বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্য সম্পর্ক

অসম ভারসাম্য থেকে কৌশলগত অংশীদারত্বের পথে এগোতে হবে

বর্তমানে বাংলাদেশের মোট আমদানির প্রায় এক-চতুর্থাংশই চীন থেকে আসে। অন্যদিকে বাংলাদেশের রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও তার পরিমাণ ও পণ্যের বৈচিত্র্য এখনো সীমিত। ২০১০ সালে চীনে বাংলাদেশের রফতানি ছিল মাত্র কয়েকশ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমানে তা প্রায় ৮-১০০ কোটি ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে। ফলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের অংকে বাংলাদেশের অংশ অত্যন্ত ক্ষুদ্র।

বিশ্ব অর্থনীতির কেন্দ্রবিন্দু ক্রমেই এশিয়ার দিকে সরে যাচ্ছে। এ পরিবর্তনের অন্যতম চালিকাশক্তি চীন। দেশটি বর্তমানে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি এবং বৃহত্তম পণ্য রফতানিকারক দেশ। অন্যদিকে গত দেড় দশকে ধারাবাহিক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, রফতানিমুখী শিল্পায়ন এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক শক্তিতে পরিণত হয়েছে। এ দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্কও একই সময়ে দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে। তবে এ সম্পর্কের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো বাণিজ্যের পরিমাণ দ্রুত বাড়লেও তা অত্যন্ত অসম। চীন থেকে বাংলাদেশের আমদানি বিপুল হলেও রফতানি তুলনামূলকভাবে সীমিত। ফলে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের বাণিজ্য ঘাটতি দীর্ঘদিন ধরেই একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত আলোচনার বিষয়।

বাণিজ্যের গতিপথ (২০১০-২৬): ২০১০ সালে বাংলাদেশ ও চীনের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল আনুমানিক ৭০০-৮০০ কোটি ডলার। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বেড়ে প্রায় ২ হাজার ৪০০ কোটি ডলারে পৌঁছায়। ২০২৫ সালে বাংলাদেশে চীনের প্রত্যক্ষ বিদেশী বিনিয়োগ (এফডিআই) ছিল প্রায় ২১০ কোটি ডলার। ২০২৬ সালে বাংলাদেশে চীনের প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগে (এফডিআই) ব্যাপক গতি এসেছে। বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ ইনভেস্টমেন্ট ফোরাম-২০২৬’-এ প্রায় ৯২১ কোটি ডলারের প্রস্তাব এবং খুলনা ও চট্টগ্রাম অঞ্চলে বড় বড় শিল্প প্রকল্প স্থাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অর্থাৎ মাত্র দেড় দশকে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য তিন গুণেরও বেশি বেড়েছে। তবে এ প্রবৃদ্ধির মূল চালিকাশক্তি ছিল বাংলাদেশের ক্রমাগত আমদানি বাড়ানো।

বাংলাদেশের শিল্পায়ন, বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, সেতু, মেট্রোরেল, টানেল, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল এবং তৈরি পোশাক শিল্পের সম্প্রসারণের জন্য বিপুল পরিমাণ মূলধনি যন্ত্রপাতি, শিল্প কাঁচামাল, রাসায়নিক, ইলেকট্রনিক উপাদান, তুলা, সুতা, সিনথেটিক ফ্যাব্রিক, স্টিল, মেশিনারি এবং প্রযুক্তি চীন থেকে আমদানি করা হয়েছে। বর্তমানে বাংলাদেশের মোট আমদানির প্রায় এক-চতুর্থাংশই চীন থেকে আসে। অন্যদিকে বাংলাদেশের রফতানি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়লেও তার পরিমাণ ও পণ্যের বৈচিত্র্য এখনো সীমিত। ২০১০ সালে চীনে বাংলাদেশের রফতানি ছিল মাত্র কয়েকশ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। বর্তমানে তা প্রায় ৮-১০০ কোটি ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে। ফলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের অংকে বাংলাদেশের অংশ অত্যন্ত ক্ষুদ্র।

বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আজ কেবল ক্রেতা-বিক্রেতার সম্পর্ক নয়; এটি অবকাঠামো, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, উৎপাদন এবং আঞ্চলিক সংযোগের একটি বহুমাত্রিক অংশীদারত্বে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এ সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও পারস্পরিক লাভজনক করতে হলে বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য হতে হবে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, রফতানির বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করা

আমদানি ও রফতানির কাঠামোগত বৈশিষ্ট্য: চীন থেকে বাংলাদেশের প্রধান আমদানির মধ্যে রয়েছে টেক্সটাইল কাঁচামাল ও সুতা, তুলা ও সিনথেটিক ফাইবার, শিল্প যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, ইলেকট্রনিক পণ্য, রাসায়নিক দ্রব্য, স্টিল ও ধাতব পণ্য এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি সরঞ্জাম। অন্যদিকে বাংলাদেশ চীনে রফতানি করে তৈরি পোশাক, চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, পাট ও পাটজাত পণ্য, হিমায়িত মাছ, কৃষিপণ্য, ওষুধ এবং হালকা প্রকৌশল পণ্য। রফতানি পণ্যের বৈচিত্র্য এখনো সীমিত হওয়ায় বাংলাদেশের বাজার সম্প্রসারণ কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছাতে পারেনি।

এফডিআইয়ে নতুন মাত্রা: দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পাশাপাশি চীনা প্রত্যক্ষ বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) গত এক দশকে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালের পর থেকে চীনা বিনিয়োগ দ্রুত বাড়ে। বিশেষ করে বিদ্যুৎ, জ্বালানি, টেলিযোগাযোগ, উৎপাদন শিল্প, অবকাঠামো এবং বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে চীনা কোম্পানিগুলো বিনিয়োগ করেছে। চীনা বিনিয়োগের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এটি শুধু মূলধন নয়, প্রযুক্তি, প্রকৌশল দক্ষতা এবং উৎপাদন সক্ষমতাও নিয়ে আসে। আনোয়ারা চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্পাঞ্চল, বিভিন্ন বিদ্যুৎ কেন্দ্র, কর্ণফুলী টানেল, পায়রা ও অন্যান্য অবকাঠামো প্রকল্পে চীনের সম্পৃক্ততা বাংলাদেশের উৎপাদনশীল সক্ষমতা বাড়াতে ভূমিকা রেখেছে। তবে সম্ভাবনার তুলনায় এফডিআই এখনো সীমিত। ভিয়েতনাম, মালয়েশিয়া কিংবা ইন্দোনেশিয়ার তুলনায় বাংলাদেশে চীনা উৎপাদনমুখী বিনিয়োগের পরিমাণ অনেক কম।

বাণিজ্য ঘাটতির মূল কারণ: বাংলাদেশ-চীন বাণিজ্যের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো বিশাল বাণিজ্য ঘাটতি। প্রতি বছর প্রায় ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার ২০০ কোটি ডলারের ঘাটতি সৃষ্টি হয়। এর পেছনে কয়েকটি মৌলিক কারণ রয়েছে। প্রথমত, বাংলাদেশের শিল্প উৎপাদন ব্যাপকভাবে চীনা কাঁচামাল ও যন্ত্রপাতির ওপর নির্ভরশীল। দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশের রফতানি ঝুড়ি (এক্সপোর্ট পোর্টফোলিও) অত্যন্ত সীমিত। তৈরি পোশাকের বাইরে উচ্চমূল্যের পণ্যের সংখ্যা কম। তৃতীয়ত, চীনা বাজারে প্রবেশের জন্য মান নিয়ন্ত্রণ, স্যানিটারি ও ফাইটোস্যানিটারি এবং প্রযুক্তিগত মান পূরণে অনেক বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠান এখনো পিছিয়ে। চতুর্থত, বাংলাদেশের অনেক প্রতিষ্ঠান চীনা বাজার সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য, বিপণন নেটওয়ার্ক এবং ব্র্যান্ডিং সক্ষমতার অভাবে প্রতিযোগিতা করতে পারে না। পঞ্চমত, উচ্চ প্রযুক্তিনির্ভর পণ্য উৎপাদনে বাংলাদেশের সক্ষমতা এখনো সীমিত।

