স্মৃতিচারণ

আমাদের কালের বিশ্ববিদ্যালয়-জীবন

আর কয়েক দিন পরে উদযাপিত হবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে আমার কিছু স্মৃতি মনে পড়ছে। সেগুলো পাঠকের সঙ্গে তুলে ধরার প্রয়াসে এ ধারাবাহিক নিবন্ধের সূত্রপাত।

আর কয়েক দিন পরে উদযাপিত হবে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। বিশ্ববিদ্যালয় ঘিরে আমার কিছু স্মৃতি মনে পড়ছে। সেগুলো পাঠকের সামনে তুলে ধরার প্রয়াসে ধারাবাহিক নিবন্ধের সূত্রপাত। 

১৯৭২ সাল। সিলেট এমসি ইন্টারমিডিয়েট কলেজ (বর্তমানে সিলেট সরকারি কলেজ) থেকে আইএ পাস করে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে ঢাকা এসেছি। উঠেছি ধানমন্ডিতে মামার বাসায়। খুব সহজেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতি বিভাগের ভর্তি পরীক্ষায় টিকে গেলাম। ভাবছি ভর্তি হব কি হব না, কারণ সারা দেশের তুখোড় ছাত্র-ছাত্রীরা সব এসে ভিড় করবে বিভাগে। প্রথম শ্রেণী তো দেয়া হবে হাতে গুনে। আমার মতো নগণ্য ছাত্র আঙুলের ফাঁক গলিয়ে সহজেই মাটিতে পড়ে যাব। প্রথম শ্রেণী না পেলে তো আর সামনের দিকে বেশি দূর এগোনো যাবে না। এসব ভেবেচিন্তে ঠিক করলাম আপাতত এটা তো হাতে আছে, থাক না; চেষ্টা করে দেখি, যদি জাহাঙ্গীরনগরে সুযোগ পাই তাহলে সেখানে চলে যাব। সে সময় আমার ক্যারিয়ার প্ল্যানার ছিলেন আমার বড় ভাই (বর্তমানে নিউইয়র্কে আছেন, তখন ঢাকাতেই থাকতেন এবং মামারই বাসায়), দেখলাম তারও ইচ্ছা আমি যেন ঢাকার বাইরেই যাই।

দু-তিনদিন পর পাসপোর্ট সাইজ ছবি, মার্কশিট, সার্টিফিকেট, টেস্টিমোনিয়াল ইত্যাদির সত্যায়িত অনুলিপি বগলদাবা করে সকালবেলা ঢাকা থেকে রওনা দিলাম সাভারের উদ্দেশে। বাসে উঠব বলে মিরপুর রোডে ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজের সামনে দাঁড়িয়ে আছি। এমন সময় পাদানিতে দাঁড়ানো হেলপার বাসের গায়ে থাপড়াতে থাপড়াতে আমার সামনে এসে থামলেন, তার মুখে যেন খই ফুটছে—‘সিট আছে, সিট আছে, সাভার-নয়ারহাট, সাভার-নয়ারহাট... লাফ দিয়ে উঠলাম বাসে, বসার জায়গা পেলাম না। সহযাত্রীদের একজন একটু উত্তেজিত হয়ে কন্ডাক্টরকে বললেন, সিট আছে, সিট আছে বললেনকই, সিট কোথায়? প্রশ্ন শেষ হতে না হতেই উত্তর এল, সিট না থাকলে এত লোক বসছে কী করে? অগত্যা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গেলাম গাবতলী পর্যন্ত। সেখানে গিয়ে বাস থেকে নেমে পায়ে হেঁটে পুরনো অপ্রশস্ত লোহার পুল (তখন ডান দিকের দুই লেনের বড় পাকা পুলে কাজ চলছে) পেরিয়ে আমিন বাজার গিয়ে উঠলাম লক্কড়-ঝক্কড়-মার্কা আরেক বাসে। হেলপারের কণ্ঠে সেই একই আওয়াজ, সাভার-নয়ারহাট, সাভার-নয়ারহাট..., তখন ছোট ছোট ওই পুরনো বাসকে বলা হতো মুড়ির টিন বাসের সঙ্গে মুড়ির টিনের একটা সম্পর্ক আছে বটে, তবে সেদিকে এখন আর যাচ্ছি না। গাড়িতে এবার বসার জায়গা পেলামবাঁ দিকে উইন্ডো সিটে। কড়া রোদে ঘেমে ওঠা ভ্যাপসা গরম মুহূর্তেই জানান দিয়ে গেল জুলাই মাস চলছে!

