কর্মসংস্থান

প্রযুক্তি ও এআইয়ের কাছে জীবিকা হারানো, গণতন্ত্রের নয়া চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় করণীয়

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বৈরাচারী ও আইনের তোয়াক্কা না করা আচরণ মার্কিন গণতন্ত্রের অবক্ষয়ের আসল কারণটিকে আড়াল করে ফেলছে না তো? ট্রাম্পের ‘‌মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন (মাগা)’ রাজনীতির প্রতিষেধক খুঁজতে হলে আগে বুঝতে হবে, এ প্রবণতার শিকড় কোথায়।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্বৈরাচারী ও আইনের তোয়াক্কা না করা আচরণ মার্কিন গণতন্ত্রের অবক্ষয়ের আসল কারণটিকে আড়াল করে ফেলছে না তো? ট্রাম্পের ‘‌মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন (মাগা)’ রাজনীতির প্রতিষেধক খুঁজতে হলে আগে বুঝতে হবে, এ প্রবণতার শিকড় কোথায়। কয়েক দশক ধরে প্রযুক্তি ও সরকারি নীতির মেলবন্ধনে মার্কিন শ্রমজীবী মানুষের জীবিকা ধ্বংস হয়েছে ভয়াবহভাবে। এ বিপর্যয়কে ধীরে ধীরে ‘‌স্বাভাবিক’ বা ‘‌অর্থনৈতিকভাবে অবশ্যম্ভাবী’ বলেও মেনে নেয়া হয়েছে।

এ ধ্বংসযজ্ঞ কেবল চাকরি হারানো নয়, এটি ছিল মানবিক

ও সামাজিক পুঁজি হারানোর প্রক্রিয়া। আয় কমে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবার ভেঙেছে, মাদকাসক্তি ও আত্মহত্যা বেড়েছে। পরিস্থিতি এতটাই মারাত্মক যে উচ্চশিক্ষাহীন আমেরিকান শ্রমিকদের গড় আয়ুষ্কাল এখন আগের তুলনায় কমে গেছে। অর্থনীতিবিদ অ্যান কেস ও অ্যাঙ্গাস ডিটনের গবেষণা বলছে, কলেজ ডিগ্রিধারীদের তুলনায় কম শিক্ষিত আমেরিকানদের আয়ু এখন গড়ে ৮ দশমিক ৫ বছর কম। ১৯৯২ সাল থেকে যেখানে উচ্চশিক্ষিতদের আয়ুষ্কাল কিছুটা বেড়েছে, সেখানে শিক্ষাহীনদের গড় আয়ু ক্রমে কমছে।

গত অর্ধ শতক ধরে কর্মক্ষেত্র হ্রাসের ফলে অল্প শিক্ষিত ও নিম্ন আয়ের মানুষের মধ্যে এ ধরনের পরিস্থিতি নেমে এসেছে। আমি আমার আসন্ন বই ‘প্রাইভেট পাওয়ার অ্যান্ড ডেমোক্রেসিস ডিকলাইন’-এ দেখানোর চেষ্টা করেছি, ১৯৭০-এর দশক থেকে চাকরি হারানোর এ প্রবণতা কেবল অর্থনৈতিক বৈষম্যই নয়, রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজনও বাড়িয়েছে। উচ্চশিক্ষিত ও শ্রমজীবী শ্রেণীর মধ্যে ব্যবধান গভীর হয়েছে। গণতন্ত্রের যে ভাঙন আমরা এখন দ্বিতীয় ট্রাম্প প্রশাসনের সময় প্রত্যক্ষ করছি, তা এ বিভাজনেরই পরিণতি। মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন ধারার জনতুষ্টিবাদ আসলে শ্রমজীবী শ্রেণীর হতাশার রাজনৈতিক রূপ।

এবার যুক্ত হয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগ। প্রযুক্তি নতুন আশাও জাগাচ্ছে, ভয়ও বাড়াচ্ছে—আশা যে এটি উৎপাদনশীলতা ও মানবকল্যাণ বাড়াবে; ভয় যে এটি মানুষের শ্রম ও সৃজনশীলতাকে প্রতিস্থাপন করে আরো ব্যাপক বেকারত্ব ডেকে আনবে। এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠছে—সমাজ কীভাবে এ নেতিবাচক প্রভাব মোকাবেলা করবে? অর্থনীতিতে ক্ষতিপূরণ নীতি (কমপেনসেশন প্রিন্সিপল) নামে একটি ধারণা আছে—যেখানে নীতির ফলে যারা লাভবান হয়, তারা যেন ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণ দেয়। কিন্তু বাস্তবে এ ধারণা কার্যকর হয় না, কারণ অর্থনীতি এখনো মানুষের লাভ-ক্ষতির তুলনামূলক মূল্যায়নের উপযুক্ত কাঠামো তৈরি করতে পারেনি। ফলে ‘কাউকে ক্ষতিগ্রস্ত না করার’ নীতি কেবল মুখের কথায় সীমাবদ্ধ থাকে।

