যুক্তরাষ্ট্র কি বড় আকারের ঋণের ঝুঁকিতে পড়ছে?

ঋণ সংকটের শুরুটা সাধারণত সহজেই বোঝা যায়, কিন্তু এর পরিণতি অনুমান করা কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও সুদের হার বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। সরকার দীর্ঘমেয়াদি সস্তা ঋণ নিশ্চিত করেনি।

যুক্তরাষ্ট্রের আর্থিক পরিস্থিতি ক্রমেই এমন একটি ট্রেনের মতো হয়ে উঠছে, যা আঁকাবাঁকা পাহাড়ি পথে দ্রুত এগিয়ে চলছে। প্রবৃদ্ধি শক্তিশালী থাকা সত্ত্বেও দেশটির ফেডারেল বাজেট ঘাটতি জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশ। কিন্তু প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতিতে ঘাটতি কমানোর তেমন আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না।

ঋণ সংকটের শুরুটা সাধারণত সহজেই বোঝা যায়, কিন্তু এর পরিণতি অনুমান করা কঠিন। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রেও সুদের হার বাড়তে থাকলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলে যেতে পারে। সরকার দীর্ঘমেয়াদি সস্তা ঋণ নিশ্চিত করেনি। ফলে ঋণের সুদ পরিশোধ মাত্র ছয় বছরে বাজেটের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাতে পরিণত হয়েছে এবং শিগগিরই এটি সবচেয়ে বড় ব্যয়ের খাত হতে পারে। সুদ ব্যয় বাড়লে সরকারের সামনে কর বাড়ানো, ব্যয় কমানো অথবা আরো ঋণ নেয়ার পথ খোলা থাকে। এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র মূলত তৃতীয় পথটিই বেছে নিয়েছে।

মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট মনে করেন, দ্রুততর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিই রাজস্ব বাড়িয়ে সংকট সামাল দিতে পারে। কিন্তু কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা থেকে প্রত্যাশিত অতিরিক্ত কর রাজস্ব হয়তো ততটা হবে না। অন্যদিকে ইরান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বা রাজনৈতিক অচলাবস্থা বাড়লে ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার আরো ১ শতাংশীয় পয়েন্ট বাড়তে পারে। এতে ঘাটতি আরো বাড়বে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ঋণ সংকট মোকাবেলার মতো সম্পদ রয়েছে; নেই প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সদিচ্ছা। শেষ পর্যন্ত বড় ধরনের সংকটই হয়তো ভোটারদের অজনপ্রিয় কিন্তু প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত মেনে নিতে বাধ্য করবে। বর্তমানে দেশটির হাতে কোনো ভুল করারও বেশি সুযোগ নেই।

[প্রজেক্ট সিন্ডিকেটে লেখা এক নিবন্ধে]

কেনেথ রগফ: আইএমএফের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি ও পাবলিক পলিসির অধ্যাপক

আরও