মাটি, মানুষের অস্তিত্বের নীরব ভিত্তি। এটি শুধু খাদ্য উৎপাদনের মাধ্যম নয়, বরং জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ, পানি পরিশোধন ও জীববৈচিত্র্যের আধার। মৃত্তিকা একটি দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা ও পরিবেশগত সহনশীলতার মূল চাবিকাঠি। প্রতি বছর ৫ ডিসেম্বর বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস পালনের মধ্য দিয়ে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) সুস্থ মাটির গুরুত্ব এবং টেকসই মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনার প্রতি বৈশ্বিক মনোযোগ আকর্ষণ করে। ২০১৩ সালের জুনে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা (এফএও) বিশ্ব মৃত্তিকা দিবসকে সর্বসম্মতিক্রমে সমর্থন করে এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৬৮তম অধিবেশনে ৫ ডিসেম্বরকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে। এবারের মৃত্তিকা দিবসের প্রতিপাদ্য ‘সুস্থ নগরের জন্য সুস্থ মাটি’ চোখে আঙুল দিয়ে দেখায় যে মাটির স্বাস্থ্য শুধু গ্রামীণ কৃষি খামারেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং নগরের ইট-পাথরের নিচে থাকা ভূমিও আমাদের দৈনন্দিন জীবন, অর্থনীতি ও জলবায়ু সহনশীলতার জন্য অপরিহার্য।
আমাদের খাদ্যের ৯৫ শতাংশেরও বেশি মাটি থেকে উদ্ভূত হয়। মৃত্তিকা সম্পদের স্বাস্থ্য সরাসরি মানব ও গ্রহের বেঁচে থাকার সঙ্গে জড়িত। মজার ব্যাপার হলো পৃথিবীতে মানুষসহ সব জীবের দেহ বিশ্লেষণ করলে যেসব মৌলিক উপাদান ও জৈব যৌগ (জেনেটিক কোডসহ) পাওয়া যায়, তার সবই মৃত্তিকায় বিদ্যমান।
অর্থনীতিবিদদের দৃষ্টিতে মাটি একটি মূল্যবান ‘প্রাকৃতিক সম্পদ পুঁজি’। কিন্তু বৈশ্বিক তথ্যমতে, পৃথিবীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মাটি বর্তমানে মাঝারি থেকে মারাত্মকভাবে ক্ষয়প্রাপ্ত। এফএওয়ের সাম্প্রতিক তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর আমরা ৭ দশমিক ৫ বিলিয়ন টন উর্বর টপ সয়েল বা উপরিভাগের মাটি হারাচ্ছি। এ মাটির অবক্ষয়ের অর্থনৈতিক মূল্য বিশাল। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থা অনুমান করে, ভূমি ও মাটির অবক্ষয়ের কারণে বিশ্ব প্রতি বছর ১০ দশমিক ৬ ট্রিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ইকোসিস্টেম পরিষেবা হারাচ্ছে। এ বিশাল ক্ষতি জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ২০৭০ সাল নাগাদ আরো ২৫-৩০ শতাংশ বেড়ে যেতে পারে। এ পরিসংখ্যান গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মাটির অবক্ষয় শেষ পর্যন্ত কৃষি উৎপাদন হ্রাস, খাদ্যের মূল্যবৃদ্ধি, আমদানিনির্ভরতা বৃদ্ধি ও সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট আরো উদ্বেগজনক। নদীমাতৃক এ বদ্বীপ অঞ্চলের উর্বরতা একসময় বিশ্বখ্যাত ছিল। কিন্তু জনসংখ্যা বৃদ্ধি, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, শিল্পায়ন ও সর্বব্যাপী ভূমি ব্যবহারের কারণে আবাদি জমির পরিমাণ প্রতি বছর প্রায় ১ শতাংশ হারে কমছে। অন্যদিকে বিদ্যমান কৃষিজমিতে নিবিড় চাষাবাদ এবং যথেচ্ছ রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের ব্যবহারের ফলে মাটির প্রাকৃতিক উর্বরতা (জৈব পদার্থের পরিমাণ) ভয়াবহভাবে কমছে। বাংলাদেশে ফসলি জমিতে জৈব পদার্থের পরিমাণ আদর্শিক মাত্রা ৫ শতাংশের নিচে নেমে ২ শতাংশ বা কোনো কোনো অঞ্চলে ১ শতাংশেও ঠেকেছে। ফলে মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা ও টেকসই খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করা এক বিশাল চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে উপকূলীয় অঞ্চলে লবণাক্ততা বৃদ্ধি, উত্তরাঞ্চলে খরা এবং সারা দেশে অপরিকল্পিতভাবে ছড়িয়ে থাকা ইটভাটাগুলো মাটির উপরিভাগের উর্বরতা কেড়ে নিচ্ছে।