শ্রমিকের দৃষ্টিতে জীবিকা হারানো নিছক অর্থনৈতিক ঘটনা নয়, এটি অন্যায্য এক রাজনৈতিক পরিণতি, যার দায় বর্তায় উদাসীন ও নীতিহীন অভিজাত শ্রেণীর ওপর। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রয়োজন রাজনৈতিক উপলব্ধি ও অর্থনৈতিক হস্তক্ষেপের সমন্বয়—গণতন্ত্রের স্থিতি ও বৈধতা রক্ষার জন্যই এমন নীতি গ্রহণ করতে হবে।

অতএব জীবিকা রক্ষার একটি নীতি এখন গণতন্ত্র রক্ষারই নীতি। গণতান্ত্রিক সমাজকে প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের বিরোধিতা নয়, তার সামাজিক অভিঘাত নিরসনের দিকে মনোযোগ দিতে হবে। এ লক্ষ্য পূরণে দুটি দিক জরুরি— প্রথমত, এমন উদ্ভাবনকে উৎসাহ দেয়া, যা শ্রমকে প্রতিস্থাপন নয়, বরং সহায়তা করবে; দ্বিতীয়ত, যেসব শ্রমিকের দক্ষতা প্রযুক্তিগত পরিবর্তনে অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়ছে, তাদের জীবিকা পুনরুদ্ধারের নিশ্চয়তা দিতে হবে।

গণতন্ত্র টিকিয়ে রাখতে হলে, নাগরিকের মর্যাদার সঙ্গে জীবিকার নিরাপত্তাকেও রাজনৈতিক দায়বদ্ধতার কেন্দ্রে আনতে হবে। প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নয়, জীবনের স্থিতিশীলতাই শেষ পর্যন্ত গণতন্ত্রের মাপকাঠি।

শ্রম-সহায়ক উদ্ভাবন: নীতির প্রথম অংশটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিকাশকারীদের উৎসাহিত করবে এমন উদ্ভাবনে, যা শ্রমিকদের প্রতিস্থাপন নয়, বরং তাদের কাজকে সহায়তা করবে। এআই অ্যালগরিদম মূলত তথ্য সৃষ্টি ও প্রক্রিয়াজাতের ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু পার্থক্যটা তৈরি হয় এভাবে—একটি অ্যালগরিদম স্বাধীনভাবে কাজ করে, সিদ্ধান্ত নেয় এবং আমরা অনেক সময়ই জানি না এটি কীভাবে ফল দেবে; অন্যদিকে এমন অ্যালগরিদমও সম্ভব, যা মানুষের সিদ্ধান্ত গ্রহণে সহায়তা করে ও কাজের দক্ষতা বাড়ায়।

এ পার্থক্য গণতন্ত্র রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ধরনের অ্যালগরিদম মানুষকে সরিয়ে দেয়, যার ফল হয় অনিশ্চিত ও ঝুঁকিপূর্ণ। দ্বিতীয় ধরনের এআই, অর্থাৎ মানুষ ও যন্ত্রের সহযোগিতামূলক পদ্ধতি, একদিকে উৎপাদনশীলতা বাড়ায়, অন্যদিকে প্রযুক্তিগত ঝুঁকিও হ্রাস করে।

এ প্রেক্ষাপটে প্রণোদনা কাঠামো বদলানোর প্রস্তাব দেয়া হয়েছে। বাজারে বিক্রি হওয়া সব এআই-ভিত্তিক পণ্য ও সেবার ওপর বাজারমূল্যের ১০ শতাংশ হারে কর আরোপ করা যেতে পারে। তবে উৎপাদক চাইলে প্রমাণ উপস্থাপন করে একটি স্বাধীন বোর্ডের কাছে আবেদন করতে পারবে—যাতে প্রযুক্তিবিদ, সরকারি প্রতিনিধি ও প্রকৌশলী সমান অংশে থাকবে—যে তার পণ্যটি ‘‌শ্রম-সহায়ক’। এভাবে অনুমোদিত পণ্য শুধু করমুক্তই হবে না, বরং বাজারমূল্যের ৫ শতাংশ প্রণোদনাও পাবে।

এর ন্যায্যতা নিহিত সমাজের প্রতি করপোরেট দায়িত্বে। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের উদ্ভাবন বা কৌশল সমাজে কী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তা তারা বিবেচনায় আনে না। সিলিকন ভ্যালির প্রচলিত ধারণা হলো—উদ্ভাবনের স্বাধীনতা সীমাহীন হওয়া উচিত, আর সমাজ পরে নেতিবাচক প্রভাব সামলে নিক। কিন্তু এ দৃষ্টিভঙ্গি ন্যায্য নয়।

