কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ত্বরান্বিত করার বিপুল সম্ভাবনা তৈরি করলেও এর সুফল নিয়ে অতিরঞ্জিত প্রত্যাশা বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। এআই অবকাঠামোয় বিপুল বিনিয়োগ ও শেয়ারবাজারের মূল্যবৃদ্ধি সাময়িক প্রবৃদ্ধি আনতে পারে, কিন্তু জ্বালানি, নির্মাণ, পরিচর্যা ও ব্যক্তিগত সেবার মতো বহু খাতে উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির সুযোগ সীমিত। ডেটা সেন্টারের বিদ্যুৎ চাহিদা, ঋণনির্ভর বিনিয়োগ এবং সম্ভাব্য বাজারধস অর্থনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।
এআইয়ের বিস্তার কর্মসংস্থান ও আয়বৈষম্য বাড়ানোর ঝুঁকিও তৈরি করছে। অক্সফোর্ডের গবেষণা অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের অর্ধেক পর্যন্ত চাকরি স্বয়ংক্রিয়করণের ঝুঁকিতে রয়েছে। নতুন কর্মসংস্থান ভিন্ন দক্ষতা ও ভৌগোলিক অবস্থাননির্ভর হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত কর্মীদের জন্য বিকল্প খুঁজে পাওয়া কঠিন হবে। উন্নয়নশীল দেশগুলোও বিপাকে পড়তে পারে। বিশেষত আফ্রিকায় প্রতি বছর বিপুল নতুন কর্মসংস্থান প্রয়োজন হলেও এআই উৎপাদন শিল্প ও কল সেন্টারের মতো শ্রমনির্ভর খাতের চাকরি সংকুচিত করছে।
তবে চিকিৎসা গবেষণা ও ওষুধ উদ্ভাবনে এআইয়ের অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ সম্ভাবনা সৃষ্টি করেছে। লেখকের মতে, এআই পরিত্যাগ নয়, বরং এর সুফল সবার কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করাই জরুরি। কর্মীদের পুনর্দক্ষতা অর্জন, আবাসন ও পরিবহন সুবিধা বৃদ্ধি, ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে প্রযুক্তির সুফল বিস্তৃত করতে হবে। অতীতের শিল্প বিপ্লবের অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয়, প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সুফল সবার কাছে পৌঁছাতে দীর্ঘ সময় লাগতে পারে। কিন্তু এআইয়ের দ্রুত বিকাশের কারণে পদক্ষেপ নেয়ার সময় অত্যন্ত সীমিত।
[প্রজেক্ট সিন্ডিকেটে লেখা এক নিবন্ধে]
ইয়ান গোল্ডিন: অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশ্বায়ন ও উন্নয়ন বিভাগের অধ্যাপক