শুল্ক ও অশুল্ক প্রতিবন্ধকতা: চীন ২০২০ সালে বাংলাদেশের অধিকাংশ পণ্যের জন্য শুল্কমুক্ত বাজারসুবিধা সম্প্রসারণ করে। এটি বাংলাদেশের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। কিন্তু শুধু শুল্ক কমিয়ে দিলেই রফতানি বাড়ে না। অশুল্ক প্রতিবন্ধকতাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। এর মধ্যে রয়েছে কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ, খাদ্যনিরাপত্তা বিধি, পণ্যের সার্টিফিকেশন, জটিল কাস্টমস প্রক্রিয়া, ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা, বাজার সংযোগের সীমাবদ্ধতা, ব্র্যান্ডিং দুর্বলতা এবং লজিস্টিক ব্যয় বা সাপোর্ট। বাংলাদেশের অনেক ক্ষুদ্র ও মাঝারি রফতানিকারক এসব মানদণ্ড পূরণে পর্যাপ্ত সক্ষম নয়।

সম্ভাবনাময় খাত: বাংলাদেশ এরই মধ্যে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পোশাক রফতানিকারক দেশ। চীনে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর সম্প্রসারণের ফলে উচ্চমানের ফ্যাশন ও পোশাকের বাজার দ্রুত বাড়ছে। মান, নকশা ও ব্র্যান্ড উন্নয়নের মাধ্যমে এ বাজারে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ বাড়ানো সম্ভব। অন্যদিকে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ চামড়া ব্যবহারকারী দেশ চীন। পরিবেশসম্মত ট্যানারি, আন্তর্জাতিক মান এবং মূল্য সংযোজন নিশ্চিত করা গেলে এ খাতে রফতানি বহুগুণ বাড়তে পারে। আবার চীনা বাজারে বাংলাদেশের আম, কাঁঠাল, পেয়ারা, আলু, সবজি, চা, মধু, মসলা এবং সামুদ্রিক মাছের মতো পণ্যের উল্লেখযোগ্য সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এর জন্য আধুনিক প্যাকেজিং, কোল্ড চেইন এবং কোয়ারেন্টাইন ব্যবস্থার উন্নয়ন জরুরি। সম্ভাবনা আছে ওষুধ শিল্পেও। বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প আন্তর্জাতিকভাবে প্রতিযোগিতামূলক। জিএমপি, নিবন্ধন ও নিয়ন্ত্রক অনুমোদনের প্রক্রিয়া সহজ হলে চীনে বাংলাদেশের ওষুধ রফতানির নতুন দিগন্ত উন্মোচন হতে পারে। আইসিটি ও ডিজিটাল সেবা খাতেও আমরা সম্ভাবনা দেখতে পারি। বাংলাদেশে সফটওয়্যার উন্নয়ন, বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও), কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক সেবা এবং ডিজিটাল উদ্ভাবনের সম্ভাবনা দ্রুত বাড়ছে। যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং স্টার্টআপ সহযোগিতা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে পারে।

চীনের বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভের (বিআরআই) আওতায় বাংলাদেশে সড়ক, বন্দর, বিদ্যুৎ, রেল ও শিল্প অবকাঠামো উন্নয়নে উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা হয়েছে। এসব প্রকল্প দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদনশীলতা, আঞ্চলিক সংযোগ এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যদিকে রিজওনাল কম্প্রেহেনসিভ ইকোনমিক পার্টনারশিপ (আরসিইপি) বা আঞ্চলিক সমন্বিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে বর্তমানে বিশ্বের বৃহত্তম মুক্ত বাণিজ্য জোট। বাংলাদেশ এখনো এর সদস্য নয়। তবে ভবিষ্যতে সদস্যপদ অথবা পৃথক মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে কৌশলগত আলোচনা শুরু করা প্রয়োজন। কারণ বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী ভিয়েতনাম এরই মধ্যে আরসিইপি এর সদস্য হওয়ায় শুল্ক সুবিধায় এগিয়ে রয়েছে।

