আওয়ামী লীগ নিশ্চিহ্ন হয়েছে না দলটি নূতনভাবে পুনর্গঠিত হচ্ছে, যেমন ১৯৩৪ ঈসায়ীতে ভারতবর্ষে কমিউনিস্ট পার্টিও ও নিষিদ্ধ করা হৈসিলো কিন্তু পার্টি নূতন কলেবরে আবির্ভূত হয় আট বছর পরে ১৯৪২ ঈসায়ীতে? শেখ হাসিনার পতন হয়েছে না তিনি শ্বশুরবাড়ি গেছেন দেবী দুর্গার মতো? কোন বিশ্লেষণে ঢোকার আগে, গোপাল নস্করের আঁকা "বঙ্গবন্ধুর কৃষ্ণরূপ ছবিটি কল্পনা করুন, এবং ভুলবেন না যে ১৯৭১ ঈসায়ীতে, কলিকাতায় বঙ্গবন্ধুকে অবতার রূপে পুজো দেয়া হতো, সাধারণ জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবেই দিতেন।
দার্শনিক স্লাভোই জিজেক আমাদের আননোন নৌন্স বা ‘অজ্ঞাত জ্ঞেয়’ অর্থাৎ সেই অবদমিত বিশ্বাস এবং অশ্লীল অভ্যাসের কথা বলেছেন যা জনসমক্ষে প্রকাশিত মূল্যের অদৃশ্য ভিত্তিভূমি তৈরি করে। লাইট হিন্দুত্ববাদ বা বাঙালি জাতীয়তাবাদের কারণে বাংলাদেশের রাষ্ট্রগঠন প্রক্রিয়ায় ‘জাতির পিতা’র রাজনৈতিক ধর্মতত্ত্ব এমন এক জায়গায় গিয়ে পৌঁছেছিল যেখানে বংশধারার আকস্মিক বা মর্মান্তিক ছেদকে পূরণ করার জন্য এক অতিপ্রাকৃতিক দেবত্বকরণের প্রয়োজন হয়।
গোপাল নস্করের বঙ্গবন্ধুকে কৃষ্ণরূপে উপস্থাপনার—মাথায় ময়ূরপুচ্ছ, ঠোঁটে বাঁশি, চারপাশে গোপী সদৃশ শিশুদের মুগ্ধ মুখ, ঠিক যেমন কৃষ্ণকে ঘিরে থাকে বৃন্দাবনের রাখালরা—মধ্যে, প্লুরাল মনোলিথের প্রকাশ হয়।
প্লুরাল মনোলিথ কী? একটা ক্ষমতা কাঠামোকে, বহু প্রতীকে হাজির করার কায়দা, অথচ এ প্রকাশ্য মুখ ও মুখোশের পেছনে একটাই ক্ষমতার দলা, একটাই কেন্দ্র।
বঙ্গবন্ধুকে কৃষ্ণরূপে উপস্থাপনে যে তাত্ত্বিক রসায়ন লুকিয়ে আছে, তা বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়; এ ছবি ১৯৪০-এর দশকে হিটলার বা গান্ধীকে কৃষ্ণের অবতার বা আধ্যাত্মিক ভ্যানগার্ড হিসেবে কল্পনার সুপ্রাচীন ফ্যাসিজাতীয় ঐতিহ্যেরই ধারাবাহিক রূপ। হাইনরিশ হিমলার হিটলারকে কৃষ্ণের সঙ্গে তুলনা করতেন—রূপক হিসেবে না, তত্ত্ব হিসেবে। ভগবদগীতার ৪.৭-৪.৮ শ্লোকে কৃষ্ণ বলেন: যখনই ধর্মের গ্লানি ঘটে আর অধর্ম মাথাচাড়া দেয়, তখনই তিনি নিজেকে সৃষ্টি করেন, যুগে যুগে—সাধুদের রক্ষা করতে, দুষ্কৃতকারীদের বিনাশ করতে, ধর্ম পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে। হিমলার-এর ব্যক্তিগত মাসাজ থেরাপিস্ট ফেলিক্স কার্স্টেন সাক্ষ্য দিয়েছেন তার মনিব ১৯৪১ থেকে মৃত্যু পর্যন্ত পকেটে গীতা বহন করতেন, আর এ শ্লোকটাকে সরাসরি হিটলারের সঙ্গে জুড়ে দিতেন; তার ভাষায় হিটলার ছিলেন এক মহৎ আলোর অবতার, জার্মান জাতির পূর্বনির্ধারিত এক অবতার। এ আগ্রহ নিছক