আমিও বিভিন্ন সময়ে অভ্যুত্থানের আগে, আন্দোলনের চূড়ান্ত পর্যায়ে এবং শেখ হাসিনার পতনের পর ভারতের এনডিটিভি, প্রেস ট্রাস্ট অব ইন্ডিয়া (পিটিআই) এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রকাশনা প্রজেক্ট সিন্ডিকেটসহ বিভিন্ন দেশীয় সংবাদমাধ্যমে বাংলাদেশের অর্থনীতি, তরুণদের ক্ষোভ, কর্তৃত্ববাদী শাসন এবং রাজনৈতিক পরিবর্তনের সম্ভাবনা নিয়ে লিখেছি। ওই সময় কুয়ালালামপুরে অবস্থানকালে মালয়েশিয়ার অ্যাসট্রো আওয়ানি টিভি এবং বিজনেস এফএম মিডিয়ায় দেয়া একাধিক সাক্ষাৎকারেও ভেঙে যাওয়া সামাজিক চুক্তি এবং নতুন প্রজন্মের রাজনৈতিক জাগরণের কথা বলেছি। একই সঙ্গে জুলাই অভ্যুত্থানের কারণ, সামাজিক বিস্তার ও রাজনৈতিক অর্থনীতি নিয়ে একাধিক একাডেমিক গবেষণার কাজও চলছে।
৫ আগস্টের দ্বিতীয় বার্ষিকীতে তাই বিচ্ছিন্নভাবে প্রকাশিত সেই পর্যবেক্ষণগুলো একত্র করে নিজের বোঝাপড়াটি পুনর্বিবেচনার একটি উপযুক্ত উপলক্ষ এসেছে। কোটা সংস্কারের দাবিতে শুরু হওয়া একটি ছাত্র আন্দোলন কেন শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার প্রায় ১৬ বছরের শাসনের পতন ঘটাল?
পর্যবেক্ষণগুলো একত্র করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়: কোটা ছিল তাৎক্ষণিক স্ফুলিঙ্গ, কিন্তু শেখ হাসিনার পতনের প্রধান কারণ ছিল তার শাসনের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক ভিত্তির ক্রমে ক্ষয়ে যাওয়া।
উন্নয়নের বিনিময়ে নীরবতার চুক্তি
শেখ হাসিনার শাসনের দীর্ঘায়ু বোঝার জন্য প্রথমে এর শক্তির উৎস স্বীকার করা দরকার। বাংলাদেশে দারিদ্র্য কমেছে, আয় ও অবকাঠামো বেড়েছে, বিদ্যুৎ ও ডিজিটাল সংযোগ বিস্তৃত হয়েছে এবং বহু সামাজিক সূচকে অগ্রগতি এসেছে। এ সাফল্যের ওপর দাঁড়িয়ে একটি অলিখিত রাজনৈতিক বন্দোবস্ত গড়ে উঠেছিল: নাগরিকরা সীমিত রাজনৈতিক স্বাধীনতা, দুর্বল জবাবদিহি ও প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন মেনে নেবেন; বিনিময়ে সরকার প্রবৃদ্ধি, স্থিতিশীলতা এবং ভবিষ্যতে আরো ভালো জীবনের সম্ভাবনা নিশ্চিত করবে।
এ বন্দোবস্ত কিছুদিন কার্যকর ছিল। কিন্তু সময়ের সঙ্গে উন্নয়নের অর্জনকে সরকার ক্রমে দলীয় কৃতিত্ব এবং ক্ষমতায় থাকার স্থায়ী অনুমোদন হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করে। নির্বাচন হারায় বিশ্বাসযোগ্যতা, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান দলীয় নিয়ন্ত্রণে যায় এবং ভিন্নমতকে জাতীয় স্বার্থের বিরোধিতা হিসেবে দেখানো হয়। অন্যদিকে মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক খাতের অনিয়ম, ঋণখেলাপি, পুঁজি পাচার, দুর্নীতি ও ক্রোনি ক্যাপিটালিজম অর্থনৈতিক সাফল্যের ভিত্তিকে দুর্বল করতে থাকে।
