দুর্বল ব্যাংকগুলোকে ঘুরে দাঁড়াতে সময় বেঁধে দিতে হবে

যেকোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান দায়িত্ব মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে কিছু হাতিয়ার থাকে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যতম হাতিয়ার হচ্ছে চাহিদাকে সংকোচন করা।

ড. মুস্তফা কে মুজেরী, ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক মুখ্য অর্থনীতিবিদ। এছাড়া বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক ও সিরডাপের গবেষণা পরিচালকও ছিলেন। উচ্চ মূল্যস্ফীতি, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন নীতি, ব্যাংক খাতসহ অর্থনীতির নানা ইস্যুতে সম্প্রতি কথা বলেছেন বণিক বার্তায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সাবিদিন ইব্রাহিম

উচ্চ মূল্যস্ফীতি কমাতে বাংলাদেশ ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করেছে। বেশ কয়েকবার সুদহার ও নীতি সুদহার বাড়িয়েও উচ্চ মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক কি সঠিক পথে আছে?

যেকোনো দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান দায়িত্ব মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে কিছু হাতিয়ার থাকে। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অন্যতম হাতিয়ার হচ্ছে চাহিদাকে সংকোচন করা। নীতি সুদহার বাড়িয়ে অর্থনীতিকে সংকুচিত করা হয়। আর অর্থনীতি সংকোচন হলে চাহিদা কমে যাবে। নীতি সুদহার বাড়িয়ে দেয়া হলে ব্যাংকগুলোয় সার্বিকভাবে অর্থ সরবরাহ কমে যাবে। সামগ্রিকভাবে বাজারে অর্থের চাহিদা কমে যাবে। বাজারের নিয়ম অনুযায়ী চাহিদা কমলে বাজারে মূল্য নিম্নমুখী হবে। এভাবে একসময় মূল্যস্ফীতি কমবে। এটি বাজারের চাহিদা সরবরাহের ফ্রেমওয়ার্ক। বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মূল্যস্ফীতি কমানোর হাতিয়ার হচ্ছে নীতি সুদহার। যেহেতু বাংলাদেশে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে সেহেতু কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার বাড়াচ্ছে। অর্থাৎ কেন্দ্রীয় ব্যাংক তার হাতিয়ার ব্যবহার করছে। সেদিক বিবেচনা করলে বলা যায়, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সঠিক পদক্ষেপই নিচ্ছে।

নীতি সুদহার বাড়ালে অর্থনীতিতে কী প্রভাব পড়তে পারে?

নীতি সুদহার বাড়ানো হলে কিছু বিরূপ প্রতিক্রিয়ারও সৃষ্টি হয়। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক ও বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর সুদহার বেড়ে যায়। তখন বিনিয়োগের ওপর বিরূপ প্রতিক্রিয়া বা প্রভাব পড়ে। এতে বেসরকারি খাতে ঋণ চাহিদা কমে যায়। অর্থাৎ সব মিলিয়ে অর্থনীতিতে সংকোচন দেখা দেয়। বিনিয়োগ কম হলে উৎপাদন ব্যাহত হয়। উৎপাদন ব্যাহত হলে কর্মসংস্থান কমে যায়। অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি কমাতে যখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার বাড়ায় তখন মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমলেও অর্থনীতিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে। নীতি সুদহার বাড়ানোর নীতি দীর্ঘদিন রাখা হলে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা দেবে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ করলেও মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসছে না কেন? সমস্যা কোথায়?