জীববৈচিত্র্য মাটির অদৃশ্য ইঞ্জিন। মাটির স্বাস্থ্য বোঝার জন্য মাটির জীববৈচিত্র্য বোঝা অত্যাবশ্যক। পৃথিবীর মোট জীববৈচিত্র্যের প্রায় ২৫ শতাংশের আবাসস্থল হলো এ মাটি। একমুঠো সুস্থ মাটিতে একটি গোটা শহরের মানুষের চেয়েও বেশি অণুজীবের (যেমন: ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক, অ্যাক্টিনোমাইসিটিস) বসবাস। এ অণুজীবগুলো মাটির ‘অদৃশ্য ইঞ্জিন’ হিসেবে কাজ করে। তারা মৃত জৈব পদার্থকে ভেঙে উদ্ভিদের জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানে (যেমন: নাইট্রোজেন, ফসফরাস) পরিণত করে। মাটির এ জটিল খাদ্যজাল যত বেশি সমৃদ্ধ, মাটি তত বেশি উর্বর, রোগমুক্ত ও জলবায়ু সহনশীল হয়।
কিন্তু আধুনিক কৃষিতে ব্যবহৃত অত্যধিক রাসায়নিক সার ও কীটনাশক মাটির এ অণুজীব সমাজকে ধ্বংস করছে। রাসায়নিকনির্ভরতা স্বল্পমেয়াদে উৎপাদন বাড়ালেও দীর্ঘমেয়াদে মাটির রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমিয়ে দেয় এবং পুষ্টির অভাব সৃষ্টি করে, যা কৃষকদের আরো বেশি ইনপুট বা উপকরণের ওপর নির্ভরশীল করে তোলে। এ দুষ্টচক্র থেকে বেরিয়ে আসার একমাত্র পথ হলো জৈব পদার্থভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থার দিকে ফেরা এবং মাটির অণুজীবদের সংরক্ষণে মনোযোগ দেয়া। জৈব পদার্থ মাটির গঠনকে উন্নত করে, যা জল পরিস্রাবণ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং ভূমিক্ষয় রোধ করে। এটি সুস্থ মাটির অর্থনীতির মূল ভিত্তি।
বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস ২০২৫-এর মূল বার্তা ‘সুস্থ নগরের জন্য সুস্থ মাটি’ বর্তমান শহুরে প্রেক্ষাপটে এক গভীর তাৎপর্য বহন করে। সাধারণত আমরা শহর বলতে শুধু কংক্রিটের কাঠামো বুঝি, কিন্তু এর নিচে থাকা মাটি পরিবেশগত সেবাদানের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর মধ্যে রয়েছে (১) নগরীয় জল ব্যবস্থাপনা ও বন্যা প্রতিরোধ: সুস্থ, উন্মুক্ত মাটি একটি প্রাকৃতিক স্পঞ্জের মতো কাজ করে। এটি বর্ষাকালের অতিরিক্ত পানি দ্রুত শোষণ করে ভূগর্ভস্থ জলস্তরকে রিচার্জ করে এবং নগরে জলাবদ্ধতা ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি কমায়। কিন্তু যখন কংক্রিট দিয়ে শহরের অধিকাংশ মাটি ‘সিল’ করে দেয়া হয়, তখন মাটি তার পানি শোষণের ক্ষমতা হারায়, যা ঢাকাসহ অন্যান্য বড় শহরগুলোকে ভয়াবহ বন্যার ঝুঁকিতে ফেলে। (২) কার্বন সিকোয়েস্ট্রেশন ও তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ: মাটির জৈব পদার্থ বিপুল পরিমাণে কার্বন সঞ্চয় করে জলবায়ু পরিবর্তন প্রশমনে সহায়তা করে। শহরের সবুজ এলাকা ও পার্কের সুস্থ মাটি কার্বন ডাই-অক্সাইডকে মাটির গভীরে আবদ্ধ করে। এছাড়া সুস্থ মাটি তাপ শোষণ করে এবং জলীয় বাষ্প ত্যাগ করে শহরের ‘হিট আইল্যান্ড এফেক্ট’ কমাতে সাহায্য করে, যা নগরবাসীর জীবনযাত্রাকে আরামদায়ক করে তোলে। (৩) বিষাক্ত বর্জ্য পরিশোধন: শহুরে বর্জ্য ও শিল্প দূষণ মাটিকে বিষাক্ত করে তোলে। কিন্তু মাটির অণুজীব ও জৈব পদার্থ অনেক দূষণকারী পদার্থকে ভেঙে বা নিষ্ক্রিয় করে পানি ও বাতাসকে পরিশোধনে সাহায্য করে। এ পরিপ্রেক্ষিতে, ‘সুস্থ শহরের জন্য সুস্থ মাটি’ ধারণাটি শুধুই পরিবেশের বিষয় নয়, এটি নাগরিক অবকাঠামো, স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতারও অংশ। নগর পরিকল্পনাবিদদের এখন ‘স্পঞ্জ সিটি’ ধারণা গ্রহণ করতে হবে, যেখানে মাটির স্বাভাবিক পরিস্রাবণ ক্ষমতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়।
মাটি ও জলবায়ু সহনশীলতা অর্থনীতির রক্ষাকবচ। জলবায়ুর পরিবর্তন আজ বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা। কৃষি, যা আমাদের জিডিপির একটি বড় অংশ, সরাসরি এর শিকার। মাটির স্বাস্থ্য জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবেলার সবচেয়ে কার্যকর প্রাকৃতিক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা। যেমন খরা সহনশীলতা। জৈব পদার্থসমৃদ্ধ সুস্থ মাটি প্রতি হেক্টর জমিতে প্রায় ২০ লক্ষ লিটার পর্যন্ত অতিরিক্ত পানি ধরে রাখতে পারে। এটি খরা কবলিত অঞ্চলে ফসলের টিকে থাকার ক্ষমতাকে ব্যাপকভাবে বাড়ায়, সেচের খরচ কমায় এবং কৃষকের উৎপাদন খরচ স্থিতিশীল রাখে। এছাড়া বন্যা প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে। মাটির উন্নত গঠন নিশ্চিত করে যে ভারি বৃষ্টিপাতের সময় পানি দ্রুত মাটির গভীরে চলে যায়, যা ভূমিক্ষয় রোধ করে এবং বন্যার তীব্রতা কমায়। পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতেও সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে স্বাস্থ্যকর মাটি। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট চাপ (যেমন লবণাক্ততা) ফসলের পুষ্টি উপাদান শোষণের ক্ষমতা কমিয়ে দেয়। কিন্তু সুস্থ মাটিতে পর্যাপ্ত পুষ্টি উপাদান সহজে সহজলভ্য থাকে, যা কেবল ফসলের উৎপাদনশীলতা নয়, বরং উৎপাদিত খাদ্যের পুষ্টিগুণও (যেমন জিংক ও আয়রন) নিশ্চিত করে। এটি দেশের পুষ্টিনিরাপত্তা ও জনস্বাস্থ্যের মান উন্নত করার জন্য অপরিহার্য। তাই মাটির স্বাস্থ্যকে জলবায়ু অভিযোজন ও প্রশমন উভয় কৌশল হিসেবে বিবেচনা করে এতে বৃহৎ আকারের সরকারি ও বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত।
মাটির অবক্ষয় রোধ করা একটি সরকারি বাধ্যবাধকতা নয়, এটি একটি বাণিজ্যিক সুযোগও বটে। রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের আমদানিনির্ভরতা বাংলাদেশের অর্থনীতিতে বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি করে। সুস্থ মাটির মাধ্যমে জৈব চাষাবাদ বৃদ্ধি পেলে সারের ভর্তুকি কমে, যা সরকারের আর্থিক সাশ্রয় করে। এর বিপরীতে, জৈব সার, বায়োপেস্টিসাইড ও ভ্যালু অ্যাডেড বায়ো-ইনপুট উৎপাদনের দেশীয় শিল্পে বিনিয়োগের বিপুল সুযোগ সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে, বিশ্বজুড়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বৃদ্ধির কারণে অর্গানিক ও টেকসইভাবে উৎপাদিত খাদ্যের চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশে যদি মাটির স্বাস্থ্য উন্নত করে ‘ক্লিন ফুড’ উৎপাদন করা যায়, তবে তা আন্তর্জাতিক বাজারে উচ্চ মূল্যে রফতানির সুযোগ তৈরি করবে। এটি কৃষকদের আয় বৃদ্ধি করে গ্রামীণ অর্থনীতির গতি বাড়াবে। এছাড়া ২০২৫ সালের প্রতিপাদ্য অনুযায়ী প্রযুক্তি নির্ভর ‘প্রিসিশন এগ্রিকালচার’ বা নির্ভুল কৃষি পদ্ধতির প্রয়োজন। ড্রোন, সেন্সর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মাটির গুণাগুণ (পিএইচ, নাইট্রোজেন, ফসফরাস, জৈব কার্বন) পর্যবেক্ষণ করা যায়। এ ডাটা-নির্ভর প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে ঠিক যতটুকু সার প্রয়োজন, ততটুকুই ব্যবহার করা সম্ভব। দেশের প্রযুক্তি ও কৃষি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এ খাতে সফটওয়্যার এবং হার্ডওয়্যার সরবরাহের বিপুল বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য বাংলাদেশে যথেষ্ট নীতিমালা রয়েছে। কিন্তু মূল চ্যালেঞ্জ হলো এর কঠোর প্রয়োগ ও কার্যকর পর্যবেক্ষণ। ২০২৫ সালের প্রতিপাদ্যকে সফল করতে হলে নিম্নলিখিত পদক্ষেপগুলো জরুরি:
এক. মৃত্তিকা ম্যাপের আধুনিকীকরণ: মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের (এসআরডিআই) মাধ্যমে দেশের প্রতিটি অঞ্চলের মাইক্রোবায়োমসহ মাটির গুণাগুণের সর্বশেষ তথ্য সংবলিত ডিজিটাল মৃত্তিকা ম্যাপ তৈরি করতে হবে এবং তা কৃষকদের জন্য সহজলভ্য করতে হবে। দুই. জাতীয় সমন্বিত নীতি: কৃষি মন্ত্রণালয়, ভূমি মন্ত্রণালয়, পরিবেশ অধিদপ্তর ও স্থানীয় সরকার বিভাগকে একত্র করে একটি সমন্বিত ‘ন্যাশনাল সয়েল হেলথ বোর্ড’ গঠন করতে হবে। ইটভাটাগুলোয় মাটির ব্যবহার ও শিল্প বর্জ্যের মাধ্যমে মাটি দূষণ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। তিন. জৈব পদার্থ বৃদ্ধি: কৃষকদের ফসল পর্যায়, আবর্জনা কম্পোস্ট ও সবুজ সার ব্যবহার এবং শূন্য চাষ পদ্ধতির দিকে উৎসাহিত করতে হবে। কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগকে জৈব পদার্থ ৫ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ করতে হবে। চার. শহুরে মৃত্তিকা ব্যবস্থাপনা: সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোকে নগরীয় সবুজায়ন প্রকল্পে উন্মুক্ত মাটির এলাকা চিহ্নিত করতে হবে। সব নতুন নগর অবকাঠামোয় বৃষ্টির পানি শোষণের জন্য ‘পারমিএবল পেভার’ ও সবুজ ছাদ ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে। এটি ‘স্বাস্থ্যকর নগর’ অর্জনের মূল চাবিকাঠি।
বিশ্ব মৃত্তিকা দিবস ২০২৫ আমাদের মনে করিয়ে দেয়, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কিংবা টেকসই উন্নয়ন, কোনো কিছুই মাটির স্বাস্থ্যকে উপেক্ষা করে অর্জন করা সম্ভব নয়। মাটি ধ্বংস হলে আমাদের খাদ্যনিরাপত্তা বিপন্ন হবে, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত বাড়বে এবং নগরের জীবনযাত্রা দুর্বিষহ হয়ে উঠবে। মাটির স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বিনিয়োগ করা মানে শুধু কৃষিতে বিনিয়োগ করা নয়, বরং দেশের প্রাকৃতিক পুঁজি, জনস্বাস্থ্য ও ভবিষ্যতের টেকসই অর্থনীতিতে বিনিয়োগ করা। এখন সময় এসেছে সরকারি নীতি, বেসরকারি বিনিয়োগ ও কৃষক-সাধারণ মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে মাটির প্রতি আমাদের দায়িত্ব পালনের। দেশের সব নীতিনির্ধারক, শিল্পপতি, কৃষক ও সচেতন নাগরিককে মাটির গুরুত্ব উপলব্ধি করতে হবে। মাটির স্বাস্থ্যই আমাদের জীবনের স্বাস্থ্য, অর্থনীতির স্বাস্থ্য।
তোফাজ্জল ইসলাম: প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক ও অধ্যাপক, ইনস্টিউট অব বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ফেলো, বাংলাদেশ বিজ্ঞান একাডেমি