২০১৯ সালেই আমরা বাংলাদেশের ‘ডাবল প্যারাডক্স’—সুশাসন ও জবাবদিহির অবনতির মধ্যেও প্রবৃদ্ধি ও রফতানি সম্প্রসারণ—নিয়ে সতর্ক করেছিলাম থার্ড ওয়ার্ল্ড কোয়ার্টেল গবেষণা সাময়িকীতে। প্রবৃদ্ধি সুশাসনের ঘাটতি দূর করেনি; বরং রাজনৈতিক ও ব্যবসায়ী এলিটের পারস্পরিক সুবিধানির্ভর সম্পর্ক আরো প্রাতিষ্ঠানিক হয়েছে। শেখ হাসিনার পতনের সাত মাস আগে প্রকাশিত আরেকটি নিবন্ধে তাই লিখেছিলাম, কোনো বড় সামাজিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় ছাড়াই ২০২৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশের অর্থনীতি এগিয়ে গেলে সেটি হবে এক ধরনের অলৌকিক ঘটনা।
সেই সতর্কতার উদ্দেশ্য বিপ্লবের পূর্বাভাস দেয়া ছিল না। বক্তব্যটি ছিল, শাসনের সামাজিক চুক্তি দুই দিক থেকেই ভেঙে পড়ছে। মানুষ রাজনৈতিক কণ্ঠ ও ভোটের অধিকার হারাচ্ছিল; একই সময়ে সরকারও সবার জন্য সুযোগ, নিরাপত্তা ও অগ্রগতির প্রতিশ্রুতি রক্ষা করতে পারছিল না। রাষ্ট্রের বলপ্রয়োগের ক্ষমতা অটুট থাকলেও তার কার্যসম্পাদনভিত্তিক বৈধতা দ্রুত ক্ষয় হচ্ছিল।
কর্তৃত্ববাদী শাসনের একটি বৈশিষ্ট্য হলো, তার ভেতরের দুর্বলতা দীর্ঘদিন দৃশ্যমান হয় না। প্রতিদ্বন্দ্বিতাহীন নির্বাচন, নিয়ন্ত্রিত সংবাদমাধ্যম, ভীত প্রশাসন এবং দলীয় সুবিধাভোগীদের আনুগত্য বাইরের দিকে স্থিতিশীলতার ছবি তৈরি করে। কিন্তু এসব ব্যবস্থা জনসমর্থন মাপে না; বরং অসন্তোষ প্রকাশের পথ বন্ধ করে রাখে। ফলে ক্ষোভ ধীরে ধীরে সংশোধনের সুযোগ পায় না এবং শাসকও সমাজের প্রকৃত মনোভাব জানতে পারেন না। বাংলাদেশেও নীরবতাকে সম্মতি এবং ভয়ের আনুগত্যকে জনপ্রিয়তা হিসেবে ভুল পড়া হয়েছিল। জুলাইয়ের বিস্ফোরণ তাই হঠাৎ মনে হলেও তার সামাজিক প্রস্তুতি ছিল দীর্ঘদিনের।
কোটা কেন এত বড় প্রশ্ন হয়ে উঠল
এ প্রেক্ষাপটে সরকারি চাকরির কোটা নিছক নিয়োগবিধি ছিল না। মানসম্মত বেসরকারি চাকরির ঘাটতি, অনিশ্চিত কর্মপরিবেশ এবং শিক্ষার সঙ্গে শ্রমবাজারের দুর্বল সংযোগের কারণে সরকারি চাকরি নিরাপত্তা, মর্যাদা ও সামাজিক উত্তরণের অন্যতম প্রধান পথ হয়ে উঠেছিল। সেই সংকীর্ণ পথের বড় অংশ উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া পরিচয়ের ভিত্তিতে সংরক্ষিত হলে শিক্ষার্থীরা এর মধ্যে বৃহত্তর রাষ্ট্রীয় বৈষম্যের প্রতিচ্ছবি দেখতে পায়।
আওয়ামী লীগের ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারে যুবশক্তি, কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির কথা বলা হয়েছিল। অথচ জাতীয় বাজেটে মানসম্মত শিক্ষা ও যুব কর্মসংস্থানের সংকট মোকাবেলায় বিশ্বাসযোগ্য পরিবর্তন ছিল না। আন্দোলনের কয়েক সপ্তাহ আগে তাই প্রশ্ন তুলেছিলাম, এটি কি আরেকটি ‘youthwashing’—তরুণদের নামে প্রতিশ্রুতি, কিন্তু বরাদ্দ ও বাস্তবায়নে তাদের অগ্রাধিকার না দেয়া?
