সরকারের ছয় মাস

সাফল্য ও ঘাটতির উপাখ্যান

গত ছয় মাসে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার অনেক ভালো উদ্যোগ নিয়েছে। তাতে সাফল্য আছে। ঘাটতিও আছে। সবচেয়ে বড় দৃশ্যমান সাফল্য হচ্ছে খাদ্য মূল্যস্ফীতি হ্রাস।

বর্তমানে বাংলাদেশে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ধীরগতিতে কমছে। কখনো দুই মাস কমে তো পরে আবার বেড়েও যায়। কৃষি উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি, আমদানি ও বাজারে পণ্য সরবরাহের তারতম্যের কারণে এমনটি ঘটে। আবহাওয়ার বৈপরীত্য তথা বন্যা ও খরার কারণে কৃষির উৎপাদন প্রায়ই বিঘ্নিত হয়। তখন বৃদ্ধি পায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি। আবার সুদিন এলে ভালো ফসল হয়। হ্রাস পায় খাদ্য মূল্যস্ফীতি। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল সর্বাধিক ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ। তখন সাধারণ মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১১ দশমিক ৬৬ শতাংশ। এরপর তা কমে। গত ফেব্রুয়ারিতে খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৯ দশমিক ৩ শতাংশ। এরপর ধীরে তা কমতে থাকে। গত মে মাসে তা বৃদ্ধি পেয়ে দাঁড়ায় ৯ দশমিক ৬ শতাংশে। জুন ও জুলাইয়ে তা যথাক্রমে ৮ দশমিক ৬ ও ৭ দশমিক ১৬ শতাংশে নেমে আসে। সার্বিক মূল্যস্ফীতি ফেব্রুয়ারির ৯ দশমিক ১৩ থেকে জুলাইয়ে ৮ দশমিক ৩২ শতাংশে হ্রাস পায়। এবার হাওরের বন্যায় ব্যাপক পরিমাণ বোরো ধান নষ্ট হয়েছে। পরে দেশের দক্ষিণাঞ্চলের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে আউশ ধান। তাতে শাকসবজির উৎপাদনও বিঘ্নিত হয়েছে। তার পরও ভালো ব্যবস্থাপনার কারণে খাদ্য মূল্যস্ফীতি গত দুই মাস ক্রমাগতভাবে কমছে। বর্তমানে সরকারি গুদামে খাদ্য মজুদের পরিমাণ প্রায় ২৪ লাখ টন। এ-যাবৎ কালের সবচেয়ে বেশি মজুদ।

খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার বিবেচনায় ২০২১ সালের জুন থেকে বিশ্বব্যাংকের লাল তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান। ২০২১ সালের মে মাসে বাংলাদেশের খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ছিল ৪ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এর পর থেকে এ হার ক্রমাগতভাবে ৫ শতাংশের ওপরে রয়েছে। এখনো তার ব্যতিক্রম নয়। অর্থাৎ বিশ্বব্যাংকের লাল তালিকা থেকে বেরিয়ে আসা সম্ভব হচ্ছে না। এরই মধ্যে প্রতিবেশী দেশ শ্রীলংকায় প্রায় ৫০ শতাংশ মূল্যস্ফীতির হার কমে ঋণাত্মক হয়ে দাঁড়িয়েছে। দেশটি এখন উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশ। পক্ষান্তরে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যেতেও পিছিয়ে পড়েছে। চলতি অর্থবছর আমাদের সার্বিক মূল্যস্ফীতির হার নির্ধারণ করা হয়েছে সাড়ে ৭ শতাংশ। এটা বাস্তবায়নযোগ্য। আগামীতে তা ৫ শতাংশের নিচে এবং খাদ্য মূল্যস্ফীতির হার ২-৩ শতাংশে নামিয়ে আনা দরকার। এ পরিপ্রেক্ষিতে সংশ্লিষ্ট অন্যান্য বিষয়ের সঙ্গে কৃষির উৎপাদন বৃদ্ধি করা ও পণ্যের সরবরাহ শৃঙ্খল স্বাভাবিক রাখা প্রয়োজন। বাজারে অসাধু ব্যবসায়ী চক্রের কারসাজি বন্ধ করে খাদ্যপণ্যের উৎপাদক ও ভোক্তার মধ্যকার মূল্য ফারাক যথাসম্ভব কমিয়ে আনা দরকার।

বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার বেড়েছে। তবে প্রতিবন্ধকতা এখনো কাটেনি। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৮ দশমিক ১৫ শতাংশ। কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধির হার ছিল ৩ দশমিক ২৬ শতাংশ। পরে করোনা মহামারীর সময় তা হ্রাস পায়। ২০২৪-২৫ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধি নেমে ৩ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়ায়। কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধি হ্রাস পায় ২ দশমিক ৪২ শতাংশে। ২০২৫-২৬ অর্থবছর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার কিছুটা বেড়ে ৪ দশমিক ১৪ শতাংশে উন্নীত হয়। কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধিরও কিছুটা বেড়ে ২ দশমিক ৬৯ শতাংশে দাঁড়ায়। তবে তা এখনো সন্তোষজনক নয়। আগামী এক দশকেরও কম সময়ে মধ্যে জিডিপির আকার বর্তমান প্রায় অর্ধ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে ট্রিলিয়ন ডলারে উন্নীত করতে হলে এর প্রবৃদ্ধির হার দ্রুত বাড়াতে হবে। পাশাপাশি কৃষি ও শিল্প খাতের প্রবৃদ্ধিতেও উন্নতি করতে হবে। চলতি অর্থবছরে প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৬ দশমিক ৫ শতাংশ। তা অর্জনের জন্য বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

সরকার এ বছর একটি সম্প্রসারিত বাজেট অনুসরণ করছে। এর আকার ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের মূল বাজেটের তুলনায় তা ১ লাখ ৪৮ হাজার কোটি টাকা বা ১৮ দশমিক ৭৩ শতাংশ বেশি। অন্যান্য কারণের মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের অভিপ্রায় বাজেটের আকার এত বেশি সম্প্রসারিত করেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী রাজস্ব সংগ্রহ সম্ভব হবে কিনা? এবারের রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা হচ্ছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এটি অনেক বড় লক্ষ্যমাত্রা। এ পর্যন্ত রাজস্ব সংগ্রহের গতি খুবই শ্লথ। গত ছয় মাসে সরকার ১ লাখ ৩৪ হাজার ৫৭১ কোটি টাকা ঋণ নিয়েছে ব্যাংক থেকে। প্রতি মাসে ঋণ গ্রহণের পরিমাণ ২০-২৫ হাজার কোটি টাকা। মূল্যস্ফীতির হার এখনো অনেক চড়া। এ পরিস্থিতিতে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের প্রায় শতভাগেরও বেশি বেতন-ভাতা বৃদ্ধি মূল্যস্ফীতিকে উসকে দেবে। এ বিষয়ে অর্থনৈতিক সুদিনের জন্য অপেক্ষা করা উচিত। দেশের কৃষি উন্নয়ন ও কৃষকদের সুবিধার্থে কিছু ভালো উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বিএনপি সরকার। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণের পর পরই তারা ঋণগ্রস্ত কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণ সুদে-আসলে মওকুফ করে দিয়েছে। ভূ-উপরিস্থ পানি সেচ ও নিষ্কাশনের সুবিধার্থে গ্রহণ করেছে খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচি। কৃষকদের শনাক্তকরণ ও সুরক্ষার জন্য চালু করেছে কৃষক কার্ড।

