অথচ আমাদের দেশীয় তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে জোর দেয়া জরুরি ছিল। দেশী-বিদেশী অনেক জরিপে কিন্তু স্থানীয় জ্বালানি মজুদের সম্ভাবনার কথা বহুবার এসেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থাও জানিয়েছে, দেশে আবিষ্কারযোগ্য মোট প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ ৩২ ট্রিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু সম্ভাবনার কথা বলা হলেও তা আহরণে নীতিনির্ধারকদের মধ্যে উদাসীনতা রয়েছে।
প্রাকৃতিক গ্যাস আহরণের ক্ষেত্রে একটি বাস্তবতা হলো, আপনাকে নিয়মিত অনুসন্ধান চালিয়ে যেতে হবে। সমস্যা হলো, আমাদের নীতিনির্ধারকরা এটিকে বিনিয়োগ হিসেবে দেখেন না। ভূতাত্ত্বিক জরিপ এভাবে কাজ করে না। অনেক সময় দেখা গেল, চার-পাঁচটি কূপ পাওয়া গেল কিন্তু তা বাণিজ্যিকভাবে লাভজনক নয়। তবু হাল ছেড়ে দেয়া যাবে না। দেখা যায়, আশপাশেই হয়তো এমন কোনো কূপ রয়েছে যেটিতে পূর্ববর্তী চার-পাঁচটি কূপের চেয়েও বেশি প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যাবে।
এজন্য দেশীয় সম্ভাবনা অনুসন্ধানে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ দরকার। শুধু তাই নয়, অনুসন্ধান কার্যক্রমও চালিয়ে যেতে হবে। এজন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনার পাশাপাশি তা বাস্তবায়নের রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকতে হবে।
ড. বদরূল ইমাম: জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ও অধ্যাপক, ভূতত্ত্ব বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়