ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট টি ক্রিস্টেনসেন ৩০ আগস্ট রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার প্যারাগন এগ্রো অ্যান্ড ডেইরি লিমিটেডের খামার পরিদর্শন করেছেন। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা ‘উন্নত’ জাতের প্রায় ১ হাজার ২০০ গরুর পালন কার্যক্রম ঘুরে দেখেন এবং গাভির পরিচর্যা, খাদ্য ব্যবস্থাপনা, দুধ উৎপাদন ও প্রক্রিয়াকরণ এবং ‘উন্নত’ জাতের গরুর প্রজনন কার্যক্রম সম্পর্কে প্যারাগন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলেন। পরিদর্শনকালে যুক্তরাষ্ট্রের এ দূতকে প্যারাগনের কর্মকর্তারা আশ্বস্ত করেছেন যে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা সয়াবিন, ভুট্টাসহ বিভিন্ন পশুখাদ্য উপকরণ ব্যবহার করা হচ্ছে। পাশাপাশি আমেরিকান জেনেটিকস ব্যবহার করে উন্নত জাতের গরু পালনের কার্যক্রমও চলছে। গুরুত্বপূর্ণ তথ্য হচ্ছে মার্কিন রাষ্ট্রদূত বলেছেন এসব কৃষিপণ্য যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও রফতানিকারকদের জন্য নতুন বাজারের সুযোগ তৈরি করছে। আসল কথা সেখানেই। মার্কিন পশুখাদ্য এবং উন্নত জেনেটিকস বাংলাদেশের কৃষকের জন্য নয়, মার্কিন কৃষকের পণ্যের (সয়াবিন, ভুট্টা এবং উন্নত জেনেটিকসের গরু) বাজার তৈরির জন্য। খবরটি সব পত্রিকায় প্রকাশ না পেলেও বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাসহ কয়েকটি পত্রিকা বিভিন্ন শিরোনামে ছেপেছে।
এম্বাসির নিজস্ব ফেসবুক পেজে অনেকটা বিজ্ঞাপনের ভাষায় পোস্ট দেয়া হয়েছে ‘গাভি থেকে আরো বেশি দুধ পেতে চান? প্যারাগন ডেইরির কাছ থেকে শিখুন গাভিকে খাওয়ান যুক্তরাষ্ট্রের সয়াবিন ও ভুট্টা। উন্নত পুষ্টি মানেই বেশি উৎপাদন। রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন প্যারাগন ডেইরি ফার্ম পরিদর্শন করে দেখেছেন, কীভাবে আমেরিকান জেনেটিকস ও উন্নতমানের পশুখাদ্য উপকরণ বাংলাদেশের প্রাণিসম্পদের উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের কৃষক ও রফতানিকারকদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে। জিতবে দুই দেশের কৃষি!’
একই দিনে প্যারাগন ডেইরিও তাদের ফেসবুক পেজে ইংরেজিতে পোস্ট দিয়েছে ‘We are proud to host the US Ambassador to Bangladesh Mr. Brent T. Christensen at our Paragon dairy farm today. This serves as an inspiration to furthering our prowess and commitment to improving the livestock industry and products for a better, nutritional Bangladesh.’ প্যারাগন খুব গর্বিত ও অনুপ্রাণিত হয়েছে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের এ পরিদর্শনে। ফেসবুক পোস্টের ছবিতে রাষ্ট্রদূত এবং প্যারাগন কর্তৃপক্ষকে হাসিমুখে খামারে উৎপাদিত দুধ পান করতেও দেখা গেছে।
এ খবর শুধু একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের যাওয়ার বিষয় নিয়ে নয়। এর কারণ এবং তাৎপর্য আরো অনেক গভীরে। এর সঙ্গে যুক্ত আছে বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ২০২৬ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি সম্পাদিত অ্যাগ্রিমেন্ট অন রেসিপ্রোকাল ট্রেড (এআরটি) বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তির, যা বাংলাদেশের ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার মাত্র তিনদিন আগে স্বাক্ষরিত হয়েছে বলে জনমনে প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছে। বিশেষ করে চুক্তির বিষয়ে