পেশাগত দায়বদ্ধতা

চিকিৎসকদের পেশাদারিত্বের ঘাটতি ও স্বাস্থ্যসেবায় কমিশন বাণিজ্য

কোম্পানির কমিশন নিয়ে ওষুধ লেখার কারণে ডাক্তারি পেশা নষ্ট হচ্ছে— বিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান ও বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ দেশের চিকিৎসাসেবার বর্তমান অবস্থা পরিষ্কার করেছেন এ মন্তব্যের মধ্য দিয়ে। সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা এখন কোন পর্যায়ে নিয়ে চলেছেন দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানরা, তা সহজেই অনুমেয়।

কোম্পানির কমিশন নিয়ে ওষুধ লেখার কারণে ডাক্তারি পেশা নষ্ট হচ্ছেবিচারপতি এফআরএম নাজমুল আহসান বিচারপতি কেএম কামরুল কাদেরের বেঞ্চ দেশের চিকিৎসাসেবার বর্তমান অবস্থা পরিষ্কার করেছেন মন্তব্যের মধ্য দিয়ে। সাধারণ মানুষের চিকিৎসাসেবা এখন কোন পর্যায়ে নিয়ে চলেছেন দেশের শ্রেষ্ঠ সন্তানরা, তা সহজেই অনুমেয়। একজন অসুস্থ ব্যক্তির রোগমুক্তির জন্য প্রয়োজনীয় ওষুধের গুরুত্ব আজ ব্যক্তিস্বার্থের কাছে পরাজিত। দেশে ব্যক্তিগত উন্নয়নের প্রতিযোগিতা চলছে। সেই উন্নয়নের জোয়ারে সবার সঙ্গে চিকিৎসকরাও ভেসে চলেছেন। পরিবেশ সৃষ্টিতে ক্ষমতার বলয়ের ইন্ধন বিশাল। আমাদের ক্ষমতার বলয়ের মানুষগুলো নিজেরা দেশে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করেন না। সামান্য গলা খুসখুস করলেই দৌড় দেন বিদেশে। ন্যূনতম সংগতি যাদের আছে, তারাও দেশের চিকিৎসাসেবার প্রতি বিশ্বাস রাখতে পারেন না। তারাও বিদেশ দৌড়াচ্ছেন জমি বিক্রি বা ধার করে। বাকি মানুষগুলোর অবস্থা সরকারি হাসপাতালে একবার গেলেই বোঝা যাবে। দায়িত্বপ্রাপ্তরা যে সেবা নিজেরা গ্রহণ করেন না, সেই সেবার উন্নয়নের জন্য আন্তরিক হবেন, তা আশা করা যায় কীভাবে? চিকিৎসকরা কমিশন খেয়ে কী ওষুধ রোগীকে দিল, তাতে রোগীর রোগমুক্তি ঘটল কিনা, তা দেখার ন্যূনতম প্রয়োজন কারো দায়িত্বের মধ্যেই এখন নেই। জনকল্যাণে হাইকোর্ট চিকিৎসা পেশার বর্তমান অবস্থা চিহ্নিত করে সাধুবাদযোগ্য দায়িত্ব পালন করেছেন।

অনেক আগের কথা। জাতীয় অধ্যাপক ডা. নুরুল ইসলামের কাছে একবার যাওয়ার সৌভাগ্য হয়েছিল। তিনি স্থানীয় ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র দেখে বলেছিলেন, একটা রোগের একটা ওষুধ হওয়ার কথা। ডাক্তারের যতগুলো কনফিউশন ততগুলো ওষুধ লিখেছেন। বহুদিন এটা বিশ্বাস করতাম। ইদানীং আর বিশ্বাস রাখা যাচ্ছে না। যদিও আগের মতোই ডাক্তারের সঙ্গে কথা বলা শুরু করার সঙ্গে সঙ্গেই তিনি ব্যবস্থাপত্র লেখা শুরু করেন, প্রথা আগের মতো এখনো চলমান। আগে ছিল কনফিউশন আর এখন কোম্পানির কমিশন। ডাক্তারদের সবাই -ফোর সাইজের কাগজ ব্যবহার করেন। কমিশনের ওজন অনুযায়ী তিনি লিখেই চলেন। কাগজের পাশেও খালি রাখেন না। বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকের কমিশন বাবদ পরীক্ষা-নিরীক্ষার তালিকাও ছোট হয় না। ডবল কমিশন বাণিজ্যে সাধারণ মানুষ চিড়ে চ্যাপ্টা। ব্যবস্থাপত্রে লেখা ওষুধ আর পরীক্ষা-নিরীক্ষার তালিকায় যা থাকে, তার যে সবটুকু রোগীর জন্য প্রয়োজন তা কিন্তু নয়। বরং কোম্পানির স্বার্থেই কাজ করা হয়। চিকিৎসকের চেম্বার থেকে রোগী বের হওয়ামাত্র ১৫-২০ জন ঝাঁপিয়ে পড়ে মোবাইলে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। শত শত কোম্পানির শত শত প্রতিনিধির কাড়াকাড়ির প্রতিযোগিতায় রোগীর অবস্থা বিবেচনার বাইরে চলে যায়। আমাদের চিকিৎসা ব্যবস্থায় ওষুধের এবং পরীক্ষা-নিরীক্ষার মান নিয়ে অনেক প্রশ্ন তো আছেই। পাশাপাশি জনবল সৃষ্টিতেও আছে সমস্যা