বাংলা বর্ষপঞ্জির ১৪৩৩ সালের প্রথম লগ্নে গত পহেলা বৈশাখ টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধন করেন কৃষক কার্ড। প্রথম ধাপে দেশের ১০ জেলার ১১টি উপজেলায় প্রায় ২১ হাজার ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের মধ্যে এ কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। আগামী চার বছরের মধ্যে দেশের সব কৃষকের কাছে এ কার্ড পৌঁছে দেয়া হবে। কৃষক কার্ড মূলত কৃষককে শনাক্তকরণ কার্ড। এটিকে কৃষকের জন্য মর্যাদার স্বীকৃতি ও সুরক্ষার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করেছেন অনেকে। এ কার্ডের মাধ্যমে ১০ প্রকার সুবিধা পাবেন একজন কৃষক। এর মাধ্যমে ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষককে বছরে আড়াই হাজার টাকা নগদ দেয়া হবে।

নতুন বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর প্রথম যে প্রশংসনীয় কাজটি করে, সেটা হলো ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেয়া কৃষি ঋণ সুদসহ মওকুফ। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার প্রথম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সরকারের ১৯৯১-৯৬ মেয়াদকালে ৫ হাজার টাকা কৃষি ঋণের সুদ-আসল মওকুফ করা হয়েছিল। তারও আগে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সত্তরের দশকের শেষ ভাগে ১০০ কোটি টাকা বিশেষ কৃষি ঋণ প্রদানের ব্যবস্থা করেছিলেন। এবার বিএনপি সরকারের ১০ হাজার টাকা মওকুফের বিষয়টি বিএনপির নির্বাচনী ইশতাহারে সন্নিবেশিত ছিল। এ উদ্যোগে প্রায় ১৩ লাখ ১৭ হাজার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষক উপকৃত হয়েছেন বলে জানা গেছে। এর ফলে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকরা ঋণের দায় থেকে মুক্ত হতে পারবেন, যা তাদের কর্মস্পৃহাকে বৃদ্ধি করবে এবং দেশের কৃষি খাতে উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হবে। তাছাড়া চলতি অর্থবছরে মোট কৃষি ঋণ বিতরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬০ হাজার কোটি টাকা। গত বছরের লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় তা প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি। এ লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়ন সম্ভব হলে দেশের কৃষকদের অর্থায়ন সমস্যা অনেকটাই সমাধান হবে।

নতুন সরকারের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ খাল-নদী খনন ও পুনঃখননের কর্মসূচি বাস্তবায়ন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ১৬ মার্চ দিনাজপুরের কাহারোলে সাহাপাড়া খাল পুনঃখনন কার্যক্রম উদ্বোধনের মাধ্যমে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির সূচনা করেন। এ উদ্যোগের লক্ষ্য হচ্ছে, আগামী পাঁচ বছরে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-নালা, খাল-বিল খনন বা পুনঃখনন করে সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি উৎপাদন বাড়ানো। শুষ্ক মৌসুমে ভূ-উপরিস্থ পানি ব্যবহারের মাধ্যমে সেচ সম্প্রসারণ ও বৃষ্টির পানি ধরে রেখে কাজে লাগানো এর প্রধান উদ্দেশ্য। এ কর্মসূচি স্থানীয় কৃষিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে এবং গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করবে বলে আশা করা হচ্ছে। এরই মধ্যে ৪৭৫ দশমিক ৬১ কিলোমিটার খাল খনন ও পুনঃখনন সম্পন্ন হয়েছে। এটি ১৮০ দিনের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৯৯ শতাংশ বলে জানা গেছে।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে খাল খনন ও পুনঃখনন কর্মসূচির সূত্রপাত হয় ১৯৭৬ সালে, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে। পরবর্তী ছয় বছর নাগাদ প্রায় পৌনে ছয় হাজার কিলোমিটার খাল খনন, পুনঃখনন কাজ সম্পন্ন হয়। তার ইতিবাচক প্রভাব পরিলক্ষিত হয় খাদ্যশস্যের উৎপাদন বৃদ্ধির ওপর। ১৯৮১ সালে দেশকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ম্ভর বলে ঘোষণা করা হয়। ওই বছর ১০ হাজার টন চাল রফতানি করা হয়। সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের উদ্যোগে পরিচালিত উলাশী যদুনাথপুর খাল খনন প্রকল্প বাংলাদেশের কৃষির ইতিহাসে এবং স্থানীয় উন্নয়নের ক্ষেত্রে একটি ঐতিহাসিক ও গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক। ১৯৭৬ সালের ১ নভেম্বর তিনি যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশী যদুনাথপুর এলাকায় এ খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন করেছিলেন। এটি ছিল স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে দেশব্যাপী খাল খনন কর্মসূচির প্রথম প্রকল্প।