ব্যক্তিগত খেয়াল ছিল না; ইন্ডোলজিস্ট জেকব উইলহেল্ম হাউয়ের আর ইতালীয় দার্শনিক জুলিয়াস ইবোলার প্রভাবে হিমলার এসএসকে কল্পনা করতেন এক আধুনিক ক্ষত্রিয় সংঘ হিসেবে, বৈদিক যোদ্ধা-জাতির পুনর্গঠন। অর্থাৎ নাৎসি মতাদর্শের একদম কেন্দ্রেই বসে ছিল একটা অবতারের চক্রাকার ফেরত আসার ডক্ট্রিন, বৈদিক দর্শন থেকে ধার করে; আর সেই একই ডক্ট্রিন আছে, বাঙালি জাতীয়তাবাদী অবতারের প্রত্যাবর্তন বোঝাতে।
তাহলে আমরা কি বুঝতে পারছি, গোপাল নস্করের আঁকা "বঙ্গবন্ধুর ছবিটা সেই ১৯৪০-এর ঐতিহ্যেরই ধারাবাহিকতা। এ দেবত্বকরণের প্যাটার্ন অবশ্য বাংলাদেশের একচেটিয়া সম্পত্তি না; কিম ইল-সাং বা মাও সেতুংয়ের প্রায় ঐশ্বরিক প্রতিকৃতির কথা ভাবুন, কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ক্ষেত্রে দেবত্বকরণ একটা নির্দিষ্ট ধর্মীয় আইকনোগ্রাফি ধার করেছে, যা তাকে অন্য পোস্টকলোনিয়াল পার্সোনালিটি কাল্ট থেকে আলাদা করে তোলে। জাতির পিতা তত্ত্ব যেখানেই বংশধারার আকস্মিক বা মর্মান্তিক ছেদ পূরণ করতে চায়, সেখানেই তাকে অতিপ্রাকৃতের শরণ নিতে হয়। রাষ্ট্র তখন আর নিছক প্রশাসনিক কাঠামো থাকে না, সম্পূর্ণ একটা সেমিওলোজি হয়ে ওঠে, নিজের গঠনেই প্লুরাল মনোলিথ: মন্ত্রণালয়, মিডিয়া, বিশ্ববিদ্যালয়, পুলিশ, সংসদ—আলাদা প্রতিষ্ঠান বলে দেখতে হলেও কেন্দ্রে একটাই পরিবার, একটাই ভাষ্য।
আর প্রতিটা সেমিওলোজির, জিজেক যেমন দেখিয়েছেন, একটা অশ্লীল সাপ্লিমেন্ট লাগে—একটা গোপন, বেআইনি, রাতের আইন, যা প্রকাশ্য সংবিধান যা নিষেধ করে, ঠিক তাই সম্পন্ন করে অন্ধকারে। এইটাই তার "আননোন নৌন্স" বা অজ্ঞাত জ্ঞেয়: এমন সত্য যা প্রায় সবাই জানে অথচ প্রকাশ্যে কেউ স্বীকার করে না, কারণ স্বীকার করলেই সরকারি ভাষ্যের কাঠামোটা ধসে পড়ে। আয়নাঘর, বিচার-বহির্ভূত হত্যা, ইতিহাসের কাটাছেঁড়া, মুক্তিযোদ্ধা-বনাম-রাজাকারের কঠোর বাইনারি—এসব বিচ্ছিন্ন বাড়াবাড়ি না, এগুলোই সেই অশ্লীল সাপ্লিমেন্ট, বাঙালি জাতীয়তাবাদী সেমিওলোজিকে সচল রাখার আসল ইঞ্জিন।
আর তথাকথিত রাজাকার কী করে? এ অশ্লীল রাতের আইনকে দিনের আলোতে জেরা করে, নথি খুলে দেখায়, প্রকাশ্য আর গোপনের মধ্যে ফাঁক ধরিয়ে দেয়। বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বাঁচিয়ে রাখতে লাগে আয়নাঘরের ভাষা; সেখানে জেরা মানে অন্ধকার ঘর, চোখ বাঁধা, দিনের পর দিন নিখোঁজ থাকা। আর "আমি কে তুমি কে, রাজাকার রাজাকার" হইতেসে সেই ভাষা যা বাঙালি জাতীয়তাবাদী ধর্মতত্ত্বকে প্রশ্ন করে।