জনগণের না জানা এবং যুক্তরাষ্ট্র একতরফাভাবে অনেক শর্তগুলো দেশের বাণিজ্য, প্রাণিসম্পদ, কৃষি, ওষুধ শিল্প, তৈরি পোশাকসহ অনেক পণ্যের বাণিজ্যে ক্ষতি করবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। বোঝা যাচ্ছে, চুক্তির বিভিন্ন দিক বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়ে গেছে, যা শুধু বোয়িং কেনার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। বোয়িং কেনার বিষয় মিডিয়ায় বড় শিরোনাম হয় কিন্তু কৃষি ও প্রাণিসম্পদের ওপর এ চুক্তির প্রভাব নিয়ে আলোচনা তেমন নেই। অথচ এটাই সাধারণ মানুষের সবচেয়ে কাছের বিষয়। এ চুক্তির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে বাংলাদেশের মতো কৃষিপ্রধান দেশে মার্কিন কৃষিপণ্যের বাজার সৃষ্টির চেষ্টা। যেমন পশুখাদ্য হিসেবে সয়াবিন ও ভুট্টা এবং মার্কিন গরু আমদানি করা। অথচ বাংলাদেশের কৃষি এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি এক নয়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্যের বাজার বাংলাদেশ হলে এর প্রভাব হবে অনেক সুদূরপ্রসারী।
বাংলাদেশে গবাদিপশু পালন একেবারে গ্রামীণ কৃষকের, বিশেষ করে নারীর জীবন-জীবিকার অংশ। দেশে মহিষ, ভেড়া, ছাগল ছাড়াও শুধু গরু পালন হয় আড়াই কোটিরও বেশি বা ২৫ মিলিয়ন। এর মধ্যে দেশীয় জাত এবং সংকর জাতের গরু রয়েছে। এর মাধ্যমে দুধ ও মাংস পাওয়া যায় এবং আমিষের প্রয়োজন মেটানো হয়। গরুর খাদ্য হিসেবে খড়, সবুজ ঘাস নেপিয়ার প্যারা এবং সাইলেজ (গাঁজানো উদ্ভিজ্জ খাদ্য) গমের ভুসি চালের কুঁড়া, চালের খুদ, বিভিন্ন ডালের ভুসি এবং খৈল (সরিষা বা তিলের খৈল) খাওয়ানো হয়। কৃষকের উৎপাদিত ফসলের সঙ্গে গবাদিপশুর খাদ্যের সম্পর্ক রয়েছে। তাই ক্ষুদ্র কৃষক পরিবার ফসল উৎপাদনের পাশাপাশি গবাদিপশু পালন করেই আয় উপার্জন করেন। প্রায় ২০ শতাংশ গ্রামীণ জনগোষ্ঠী গবাদিপশু পালনের সঙ্গে যুক্ত। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষুদ্র কৃষক বলে কিছু নেই। তাদের লাইভস্টক ইন্ডাস্ট্রি আছে। তাহলে আমাদের এ ক্ষুদ্র কৃষকরা এ বড় বড় লাইভস্টক ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে পাল্লা দেবে?
বাংলাদেশেও ইন্ডাস্ট্রিয়াল পোলট্রি ও ডেইরি ফার্ম গড়ে উঠেছে যার জন্য বিদেশ থেকে ফিডের উপকরণ যেমন সয়াবিন, ভুট্টা, আমদানি করতে হয়। বাংলাদেশ ফিড ইন্ডাস্ট্রি অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে ৭০-৭৫ শতাংশ খাদ্য উপকরণ আমদানি করতে হয়। যুক্তরাষ্ট্র থেকে উন্নত গরু আমদানির অর্থ হচ্ছে এর সঙ্গে সয়াবিন ও ভুট্টা আমদানি করা, কারণ এ গরু যুক্তরাষ্ট্রে যা খায় তাই খাবে, অর্থাৎ সয়াবিন ও ভুট্টা খাবে। সাধারণত গরু তৃণভোজী হয়, কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের গরুর খাদ্যের তালিকায় তৃণের কোনো ভূমিকাই নেই। দানাদার খাদ্যই তাদের প্রধান খাদ্য।
বাংলাদেশ-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশী কোম্পানিগুলোকে সাহায্য করবে, যাতে তারা যুক্তরাষ্ট্রের কৃষিপণ্য কিনতে পারে। এর মধ্যে গম, সয়াবিন, সয়া থেকে তৈরি পণ্য এবং তুলা থাকবে। গম প্রতি বছর অন্তত সাত লাখ টন করে পাঁচ বছর কিনতে হবে। সয়াবিন ও সয়াপণ্যের ক্ষেত্রে এক বছরে অন্তত ১ দশমিক ২৫ বিলিয়ন ডলার বা ১২৫ কোটি ডলার মূল্যের ২৬ লাখ টন—যেটি কম হয়, সেটি কিনতে হবে। এসব পণ্যের মোট সম্ভাব্য মূল্য ৩ দশমিক ৫ বিলিয়ন বা ৩৫০ কোটি ডলার। এ পণ্য বাংলাদেশ এখন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বছরে প্রায় ১০০ কোটি বা ১ বিলিয়ন ডলার কেনে। অর্থাৎ চুক্তির কারণে বেশি দামে এ পণ্য আমদানি করতে হবে।
কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রে যে সয়াবিন ও ভুট্টা উৎপাদন হয় তা সাধারণ সয়াবিন বা ভুট্টা নয়, এগুলো জেনেটিক্যালি মডিফায়েড। বাণিজ্য চুক্তির ধারা (১.৬) অনুযায়ী বাংলাদেশকে জিএমও পণ্য আমদানির অনুমতি দিতে হবে এর সঙ্গে অন্য কোনো বাধ্যবাধকতা যেমন লেবেল দেয়া, প্রি-মার্কেট পরীক্ষা ইত্যাদি যুক্ত করা যাবে না। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৯০ শতাংশেরও বেশি জমিতে উৎপাদিত জিএম সয়াবিন মূলত হার্বিসায়েড সহনশীল বৈশিষ্ট্যের যেমন এমওএন৮৯৭৮৮ এবং ডিএসএ৪৪৪০৬ রাসায়নিক আগাছানাশক। এমওএন৮৯৭৮৮ আগাছানাশক গ্লাইফোসেট সহনশীল এবং ডিএসএ৪৪৪০৬ আগাছানাশক গ্লাইফোসেট এবং গ্লুফোসিনেট সহনশীল। অর্থাৎ উদ্ভিদকে এমনভাবে তার স্বাভাবিক চরিত্র বদলিয়ে বিকৃত করা হয়েছে যাতে নির্দিষ্ট আগাছানাশক (যেমন রাউন্ডআপ রেডি) প্রয়োগ করেও ফসল বেঁচে থাকে।
এ দুটি বিষাক্ত উপাদানের উৎপাদনকারী কোম্পানি হচ্ছে মনসান্তো (বর্তমানে বায়ার) এবং Dow AgroSciences। গ্লাইফোসেট আগাছানাশক বা রাউন্ডআপ রেডি এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিষ্ঠিত গবেষণা তথ্য রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ৯৪ শতাংশ জমিতেই জেনেটিক্যালি মডিফায়েড ভুট্টা উৎপাদন হয়, যা মূলত হার্বিসায়েড সহনশীল এবং পোকা সহনশীল। জিনগত পরিবর্তিত ভুট্টা পোকা সহনশীল বিটি ভুট্টা নামেই পরিচিত। মাটির স্বাভাবিক ব্যাকটেরিয়া ব্যাসিলাস থুরিনজিনসিস থেকে বিশেষ জিন এ ভুট্টায় সংযোজন করা হয় এবং তা কীটপতঙ্গ গাছের মধ্যেই মেরে ফেলে, ফলে ভুট্টায় আক্রমণ করতে পারে না। কিন্তু এর বিষ সেই ভুট্টাতেই থেকে যায়।
বাণিজ্য চুক্তির কৃষি ধারা (১.৬) ‘এগ্রিকালচার বায়োটেকনোলজি’ বা কৃষিজীব প্রযুক্তি অনুযায়ী যেসব কৃষিজীব প্রযুক্তি পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে বৈধভাবে বিক্রি করা যায় এবং মার্কিন প্রাক-বাজার প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেছে, চুক্তি কার্যকর হওয়ার ২৪ মাসের মধ্যে বাংলাদেশকে এমন নীতি চালু করতে হবে যাতে সেসব পণ্য বাংলাদেশে আমদানি ও বাজারজাত করা যায় বাংলাদেশের নিজস্ব কোনো প্রাক-বাজার যাচাই, নিয়ন্ত্রণমুক্তকরণ প্রক্রিয়া, অতিরিক্ত লেবেলিংয়ের শর্ত বা পৃথক অনুমোদন ছাড়াই। অথচ বাংলাদেশে জীব নিরাপত্তা বিধিমালা ২০১২ (বায়োসেফটি রুলস, ২০১২) অনুযায়ী, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের পূর্ব অনুমতি ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জিএমও পণ্য আমদানি, রফতানি, ক্রয়-বিক্রয় বা বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে পারবে না। এখনো জীব নিরাপত্তা আইন বায়োসেফটি অ্যাক্ট প্রণীত হতে পারেনি কোম্পানি এবং তাদের সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপের কারণে। কিন্তু তবু জিএমও পণ্য সম্পূর্ণভাবে অনিয়ন্ত্রিত নয়। বিশেষ করে নিরাপদ খাদ্য আইন ২০১৩-এর ধারা ৩১ অনুযায়ী কোনো ব্যক্তি বা তার পক্ষে নিয়োজিত অন্য কোনো ব্যক্তি, প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে, প্রবিধান দ্বারা বা আপাতত বলবৎ অন্য কোনো আইনের অধীন নির্ধারিত পদ্ধতিতে অনুমোদন গ্রহণ ব্যতিরেকে বংশগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনকৃত বা সংশোধিত খাদ্য স্বত্বাধিকারী খাদ্য, অভিনব খাদ্য, ব্যবহারিক খাদ্য, বিশেষ পথ্য হিসাবে ব্যবহৃত খাদ্য, নিউট্রাসিউটিক্যাল এবং উক্তরূপ অন্যান্য খাদ্য উৎপাদন, আমদানি, প্রক্রিয়াকরণ, মজুদ, সরবরাহ বা বিক্রয় করতে পারবেন না।