কতক্ষণ পর ভেঁপু বাজিয়ে বাস ছেড়ে দিল। সঙ্গে সঙ্গে খোলা জানালা দিয়ে মুক্ত বাতাস পশ্চিম দিক থেকে ঢুকে পুব দিকে বেরিয়ে যেতে লাগল। বয়ে যাওয়া শিরশির হাওয়া ভালোই লাগছিল। ততক্ষণে আমার ঘামে ভেজা চিটচিটে জামাটা আস্তে আস্তে শুকোতে শুরু করেছে। ডানে-বাঁয়ে তাকিয়ে দেখি মিরপুর হাওরের থইথই ঘোলা পানিতে সাদা ফেনা তুলে বড় বড় ঢেউ খেলছে। মাত্র এক লেনের রাস্তা, দুই পাশে লাইন ধরে দাঁড়িয়ে আছে মাঝারি আকারের কৃষ্ণচূড়ার গাছ। ছোটবেলা হাকালুকি হাওর পেরিয়ে নাওয়ে করে মায়ের সঙ্গে নানাবাড়ি নাইওর যেতাম। নাও চলত ডুবুডুবু হিজলবনের গা-ঘেঁষে ঘেঁষে। আজ হাওরের মাঝখান দিয়ে নৌকা নয়, গাড়ি চড়ে যাচ্ছি, বাহ! কী মজা! না জানি সামনে আরো কত কিছু দেখব! রাজধানী শহর ঢাকার এত কাছে এত বড় হাওরআমার ধারণাই ছিল না! দেখলাম হাওরে ছোট ছোট ডিঙি থেকে জেলেরা মাছ ধরছেন, পাল তুলে বড় বড় মালবাহী নৌকা এদিক-ওদিক ছুটছেকোনোটায় বালি, কোনোটায় ইট-পাথর, কোনোটায় গরু। নাইওরি নাও- আছে দু-একখানা। ছইওয়ালা নৌকার প্রবেশপথ শাড়ি দিয়ে ঘোমটা দেয়া।

ওমা! একটুখানি অন্যমনস্ক হয়ে ভাবতে না ভাবতে দেখি হাওর শেষ হয়ে গেল! আরেকটু পরেই চলে এলাম হেমায়েতপুর। বাস থামল। এদিক-ওদিকের ডোবা-নালা থেকে পচা পাটের গন্ধ এসে লাগল আমার নাকে; অতি চেনা সে গন্ধসে যে আমার কী ভালো লাগে বলে বোঝানোর নয়! ওই গন্ধ আমাকে পাগল করে দেয়! ইচ্ছে হচ্ছিল বাস থেকে নেমে বটগাছের তলায় চায়ের দোকানের পাশে দাঁড়িয়ে থাকি, পচা পাটের গন্ধ শুঁকি, কিন্তু সে কি আর সম্ভব? সামনে যেতে হবে আরেকটু, তারপর দূর, অনেক দূরের পথ পাড়ি দিতে হবে আমাকে! আমার যে স্বপ্ন আছে! বুকভরা অনেক বড় স্বপ্ন! আকাশছোঁয়া স্বপ্ন!

