বর্তমানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই পণ্যের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও খরচ কমানোর মাধ্যমে এ তিন ক্ষেত্রেই যুগান্তকারী পরিবর্তন আনছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের অগ্রগতির ফলে বিশ্বের জনসংখ্যা এখন ৮০০ কোটি পেরিয়েছে। দ্রুত প্রতিষেধক আবিষ্কার, আগেভাগে রোগ নির্ণয় এবং ব্যক্তিগত চিকিৎসাসেবার মাধ্যমে এআই ক্যান্সার ও অ্যালঝেইমারের মতো জটিল ব্যাধির চিকিৎসায় বিপ্লব আনছে। পাশাপাশি স্বাস্থ্যসেবার আকাশচুম্বী খরচ অনেকাংশে কমিয়ে আনছে। দ্বিতীয় বড় রূপান্তরকারী শক্তি যুদ্ধক্ষেত্রকে এআই নতুন রূপ দিচ্ছে। যুদ্ধক্ষেত্রে অধিকাংশ হতাহতের পেছনে ভূমিকা রাখছে ড্রোন ও এআই-চালিত গোয়েন্দা নজরদারি ব্যবস্থা। তৃতীয় চালিকাশক্তি হলো অর্থনৈতিক উত্থান-পতন। এআই উৎপাদনশীলতা বাড়িয়ে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ট্রিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ মান যুক্ত করার সম্ভাবনা দেখাচ্ছে।
এ উন্নতির পেছনে বড় ঝুঁকিও রয়ে গেছে। আগামী দশকের মধ্যে এআই হয়তো অধিকাংশ প্রচলিত চাকরি প্রতিস্থাপন করে দেবে। সম্ভাব্য এ কর্মসংস্থান সংকট সমাজ ও অর্থনৈতিক কাঠামোকে বিপর্যস্ত করতে পারে। ফলে সার্বিক সামাজিক নিরাপত্তায় রাষ্ট্রের ভূমিকা বাড়ানোর চাপ সৃষ্টি হবে। এআই প্রযুক্তির মহা চক্রটি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। কিন্তু এটা স্পষ্ট যে এটি রোগব্যাধির বিরুদ্ধে লড়াই, যুদ্ধের কৌশল এবং অর্থনৈতিক বৃদ্ধির ধারাকে সম্পূর্ণ বদলে দিয়ে মানব ইতিহাসের নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করছে।
[প্রজেক্ট সিন্ডিকেট থেকে সংক্ষেপিত]
ডামবিসা মোয়ো
অর্থনীতিবিদ ও লেখক