জুলাইয়ের আন্দোলনকারী তরুণদের অনেকে আগের প্রজন্মের তুলনায় বেশি শিক্ষিত, প্রযুক্তি সচেতন ও উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছিল। কিন্তু শিক্ষা ও আকাঙ্ক্ষার বিস্তার কর্মসংস্থান, সামাজিক গতিশীলতা কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণে অংশগ্রহণের সমান সুযোগ তৈরি করেনি। ফলে কোটার প্রশ্নে তাদের আপত্তি ছিল শুধু চাকরির সংখ্যা নিয়ে নয়; রাষ্ট্র কাকে যোগ্য নাগরিক মনে করে এবং কার জন্য সুযোগ সংরক্ষণ করে, সেটিও এর কেন্দ্রে ছিল।
এ কারণেই আদালত ৯৩ শতাংশ সরকারি চাকরি মেধার ভিত্তিতে দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়ার পরও ক্ষোভ শেষ হয়নি। আদালত নিয়োগের অনুপাত বদলেছিল; কিন্তু আন্দোলনের মধ্যে এরই মধ্যে যুক্ত হওয়া হত্যার বিচার, রাষ্ট্রীয় সহিংসতা, রাজনৈতিক বঞ্চনা ও মর্যাদার প্রশ্নের উত্তর দেয়নি। ২০২৪-এর ২৫ জুলাই প্রকাশিত ‘An Arab Spring for Bangladesh?’ নিবন্ধে তাই আশঙ্কা করেছিলাম, সাময়িকভাবে দমন করা গেলেও আন্দোলনটি বৃহত্তর সরকারবিরোধী আন্দোলনে পরিণত হতে পারে।
‘রাজাকার’ মন্তব্য ও নৈতিক বিচ্ছেদ
আন্দোলনের গতিপথ বদলে দেয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ছিল শেখ হাসিনার ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ মন্তব্য। তার বক্তব্যের উদ্দেশ্য নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে, কিন্তু প্রতিবাদী শিক্ষার্থীরা একে তাদের দেশপ্রেম, নাগরিক পরিচয় ও ন্যায়সংগত দাবির অবমাননা হিসেবে গ্রহণ করে। সরকার একটি সমকালীন বণ্টনগত প্রশ্নের উত্তর দিল মুক্তিযুদ্ধের পক্ষ-বিপক্ষের পুরনো বিভাজন দিয়ে।
দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক ভাষ্যে দলটির কর্তৃত্বের বিরোধিতা এবং মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকে প্রায় সমার্থক করে তোলা হয়েছিল। জুলাইয়ে নতুন প্রজন্ম সেই সমীকরণ প্রত্যাখ্যান করে। ‘রাজাকার’ শব্দটির ব্যঙ্গাত্মক ব্যবহার সহযোগিতাবাদের প্রতি সমর্থন ছিল না; বরং কে দেশপ্রেমিক আর কে রাষ্ট্রদ্রোহী, তা নির্ধারণে ক্ষমতাসীন দলের একচেটিয়া অধিকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ ছিল। সরকার নাগরিকদের দাবি শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়ে তাদের শত্রু হিসেবে চিহ্নিত করল। এটি ছিল কর্তৃত্ববাদী শাসনের এক গভীর স্বীকৃতি-ব্যর্থতা।
এরপর রাজনৈতিক সংলাপের পরিবর্তে দলীয় ছাত্র সংগঠন, পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী, কারফিউ, গণগ্রেফতার এবং ইন্টারনেট বন্ধের ওপর নির্ভরতা সংকটকে আরো ঘনীভূত করে। জাতিসংঘের পরবর্তী অনুসন্ধান অনুযায়ী, সাবেক সরকার, নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থা এবং আওয়ামী লীগের সহিংস অংশ আন্দোলন দমনে গুরুতর ও পদ্ধতিগত মানবাধিকার লঙ্ঘনে জড়িত ছিল।
দমনপীড়ন রাষ্ট্রের শক্তি প্রদর্শনের বদলে তার নৈতিক বৈধতা ধ্বংস করল। একটি নিয়োগনীতি নিয়ে শুরু হওয়া আন্দোলন নিহতদের বিচার ও মর্যাদার দাবিতে রূপ নেয়; সেখান থেকে জন্ম নেয় সরকার পরিবর্তনের দাবি। রাষ্ট্র যত বেশি বল প্রয়োগ করেছে, আন্দোলনের নৈতিক আবেদন ও সামাজিক বিস্তার তত বেড়েছে।
ছাত্র আন্দোলন যেভাবে গণ-অভ্যুত্থান হলো
