পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে তৎপরতা শুরু হলেও সাফল্য অজানা

সরকারের উদ্যোগ ইতিবাচক, তবে নির্বাচিত সরকার ছাড়া অর্থ ফেরত আনা কঠিন

বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার নতুন কোনো ঘটনা নয়। পাচার হওয়া অর্থের অধিকাংশই দুর্নীতি ও অবৈধ প্রক্রিয়ায় অর্জিত। অর্থ পাচারের দিক দিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে ওপরের সারিতে রয়েছে।

বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার নতুন কোনো ঘটনা নয়। পাচার হওয়া অর্থের অধিকাংশই দুর্নীতি ও অবৈধ প্রক্রিয়ায় অর্জিত। অর্থ পাচারের দিক দিয়ে বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশগুলোর মধ্যে ওপরের সারিতে রয়েছে। বিভিন্ন সময়ে বিদেশী সংস্থাগুলো পাচারকৃত অর্থ ও সম্পদের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। কিন্তু দেশ থেকে কী পরিমাণ সম্পদ ও অর্থ পাচার হয়েছে—দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছে কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই। এমনকি অর্থ পাচার প্রতিরোধে দেশীয় যেসব প্রতিষ্ঠান রয়েছে সেগুলোর সক্ষমতা ও কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। দেশে কঠোর আইন থাকলেও সেই আইনের কার্যকারিতা নেই। এমনকি এসব প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বরত কর্মকর্তাদের সহযোগিতায় রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও আমলারা সহজেই অর্থ পাচার করেছেন। ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে গত ৫ আগস্ট ক্ষমতাচ্যুত হয়ে দেশত্যাগ করেন শেখ হাসিনা। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে শেখ হাসিনার টানা দেড় দশকের ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটিসহ (জিএফআই) বিভিন্ন সংস্থার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শেখ হাসিনার শাসনামলে দেশ থেকে অন্তত ১৪ হাজার ৯২০ কোটি বা ১৪৯ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে। বাংলাদেশী মুদ্রায় পাচারকৃত অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় অন্তত ১৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা (বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী প্রতি ডলারে ১২০ টাকা ধরে)। বিদেশে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে জোর তৎপরতা শুরু করেছে অন্তর্বর্তী সরকার। সরকারের উদ্যোগ ইতিবাচক। কিন্তু অর্থ পাচার করা যতটা সহজ, ফেরত আনা তার চেয়ে বহুগুণ কঠিন প্রক্রিয়া। নির্বাচিত সরকার ছাড়া এ অর্থ ফেরত আনা কঠিন। অর্থ ফেরত আনতে দরকার পাচারের সঠিক তথ্য-উপাত্ত, পরিকল্পনা, প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা ও আইনি প্রক্রিয়া মোকাবেলা করা, যা সময়সাপেক্ষ ও জটিল। এ সরকারের প্রথম ও প্রধান কর্তব্য হলো দেশের সম্পদ পাচার হওয়ার ফাঁকফোকরগুলো বন্ধ করার পাশাপাশি আইনের যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিতে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন ও তার বাস্তবায়ন। প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ।