জিএমও খাদ্য সম্পর্কে ৩১ ধারার (ঘ) এ ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে ‘বংশগত বৈশিষ্ট্য পরিবর্তনকৃত বা সংশোধিত খাদ্য অর্থ খাদ্য এবং খাদ্য উপাদান সমন্বয়ে গঠিত বা আধুনিক জীব-প্রযুক্তির মাধ্যমে বংশগত বৈশিষ্ট্য সংশোধন বা পরিবর্তনকৃত জীবসত্তা রহিয়াছে এরূপ উৎপাদিত খাদ্য বা খাদ্য উপাদান, যাহাতে আধুনিক জীব-প্রযুক্তির মাধ্যমে বংশগত বৈশিষ্ট্য সংশোধিত বা পরিবর্তনকৃত জীবসত্তা নাই।
বাংলাদেশ-মার্কিন বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে বলে সরকার এসব জনগুরুত্বপূর্ণ আইন অগ্রাহ্য করতে পারে না। এর সঙ্গে জনস্বাস্থ্য জড়িত। জিএমও খাদ্যপণ্য মানব স্বাস্থ্যের জন্য নিরাপদ কিনা সে প্রশ্ন এখনো নিরসন হয়নি। জিএমও খাদ্য মানবদেহে ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেই অনেক গবেষণা আছে, তা সরকারের নজরে থাকা দরকার। যদিও চুক্তিতে দেশের সংশ্লিষ্ট আইন মেনে চলার বিষয়ে অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে। মার্কিন বাণিজ্য চুক্তির ভয়াবহতা এখানেই। এ চুক্তি সম্পূর্ণ কার্যকর হলে মাংস ও দুধ খাওয়ার মাধ্যমে জিএম সয়াবিন ও ভুট্টার দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব মানবস্বাস্থ্য হুমকির মধ্যে পড়বে।
উল্লেখযোগ্য, বাংলাদেশের নতুন গড়ে ওঠা লাইভস্টক ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক—বিশেষভাবে লাইভস্টক জেনেটিকসের বাজারজাতের সম্পর্ক বিতর্কিত চুক্তির মাধ্যমেই শুধু নয়, বিগত শেখ হাসিনা ফ্যাসিস্ট সরকারের সময় থেকেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের লাইভস্টক ইন্ডাস্ট্রির দহরম-মহরম গড়ে উঠেছিল। যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সূত্র থেকে জানা যায়, ২০২২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাংলাদেশের লাইভস্টক সেক্টরের ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে ২৫ মে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তৎকালীন মন্ত্রী স ম রেজাউল করিম উপস্থিত ছিলেন। এ সভায় মার্কিন দূতাবাসের উপরাষ্ট্রদূত হেলেন লাফেভ জানান যে তারা বাংলাদেশের লাইভস্টক ইন্ডাস্ট্রি গড়ে তোলার জন্য মিলিয়ন ডলার দিয়েছেন। ২০২১ সালে বাংলাদেশ ৭ মিলিয়ন ডলারের উচ্চ মানের লাইভস্টক এবং জেনেটিকস আমদানি করেছে। এ অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে লাইভস্টক ইন্ডাস্ট্রির ইউএস লাইভস্টক জেনেটিকস এক্সপোর্টের (ইউএলজিই) প্রতিনিধি প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে তাদের ব্যবসার সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য এসেছিলেন।
অর্থাৎ এ কাজেরই ধারাবাহিকতা তারা বাণিজ্য চুক্তির মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করে এখন যুক্তরাষ্ট্রের কর্তৃত্বেই বাংলাদেশের লাইভস্টক ও ডেইরি ইন্ডাস্ট্রিতে সরাসরি হস্তক্ষেপ হচ্ছে এবং ফিড হিসেবে জেনেটিক্যালি মডিফায়েড সয়াবিন এবং ভুট্টার আমদানি নিশ্চিত করা হচ্ছে, যা মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রশ্ন জাগে, স্বাস্থ্য সমস্যার আশঙ্কা দূর করতেই কি রাষ্ট্রদূত এবং প্যারাগণ কর্তৃপক্ষ দুধ পানের ছবি পোস্ট করলেন?
ফরিদা আখতার: অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক উপদেষ্টা