আমাদের শিক্ষানীতিতে চিকিৎসাসেবা স্বাস্থ্য শিক্ষার লক্ষ্য উদ্দেশ্যে বলা হয়েছে, ‘চিকিৎসা পেশা অন্যান্য পেশার তুলনায় স্পর্শকাতর এবং শারীরিক মানসিক কষ্ট/অসুস্থতা তথা জীবন-মৃত্যুর সমস্যার সঙ্গে জড়িত হওয়ায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, সাধারণ চিকিৎসক, দন্ত চিকিৎসক, চিকিৎসা সহকারী, সেবক-সেবিকা, স্বাস্থ্য প্রযুক্তিবিদ, স্বাস্থ্যকর্মী যেন সংবেদনশীল, সামাজিক দায়বদ্ধতাবোধসম্পন্ন বিবেকবান মানুষ হিসেবে মানুষের সেবায় নিয়োজিত হন, সে লক্ষ্যে তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করা।আমাদের চিকিৎসা পেশায় নিয়োজিত জনবলের সিংহভাগ বিবেকবান মানুষ হিসেবে নিজেদের পরিচয় ধরে রাখতে পারছেন না। এজন্য আমাদের সামাজিক পরিস্থিতির দায়ও অস্বীকার করা যাবে না। তবে মূল সমস্যা চিকিৎসাসেবায় নিয়োজিত জনবল তৈরিতে অসামঞ্জস্য। দেশে প্রতি দুজন নিবন্ধিত চিকিৎসকের বিপরীতে নার্স একজন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশ অনুযায়ী একজন নিবন্ধিত চিকিৎসকের বিপরীতে তিনজন প্রশিক্ষিত নার্স থাকা প্রয়োজন। অবস্থার পাশাপাশি স্বাস্থ্য সহকারী হিসেবে যাদের থাকার কথা, তাদের অনুপাত খোঁজ করতে হ্যারিকেনের প্রয়োজন। চিকিৎসক তৈরিসংক্রান্ত শিক্ষার যত প্রসার ঘটানো হয়েছে, সে তুলনায় অন্যান্য জনবল তৈরির শিক্ষার প্রসার ঘটানো হয়নি। ফলে অসম্ভব ভারসাম্যহীন জনবলের চিকিৎসাসেবা চলমান। ভারসাম্যহীনতা সংশ্লিষ্টদের সংবেদনশীলতা নষ্ট করছে কিনা, ভাবা দরকার।