বিশ্বের যেকোনো দেশ থেকে পাচার হয়ে যাওয়া অর্থ উদ্ধার প্রক্রিয়াটি খুবই জটিল ও সময়সাপেক্ষ বিষয়, সেটি বলার অপেক্ষা রাখে না। দক্ষিণ আমেরিকার দেশ পেরু ও আফ্রিকার দেশ তিউনিসিয়া পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার উদ্যোগ নিয়ে তাতে তেমন সাফল্য দেখাতে পারেনি। বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল দেশের পক্ষে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধার আরো বেশি কঠিন। অর্থ পাচারের নথিপত্র সংগ্রহ, পাচারের গতিপথ নির্ধারণ, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ ও পাচার হওয়া দেশের আইনগত প্রক্রিয়া শেষ করতে হয়, যা সময়সাপেক্ষ। বাংলাদেশে অর্থ পাচারের মতো আর্থিক অপরাধ প্রতিরোধ ও তদন্তের দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা হলো বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)। দেশ থেকে কোনো অর্থ পাচার হয়েছে কিনা সেটি খুঁজে বের করার প্রাথমিক দায়িত্ব সংস্থাটির। আর্থিক এ গোয়েন্দা সংস্থাটির পক্ষ থেকে পাচারকৃত অর্থের গতিপথ-সংক্রান্ত নথিপত্র চূড়ান্ত হতে হবে। এরপর সে নথিপত্রের ভিত্তিতে তদন্ত করবে দুদক, এনবিআর বা সিআইডি। তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ হলে অর্থ পাচারকারীদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের হবে। মামলার বিচার প্রক্রিয়া শেষে আদালতের রায় পাওয়ার পরই বিদেশ থেকে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার সুযোগ তৈরি হয়। কিন্তু প্রতিষ্ঠার পর থেকে এখন পর্যন্ত অর্থ পাচার ঠেকাতে খুব একটা সাফল্য দেখাতে পারেনি সংস্থাটি। বরং সংস্থাটির কিছু কর্মকর্তার যোগসাজশে গত দেড় দশকে দেশ থেকে অর্থ পাচার হওয়ার অভিযোগ রয়েছে। বিপুল পরিমাণ অর্থ পাচার হলেও এখন পর্যন্ত পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার উল্লেখযোগ্য কোনো নজির নেই।

যদিও আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনতে দেশের আইনি প্রক্রিয়া সহজীকরণ করতে সরকার উদ্যোগ নিতে পারে। এক্ষেত্রে সরকার চাইলে অধ্যাদেশ জারি করে মামলা ছাড়াই বিএফআইইউ কিংবা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার পদক্ষেপ নিতে পারে। প্রয়োজনে পাচারকৃত অর্থ উদ্ধারে পৃথক আইনও প্রণয়ন করা যেতে পারে। এটি করা সম্ভব হলে দেশের অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া শেষ করতে সময় কম লাগবে। পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার প্রক্রিয়া সহজ হবে।

দেশে অর্থ পাচার সবচেয়ে বেশি হয় বাণিজ্যের আড়ালে। আমদানি পণ্যের দাম ২০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেখানোর ঘটনা ঘটতে দেখা গেছে। ব্যাংক ও কাস্টমস পরিভাষায় এ বাড়িয়ে দেখানোর নাম ‘ওভার ইনভয়েসিং’। বাংলাদেশের অর্থ পাচারের বেশির ভাগ সংঘটিত হয় আমদানি ও রফতানি বাণিজ্যে ‘মিস ইনভয়েসিং’ বা চালান জালিয়াতির মাধ্যমে। ফলে একদিকে যেমন ব্যাপক কর ফাঁকি সংঘটিত হচ্ছে, অন্যদিকে তেমনি বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হচ্ছে। যদি প্রশ্ন করা হয়, কীভাবে বৈদেশিক মুদ্রা বিদেশে পাচার হয়? সহজ কথায় তার জবাব হলো, ওভার ইনভয়েসিং। অর্থাৎ কর ফাঁকি দিতে, কোম্পানির মুনাফা লুকাতে এবং অন্যান্য কারণে পণ্য আমদানি ও রফতানিতে অনেক সময় পণ্যের প্রকৃত মূল্য দেখানো হয় না। এ প্রক্রিয়ার সঙ্গে পণ্য সরবরাহকারী কিংবা ব্যাংক বা শুল্ক কর্মকর্তাদেরও যোগসাজশ অবশ্যই থাকে। যদি বাড়তি ব্যয় দেখানো না হতো, তাহলে আমদানি ব্যয় এত হতো না। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা ও পরামর্শক প্রতিষ্ঠান গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেগ্রিটির (জিএফআই) প্রাক্কলন বলছে, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আন্ডার ইনভয়েসিং বা কম মূল্য দেখানো এবং ওভার ইনভয়েসিং বা বেশি মূল্য দেখানোর কারণে বাংলাদেশের সঙ্গে বহির্বিশ্বের পরিসংখ্যানের গরমিল পাওয়া যাচ্ছে।

