গরিবদের
তুলনায়
হয়ে
যায়
৩৫
গুণ।
বর্তমানে
এ
ফারাক
৮০
গুণে
এসে
ঠেকেছে।
বাস্তবতার
বিবেচনায়
দয়া
পরবশ
হয়ে
ধনী
দেশগুলো
গরিব
দেশগুলোকে
বছরে
প্রায়
১৩০
বিলিয়ন
ডলার
খয়রাতি
হিসেবে
দিয়ে
থাকে।
তার
পরও
এই
ধনী-গরিব
তফাত
কমছে
তো
না-ই,
বরং
দিনে
দিনে
আরো
বাড়ছে।
এর
কারণ
বোঝা
কঠিন
কিছুই
নয়।
ধনী
ইউরোপ-আমেরিকার
বহুজাতিক
কোম্পানিগুলো
কর
ফাঁকির
উদ্দেশ্যে
‘ট্রেড
মিসপ্রাইসিং’য়ের
মাধ্যমে
প্রতি
বছর
বাকি
সব
গরিব
দেশ
থেকে
৯০০
বিলিয়ন
ডলার
শুষে
নিয়ে
যায়।
এছাড়া
ঋণের
সুদ-কিস্তি
বাবদ
বিত্তশালীরা
গরিবদের
কাছ
থেকে
বছরে
আরো
৬০০
বিলিয়ন
ডলার
পায়।
এখানেই
শেষ
নয়,
বৈশ্বিক
বৈষম্যের
তেলেসমাতি
আরো
আছে।
ধনী
দেশগুলো
কর্তৃক
কম
উন্নত
ও
উন্নয়নশীল
অঞ্চলের
ওপর
একতরফাভাবে
চাপিয়ে
দেয়া
বাণিজ্যনীতির
মারপ্যাঁচে
বছরে
অতিরিক্ত
৫০০
বিলিয়ন
ডলার
গরিবদের
কাছ
থেকে
আপসে
ধনীদের
হাতে
চলে
যায়।
এভাবে
ছলে-বলে-কলে-কৌশলে
ধনী-উন্নত-বিশ্ব
অন্যান্য
দেশ
থেকে
প্রতি
বছর
হাতিয়ে
নেয়
সাকল্যে
২
ট্রিলিয়ন
ডলার।
(youtube.com/watch?v=uWSxzjyMNpU)।
পুঁজিবাদী বাজার
ব্যবস্থার
একটি
অন্ধকার
দিক
খোলাসা
করে
বোঝানোর
জন্য
লেখক
এক
জায়গায়
নোবেল
বিজয়ী
অর্থনীতিবিদ
মিল্টন
ফ্রিডম্যানের
একটি
চমত্কার
উদ্ধৃতি
তুলে
ধরেছেন।
ফ্রিডম্যান
তার
স্বভাবসুলভ
ভঙ্গিতে
বলে
গেছেন,
‘The
business of business is business.’ এর
মানে
ব্যবসার
শুরুতে
মুনাফা,
শেষে
মুনাফা
এবং
সবসময়ই
মুনাফা।
মুনাফাই
পুঁজিবাদের
একমাত্র
ধর্ম।
আপাতদৃষ্টিতে
অন্য
কোনো
বিবেচনায়
বড়
বড়
কোম্পানি
অন্য
কিছু
করতে
চাইলেও
লোকচক্ষুর
অন্তরালে
আখেরে
তারা
সেটাকেও
মুনাফার
কাজেই
লাগাতে
চায়—কখনো
সফল
হয়,
কখনো
হয়
না।
করপোরেট
সোস্যাল
রেসপন্সিবিলিটি কিংবা
সিএসআর
হলো
এ
রকমই
একটি
প্রচেষ্টা।
এ
প্রেক্ষাপটে
লেখক
প্রশ্ন
তুলেছেন,
পুঁজিবাদী
ব্যবস্থায়
মুনাফাই
কি
সব
কথার
শেষ
কথা,
নাকি
অন্য
কোনো
মানবিক
ও
নৈতিক
বিবেচনাও
আছে?
এখানে
লাগামহীন
লোভ-লালসা
ছাড়া
ন্যায়নিষ্ঠা,
মানবসেবা,
নীতি-নৈতিকতা
ইত্যাদির
কি
কোনোই
জায়গা
নেই?
এসবের
উত্তরে
তিনি
অনেক
জুতসই
উদাহরণ
দিয়ে
সমাজে
মানবিক
মূল্যবোধ
জাগিয়ে
তোলার
চেষ্টা
করেছেন।
নীতি বিবর্জিত
ব্যবসায়ীরা
কীভাবে
সৎ
ব্যবসায়ীদের
ধীরে
ধীরে
বাজার
থেকে
হটিয়ে
দিয়ে
পুরো
বাজার
কব্জা
করে
নেয়—এ
ইন্দ্রিয়গোচর
বিষয়টি
ব্যাখ্যা
করতে
গিয়ে
অধ্যাপক
মাহমুদ
দুধ
বাজারে
অসৎ
গোয়ালার
উদাহরণ
টেনে
এনেছেন।
খাঁটি
দুধের
বাজারে
যদি
দু-একজন
ভেজাল
দুধ
সরবরাহকারী
ঢুকে
পড়ে
তাহলে
একসময়
বিষয়টি
জানাজানি
হয়ে
যায়।
তাই
বাজারে
ভেজাল
দুধের
ঝুঁকি
থাকায়
তখন
ক্রেতারা
দুধের
স্বাভাবিক
‘বাজারদর’
দিতে
চান
না।
ভেজাল
বিক্রেতারা
খুশিমনে
তাদের
ভেজাল
পণ্যের
স্বল্পমূল্য
মেনে
নেয়,
কিন্তু
এতে
সৎ
ব্যবসায়ীদের
অসুবিধা
হয়
এবং
তাদের
কেউ
কেউ
বাজার
থেকে
ছিটকে
পড়েন।
এ
রকম
বাজারে
যখন
আরো
নতুন
নতুন
সুযোগসন্ধানী,
মুনাফা
শিকারি
ও
ভেজাল
কারবারি
এসে
ভিড়
করে
তখন
দুধের
দাম
আরো
পড়ে
যায়।
ফলে
সৎ
ব্যবসায়ীদের
পক্ষে
বাজারে
টিকে
থাকাটাই
কঠিন
হয়ে
পড়ে।
এভাবে
দেখা
যায়,
যত
বেশি
খারাপ
ব্যবসায়ী
বাজারে
এসে
যুক্ত
হয়
ততই
ভালো
ব্যবসায়ীরা
বাজার
ছেড়ে
পালিয়ে
বাঁচতে
চান।
আমি
এটাকে
বলতে
চাই
দুধের
বাজারে
Gresham’s
Law (‘Bad money drives good money out of market.’)
