গত দুই বছরে শুল্কযুদ্ধ, জ্বালানি সংকট, ভূরাজনৈতিক সংঘাত ও উচ্চ ঋণের মতো নানা ঝুঁকি সত্ত্বেও বৈশ্বিক অর্থনীতি প্রত্যাশার তুলনায় বেশ স্থিতিস্থাপকতা দেখিয়েছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের হিসাবে, ২০২৪ ও ২০২৫ সালে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি ছিল ৩ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০২৬ সালে তা ৩ শতাংশে নেমে এলেও ২০২৭ সালে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে পৌঁছানোর পূর্বাভাস রয়েছে।
এর পেছনে কয়েকটি কারণ কাজ করছে। প্রথমত, বাজারের চাপ যুক্তরাষ্ট্রকে অতিরিক্ত শুল্কনীতি কিছুটা শিথিল করতে বাধ্য করেছে। দ্বিতীয়ত, পরিবর্তিত বাণিজ্য পথ, বহুমুখী জ্বালানি সরবরাহ ও কৌশলগত তেল মজুদ সংকটের প্রভাব কমিয়েছে। তৃতীয়ত, বিভিন্ন দেশের আর্থিক ও মুদ্রানীতির সমন্বিত পদক্ষেপ অর্থনীতিকে ধাক্কা সামলাতে সহায়তা করেছে।
সবচেয়ে বড় ইতিবাচক শক্তি হয়ে উঠেছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কেন্দ্র করে বিনিয়োগের উত্থান। এআই-নির্ভর মূলধনি বিনিয়োগ উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারে এবং দীর্ঘমেয়াদে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধিকে শক্তিশালী করতে পারে। তবে ঝুঁকিও কম নয়।
জ্বালানির উচ্চমূল্য, চীন-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, উচ্চ সরকারি ঋণ ও সুদহার এবং এআই বিনিয়োগে সম্ভাব্য অতিমূল্যায়ন অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি করতে পারে। এসব ঝুঁকি নিয়ন্ত্রিত থাকলে ২০২৭ সালে প্রবৃদ্ধি ঊর্ধ্বমুখী ও মূল্যস্ফীতি কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
[প্রজেক্ট সিন্ডিকেট থেকে অনূদিত]
নুরিয়েল রুবিনি: জ্যেষ্ঠ অর্থনৈতিক কৌশলবিদ, হডসন বে ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট। ইমেরিটাস অধ্যাপক, স্টার্ন স্কুল অব বিজনেস, নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়