বাণিজ্যের আড়ালে অর্থ পাচারের সুযোগ ও ব্যাপকতা অন্য মাধ্যমের চেয়ে বেশি। বড় ধরনের অর্থ পাচারের জন্য বাণিজ্যভিত্তিক নানা অপকৌশল ব্যবহার করা অপেক্ষাকৃত শ্রেয়। বলতে গেলে, আমদানি ও রফতানি সুবিধাদির অপব্যবহার করা পাচারকারীদের প্রিয় মাধ্যম হওয়ার সুযোগ রয়েছে। দ্বিতীয়ত, বাণিজ্যের মাধ্যমে আমদানি ও রফতানির ক্ষেত্রে ব্যাংক চ্যানেলে যেসব লেনদেন হয় তা উন্মুক্ত এবং যেকোনো সময় তা যাচাই ও তদন্ত করা যায়। কিন্তু কোনো কোনো ক্ষেত্রে যা ঘোষণা থাকে, বাস্তবে পণ্যের প্রকৃত মূল্য অনেক বেশি। অথবা এক পণ্যের আড়ালে অন্য পণ্য আনা হয়। অনেক সময় দেখা যায়, ব্যাংকের মাধ্যমে পরিশোধ হয়েছে ১ কোটি টাকার কম। কিন্তু ব্যাংকের বাইরে লেনদেন হয়েছে প্রায় ১ হাজার ৪৯ কোটি টাকা। এ বিপুল পার্থক্যজনিত অর্থ হুন্ডি বা অনানুষ্ঠানিকভাবে সম্পন্ন হয়েছে, যা সামনে আসেনি বা আমরা জানছি না। ব্যাংকের মাধ্যমে লেটার অব ক্রেডিট ব্যবহার করে যে অর্থের লেনদেন হয় তার সমান্তরাল আরেকটি অনানুষ্ঠানিক চ্যানেল ব্যবহার হচ্ছে। এ অনানুষ্ঠানিক চ্যানেলটি মানি লন্ডারিংয়ের জন্য উর্বর স্থান। এক দেশ থেকে আরেক দেশে অবৈধভাবে অর্থ পাচার হচ্ছে একটা মাধ্যম মাত্র।

মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ অনুসারে এর আওতা আরো ব্যাপক। এ আইনের আওতায় শুল্কসংক্রান্ত বা চোরাচালানের অপরাধসহ ২৯টি অপরাধ সম্পৃক্ত। এর অর্থ হলো চোরাচালান বা শুল্কসংক্রান্ত অপরাধ সংঘটন করে যেকোনো মুনাফা বিদেশে পাচার হোক বা না হোক দেশের অভ্যন্তরে তা ব্যবহার কিংবা বিনিয়োগ হলেই অর্থ পাচার হিসেবে বিবেচিত হবে। অর্থ পাচারের অন্যতম কৌশল হলো ‘ডার্টি মানি’র উৎস লুকানো বা গোপন করা কিংবা সত্যকে অসত্য দিয়ে আড়াল করা। ঘটনাগুলোয় ব্যাংক ও কাস্টমসের ঘোষণা বা কাগজপত্রে আছে এক রকম তথ্য; কিন্তু প্রকৃতপক্ষে পণ্য বা পণ্যমূল্য আছে ভিন্ন রকম। ঘোষণা ও অনুসন্ধানে পাওয়া তথ্যের মধ্যে পার্থক্যের মূল কারণ হলো, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের শুল্ককর ফাঁকিসংক্রান্ত আর্থিক লাভ বা পাচারের সংযোগ। এ জালিয়াতি বা মিথ্যা ঘোষণাই হচ্ছে বাণিজ্যভিত্তিক মানি লন্ডারিংয়ের ভিত্তি। এর মাধ্যমে অর্জিত হচ্ছে অবৈধ মুনাফা ও সম্পন্ন হচ্ছে পাচার। এর ব্যবহারও হতে পারে নিয়ন্ত্রণহীন। প্রচলিত আইন লঙ্ঘন হচ্ছে অর্থ পাচারের অন্যতম অনুষঙ্গ।

