কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) বিস্তারের ফলে শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞান ও দক্ষতা মূল্যায়নের প্রচলিত পদ্ধতি নতুন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। পরীক্ষা বোর্ড, নিয়ন্ত্রক ও প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগের মতামত হলো এআই-শনাক্তকরণ সফটওয়্যার ভুল ফল দেয়; নির্ভরযোগ্য নয়, বরং এগুলো মৌলিক লেখাকেও ভুলভাবে এআই-জেনারেটেড হিসেবে চিহ্নিত করতে পারে এবং ইংরেজি মাতৃভাষা নয় এমন শিক্ষার্থীদের প্রতি পক্ষপাত দেখাতে পারে। তাই শুধু প্রবন্ধের মাধ্যমে শিক্ষার্থীর প্রকৃত জ্ঞান যাচাইয়ের ধারণাটিই প্রশ্নবিদ্ধ। আবার ভাইভা বা সরাসরি তত্ত্বাবধানের মতো বিকল্পও আসলে এআই লেখা শনাক্তকরণেরই ভিন্ন রূপ।
এক্ষেত্রে বিকল্প হতে পারে লন্ডনের সিটি সেন্ট জর্জেস বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা ডুয়োলগ নামের এআই প্লাটফর্ম। এটি শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের উত্তর দেয়ার পরিবর্তে পাল্টা প্রশ্নের মাধ্যমে তাদের জ্ঞান, যুক্তিবোধ, সমালোচনামূলক চিন্তা ও এআই সম্পর্কে ধারণা যাচাই করে। ফলে মূল্যায়নই শিখন প্রক্রিয়ারই অংশ হয়ে ওঠে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীরা এআই কীভাবে কাজ করে এবং এর সীমাবদ্ধতা কোথায়, তা বুঝতে শেখে।
প্রযুক্তিকে শুধু প্রতারণা শনাক্ত করার হাতিয়ার হিসেবে দেখলে শিক্ষার মৌলিক উদ্দেশ্য পূরণ হবে না, বরং শিক্ষার্থী স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে, যুক্তি উপস্থাপন করতে এবং বিষয়বস্তু গভীরভাবে বুঝতে পারছে কিনা, তা যাচাইয়ের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে। এটিই একাডেমিক সততা রক্ষার কার্যকর পথ হতে পারে।
[টাইমস হায়ার এডুকেশনের নিবন্ধ থেকে অনূদিত]
বাবা শেবা: লন্ডনের সিটি সেন্ট জর্জেস বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল এডুকেশন অ্যান্ড ট্রান্সফরমেশনের অধ্যাপক
মাইক বন্ড: ব্র্যান্ড ও প্রযুক্তিবিষয়ক প্রতিষ্ঠান বন্ড অ্যান্ড কয়েনের স্ট্র্যাটেজিক পার্টনার