বাংলাদেশের মতো দেশে মূল্যস্ফীতি শুধু অতিরিক্ত চাহিদার কারণে ঘটে না, বরং সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন ঘটলে বা সরবরাহ ব্যবস্থা সঠিক না হলে মূল্যস্ফীতি হয়। এ কারণে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতি গ্রহণ বা নীতি সুদহার বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে যদি বাজার ব্যবস্থাপনার জন্য কোনো নীতি গ্রহণ না করে সরকার, অর্থাৎ চাহিদা ও সরবরাহের জন্য সমন্বিত নীতি না গ্রহণ করা হলে বাংলাদেশের মতো দেশে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে না। কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার দীর্ঘদিন ধরেই বাড়াচ্ছে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে খুব যে একটি সুফল পাওয়া গেছে তা কিন্তু নয়। এর বড় কারণ হচ্ছে, বাংলাদেশের বাজার ব্যবস্থা দুর্বল। অনেকেই বাজারের সিন্ডিকেটের কথা বলছেন। আসলে সিন্ডিকেট কিছু নয়। বিভিন্ন পণ্যের মূল্যশৃঙ্খল যদি দুর্বল হয় এবং অনেক অংশগ্রহণকারী (যেমন পাইকারি ব্যবসায়ী, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, আড়তদার, মিল মালিক) থাকে, এ অংশগ্রহণকারীদের কেউ যদি অতিরিক্ত শক্তিশালী হন এবং অন্যরা দুর্বল হন, তখন যেকোনো পণ্যের মূল্যশৃঙ্খলে যারা শক্তিশালী তারা এ মূল্যশৃঙ্খলকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করে পণ্যের মূল্য বাড়িয়ে দিতে পারেন। এর মাধ্যমে তারা অতিরিক্ত মুনাফা অর্জন করতে সক্ষম হন। আমাদের দেশে সেটিই ঘটছে। বাজারে শক্তিশালী সিন্ডিকেট এভাবে পণ্যের মূল্য বাড়াতে থাকে এবং বাজারে যখন একটি পণ্যের দাম বাড়ে তখন অন্য পণ্যসামগ্রীর ওপরও বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। যদি বাজার ব্যবস্থাপনা সঠিক না হয় তখন বাজারে একটি বিশৃঙ্খলা এবং পণ্যের মূল্য বাড়ানোর প্রবণতা সৃষ্টি হয়।

তাহলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গৃহীত সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির সুফল কীভাবে পাওয়া যেতে পারে?

এখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার বাড়ানোর যে নীতি গ্রহণ করেছে সেই নীতির সুফল পাওয়া যাবে না, যতক্ষণ না বাজার ব্যবস্থার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ও অন্য সহায়ক নীতিগুলোর ক্ষেত্রেও ইতিবাচক পরিবর্তন না আনা হয়। অর্থাৎ সমন্বিতভাবে কোনো নীতিপরিকল্পনা গ্রহণ না করা হলে এককভাবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক যতই নীতি সুদহার বাড়াক না কেন তার সুফল দ্রুততার সঙ্গে পাওয়া যাবে না। এজন্যই বর্তমান সরকার বাজার ব্যবস্থাকে ঠিক করতে নানা ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। যেমন বাজার তদারকি করছে, বিভিন্ন ধরনের কমিটি তৈরি করেছে, ভোক্তা অধিদপ্তর বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও পণ্যের মূল্য বেঁধে দিচ্ছে। একটি বিষয় মনে রাখা দরকার, বাজার অর্থনীতিতে পণ্যমূল্য বেঁধে দিয়ে কোনো সুফল পাওয়া যায় না। বাজার অর্থনীতিতে বাজারের মাধ্যমেই পণ্যের দাম নির্ধারণ হতে হবে। অর্থাৎ চাহিদা ও সরবরাহের ক্রিয়ার মাধ্যমে। সুতরাং বাজারে তদারকি থাকতে পারে, এর প্রয়োজনও আছে। বাজার ব্যবস্থাপনা সঠিকভাবে না চললে এককভাবে তদারকি করে সঠিক মূল্য বা ন্যায্য মূল্য নির্ধারণ করা কঠিন।

বাংলাদেশের সমস্যাও কিন্তু সেখানে। বাজার তদারকিতে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে, কিন্তু বাজারের মূল সমস্যা বা দুর্বলতা বা মূল্যশৃঙ্খলার দুর্বলতা বা বাজারের নানা প্রতিবন্ধকতাসহ অন্য দুর্বলতাগুলো, যেমন বাজারে পণ্য আনা-নেয়ার সমস্যা—এ সমস্যাগুলোর কার্যকরী সমাধান না করে শুধু বাজার তদারকি করে সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক করা সম্ভব নয়। সামগ্রিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বাজার ব্যবস্থা, চাহিদা, সরবরাহ এবং অন্যান্য যে উপাদান আছে সবগুলোকে মিলিয়ে একটি সামগ্রিক নীতি গৃহীত না হলে মূল্যস্ফীতিকে দ্রুততার সঙ্গে কমিয়ে আনা সম্ভব হবে না বাংলাদেশে। এ বিষয়গুলোকে মাথায় রেখেই আমাদের কাজ করতে হবে। অর্থাৎ বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে অন্যান্য যে প্রতিষ্ঠান বা মন্ত্রণালয় আছে সবগুলোকে সংঘবদ্ধভাবে একটি ফ্রেমওয়ার্কের মধ্যে এনে কাজ করতে হবে। তাহলেই আমরা সফল হতে পারব।

দেশের কিছু ব্যাংকে তারল্য সংকট প্রকট। ফলে সেসব ব্যাংক গ্রাহকদের চাহিদা অনুপাতে অর্থ সরবরাহ করতে পারছে না। এর কারণ কী? এটা থেকে উত্তরণের জন্য অনেকেই ডিমনিটাইজেশনের কথা বলছেন, তাতে কিছু সমস্যার সমাধান হয়ে যেত। এতে আপনার মূল্যায়ন কী?