বর্তমান কর ব্যবস্থাও শ্রমবিরোধী প্রণোদনা তৈরি করে রেখেছে—শ্রম আয়ের ওপর উচ্চ কর আরোপ করায় প্রতিষ্ঠানগুলো শ্রম-বদলি স্বয়ংক্রিয় প্রযুক্তিতে ঝোঁকে। ফলে এখন প্রয়োজন শ্রম-সহায়ক উদ্ভাবনে প্রণোদনা ও শ্রম-বদলি প্রযুক্তিতে শুল্ক আরোপের পাশাপাশি শ্রম আয়ের ওপর করনীতিও পুনর্বিবেচনা করা।

জীবিকা পুনরুদ্ধার কর্মসূচি: নীতির দ্বিতীয় অংশ হলো জীবিকা পুনরুদ্ধারের এজেন্ডা, যা সরকারি নীতি বা তার প্রত্যক্ষ সমর্থনে পরিচালিত বেসরকারি কর্মকাণ্ডের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মানবিক পুঁজি পুনর্গঠনের উদ্যোগ নেবে। এটি কেবল বেকার শ্রমিককে কিছু অর্থ সহায়তা দেয়ার বিষয় নয়। বাস্তব অভিজ্ঞতা বলে, এসব শ্রমিক স্থায়ী ভর্তুকি চান না; তারা চান সম্মান, আয় ও জীবনমান পুনরুদ্ধারের সুযোগ—কারণ তারা ইতিহাসের অন্যায়ের শিকার, দায়ী নন।

এ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়ায় কয়েকটি ধাপ জরুরি—

প্রথমত, পেশাগত পরামর্শ ও দক্ষতা যাচাইয়ের মাধ্যমে কারা নতুন দক্ষতা অর্জনের উপযুক্ত তা নির্ধারণ। যাদের বয়স বা শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে পুনঃপ্রশিক্ষণ সম্ভব নয়, তাদের জন্য মর্যাদাপূর্ণ অবসরই একমাত্র সমাধান।

দ্বিতীয়ত, পুনঃপ্রশিক্ষণ কর্মসূচি। এর আওতায় স্থানীয় কমিউনিটি কলেজ, কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র, বৃত্তিমূলক প্রতিষ্ঠান বা প্রাক্তন বা নতুন নিয়োগকর্তার সঙ্গে শিক্ষানবিশ প্রোগ্রাম চালু করতে হবে। প্রশিক্ষণ চলাকালে (যা এক বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে) শ্রমিকদের জীবিকা নির্বাহের খরচ, পরিবারের পরামর্শ, চিকিৎসা সুবিধা, শিশুর যত্ন ও স্থানান্তর ব্যয়—সবই নীতির আওতায় আনতে হবে।

তৃতীয়ত, পুনঃপ্রশিক্ষিত শ্রমিকদের নিয়োগে প্রতিষ্ঠানকে উৎসাহ দিতে প্রথম বছরের জন্য ২০ শতাংশ কর্মসংস্থান ভর্তুকি দেয়া যেতে পারে।

এ নীতি কেবল অর্থনৈতিক পুনর্বাসনের নয়, মানবিক মর্যাদা পুনর্নির্মাণেরও নীতি। কারণ যখন শ্রমিকের জীবিকা রক্ষা পায়, তখনই গণতন্ত্রের ভিত্তি দৃঢ় হয়।

বাজারকে নিজে থেকে বেকারত্বের সমস্যা সমাধান করতে দেয়া, কিংবা জীবিকা পুনরুদ্ধারের নীতি গ্রহণের মধ্যে পার্থক্যটি সহজভাবে বোঝা যায়। কলেজ ডিগ্রিহীন শ্রমিকদের জন্য কর্মজীবনের অভিজ্ঞতাই মূল পুঁজি ও আয়ের উৎস। এ শ্রেণীই মোট শ্রমবাজারের, এমনকি ভোটারদেরও, সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ। যখন তারা চাকরি হারায়, তখন শুধু আয় নয়, দীর্ঘদিনের অর্জিত দক্ষতাও হারায়, যা অন্য পেশায় সহজে স্থানান্তরযোগ্য নয়।