দেশে মানবসম্পদ উন্নয়নের কোনো পরিকল্পনা না থাকার কারণে কারিগরি শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে যে প্রচার করা হয়, তার সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থার কোনো মিল খুঁজে পাওয়া যায় না। মানবসম্পদ উন্নয়নে হোয়াইট কলারের প্রাধান্য লক্ষণীয়। একসময় দেশে এলএমএফ কোর্স চালু ছিল। চিকিৎসকরা দেশের সাধারণ মানুষের সাধারণ চিকিৎসাসেবা দিতেন। দেশের সবার জন্য উন্নত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে এলএমএফ কোর্স বন্ধ করে এক রকমের চিকিৎসক তৈরির ব্যবস্থা করায় সাধারণ মানুষ চিকিৎসাসেবার বাইরে চলে গেছে। এখন যে হোয়াইট কলারের চিকিৎসক তৈরি করা হচ্ছে, তারা গ্রামে গিয়ে সাধারণ মানুষকে চিকিৎসাসেবা দিতে আগ্রহী হন না। সরকারি ব্যবস্থাপনা যেটা গড়ে তোলা হয়েছে, সেখানে বাধ্য হয়ে চাকরি করতে গেলেও বেশিদিন থাকেন না। মনোপলি ক্ষেত্র সৃষ্টি করা হলে এমনই হওয়ার কথা। চিকিৎসকরা সাধারণ মানুষের করের অর্থে লেখাপড়া শিখে এখন সাধারণ মানুষেরই চিকিৎসা করতে চান না। গত শতকের নব্বইয়ের দশকের পর থেকে দেশের স্বাস্থ্যসেবায় বেসরকারি অংশগ্রহণ বাড়তে শুরু করায় পরিবেশ আরো কঠিন হয়েছে। গ্রাম আর শহরের মধ্যে বৈষম্য বেড়েছে। চিকিৎসাসেবার ব্যয় মেটাতে মানুষ দারিদ্র্যসীমার নিচে চলে যাচ্ছে। সামাজিক দায়বদ্ধতা এখানে সোনার হরিণ। খ্যাতনামা সাংবাদিক এবিএম মুসা বলেছিলেন, আমাদের ডাক্তাররা রোগী দেখেন না, রোগীরা ডাক্তার দেখেন। রোগীর কথা শোনার সময় নেই, ব্যবস্থাপত্র হাতে দিয়ে পরের রোগীর জন্য অপেক্ষা।

সরকারের হোয়াইট কলারের ব্যক্তিদের প্রতি দুর্বলতার কারণেই চিকিৎসকদের প্রতি সরকারের দুর্বলতা প্রকট। মাঝেমধ্যে চিকিৎসকদের হাজিরা নিয়ে ধমক শোনা যায় মাত্র। জেলা শহরের বেসরকারি ক্লিনিক, হাসপাতালগুলো সরকারি চিকিৎসকদের ওপর নির্ভর করে আর সরকারি হাসপাতালকে কেন্দ্র করে গড়ে তোলা হয়েছে। কে, কীভাবে, কোন আইনের বলে বিষয়টি অনুমোদন দিয়েছে, তা সাধারণ মানুষ জানে না এবং বোঝেও না। তবে ব্যবস্থাপনা দেখে জনগণ বুঝতে চেষ্টা করে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা। বুঝতে চেষ্টা করে লাগামহীন বাণিজ্যের ক্ষেত্র। চিকিৎসকরা প্রতিনিয়ত নিজেদের ইচ্ছামতো দর্শনী বাড়াচ্ছে, ক্লিনিক বা হাসপাতালগুলোর প্রতিযোগিতা করে পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফি বাড়িয়ে চলেছে। আর সরকার মাসিক ৫০০ টাকার সামাজিক নিরাপত্তার বিশাল বলয় সৃষ্টি করে দেশে-বিদেশে সুনাম অর্জন করেই আপ্লুত। টাকায় একবার চিকিৎসক দর্শনও হয় না। অন্যান্য ব্যয়ের কথা না বলাই ভালো। সরকারি হাসপাতালগুলোর নাজুক অবস্থা রোগী চিকিৎসকদের জন্য কমিশন বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়তে সহায়ক কিনা, তা ভেবে দেখা জরুরি। সরকার পরিবেশ সৃষ্টির দায় কোনোভাবে এড়াতে পারে বলে মনে হয় না।

দেশের সব পেশাজীবী রাজনৈতিক মতাদর্শে বিভক্ত হয়ে পেশার উন্নয়নের চেয়ে ব্যক্তি স্বার্থোদ্ধারে বেশি নিবেদিত হয়ে পড়েছেন। যখন যে সরকার দায়িত্ব পালন করেন, তার স্বপক্ষে বেশি মানুষের ভিড় দেখা যায়। এতে সরকার আনন্দে থাকলেও শনির দশা হয় জনসাধারণের। দিনে দিনে সাধারণ জনগণ চিকিৎসাসেবার বাইরে চলে যাচ্ছে। চিকিৎসকরা অন্যান্য পেশাজীবীর মতো রাজনীতিসচেতন হয়ে দলের এজেন্ডা বাস্তবায়নে যতটা আগ্রহী হয়ে পড়েছেন, তেমনভাবে পেশার উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে চাইছেন না। স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বৃদ্ধিতে, প্রয়োজনীয় জনবল তৈরিতে, আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জাম সংগ্রহে, দক্ষতা অর্জনে, সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় কোনো উদ্যোগ দেখাই যায় না। বিশ্বের নিম্ন মধ্যম আয়ের দেশগুলোয় স্বাস্থ্য খাতে গড়ে ব্যয় করা হয় মাথাপিছু ১৩০ মার্কিন ডলার, যেখানে বাংলাদেশ স্বাস্থ্য খাতে মাথাপিছু ব্যয় করছে মাত্র ৩২ ডলার। ব্যয়ের অংকই সম্পূর্ণ স্বাস্থ্য খাতের বেহাল পরিষ্কার করে দেয়। আবার ব্যয়ের সিংহভাগই চলে যায় বেতন-ভাতায়। এখন আবার শুরু হয়েছে উন্নয়নের নামে পর্দা কেনা, চেয়ার কেনা। সরল বিশ্বাসে কোনো দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়লে সেটি যেমন অপরাধ হবে না, তেমনি সরল বিশ্বাসে কমিশন বাণিজ্যের প্রসার ঘটালেও নিশ্চয় অন্যায় হওয়ার কথা নয়।

