বিশ্বস্ত সাংবাদিকতা ছাড়া নির্ভরযোগ্য এআই সম্ভব নয়

এআই কোম্পানির উচিত সাংবাদিকতাকে টেকসই করতে ভূমিকা রাখা

বিশ্বস্ত সাংবাদিকতা তাই শুধু গণতান্ত্রিক সমাজের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, এআইয়ের নির্ভরযোগ্যতার জন্যও অপরিহার্য।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) চ্যাটবটের মাধ্যমে সংবাদ ও তথ্য জানার প্রবণতা দ্রুত বাড়ছে। ফলে সাংবাদিকতায় নতুন ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। মানুষ সরাসরি সংবাদমাধ্যমের ওয়েবসাইটে না গিয়ে ক্রমেই এআই চ্যাটবটের কাছ থেকে তথ্য নেয়ায় সংবাদপ্রতিষ্ঠানগুলো পাঠক, ওয়েব ট্রাফিক ও বিজ্ঞাপন আয় হারানোর ঝুঁকিতে পড়ছে। অথচ এআই ব্যবস্থাগুলো নিজেরাই অনেকাংশে সাংবাদিকতার ওপর নির্ভরশীল। কারণ এআই যে তথ্যের ভিত্তিতে উত্তর তৈরি করে, তার বড় একটি অংশ সাংবাদিকদের অনুসন্ধান, তথ্য যাচাই, সম্পাদনা ও প্রকাশের মাধ্যমে তৈরি হয়েছে।

বিশ্বস্ত সাংবাদিকতা তাই শুধু গণতান্ত্রিক সমাজের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, এআইয়ের নির্ভরযোগ্যতার জন্যও অপরিহার্য। ফলে যে সাংবাদিকতা এআইকে নির্ভরযোগ্য তথ্যের জোগান দিচ্ছে, সেই সাংবাদিকতা যদি অর্থনৈতিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে, তাহলে শেষ পর্যন্ত এআইয়ের তথ্যের মান ও বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

এআই-উৎপাদিত সংবাদভিত্তিক উত্তরে তথ্যগত ভুল ও সূত্রসংক্রান্ত সমস্যার ঘটনাও কম নয়। মানুষের চ্যাটবটের উত্তরের প্রতি আস্থাও এখনো সীমিত। ফলে এআইয়ের বিশ্বাসযোগ্যতা ধরে রাখতে নির্ভরযোগ্য ও যাচাই করা তথ্যের উৎস টিকিয়ে রাখা জরুরি। এ কারণে এআই কোম্পানিগুলোর উচিত সাংবাদিকতা খাতকে টেকসই রাখতে ভূমিকা রাখা। ইউনেস্কোর প্রস্তাবিত সংবাদমাধ্যমকে ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দেয়ার কাঠামো এক্ষেত্রে একটি সম্ভাব্য পথ দেখায়।

[প্রজেক্ট সিন্ডিকেট থেকে অনূদিত]

স্টিগ অরস্কভ: সিইও, ওয়ার্ল্ড অ্যাসোসিয়েশন অব নিউজ পাবলিশার্স

আরও