বলা প্রয়োজন, বাংলাদেশ থেকে অর্থ পাচার রুখতে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের সঙ্গে সম্পৃক্ত হিসেবে সংজ্ঞায়িত হয়েছে ২৯টি অপরাধ। এর মধ্যে চতুর্দশ অবস্থানে রয়েছে দেশী ও বিদেশী মুদ্রা পাচার। অর্থ পাচারের অপরাধগুলোর অনুসন্ধান ও তদন্ত করতে পারে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি), বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি), পরিবেশ অধিদপ্তর, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। আর সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়ের দায়িত্ব বিএফআইইউর। অপ্রিয় হলেও সত্য, এসব সংস্থা বিদেশে পাচারকৃত অর্থ দেশে ফেরত আনার ক্ষেত্রে নজির সৃষ্টি করতে ব্যর্থ হয়েছে। প্রাইসওয়াটারহাউজকুপারস ও গ্লোবাল ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্সসহ অন্যান্য সংস্থার সমীক্ষায় দেখা গেছে, সিংহভাগ অর্থই ব্যবসা-বাণিজ্য বা আমদানি-রফতানির আড়ালে পাচার হয়ে থাকে। দেশ থেকেও একই প্রক্রিয়ায় প্রচুর অর্থ ও সম্পদ বিদেশে পাচার হয়েছে। পাচারসংক্রান্ত অপরাধের অনুসন্ধান ও সুষ্ঠু তদন্ত সম্পন্ন করতে হবে। অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনতে শক্ত পদক্ষেপ নিতে হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশে বাণিজ্যের প্রসার বহুগুণ বেড়েছে। ১৯৭৩ সালের তুলনায় এর পরিমাণ প্রায় ৫৭৩ গুণ বেশি; ২০৪১ সাল নাগাদ এর পরিমাণ আরো বাড়বে। এ অনুপাতে অপবাণিজ্যের হার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে অর্থ পাচারের প্রবণতার রাশ টেনে ধরা দরকার। বাণিজ্যের মাধ্যমে মানি লন্ডারিংয়ের এ ব্যাপ্তি বিবেচনায় কাস্টমস কর্তৃক প্রতিরোধের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে বর্ণিত ক্ষমতা অনুসারে বাংলাদেশ কাস্টমসের সক্ষমতাকে বাড়ানো এবং এর সহায়ক ভৌত অবকাঠামো তৈরি করা, প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ ও প্রশিক্ষণ প্রদান জরুরি হয়ে পড়েছে। এ বিষয়ে একটি বিশেষায়িত পৃথক ইউনিট গঠন করা অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে অন্যান্য দেশের সঙ্গে মিল রেখে এবং উত্তম চর্চা অনুসারে কাস্টমসের আধুনিকায়নে সময়াবদ্ধ দৃশ্যমান অগ্রগতি আনা প্রয়োজন। দায়েরকৃত অর্থ পাচারের মামলাগুলো দ্রুত তদন্ত সম্পন্ন করে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করাটা আবশ্যক হয়ে উঠেছে। দেশে এ-সংক্রান্ত কিছু নজির স্থাপন করতে পারলে পাচারকারীরা চাপে পড়বে; বিদেশমুখিতার মোহে ভাটা পড়বে। পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনা না গেলেও অন্তত পাচার বন্ধে শক্ত পদক্ষেপ নেয়া উচিত। অর্থ পাচার ঠেকাতে না পারলে দেশের অর্থনীতি নিরাপত্তাঝুঁকিতে পড়তে পারে। নীতিতে যেসব ফাঁকফোকর রয়েছে তা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে। এজন্য অনুসন্ধান ও তদন্তের দায়িত্ব সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে, যাতে অর্থ পাচারের পুনরাবৃত্তি না ঘটে।

আরও