কোম্পানির কমিশন খেয়ে ওষুধ লেখার কারণে চিকিৎসা পেশা নষ্ট হচ্ছে, এটা যেমন অস্বীকার করা যাবে না, তেমনি আরো অনেক বিষয়, অনেক অব্যবস্থাপনা, অনেক গাফিলতিকে হিসাবের মধ্যে আনা প্রয়োজন। আমরা সামাজিক অবস্থান বিবেচনা না করেই একেক সময় একেকটা পেশাজীবীকে কাঠগড়ায় দাঁড় করাই। এটা বোধকরি দেশ জাতির জন্য কল্যাণ বয়ে আনতে পারে না। তবে এটাও অস্বীকার করা যাবে না যে আমাদের পেশাজীবীরা দেশ জাতির কল্যাণে নিবেদিত হতে পারছেন না, সংবেদনশীল হতে পারছেন না, সামাজিক দায়বদ্ধতা দেখাতে পারছেন না। আমাদের ডাক্তাররা এর বাইরে নেই। সবার সঙ্গে গড্ডলিকা প্রবাহে ভেসে চলেছেন। একসময়ে চিকিৎসকদের একটা শপথ লিপিবদ্ধ থাকত। এখন আর তা দেখি না। এখনকার চিকিৎসকরা বোধকরি শপথ গ্রহণ করেন না, ফলে তা আর খুঁজে পাওয়া যায় না। তবে শপথ নিয়ে শপথ ভাঙার যে সংস্কৃতি দেশে গড়ে উঠেছে, তাতে শপথ গ্রহণকে মূল্যহীন ভাবতে কষ্ট হয় না। শপথ গ্রহণ করে তা রক্ষা করার দায় একান্তভাবে নিজের। মানুষ যে নিজের ওপরই বিশ্বাস হারাচ্ছে, মানবিকতা হারাচ্ছে, তার প্রমাণ শপথ ভাঙা। তাই আমাদের চিকিৎসকরা শপথ না নিলেই খুশি হই।

আমাদের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা মানবিকতার শিক্ষা দিতে ব্যর্থ। আমাদের প্রশাসকরা মানবিক নন, শিক্ষকরা মানবিক নন, পেশাজীবীরা মানবিক নন। সাম্প্রতিককালে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিবেশ-পরিস্থিতি তা জনমনে পরিষ্কার করে দেয়। শিক্ষার্থীরা যদি সুজন না হতে পারেন, তবে পরবর্তী প্রজন্ম সুজন হবে কীভাবে? তাই মানবিক শিক্ষার ওপর জোর দেয়া জরুরি। সবার জন্য মানবিক শিক্ষা নিশ্চিত না হলে মুক্তি আশা করা যাবে না। চিকিৎসকরা কোম্পানির কমিশন খেয়ে ওষুধ লিখবেন, প্রকৌশলীরা ঠিকাদারদের কমিশন খেয়ে উন্নয়নের জীবনকাল ধ্বংস করে দেবেন। দেশের সর্বত্র কমিশনের জয়জয়কার চলবে। শিল্প, কৃষি, সেবা, শিক্ষা, চিকিৎসা সর্বত্র কমিশন বাণিজ্য জেঁকে বসবে। ভয় কমিশনের কল্যাণে সরকার এসবকে শিল্প ঘোষণা না করে বসে! তাহলেই ষোলোকলা পূর্ণ হয়। আর মানহীন ওষুধ বাণিজ্যিকীকরণে কমিশন ছাড়া অন্য পথ খোলা থাকবে না। 

 

এম আর খায়রুল উমাম: প্রাবন্ধিক; সাবেক সভাপতি ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি)

[email protected]

আরও