যুক্তরাষ্ট্রের ঋণের চাপ পড়ছে বেসরকারি খাত ও বিশ্ব অর্থনীতিতেও

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ প্রথমবারের মতো ৪০ দশমিক শূন্য ৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে, যা দেশটির ২০২৫ সালের জিডিপির চেয়েও প্রায় ১০ ট্রিলিয়ন ডলার বেশি।

এ ঋণের প্রায় ৩২ দশমিক ২৭ ট্রিলিয়ন ডলার রয়েছে জনসাধারণ, দেশী-বিদেশী বিনিয়োগকারী ও ফেডারেল রিজার্ভের হাতে। এভাবে চললে ২০৩৬ সালের মধ্যে জনগণের কাছে থাকা ঋণের পরিমাণ জিডিপির ১২০ শতাংশে গিয়ে ঠেকবে। এভাবে বৈশ্বিক বাজারে এক বিশাল সুযোগের ক্ষতি তৈরি হচ্ছে। সুদের বোঝায় এখন মার্কিন সরকারের মূল অগ্রাধিকার ক্ষেত্রগুলো সংকুচিত হয়ে আসছে। অবকাঠামো, গবেষণা, শিক্ষা ও দুর্যোগ মোকাবেলার মতো অপরিহার্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানো কঠিন হয়ে পড়বে।

এ চাপ ছড়িয়ে পড়ছে বেসরকারি খাত ও বিশ্ব অর্থনীতিতেও। ঘাটতি মেটাতে সরকার যত বেশি ট্রেজারি সিকিউরিটিজ বিক্রি করছে, বন্ডের সুদের হার তত বাড়ছে। এটি বাণিজ্যিক ব্যাংক ঋণ ও বন্ধকি সুদের হার বাড়িয়ে দিচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্টার্টআপ, নতুন প্রযুক্তি ও দীর্ঘমেয়াদি অবকাঠামো প্রকল্পে। আন্তর্জাতিক বাজারেও মার্কিন ট্রেজারি ইয়েল্ডের প্রভাব স্পষ্ট। এটি বৈশ্বিক পুঁজিকে মার্কিন ডলারে টেনে নিয়ে অন্যান্য দেশের মুদ্রা দুর্বল করে দেয়, যার ফলে বিদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো সুদের হার উঁচু রাখতে বাধ্য হয় এবং বৈশ্বিক বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হয়। বন্ড বাজারে লেভারেজড হেজ ফান্ডের ক্রমবর্ধমান আধিপত্য সামান্য অস্থিরতাতেই বৈশ্বিক তারল্য সংকটের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

[সিজিটিএন থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ]

লি লুন: সহযোগী অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, পিকিং বিশ্ববিদ্যালয়, চীন

আরও