মানব সন্তানকে মানুষ করে তোলার পেশা হলো শিক্ষকতা। সৃষ্টির সেরা জীবকে শিক্ষিত করে তোলার দায়িত্ব খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু এ গুরুদায়িত্ব পালনকারী পেশাটি রাষ্ট্রীয় নীতিনির্ধারকদের কাছে ঔপনিবেশিক যুগ থেকেই কোনো গুরুত্ব পায়নি। ঔপনিবেশিক যুগে অনেক শিক্ষকের কাছে এ পেশা ছিল শখ অথবা দেশকে দখলদারমুক্ত করার সংগ্রামের অংশ। শিক্ষকতা তাদের কাছে রুটি-রুজি রোজগারের পেশা ছিল না। তখন শিক্ষা খাতে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতাও ছিল খুব নগণ্য। কিন্তু এখন সময় ও প্রেক্ষাপটের পরিবর্তন হয়েছে। শিক্ষকতা এখন মানুষ গড়ার গুরুদায়িত্বের পাশাপাশি আর দশটা পেশার মতো জীবিকা উপার্জনের পেশাও বটে। ঔপনিবেশিক যুগের মতো আমাদের নীতিনির্ধারকরা এখনো মনে করেন, শিক্ষকদের গাড়ি-বাড়ি, সুস্থ-শালীন জীবন বা প্রেষণা-প্রণোদনার কোনো প্রয়োজন নেই। শিক্ষকদের বিষয়ে নীতিনির্ধারকদের এরূপ মনোভাবের কারণে বর্তমানে স্কুল-কলেজের শিক্ষকতা এরই মধ্যে মেধাবীদের কাছে আকর্ষণ হারিয়েছে।
দেশের সবচেয়ে মেধাবীদের সিংহভাগ এক সময় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকতায় আসতেন। কিন্তু ধীরে ধীরে মেধাবীদের একটা বড় অংশের কাছে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকতা তার আকর্ষণ হারাচ্ছে। তাদের অনেকেই এখন আর এ পেশাতে আসতে চাচ্ছেন না। আবার যারা এ পেশায় আসছেন, তাদের অনেকেই উচ্চশিক্ষার জন্য ইউরোপ-আমেরিকাসহ উন্নত বিশ্বে গিয়ে আর দেশে ফিরে আসছেন না।
কেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকতা মেধাবীদের আকর্ষণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে এবং তাতে কার লাভ আর কার ক্ষতি? জাতীয় স্বার্থে বিষয়টি পরিষ্কার করা দরকার। যেসব কারণে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকতা আকর্ষণ হারাচ্ছে তার অন্যতম হলো বেতন-ভাতা ও সুযোগ-সুবিধার অপ্রতুলতা। বিষয়টা বোঝার জন্য দক্ষিণ এশিয়ার চার দেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের প্রারম্ভিক মূল বেতন নিয়ে একটি তুলনামূলক চিত্র উপস্থাপন করা হলো।
বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন ভারতের শিক্ষকদের তুলনায় অনেক কম। বাংলাদেশে পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য বলছে, বাংলাদেশে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের চারটি স্তর। প্রভাষক, সহকারী অধ্যাপক, সহযোগী অধ্যাপক ও অধ্যাপকের বেতন যথাক্রমে ১৮১, ২৯২, ৪১১ ও ৪৬০ ডলারের সমান। ভারতের বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রভাষক নিয়োগের রেওয়াজ নেই। ভারতের ৭ম ইউজিসি পে-স্কেলের তথ্য বলছে, ভারতে সহকারী অধ্যাপকের তিনটি স্তর আছে। তিনটি স্তরের বেতন যথাক্রমে ৬৫০, ৭৭৬ ও ৮৯৯ ডলারের সমান। অধ্যাপকদের রয়েছে দুটি স্তর। দুটি স্তরের বেতন যথাক্রমে ১ হাজার ৬২৫ ও ২ হাজার ৫২ ডলারের সমান। সব স্তরেই একজন ভারতীয় শিক্ষক একজন বাংলাদেশী শিক্ষকের থেকে প্রায় তিনগুণ বেশি বেতন পেয়ে থাকেন।
কিন্তু বাংলাদেশের জনগণের মাথাপিছু আয় ভারত থেকে বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্যমতে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বাংলাদেশে মাথাপিছু আয় ২ হাজার ৮২০ ডলার। ২০২৪ সালে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের তথ্যানুযায়ী ভারতের মাথাপিছু আয় ছিল ২ হাজার ৬৯৭ ডলার। খাদ্যপণ্যসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য ভারত থেকে বাংলাদেশে বেশি। ফলে জীবনযাত্রার মান যদি সমান রাখতে হয়, তাহলে বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন ভারত থেকে বেশি হওয়ার কথা। কিন্তু বাস্তবতা হলো বাংলাদেশের এসব শিক্ষকের বেতন ভারতের শিক্ষকদের থেকে শুধু কম না, কয়েক গুণ কম।
