ইউরোপ বর্তমানে উৎপাদনশীলতা সংকটে ভুগছে। গত ২৫ বছরে ইউরোপের শ্রম উৎপাদনশীলতা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় অর্ধেক হারে বেড়েছে, ফলে দুই অঞ্চলের আয়ের ব্যবধান বাড়ছে। ইউরোপে সরকারি ব্যয়, শক্তিশালী শ্রমবাজার ও সামাজিক সুরক্ষার কারণে প্রবৃদ্ধির সুফল সুষমভাবে বণ্টিত হলেও উৎপাদনশীলতা না বাড়লে অর্থনীতি ও গণতন্ত্র উভয়ই ঝুঁকিতে পড়বে।
এ সংকট মোকাবেলায় ইউরোপের যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রযুক্তিগত অগ্রগতি অনুসরণের প্রবণতা রয়েছে। কিন্তু এ দুই দেশের মডেল ইউরোপের জন্য উপযুক্ত নয়। যুক্তরাষ্ট্রের সিলিকন ভ্যালিনির্ভর উদ্ভাবন ব্যবস্থা ডিজিটাল প্রযুক্তিতে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি আনলেও উদ্ভাবনের সুফল অর্থনীতির বিস্তৃত অংশে ছড়িয়ে দিতে ব্যর্থ হয়েছে। এতে সম্পদ ও অর্থনৈতিক ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হয়েছে। অন্যদিকে চীনের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির বড় ভিত্তি উৎপাদন শিল্প। ইউরোপের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ও কর্মসংস্থান যেহেতু প্রধানত সেবামুখী, তাই চীনের শিল্পনীতির অনুকরণ করাও যথাযথ হবে না।
ইউরোপের প্রয়োজন নিজস্ব উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির মডেল, যেখানে উদ্ভাবনের চেয়ে প্রযুক্তি ও সাংগঠনিক পরিবর্তনের ব্যাপক প্রয়োগ এবং বিস্তারকে অগ্রাধিকার দেয়া হবে। অতীতে যুক্তরাষ্ট্রে উদ্ভাবিত মোবাইল ফোনের ব্যাপক ব্যবহার, ফ্রান্সে পারমাণবিক বিদ্যুতের প্রসার এবং জার্মানিতে শিল্প রোবটের কার্যকর প্রয়োগ দেখিয়েছে, উদ্ভাবনের উৎসের চেয়ে তার বাস্তব প্রয়োগ অনেক সময় বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
[প্রজেক্ট সিন্ডিকেটে লেখা এক নিবন্ধে]
ড্যানি রডরিক: হার্ভার্ড কেনেডি স্কুলের আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক অর্থনীতির অধ্যাপক