একুশ শতকে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি কয়েকটি বড় প্রতিষ্ঠানের হাতে কুক্ষিগত হয়ে পড়েছে। ফলে প্রতিযোগিতা কমেছে এবং হাতেগোনা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান পণ্যের দাম, খরচ ও মুনাফা বাড়িয়ে সাধারণ ভোক্তার ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। তবে একচেটিয়া ব্যবসা বন্ধের নীতি প্রয়োগ করার ক্ষেত্রে সতর্কতা দরকার, যাতে ভোক্তারা আবার নতুন কোনো ক্ষতির মুখে না পড়েন। এর জন্য একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ, বাজারে সবার প্রবেশাধিকার নিশ্চিত এবং চুক্তি বা মার্জার পর্যালোচনার মতো একত্রিত পদক্ষেপ নেয়া জরুরি। পাশাপাশি কর ব্যবস্থার সংস্কারও আবশ্যক। জটিল কর নিয়মগুলো বাদ দিয়ে সহজ ব্যবস্থা চালু করলে বিনিয়োগ বাড়বে। কারণ বর্তমান জটিলতার সুযোগ নিয়ে বড় বড় প্রতিষ্ঠান চড়া দামের হিসাবরক্ষক নিয়োগ করে সুবিধা পায়। রাজনীতিবিদ ও বড় ব্যবসায়ীদের মধ্যকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে এ পরিবর্তন আনা কঠিন। নির্বাচন জয়ের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন রাজনীতিতে ক্রোনিজম বা স্বজনপ্রীতি বাড়ায়। অবশ্য এর মানে এই নয় যে সরকার অর্থনীতিকে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করবে, বরং সরকারের কাজের পরিধি, রাজস্ব বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত ব্যয় কমানো দরকার, যা বেসরকারি খাতকে দমিয়ে রাখছে। জাতীয় ঋণ কমানো এবং রাষ্ট্রীয় ব্যয় টেকসই পর্যায়ে আনা ছাড়া অর্থনীতির গতি ফেরানো অসম্ভব।
[ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল থেকে সংক্ষেপিত]
জেরার্ড বেকার: ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সাবেক এডিটর ইন চিফ