এখন প্রশ্ন হলো, বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় বেতনভুক্তদের মধ্যে শুধু কি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন কম? না, অন্যদের বেতনও কম, যা সুশীল জীবনযাপনের জন্য যথেষ্ট নয়। তবে যোগ্যতা অনুযায়ী দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের তুলনায় সরকারি পেশাজীবীরা অনেক বেশি সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন যা বৈষম্যের অনুভূতি ও অসন্তোষ তৈরি করে। যেমন সরকার আমলাদের গাড়ি, বাড়ি, নানা রকম ভাতা ও সম্মানী, বিদেশ ভ্রমণসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিয়ে বেতনের সীমাবদ্ধতা বহুগুণে পুষিয়ে দেন। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক সুবিধার মধ্যে শুধু পদোন্নয়নের ক্ষেত্রে কিছু সময়গত সুবিধা পেয়ে থাকেন, যা তার সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাত্রার জন্য মোটেই যথেষ্ট নয়।
কিন্তু আমলাদের সঙ্গে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি কি তুলনা করা উচিত? বিষয়টি আপেক্ষিক হলেও আলোচনা ও তুলনা হওয়া উচিত, কারণ উভয়েই যোগ্যতা, মেধা, সময়, শ্রমের বিনিময়ে বেতন-ভাতা নেন। এখানে কে কী কাজ করেন, সেটা বিবেচ্য বিষয় নয়। বিবেচ্য বিষয় হলো যোগ্যতা, মেধা, সময় ও শ্রম বিনিয়োগ এবং তার বিনিময়ে সুবিধা প্রাপ্তি। যদি সমযোগ্যতাসম্পন্ন ভিন্ন পেশাজীবীর কাজের মধ্যে কাল্পনিক ও পক্ষপাতদুষ্ট ভিন্নতার কথা বলে সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে বৈষম্য তৈরি করা হয়, তাহলে সেটা সুবিধাবঞ্চিতদের মাঝে অসন্তোষ সৃষ্টি করে এবং পেশাগত কাজের পারফরম্যান্সের ওপর প্রভাব ফেলে। তাই বৈষম্যজনিত অসন্তোষ ও তদোৎসরিত খারাপ পারফরম্যান্স দূরীকরণের জন্য এ তুলনাটা অপরিহার্য।
একটা উদাহরণ দিয়ে বিষয়টা ব্যাখ্যা করা যাক। সমযোগ্যতাসম্পন্ন দুটি পেশার সবাই যদি আর্থিক সংকটের কারণে সরকারের তরফ থেকে ঘির বদলে পাম অয়েল বরাদ্দ পেয়ে থাকেন, তাহলে সেখানে কোনো বৈষম্য ও অসন্তোষ তৈরি হবে না। কিন্তু যে পেশাজীবীদের হাতে বণ্টনের দায়িত্ব অথবা যাদের হাতে ক্ষমতা, তারা যদি পাম অয়েলের পরিবর্তে ঘি নিয়ে থাকেন আর অন্যদের দিয়ে থাকেন পাম অয়েল, তাহলে সেটা বৈষম্য ও অসন্তোষ তৈরি করবে। তখন এ অসন্তোষ দূর করতে চাইলে সমস্যার মূলে যেতে হবে এবং আন্তঃপেশা বৈষম্যগুলো জানতে হবে; সেগুলো দূর করতে হবে।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার প্রতি মেধাবী তরুণদের মাঝে অনাগ্রহ বেশি তৈরি হয়েছে গত দশকে। ২০১৫ সালে অষ্টম পে-স্কেল জারির আগে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ গ্রেডের শিক্ষক আর সর্বোচ্চ গ্রেডের আমলা একই গ্রেডে বেতন পেতেন। কিন্তু ২০১৫ সালের পে-স্কেলে শুধু আমলাদের জন্য পৃথক দুটি সুপার গ্রেড তৈরির মাধ্যমে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ গ্রেডের শিক্ষককে সর্বোচ্চ আমলাদের থেকে দুই গ্রেড নিচে নামিয়ে দেয়া হয়।