আবার বলছি, এখানে রাষ্ট্রগঠনের বুনিয়াদি মূল্যচেতনা কেবল রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান ও কর্মে নিবিষ্ট থাকে না, বরং একটি সম্পূর্ণ সেমিওলোজি বা চিহ্নতত্ত্বে রূপান্তরিত হয়, তখন তাকে টিকিয়ে রাখতে প্রয়োজন হয় দমনযন্ত্রের। বাংলাদেশে ‘আয়নাঘর’, বিচার-বহির্ভূত হত্যা, ইতিহাসের কাটাছেঁড়া এবং ‘মুক্তিযোদ্ধা বনাম রাজাকারের’ দ্বৈধতা—এ সমস্ত কিছুই ছিল সেই আধিচারিক সেমিওলজিকে অটুট রাখার একেকটি সুনির্দিষ্ট কৌশল। রাজাকার এ রাষ্ট্রীয় সেমিওলজি ও তার নিজস্ব আখ্যানের গভীরে এক গভীর স্বৈরতান্ত্রিক অবচেতনকে দিনের আলোয় প্রকাশ করে।
দুই প্রজন্ম ধরে, বাঙালি জাতীয়তাবাদী পলিটিক্যাল থিওলজির একক সেমিওলজির বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ তৈরি হইতেসে, এবং এই কাজ কেবল গতানুগতিক রাজনৈতিক বিরোধিতাই জন্ম নেয়নি, জন্ম নিয়েছিল একটি অল্টারনেট সেমিওলোজি বা বিকল্প চিহ্নতত্ত্ব। যেমন যেমন বাঙালি জাতীয়তাবাদী সেমিওলোজির প্রধান কারখানা চারুকলার বিপরীতে শিল্পী রনি আহম্মেদ ও রফিকুল শুভর পাল্টা সেমিওলোজি ডিপ্লয় করা বা আমার বহি ‘পূর্ব বাংলার ভাষা’ ও যা নিজস্ব দার্শনিক ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে মূলধারার বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রিয় ভার্নাকুলার বা কথ্যরীতির বিরুদ্ধে এক বিকল্প সাহিত্যিক ও ভাষিক ভূগোল তৈরি করে। আর ঠিক এ জায়গাতেই প্রযুক্তির ভূমিকা হয়ে উঠল নির্ণায়ক। ব্লগ, ডিজিটাল প্রিন্টিং এবং সোশ্যাল মিডিয়ার অবাধ বিস্তার ভাষিক জাতীয়তাবাদ ও সংস্কৃতির একচেটিয়া গেটকিপিং বা রক্ষণশীল পাহারা দেয়াকে অসম্ভব করে তুলল। আমাদের নির্মিত চিহ্ন ব্যবস্থা, বাঙালি জাতীয়তাবাদী সাংস্কৃতিক আধিপত্যকে যেমন ভেঙে দিয়েছিল, ঠিক তেমনি ডিজিটাল নেটওয়ার্কের প্রযুক্তিগত বিস্ফোরণ বাঙালি জাতীয়তাবাদের সেই পুরনো সাংস্কৃতিক মেশিনারিকে নড়বড়ে করে দিল। ক্ষমতার পায়ের তলা থেকে মাটি সরে গেল। এবং প্রযুক্তির বহুত্ববাদী এবং অপ্রতিরোধ্য ঝড়ে সাংস্কৃতিক লেজিটিমেসি নষ্ট হওয়ার পর, বাঙালি জাতীয়তাবাদের চিহ্নগুলোকে ফোর্স বা শক্তি দিয়ে টিকিয়ে রাখা হয়। অর্থাৎ বাঙালি জাতীয়তাবাদের মূল কাঠামোর বা কাঠামোগত যন্ত্রপাতি বিকল হওয়ার সঙ্গে শেখ হাসিনার নাইয়র যাওয়া জড়িত; কাঠামোগত যন্ত্রপাতি সচল হলে তিনি আবার বাবার বাড়ি ফেরত আসবেন।
৩৬ জুলাই একটা সরকারকে নাড়া দিয়েছে ঠিকই, কিন্তু বাঙালি জাতীয়তাবাদ ও তার মেটা-ন্যারেটিভের মূল ভিত্তিকে পুরোপুরি উপড়ে ফেলতে পেরেছি কি? যদি না পারে তাহলে দুর্গার আসা ঠেকাবেন কিভাবে?