পচা পাটের গন্ধ পেছনে ফেলে বাস চলতে লাগল, জোড় পুল, ঝাউতলা, সাভার থানা, সাভার বাজার, মিলিটারি খামার, রেডিও অফিস, সিঅ্যান্ডবি, ডেইরি ফার্ম পেরিয়ে এসে নামলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রান্তিক গেটে। ওই গেটে তখন দোকানপাট কিছুই ছিল না। কাঁঠাল বাগানের পাশ দিয়ে লাল ইট বিছানো রাস্তা ধরে কোয়ার্টার মাইল হেঁটে এসে পৌঁছলাম অর্থনীতি বিভাগে। বিভাগের কেরানি রাখাল বাবুর কাছ থেকে ভর্তি ফরম নিয়ে ফিলআপ করে নাম-দস্তখত লিখে ছবি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ জমা দিয়ে গেলাম নম্বর হলের (বর্তমানে যার নাম আল-বেরুনী হল) ক্যান্টিনে। সেখানে দুটো আলুর চপ কিনে খেলাম, খিদের মাঝে খুব মজা লাগল! সিলেট থেকে এসেছিগেঁয়ো বাঙাল, আলুর চপ আগে কখনো খাইনি। পরক্ষণেই ভাবলাম, সেদ্ধ আলুকে ভালো করে চটকিয়ে ভেতরে সেদ্ধ ডিম আর পেঁয়াজ ভাজার স্ট্যাফিং পুরে একমাথা মোটা আরেক মাথা চোখা রেখে সাইজ করে তারপর গায়ে রুটির গুঁড়ো মেখে ডোবা তেলে ভাজি করেছে। আলুভর্তা একটু কায়দা করে পরিবেশন করাএই যা। আবার নতুন কী!

ক্যান্টিন থেকে ফেরার পথে ফুল বাগানের মাথার ওপর দিয়ে কাচের জানালার ভেতর দেখি বিশাল ডাইনিং রুম। ফরমাইকাটাপ টেবিলের ওপরে প্রতিটা চেয়ারের সামনে একটা করে খাবার প্লেট উল্টানো, প্লেটের মাথায় একটা করে গ্লাসপানিভরা না খালি বোঝার উপায় নেই! তারপর দুই কদম হেঁটে হলের ছোট্ট শহীদ মিনারের সামনে দাঁড়িয়ে চারদিকে তাকিয়ে কতক্ষণ ক্যাম্পাসের মনোরম দৃশ্য উপভোগ করলাম। প্রথম দিনেই জাহাঙ্গীরনগরের পানি, পাখি, লতাপাতা আর এলোমেলো মাতাল হাওয়া আমাকে জাদু করে ফেলল! আমি হয়ে গেলাম আমার আলমা মেইটার-এর চিরপ্রেমিক, খাঁটি প্রেমিকসে প্রেমের বন্ধন আজও আছে, অটুট, একেবারে যাকে বলে ষোলো আনা! শুধু কি জাহাঙ্গীরনগর? তার মাটি, মানুষ, প্রকৃতি, পরিবেশ সবকিছুই আমার এখনো ভালো লাগে, যেমন লেগেছিল প্রথম দিন। যেখানেই থাকি, যত দূরেই থাকি, লাল-সবুজের জাহাঙ্গীরনগরের কথা সবসময়ই মনে পড়ে, আর নস্টালজিয়া আমাকে যখন তখন পেয়ে বসে!

এভাবে প্রথম দিনের মায়াময় অভিজ্ঞতা নিয়ে ফিরে এলাম ঢাকায়, মামার বাসায়। কয়েক দিন পর আবার গেলাম জাবি ক্যাম্পাসে লিখিত পরীক্ষা দিতে। ওইদিন একটা সামান্য বিষয় আমাকে এক ধন্ধের মধ্যে ফেলে দিল। মাত্র কয়েক দিন আগে বিশ্ববিদ্যালয় তৃতীয়-চতুর্থ শ্রেণী কর্মচারী ইউনিয়ন-এর নির্বাচন হয়ে গেছে। ওই নির্বাচন উপলক্ষে প্রার্থীরা দেয়ালে দেয়ালে পোস্টারিং করেছেন। লিগেল সাইজ সাদা কাগজের ওপর লেখা আঁকা পোস্টার। নাম পদ-পদবির সঙ্গে কারো পোস্টারে হাঁস, কারো পোস্টারে ছাতা, কারো পোস্টারে দোয়াত-কলম ইত্যাদির ছবি আঁকা। পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছি হাতে লেখা, হাতে আঁকা কিন্তু বইয়ের পাতার মতো ছাপানো, ঘন কালো ছাপার কালির ছাপ। কী করে সম্ভব! আমি অনেক ভেবেও এর কোনো হদিস পাইনি! সাইক্লোস্টাইল বলে যে একটা টেকনোলজি ছিল, সেটি তখন আমার জানা ছিল না। কপিয়িং মেশিনের ঠেলায় নিশ্চয়ই আজ আবার সাইক্লোস্টাইল কল হারিয়ে গেছে।