এলডিসি-উত্তরণ-পরবর্তী বাস্তবতা: ২০২৬ সালে বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তীর্ণ যদি হয় তাহলে বাংলাদেশের অনেক তুলনামূলক আন্তর্জাতিক বাণিজ্য সুবিধা ধীরে ধীরে কমে যাবে। ফলে প্রতিযোগিতা আরো তীব্র হবে। এ অবস্থায় শুধু শুল্ক সুবিধার ওপর নির্ভর করলে চলবে না। উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, প্রযুক্তি উন্নয়ন, শ্রম দক্ষতা, মান নিয়ন্ত্রণ, উদ্ভাবন এবং পণ্য বৈচিত্র্যই হবে ভবিষ্যতের মূল প্রতিযোগিতামূলক শক্তি। চীনের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি, বিনিয়োগ সুরক্ষা কাঠামো এবং কাস্টমস সহযোগিতা বাংলাদেশের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে পারে।

ভবিষ্যৎ করণীয়: বাংলাদেশ-চীন অর্থনৈতিক সম্পর্ককে আরো ভারসাম্যপূর্ণ করতে কয়েকটি নীতিগত পদক্ষেপ জরুরি। প্রথমত, রফতানি পণ্যের বৈচিত্র্য বাড়াতে হবে এবং উচ্চমূল্য সংযোজনকারী শিল্পকে উৎসাহ দিতে হবে। দ্বিতীয়ত, কৃষিপণ্য, ওষুধ, আইসিটি ও হালকা প্রকৌশল খাতের জন্য পৃথক রফতানি কৌশল নেয়া দরকার। তৃতীয়ত, চীনের বিভিন্ন প্রদেশভিত্তিক বাজার নিয়ে বিশেষ গবেষণা, ট্রেড মিশন এবং স্থায়ী বিপণন নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে হবে। চতুর্থত, বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে অধিক চীনা উৎপাদনমুখী বিনিয়োগ আকর্ষণ করতে নীতি-সহায়তা, দ্রুত ব্যাংকিং সেবা এবং অবকাঠামো উন্নত করতে হবে। পঞ্চমত, জাতীয় মান নিয়ন্ত্রণ, পরীক্ষাগার, সার্টিফিকেশন এবং ডিজিটাল কাস্টমস ব্যবস্থাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে হবে। ষষ্ঠত, সম্ভাব্য মুক্ত বাজার অর্থনীতি (এফটিএ), রিসেপ সংশ্লিষ্ট কৌশল এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী বাণিজ্য কাঠামো নিয়ে সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন।

বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আজ কেবল ক্রেতা-বিক্রেতার সম্পর্ক নয়; এটি অবকাঠামো, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি, উৎপাদন এবং আঞ্চলিক সংযোগের একটি বহুমাত্রিক অংশীদারত্বে পরিণত হয়েছে। কিন্তু এ সম্পর্ক দীর্ঘমেয়াদে টেকসই ও পারস্পরিক লাভজনক করতে হলে বাংলাদেশের প্রধান লক্ষ্য হতে হবে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো, রফতানির বৈচিত্র্য বৃদ্ধি, উৎপাদনশীল বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পায়নকে ত্বরান্বিত করা।

চীনের বিশাল বাজার এবং বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান উৎপাদন সক্ষমতার মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধ তৈরি করা গেলে আগামী দশকে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরো গভীর হবে। তখন বাংলাদেশ শুধু চীনা পণ্যের বড় আমদানিকারক হিসেবেই নয়, বরং উচ্চমূল্য সংযোজনকারী পণ্য ও সেবার একটি নির্ভরযোগ্য রফতানিকারক এবং কৌশলগত অর্থনৈতিক অংশীদার হিসেবেও আত্মপ্রকাশ করতে পারবে।

বিপ্লব চন্দ্র ঘোষ: ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার, বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক পিএলসি

আরও