শুধু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা একটি দীর্ঘস্থায়ী সরকারের পতন ঘটিয়েছে—এমন সরল ব্যাখ্যাও যথেষ্ট নয়। শিক্ষার্থীরা নেতৃত্ব, সংগঠন, সাহস এবং বৈষম্যবিরোধী একটি সর্বজনীন ভাষা দিয়েছিল। কিন্তু আন্দোলনের শেষ পর্যায়ে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক, পেশাজীবী, সাংস্কৃতিক কর্মী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শ্রমিক, রিকশাচালক ও শহুরে নিম্নবিত্তের অংশগ্রহণ এটিকে গণ-অভ্যুত্থানে পরিণত করে।
এ বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর ক্ষোভের উৎস কোটার চেয়ে বিস্তৃত ছিল: জীবনযাত্রার ব্যয়, অনিশ্চিত আয়, কম মজুরি, স্থানীয় চাঁদাবাজি, প্রশাসনিক হয়রানি, পুলিশি ক্ষমতার অপব্যবহার এবং রাজনৈতিক-ব্যবসায়ী গোষ্ঠীর দৃশ্যমান সম্পদ বৃদ্ধি। ছাত্র আন্দোলন এ বিচ্ছিন্ন অভিজ্ঞতাগুলোকে একটি অভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্যে যুক্ত করার সুযোগ দেয়। ‘বৈষম্যবিরোধী’ পরিচয়টি তাই সরকারি চাকরির বৈষম্য ছাড়িয়ে অর্থনৈতিক সুযোগ, রাজনৈতিক অধিকার ও সামাজিক মর্যাদার বৈষম্যকেও ধারণ করতে সক্ষম হয়।
এ পর্যায়ে সরকার তিনটি ভিত্তি একসঙ্গে হারায়: তরুণদের আনুগত্য, সাধারণ মানুষের নৈতিক সম্মতি এবং রাষ্ট্রীয় শক্তি ব্যবহার করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বিশ্বাসযোগ্যতা। সমাজকে বিভক্ত রেখে শাসনের পুরনো কৌশলও আর কাজ করেনি। শিক্ষার্থীদের মেধা ও ন্যায়বিচারের দাবি যখন শ্রমজীবী ও প্রান্তিক মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের সঙ্গে মিলিত হয়, তখন আন্দোলনটি আর কোনো একটি গোষ্ঠী কিংবা নীতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকেনি।
উন্নয়নের রাজনৈতিক সীমা
শেখ হাসিনার পতনের পর প্রকাশিত “The Fall of Bangladesh’s Iron Lady” নিবন্ধে তরুণদের এ রাজনৈতিক সক্রিয়তাকে সুশাসন, ন্যায়বিচার এবং মেধাভিত্তিক সমাজের আকাঙ্ক্ষা হিসেবে ব্যাখ্যা করেছিলাম। একই সঙ্গে সতর্ক করেছিলাম, সরকারের পতন গণতান্ত্রিক পুনর্জাগরণের সম্ভাবনা তৈরি করে; তার নিশ্চয়তা দেয় না।
ফিরে তাকালে ৫ আগস্টের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে পরস্পরের বিকল্প ভাবা যায় না। প্রবৃদ্ধি ও অবকাঠামো কোনো সরকারকে অনির্দিষ্টকাল রাজনৈতিক জবাবদিহি থেকে অব্যাহতি দেয় না। উন্নয়নের অর্জন যখন ন্যায্য সুযোগ, মর্যাদা, প্রতিষ্ঠানগত আস্থা ও রাজনৈতিক কণ্ঠে রূপান্তর হয় না, তখন তার ওপর দাঁড়ানো শাসন ব্যবস্থাই ভঙ্গুর হয়ে পড়ে।
শেখ হাসিনার সরকার অতীতের উন্নয়ন সাফল্যকে ভবিষ্যতের আনুগত্যের স্থায়ী আমানত হিসেবে ধরে নিয়েছিল। কিন্তু সামাজিক চুক্তি অতীতের অর্জনে টিকে থাকে না; প্রতিদিনের ন্যায়, সুযোগ ও সম্মতির মাধ্যমে তা নবায়ন করতে হয়। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে সেই নবায়ন বহু আগেই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। কোটা আন্দোলন শুধু ভেঙে যাওয়া চুক্তিটিকে দৃশ্যমান করেছিল; দমনপীড়ন তার পুনর্গঠনের শেষ সম্ভাবনাটিও নষ্ট করে দেয়। ৫ আগস্ট ছিল সেই দীর্ঘ ক্ষয়ের আকস্মিক কিন্তু অনিবার্য রাজনৈতিক পরিণতি।
ড. এম নিয়াজ আসাদুল্লাহ: ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক এবং পানাম ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান|