ফলে করপোরেট ঋণের বাজারে ব্যাংকের বিকল্প হিসেবে প্রাইভেট ক্যাপিটাল বা ‘শ্যাডো ব্যাংকিং’ গড়ে ওঠে, যা প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের মূলধনের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে এ ব্যবস্থা আরো জটিল আকার নিয়েছে। বড় বিনিয়োগ সংস্থাগুলো বীমা গ্রাহকদের দীর্ঘমেয়াদি প্রিমিয়ামকে ঋণের প্রধান অর্থায়ন উৎস বানিয়ে ফেলেছে। এতে ব্যাংক খাতের ঝুঁকি কম মনে হলেও অভ্যন্তরীণ কিছু জটিল সমস্যা জন্ম নিচ্ছে।
২০০৮ সালের পর বড় কোনো ঋণভিত্তিক মন্দা না আসায় বর্তমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ও উচ্চ মূল্যস্ফীতির পরিস্থিতিতে এ খাতের ঋণখেলাপির ঝুঁকি চরম পর্যায়ে রয়েছে। বীমা প্রতিষ্ঠান ও প্রাইভেট ক্রেডিটের সমন্বয়ে স্বার্থের সংঘাত তৈরি হয়; এতে তহবিল বৈচিত্র্যায়ণের অভাব ঘটে এবং জবাবদিহিতা বা স্বচ্ছতা কমে গিয়ে বীমা গ্রাহকদের আর্থিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ে। শ্যাডো ব্যাংকিংয়ের জটিল ধারের তথ্য নিয়ন্ত্রকদের চোখে সহজে ধরা পড়ে না। অনিয়ন্ত্রিত বীমা ব্যবস্থার ফাঁক গলে তৈরি হওয়া এ সংকট ২০০৮ সালের মতো হঠাৎ ধসে পড়বে না, বরং সমস্যাটি বিস্তৃত ও দীর্ঘমেয়াদি হবে। বড় ধরনের পতন এলে বীমা গ্রাহকরা দীর্ঘদিন কম লভ্যাংশ পাবেন। এটি সরকারি বেইলআউটের মতোই ক্ষতিকর হতে পারে।
[ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ]
প্যাটরিক জেনকিন্স: ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের নির্বাহী সম্পাদক