২০১৮ সালের পর থেকে কয়েকটি পেশার পঞ্চম বা তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তাদের পারিবারিক বা ব্যক্তিগত গাড়ি ক্রয়ের লক্ষ্যে সরকার ৩০ লাখ টাকা সুদবিহীন ঋণ এবং প্রতি মাসে পরিচালন খরচ বাবদ ৫০ হাজার টাকা ভাতা বরাদ্দ দিয়ে আসছেন। মজার বিষয় হলো, এসব আমলা আবার বিনা ভাড়ায় সরকারি গাড়ি ব্যবহারের প্রাধিকার পেয়ে থাকেন। অথচ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন চতুর্থ গ্রেডের সহযোগী অধ্যাপক কিংবা তৃতীয় বা তদূর্ধ্ব গ্রেডের অধ্যাপক এ সুবিধা পান না। তারা যদি গাড়ি ক্রয়ের জন্য ব্যাংক থেকে সুদে ৩০ লাখ টাকা ঋণ নেন আর মাসে ৫০ হাজার টাকা পরিচালন বাবদ খরচ করেন, তাহলে সুদ আর পরিচালন খরচ বাবদ তাকে প্রতি মাসে ব্যয় করতে হবে কমপক্ষে ৮০ হাজার টাকা, যা আমলারা পাচ্ছেন রাষ্ট্রীয় কোষাগার থেকে।
রাষ্ট্রের সব সরকারি পেশাজীবীর পেশাগত উন্নয়নের খরচ সরকার বহন করলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পেশাগত উন্নয়নের (যেমন গবেষণা পরিচালনা ও প্রকাশ, বিদেশে উচ্চশিক্ষা) খরচ সচরাচর সরকার বহন করে না। শিক্ষকদের আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জার্নালে গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করতে হয়, যা ব্যয়বহুল (ক্ষেত্রবিশেষে নিবন্ধ প্রতি কয়েক হাজার ডলার পর্যন্ত)। এসব গবেষণা পরিচালনা করতেও অনেক খরচ হয়। কিছু শিক্ষক নিজ যোগ্যতায় দেশী-বিদেশী প্রকল্প থেকে সহায়তা পেয়ে থাকলেও সব ডিসিপ্লিনের জন্য এ সুবিধা পাওয়া সহজ নয়।
গ্রেড-১ আমলাদের জন্য সরকার দারোয়ান ও বাবুর্চি ভাতা বাবদ প্রতি মাসে মোট ৩২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেন। কিন্তু পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রেড-১ অধ্যাপকদের জন্য এ খাতে একটা টাকাও বরাদ্দ দেয়া হয় না। সরকারি চাকরিজীবীরা ১৩ শতাংশ মুনাফার ভবিষ্যৎ তহবিলে মূল বেতনের ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বিনিয়োগের সুবিধা পেলেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের এ খাতে মূল বেতনের মাত্র ১০ শতাংশ বিনিয়োগের সুযোগ দেয়া হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকতায় মেধাবীদের আকর্ষণ করার জন্য সুবিধা বৃদ্ধি করা দূরে থাক, বরং সুযোগ পেলেই বিদ্যমান সুবিধা কর্তন করা হয়। যেমন আগে মেধাবীদের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিতে উৎসাহিত করার জন্য পাবলিক পরীক্ষায় প্রথম বিভাগ ও শ্রেণী প্রাপ্তির জন্য সর্বোচ্চ চারটি ইনক্রিমেন্ট দেয়ার বিধান ছিল, যা ২০১৫ সালে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।
এক সময় পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের অফিশিয়াল বা দাপ্তরিক পাসপোর্ট দেয়া হতো, যা মনগড়া যুক্তি দেখিয়ে বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রায়ই কনফারেন্স, সেমিনার ও গবেষণার কাজে বিদেশে যেতে হয়, সেহেতু অফিশিয়াল পাসপোর্ট তাদেরকে ভিসা ছাড়াই বেশ কয়েকটি দেশে যাওয়ার সুযোগ দিত। যদিও এ সুযোগটা আমলাদের জন্য ঠিকই বহাল রাখা হয়েছে।
বর্তমানে উন্নত গবেষণা আর উচ্চশিক্ষার আদর্শ কেন্দ্র হলো উত্তর আমেরিকা। দেশের কোনো কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় আবার উত্তর আমেরিকায় পিএইচডি প্রোগ্রামে গমনকারী শিক্ষকদের বেতন স্থগিত রাখে। এর কারণও আছে। অনেকেই উচ্চশিক্ষা লাভের পর উত্তর আমেরিকা থেকে আর দেশে ফিরতে চান না। তখন তাদের ছুটিকালে ভোগকৃত বেতন-ভাতা ফেরত পেতে বিশ্ববিদ্যালয়কে বেগ পেতে হয়। কিন্তু বেতন স্থগিত না রেখে তারা কেন ফিরতে চান না, সেই কারণ অনুসন্ধান ও তার সমাধান করা উচিত। তা না করে উত্তর আমেরিকা গমনকারী শিক্ষকদের বেতন স্থগিত রাখলে উন্নত শিক্ষা ও গবেষণাকে নিরুৎসাহিত করা হবে।