সেদিনের লিখিত পরীক্ষায় প্রশ্ন কী ছিল, তা আজ অনেক ভেবেও মনে করতে পারছি না। মনে পড়ল ওয়াশিংটন ডিসিতে বন্ধু নুরুল আলম চৌধুরীর কথা। তাকে ফোন করলাম। সে মনে করিয়ে দিল, বিজ্ঞান মানবিক শাখার শিক্ষার্থীদের জন্য আলাদা প্রশ্নে লিখিত পরীক্ষা হয়েছিল। আমি ছিলাম মানবিক বিভাগে। অর্থনীতি সাধারণ জ্ঞানের ওপর অনেক ছোট ছোট প্রশ্ন ছিল এবং একটা রচনাও লিখতে হয়েছিল। একটা মাত্র ছোট প্রশ্ন আজ আমার মনে পড়ে। Who is the finance minister of Bangladesh? উত্তরটা আমার জানা ছিলতাজউদ্দীন আহমদ।

লিখিত পরীক্ষার পর আরেক দিন গেলাম মৌখিক পরীক্ষা দিতে। ভাইবা বোর্ডে তিন-চারজন স্যার ছিলেন, তার মধ্যে একজনের কথা আমার স্পষ্ট মনে পড়ে। তিনি আমাকে লিনিয়ার ইকুয়েশনের স্লোপ ইন্টারসেপ্ট শনাক্ত করতে বলেছিলেন। স্যারের নাম ইকবাল আহমেদ। তিনি চমত্কার রবীন্দ্রসংগীত গাইতেন। আমার সঠিক উত্তর শুনে স্যার যেমন খুশি হয়েছিলেন, তেমনি একটু অবাকও হয়েছিলেন! কারণ আইএ ক্লাসে তখন লিনিয়ার ইকুয়েশন পড়ানো হতো না। আমি যখন বললাম, অর্থনীতি পড়ার জন্যই আমি ইন্টারমিডিয়েটে ইলেকটিভ ম্যাথ নিয়েছি, তখন তিনি অবাক হলেন না, কিন্তু আরো খুশি হলেন এবং আমিও তার ইতিবাচক সংকেতটা বুঝে গেলাম।

তৃতীয়বার ক্যাম্পাসে গেলাম রেজাল্ট দেখতে এবং ভর্তি হতে। ওইদিন যাওয়ার সময় মামা বলে দিলেন ফেরার পথে সাভার থেকে বাসার জন্য তাজা রসগোল্লা কিনে আনতে। আমি গেলাম, রেজাল্ট দেখলাম, ভর্তি হলাম, তারপর খুশি মনে বাসায় ফিরে আসছি। মিরপুর এসে মনে পড়ল মামার ফরমায়েশি মিষ্টি কিনতে সাভারে নামা হয়নি, রসগোল্লাও কিনিনিএখন কোন মুখে বাসায় ফিরে যাই। মনটা ভীষণ খারাপ হয়ে গেল, ভাবছি বাসায় গিয়ে মামা-মামীকে কী বলব! বাকি পথ দুশ্চিন্তা করে করেই এলাম। বাস মিরপুর সড়ক ধরে ধানমন্ডি নম্বর রোড পার হয়েছে। আরেকটু সামনে যাওয়ার পর হাতের বাঁ দিকে তাকিয়ে সমস্যাটার উপস্থিত একটা সমাধান বের করে ফেললাম। দেখতে পেলাম, মরণ চাঁদ অ্যান্ড গ্র্যান্ড সন্স মিষ্টান্ন ভাণ্ডার (ঢাকা টিচার্স ট্রেনিং কলেজের মুখোমুখি পেট্রল পাম্পের লাগোয়া দক্ষিণ পাশেই ছিল, ওটা এখন আর ওখানে নেই)

বাস থেকে নেমে মিষ্টির দোকানে ঢুকছি আর ভাবছি, আজ মরণ চাঁদ আমাকে বাঁচিয়ে দিল! এক সের (তখনো দেশে মেট্রিক প্রথা চালু হয়নি) রসগোল্লা কিনলাম। দোকানি মাটির পাতিলের মুখ বন্ধ করলেন মরণ চাঁদের মার্কামারা সাদা জমিনের ওপর লাল হরফের কাগজের লেবেল দিয়ে। দোকান থেকে বেরিয়ে খবরের কাগজ কিনে, ছিঁড়ে, সাইজ করে মরণ চাঁদের মার্কামারা লেবেল ফেলে দিয়ে পত্রিকার কাগজ বসিয়ে আবার দড়ি দিয়ে পাতিলটাকে ভালো করে পেঁচালাম। তারপর রিকশায় উঠে বাসায় চলে এলাম। বিকালের চা-নাশতার সময় রসগোল্লার ভাণ্ড খোলা হলো। মামা মিষ্টি মুখে দিয়েই মামীকে বলছেন, খেয়ে দেখো, সাভারের রসগোল্লা কত তাজা, কত মজা! মরণ চাঁদের মিষ্টি তো আমরা হামেশাই খাই, এটা খেলেই তফাত্টা বুঝতে পারবে! আমার হাসি পেল, কিন্তু অনেক কষ্ট করে ঠোঁট দুখানা সোজা করেই রাখলাম।

ক্লাস ঠিক কোন দিন, কোন তারিখ শুরু হয়েছিল সেকথা আজ আর মনে নেই। শুরুর আগে একবার মা-বাবার কাছে বাড়িতে ফিরে গেলাম কিনা তাও স্মরণে আসছে না, তবে যেদিন গাট্টি-বোঁচকা নিয়ে ক্যাম্পাসে গিয়ে উঠলাম সেদিনকার কথা পরিষ্কার মনে আছে। তখন হল ছিল কুল্লে একটা—‘ নম্বর হল তার পুব পাশে লেকের উল্টো দিকে ছিল একতলা তিন ব্লকের এক্সটেনশন। আমি আমার মালসামান নিচে রেখে দেখা করলাম হাউজ টিউটরের সঙ্গেহয় রহিম স্যার নয়তোবা কবির স্যার (দুজনই তখন পরিসংখ্যান বিভাগের তরুণ শিক্ষক) আমাকে প্রথমে বরাদ্দ দেয়া হলো বি ব্লকের ৪১৬ নম্বর কক্ষ। মালপত্র নিয়ে চারতলায় উঠে দেখি রুমের দরজায় ঝুলছে বিশাল এক তালা। আবার দৌড়ে গেলাম স্যারের কাছে, এবার আমাকে বলা হলো, তুমি যে রুম খালি পাও, ঢুকে যাও। আমি পাশের ৪১৫ নম্বর রুমের দরজা খোলা দেখে ঢুকে পড়লাম। ঠিক ওই সময় এসে হাজির হলো আব্দুর রব। তার সঙ্গে কথাবার্তা বলে আমরা দুজনে দখল করে নিলাম ওই রুমটি। সেদিন থেকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় আমারও হয়ে গেল। (চলবে)

আবু এন এম ওয়াহিদ: অর্থনীতির অধ্যাপক, টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটি

এডিটর, জার্নাল অব ডেভেলপিং এরিয়াজ

[email protected]

আরও