শেখ হাসিনার পতনকে তাই ফরাসি বা রুশ বিপ্লবের ছাঁচে ফেললে ভুল হবে। বরং তিনি দুর্গার মতো হিমালয়ে ফিরে গেছেন—সেই আর্যাবর্তে, যেখান থেকে বাঙালি জাতীয়তাবাদ আর হিন্দুত্ববাদী রাজনৈতিক মনস্তত্ত্বের জেনেসিস। আর এখানে পুরাণ নিজেই আমাদের একটা কাঠামো দিয়ে দেয়। দুর্গা তো বাংলায় স্থায়ী বাসিন্দা নন, বাংলা তার বাপের বাড়ি, সাময়িক সফর মাত্র; কৈলাস, হিমালয়, সেটাই তার আসল ঠিকানা।
প্রতিমা গড়ার শেষ ধাপে শিল্পী চোখ আঁকেন সবচেয়ে পরে—চক্ষুদান—কারণ চোখ ফোটার আগ পর্যন্ত দেবী জাগেন না। প্রতি বছর তিনি আসেন, পূজিত হন, আর বিজয়া দশমীতে বিসর্জিত হন—মূর্তি গলে যায় জলে, কিন্তু দেবী মরেন না, পরের বছর নতুন মাটিতে আবার গড়া হয়, একই রূপ, নতুন শরীর। এইটাই স্পেক্ট্রাল রিটার্ন-এর আসল প্রযুক্তি; এ ফিরে ফিরে একবারের ভূতের প্রত্যাবর্তন না, বরং বাঙালি জাতীয়তাবাদের সাময়িক, পুনরুক্তিময়, আচার-অনুমেয় একটা পুনরাগমনযন্ত্র। হাসিনার প্রত্যাবর্তনও তাই একবারের ঘটনা হিসেবে না, একটা প্যাটার্নের পুনরুক্তি হিসেবে পড়া উচিত—যার ক্যালেন্ডার এখন বাস্তবেই লেখা হয়ে গেছে।
কারণ বাস্তবতা তত্ত্বকে ছাড়িয়ে গেছে। ২০২৫-এর ১৭ নভেম্বর ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল হাসিনাকে অনুপস্থিতিতেই মানবতাবিরোধী অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে মৃত্যুদণ্ড দেয়—২০২৪-এর জুলাই-আগস্ট ক্রাকডাউনে আনুমানিক ১ হাজার ৪০০ মানুষের মৃত্যুর জন্য, যেখানে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও একই দণ্ড পান। রায় ঘোষণার মুহূর্তে আদালতকক্ষে করতালি আর হাসিমুখ দেখা গেছে বলে সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। ঢাকা তিনবার দিল্লির কাছে প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছে; ভারত প্রতিবারই বলেছে অনুরোধটি পর্যালোচনাধীন; কূটনৈতিক ভাষায় যা প্রায় নিশ্চিত প্রত্যাখ্যানের সবচেয়ে মার্জিত রূপ। হাসিনার ছেলে সংবাদমাধ্যমে দাবি করেছেন তার মা কখনো প্রত্যর্পিত হবেন না, ভারত তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে; হাসিনা নিজে রায়কে পক্ষপাতদুষ্ট আর রাজনৈতিক প্রতিহিংসা বলে খারিজ করেছেন। আর তারপর, এই জুলাইয়ে, তিনি জানিয়েছেন ডিসেম্বরে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরবেন, আদালতের মুখোমুখি হবেন, মৃত্যুর ঝুঁকি আছে জেনেও। এখন জিওপলিটিকস নিজেই দুর্গার প্রত্যাবর্তনের ন্যারেটিভ কাঠামো ধার করে ফেলেছে, বিনা অনুমতিতে, বিনা আয়রনিতে। তত্ত্ব বাস্তবের অপেক্ষায় ছিল; বাস্তব তত্ত্বটাকে আঁকড়ে ধরসে।
এই স্পেকট্রাল রিটার্ন বা প্রেতীয় পুনরাগমন হলো সেই রেট্রোগ্রেড কৌশল, যেখানে অতীত কখনো মরে যায় না; অতীতের ভূত বর্তমানের ঘাড়ে চেপে বসে ভবিষ্যৎকে নিয়ন্ত্রণ করতে চায়। বাঙালি জাতীয়তাবাদের ভেতরে যে সহজাত এক্সক্লুসিভনেস এবং ফ্যাসিজাতীয় অবদমিত প্রবৃত্তি লুকিয়ে ছিল, তা শেখ হাসিনার প্রস্থানের মধ্য দিয়ে নির্মূল হয়নি, বরং আরো ঘনীভূত হয়ে এক অলীক ছায়া বা স্পেকট্রামে পরিণত হয়েছে। বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন কেবল একটি ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন নয়; এটি একটি রিমুভড বা অবদমিত সেমিওলজির মুখোমুখি দাঁড়ানোর এবং এক বিকল্প ডিজিটাল প্রযুক্তির সঙ্গে পুরনো রাষ্ট্রীয় মেশিনারির দ্বন্দ্বের এক ক্লাসিক নিদর্শন। কিন্তু যতক্ষণ না এই ফ্যাসিস্ট মেটা-ন্যারেটিভ এবং তার ভেতরের স্পেকট্রাল বা প্রেতীয় ছায়াগুলোকে পুরোপুরি ডি-কনস্ট্রাক্ট ও ডিএক্টিভেট করা যাচ্ছে, ততক্ষণ পর্যন্ত ইতিহাস কেবল বৃত্তের মতো ঘুরপাক খেতে থাকবে।
এবাদুর রহমান: লেখক, তাত্ত্বিক ও নির্মাতা