এ প্রসঙ্গে
লেখক
আরেকটি
চমত্কার
উদাহরণ
দিয়েছেন।
রক্তের
দাম
যদি
বেড়ে
যায়,
তাহলে
মানবিক
কারণে
যারা
বিনা
মূল্যে
রক্তদান
করেন,
তাদের
কেউ
কেউ
রক্ত
দেয়া
বন্ধ
করে
দিতে
পারেন।
কারণ
তাদের
সম্পর্কে
সমাজে
মানুষের
মনে
এমন
ভুল
ধারণা
তৈরি
হতে
পারে,
‘লোকটি
বড়
লোভী—টাকার
লালসায়
রক্ত
বিক্রি
করছে।’
ফলে
এমন
হতে
পারে
রক্তের
দাম
বাড়লেও
সরবরাহ
বাড়ার
বদলে
বরং
কমে
যাওয়ার
ঝুঁকি
তৈরি
হয়।
এতে
সরবরাহ
রেখা
আশ্চর্যজনকভাবে
Negatively
sloped হয়ে যেতে
পারে।
এমন
পরিস্থিতিতে
বাজারে
Equilibrium
পাওয়া
যেতে
পারে
আবার
নাও
যেতে
পারে।
এবার দেখা
যাক
পুঁজিবাদে
নীতি-নৈতিকতা
সম্পর্কে
অ্যাডাম
স্মিথ
তার
বিখ্যাত
ওয়েলথ
অব
নেশনসে
কী
বলে
গেছেন।
আরো
অনেক
কথার
সঙ্গে
এ
প্রসঙ্গে
তিনি
বলেছেন,
‘ইনভিজিবল
হ্যান্ড’-এর
কথা।
এ
যুগল
শব্দের
মাঝে
মহানুভবতা
ও
পরোপকারের
কোনো
বিষয়
নেই,
আছে
শুধু
নির্মল
ব্যক্তিস্বার্থজাত
তাগাদা।
অবশ্য
তার
আগে
এই
লেখকও
দার্শনিক
প্রকাশ
করেছেন
তার
প্রথম
সাড়া
জাগানো
বই
‘দ্য
থিউরি
অব
মোরাল
সেন্টিমেন্টস’-এ।
ওই
গ্রন্থে
স্মিথ
একই
প্রসঙ্গে
আরো
একটা
চমকপ্রদ
নৈতিক
ধারণা
ব্যবহার
করেছেন।
ক্রেতা-বিক্রেতারা
যাবতীয়
অর্থনৈতিক
কর্মকাণ্ড
ও
লেনদেনের
সময়
মনে
করেন,
একজন
অদৃশ্য
কাল্পনিক
দর্শক
আছেন।
তিনি
যাবতীয়
ব্যবসা-বাণিজ্য
ও
অর্থনৈতিক
লেনদেন
সার্বক্ষণিকভাবে
পর্যবেক্ষণ
করেন।
তিনি
সর্বজ্ঞানী
এবং
সব
খবর
রাখেন।
তিনি
ন্যায়বিচারক
ও
নিঃস্বার্থ।
এর
ওপর
সব
প্রকার
লেনদেনের
ক্ষেত্রে
তিনি
বিশেষ
করে
গরিব
ও
দুর্বল
পক্ষের
প্রতি
সহানুভূতিশীল
ও
দরদি।
ব্যবসা-বাণিজ্যে
ও
অর্থনৈতিক
লেনদেনে
অংশগ্রহণকারী
ক্রেতা-বিক্রেতারা
স্মিথের
কথামতো
যদি
সার্বক্ষণিক
এই
দর্শকের
কথা
মনে
রাখেন
তাহলে
সমাজে
অসদাচরণ
ও
দুর্নীতি
কমতে
পারে,
সাধারণ
মানুষের
দুর্ভোগ
লাঘব
হওয়ার
সম্ভাবনাও
তৈরি
হয়
এবং
দেশ
ও
জনগণ
উপকৃত
হতে
পারে
বলে
আশা
করা
যায়।
বাংলাদেশসহ
পৃথিবীর
প্রতিটি
দেশের
বর্তমান
বাজার
ব্যবস্থায়
তাবৎ
অসহায়
ও
দুর্বল
সাধারণ
ক্রেতা-ভোক্তাদের
স্বার্থরক্ষায়
এ
দরদি
দর্শককে
আমলে
নেয়া
বড়ই
প্রয়োজন।
[চলবে]
আবু এন এম ওয়াহিদ: অধ্যাপক, টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটি
ম্যানেজিং এডিটর: জার্নাল অব ডেভেলপিং এরিয়াজ