আগে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের পিএইচডি ডিগ্রি অর্জনের জন্য তিনটি ইনক্রিমেন্ট প্রদানের ব্যবস্থা ছিল। কিন্তু ২০১৫ সালের পে-স্কেলে এটা বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। সাত বছরের প্রচেষ্টার পর ২০২২ সালে এটা আবার ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে। অবসরকালে সরকার কর্তৃক প্রদত্ত এককালীন আনুতোষিক বন্ধ করে দেয়ার জন্য ২০২৪ সালে প্রস্তাব করা হয়েছিল। ওই সময় প্রচলিত পেনশন ব্যবস্থা থেকেও পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বের করে দেয়ার প্রস্তাব করেছিল জাতীয় পেনশন কর্তৃপক্ষ, যা পরবর্তী সময়ে আন্দোলনের মুখে তারা বাতিল করতে বাধ্য হয়।
পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের প্রতি এভাবে বৈষম্য সৃষ্টি ও চলমান রাখলে কার লাভ? ক্ষতিই বা কার? এ লাভ-ক্ষতির হিসাবটা জানা জরুরি। দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা ভালো শিক্ষকের অভাবে ভেঙে পড়লে মূলত ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দেশের সাধারণ জনগণ। কিন্তু কীভাবে? এ বৈষম্য চলতে থাকলে দেশের সর্বোচ্চ মেধাবীরা আর সর্বোচ্চ বিদ্যাপীঠে শিক্ষকতা করতে আসবেন না। তারা মেধা ও যোগ্যতা বলে অনায়াসে অন্য পেশায় চলে যাবেন। তারা ব্যক্তিগতভাবে কোনো ক্ষতির শিকার হবেন না। তখন মেধাবীদের অনুপস্থিতিতে নিম্ন-যোগ্যতাসম্পন্নরা আসবেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকতায়। কম যোগ্যতাসম্পন্ন শিক্ষকদের কাছে নিম্নমানের শিক্ষালাভ করবেন সাধারণ ও মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তানরা। যেহেতু তাদের বিদেশে গিয়ে পড়ালেখা করার আর্থিক সামর্থ্য নেই, সেহেতু তাদের উচ্চ শিক্ষার একমাত্র ভরসাস্থল হলো দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হবেন দেশের সাধারণ জনগণ।
আর লাভবান হবেন কারা? তারা লাভবান হবেন যারা উচ্চশিক্ষা বাণিজ্যে যুক্ত আছেন। ভালো শিক্ষকের অভাবে যখন দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ব্যবস্থা মুখ থুবড়ে পড়বে, তখন দেশী-বিদেশী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর জন্য বাণিজ্যের দুয়ার অবারিত হবে। সেখানে শুধু ধনীদের জন্য উচ্চশিক্ষার দরজা উন্মুক্ত থাকবে। যাদের সন্তানরা বাংলাদেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেন না, তারা ভাবেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে টাকা বরাদ্দ না দিলেই লাভ; তাতে সরকারের খরচ বাঁচে।
বঞ্চনা ও বৈষম্য সৃষ্টির মাধ্যমে সুকৌশলে দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যোগ্য ও মেধাবীদের বিতাড়নের এ প্রক্রিয়া বন্ধ না হলে এ বিতাড়ন প্রক্রিয়া জাতির জন্য ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনবে। অযোগ্য শিক্ষকের হাতে গড়ে উঠবে অযোগ্য নাগরিক, যার অবশ্যম্ভাবী পরিণতি হবে একটি দুর্বল দেশ ও অনুন্নত জাতি। সেটা আমরা কেউ চাই না। এ কারণে দেশের বৃহত্তর স্বার্থে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকতাকে আকর্ষণীয় করে তোলার কোনো বিকল্প নেই।
ড. মো. মুনিবুর রহমান: সহযোগী অধ্যাপক, ইংরেজি বিভাগ, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়