প্রমাণ বলছে, বাজারের ওপর ছেড়ে দিলে চাকরি হারানো শ্রমিকদের দুই-তৃতীয়াংশ শেষ পর্যন্ত কম মজুরির অদক্ষ কাজে যোগ দেয়, আর এক-তৃতীয়াংশ পুরোপুরি শ্রমবাজারের বাইরে চলে যায়। অর্থাৎ বাজারের ‘‌স্বাভাবিক সমাধান’ আসলে স্থায়ী প্রান্তিকতার পথ খুলে দেয়। এ কর্মহানি কেবল আর্থিক নয়, মানসিকও। দীর্ঘদিনের পেশা হারানোর ধাক্কায় বহু মানুষ পরিবার ও সমাজ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, শারীরিক ও মানসিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে, এমনকি আয়ুষ্কালও কমে আসে—যেমনটি আগেই উল্লেখ করা হয়েছে।

একটি গণতান্ত্রিক সমাজে যখন মানুষ অনুভব করে যে সরকারি নীতি তাদের জীবিকা কেড়ে নিয়েছে, তখন সেই নীতিকে তারা অন্যায্য হিসেবে দেখে। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই শ্রেণীর মানুষ সংখ্যায় বাড়লে, তারা একটি প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়, যা বিদ্যমান ব্যবস্থার বিরোধী মনোভাব পোষণ করে। যুক্তরাষ্ট্রে ‘‌মাগা’ আন্দোলনের উত্থান, যা ট্রাম্পকে দুই দফা ক্ষমতায় পৌঁছে দিয়েছে, তারই প্রতিফলন। প্রতিশোধের এ রাজনীতি শেষ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেই দুর্বল করে দেয়।

আমার আসন্ন বইয়ের বিশ্লেষণ বলছে—যেসব গণতান্ত্রিক দেশ শ্রমিকদের জীবিকা রক্ষায় বেশি উদ্যোগ নিয়েছে, তারা সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও বেশি উপভোগ করেছে। উদাহরণস্বরূপ, জাপান, জার্মানি ও স্ক্যান্ডিনেভীয় দেশগুলো ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে এ সংকট মোকাবেলা করেছে, কিন্তু ফলাফল এক—গণতন্ত্রের ভিত সুরক্ষিত হয়েছে।

আসন্ন অভিঘাতের প্রস্তুতি: এআই বিপ্লবের প্রভাব পূর্ববর্তী প্রযুক্তিগত পরিবর্তনগুলোর চেয়ে অনেক গভীর হবে। এবার আঘাত আসবে মূলত সেবা খাতে—যেখানে স্বাস্থ্য, আইন, গবেষণা ও প্রশাসনের মতো জ্ঞানভিত্তিক পেশা রয়েছে। উৎপাদন খাতে স্বয়ংক্রিয়তা অনেক দূর গিয়েছে; এখন এআই লক্ষ্য করছে তথ্যনির্ভর কাজ, যা উচ্চশিক্ষা ও দীর্ঘ অভিজ্ঞতার ওপর দাঁড়িয়ে। এআই যেহেতু দ্রুত তথ্য বিশ্লেষণ ও সংযোজনে পারদর্শী, তাই এ ক্ষেত্রের কর্মসংস্থান সংকোচনের আর্থিক অভিঘাত আগের তুলনায় বহুগুণ বড় হতে পারে। এ বাস্তবতা জীবিকা পুনরুদ্ধারের নীতিকে আগের চেয়ে আরো জরুরি করে তুলেছে।

কারণ যখন এআই প্রযুক্তি জনজীবনে বিপর্যয় ডেকে আনবে, ক্ষতিগ্রস্ত মানুষরা দায় দেখবে সেই সরকারি নীতির দিকে, যা কোনো সুরক্ষা বা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি করেনি। ট্রাম্প প্রশাসন তো উল্টো পথে হাঁটছে—সিলিকন ভ্যালির হাত খুলে দিচ্ছে, একচেটিয়া ব্যবসাবিরোধী আইন প্রয়োগ থেকে বিরত থাকছে, ডাটা সেন্টার নির্মাণে ছাড় দিচ্ছে, এমনকি নির্বাহী আদেশের মাধ্যমে এআই নিয়ন্ত্রণের ধারণাকেই বাতিল করছে।

ফলে শ্রমিকরা একা পড়ে যাবে। এটি আমেরিকার শ্রমিকদের কাছে নতুন অভিজ্ঞতা নয়, তবে এবার আকারে তা আরো ব্যাপক হতে চলেছে। শক্তিশালী জীবিকা-সুরক্ষা নীতি ছাড়া গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখার সম্ভাবনা ম্লান হয়ে যাবে। গণতন্ত্রের স্থায়িত্ব নির্ভর করছে একটি মৌলিক সত্যের ওপর—শ্রমিকের মর্যাদা ও জীবিকা সুরক্ষিত না হলে, রাষ্ট্রের বৈধতা টেকে না।

[স্বত্ত্ব: প্রজেক্ট সিন্ডিকেট]

মর্দেকাই কার্জ: স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির ইমেরিটাস অধ্যাপক

আরও