কৃষি উপকরণ বিতরণে সরকারের সফলতার ঘাটতি আছে। ডিজেল সংকটের কারণে গত বোরো মৌসুমে সেচকাজ বিঘ্নিত হয়েছে। বিদ্যুতের অপ্রতুলতায় গ্রামাঞ্চলের মানুষ দীর্ঘ লোডশেডিং মেনে নিচ্ছে। অনেক স্থানে তারা সরকারের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করছে। সাম্প্রতিক রাসায়নিক সার সরবরাহে অপর্যাপ্ততা কৃষকদের নিরুৎসাহিত করেছে। অনেক স্থানে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম দিয়ে সার সংগ্রহ করতে হয়েছে কৃষককে। ইরান-আমেরিকা যুদ্ধের কারণে সার আমদানি বিপর্যস্ত হয়েছে। এরই মাঝে গ্যাস সংকটের কারণে এখন দেশের সাতটি সার কারখানার মধ্যে ছয়টিতে উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। একটি মাত্র কারখানায় উৎপাদন চলমান আছে। বন্ধ কারখানাগুলো চালু করা সম্ভব হলে আমদানি হ্রাস পেত। রাসায়নিক সার, বিশেষ করে ইউরিয়া সারের সংকট অনেকটাই দ্রবীভূত হতো।

বিএনপি ক্ষমতা গ্রহণের পর বিভিন্ন সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও জনপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে দলীয় নেতাকর্মীদের নিয়োগ প্রদান করা হচ্ছে। একটি রাজনৈতিক সরকার বিভিন্ন পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে উপযুক্ত দলীয় সমর্থকদের বিবেচনায় নেবে এটাই স্বাভাবিক। তাতে প্রশাসনে জনসম্পৃক্ততা বাড়বে। জনস্বার্থ অগ্রাধিকার পাবে। সর্বত্র আমলাদের অভিগম্যতা ও দৌরাত্ম্য কমবে। তবে বর্তমান সরকার বিভিন্ন শীর্ষপদে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে নিরপেক্ষ মেধাবী ও দক্ষ জনবল খুঁজে নিতে পারে। তাতে কাজের মান বাড়বে। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় এসে ছয় মাস অতিবাহিত করেছে বিএনপি সরকার। এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জনসম্পৃক্ততা ও স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য জনগণের আস্থা কুড়িয়েছেন। দেশের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ক্রমেই উন্নতি হচ্ছে। মব কালচার, দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মাজার ভাঙা, লালনের আখড়ায় আক্রমণ, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বাড়িতে আগুন দেয়া ইত্যাদি কার্যক্রম অনেকটা স্তিমিত হয়ে এসেছে। আরো সময় গেলে হয়তো দেশে শান্তি ফিরে আসবে। দেশে বিনিয়োগের সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরে আসবে। মানুষের আয় ও কর্মসংস্থান বাড়বে। তাতে চাঙ্গা হবে দেশের অর্থনীতি। বৈদেশিক নীতির ক্ষেত্রে এক বড় সমস্যা হলো আমেরিকার সঙ্গে আমাদের আনুগত্যের চুক্তি। এটি সংসদে আলোচনার মাধ্যমে পুনর্বিবেচনা করা উচিত। সব মিলিয়ে আগামীতে দেশের জনকল্যাণে সরকার সার্বিকভাবে সফল হোক এটাই প্রত্যাশা।

ড. জাহাঙ্গীর আলম: একুশে পদকপ্রাপ্ত কৃষি অর্থনীতিবিদ। সাবেক উপাচার্য, ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ (ইউজিভি); সাবেক মহাপরিচালক, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই)

আরও