দেশের মৌলিক সমস্যাগুলো কী? সেগুলোর মধ্যে একটি ব্যাংক ব্যবস্থা। দেখা যাচ্ছে, অনেক ক্ষেত্রেই ব্যাংকগুলো সঠিকভাবে কাজ করছে না। কারণ ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ নিয়ে এবং ঋণের নামে নানাভাবে অর্থ বের করে পাচার করা হয়েছে এবং আর্থিক তছরুপ ঘটেছে। পরিচালকমণ্ডলী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের সমন্বয়ে একটি স্বার্থান্বেষী চক্র গড়ে উঠেছিল। এ চক্রে ব্যবসায়ী যেমন জড়িত ছিলেন, তেমনি ব্যাংকে যুক্ত ব্যক্তি, পরিচালক, কর্মকর্তা, কর্মচারীরা এমনকি বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জড়িত ছিলেন। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের কাজ ছিল তদারকি করা, অর্থাৎ ব্যাংকগুলো সঠিকভাবে ঋণ দিচ্ছে কিনা, কোনো অনিয়ম-দুর্নীতি হচ্ছে কিনা সেসব নজরদারিতে রাখা। কিন্তু তারা সেগুলো করেননি, বরং তারা ব্যাংকগুলোর তহবিল তছরুপ, ঋণের নামে টাকা পাচার ও দুর্নীতিকে উৎসাহ ও সমর্থন দিয়েছেন। অর্থাৎ সরকার, প্রভাবশালী রাজনৈতিক স্বার্থান্বেষী মহল ও ব্যাংকের কর্মকর্তা-মালিকরা মিলে একটি চক্র গড়ে ওঠেছিল যারা ব্যাংকগুলোকে চুষে নিয়েছে। অনেকগুলো ব্যাংককে এভাবে তারা সর্বস্বান্ত করে দিয়েছে। ফলে আট-দশটি ব্যাংক তাদের গ্রাহকের আমানতের টাকা পরিশোধ করতে পারছে না। বাংলাদেশ ব্যাংক নিজেই ব্যাংকের নিয়ম-নীতিগুলোর ব্যত্যয় ঘটিয়ে সে সময় ব্যাংকগুলো থেকে হাজার হাজার কোটি টাকার ঋণ প্রদান করেছে, সেগুলোর বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক জানত যে এসব ঋণ ফেরত আসবে না।

এসবের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। বরং তাদের সহায়তায় টাকাগুলো বিদেশে পাচার করা হয়েছে। এভাবে এ ব্যাংকগুলোকে একদম শেষ পর্যায়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। ফলে তারা এখন দুর্বল ব্যাংকে পরিণত হয়েছে এবং গ্রাহকদের পাওনা পরিশোধ করতে সক্ষম হচ্ছে না। ‘‌লেন্ডার অব লাস্ট রিসোর্ট’ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংক দুর্বল ব্যাংকগুলোকে কিছুটা সহায়তা প্রদান করছে, যাতে তারা তাদের গ্রাহকদের আমানতগুলো কিছুটা পরিশোধ করে কার্যক্রম চালিয়ে নিতে পারে। সেই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে বাংলাদেশ ব্যাংকের সহায়তা প্রদান করা ঠিক আছে। তবে এ ধরনের সহায়তা সময়ভিত্তিক ও একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হওয়া উচিত, যাতে ওই সময়ের মধ্যে এ ব্যাংকগুলো নিজের পায়ে দাঁড়াতে সক্ষম হয়।

কিন্তু আমাদের দেশে এ ধরনের সহায়তা দিয়ে ব্যাংকগুলো চলতেই থাকে, সময় বেঁধে না দিলে ব্যাংকগুলো কোনোদিনই নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে না। অর্থাৎ দুর্বল ব্যাংকগুলোর সক্ষমতা অর্জনের জন্য নির্দিষ্ট সময় (ছয় মাস বা এক বছর) বেঁধে দিতে হবে। এরপর যাতে নিজেদের সমস্যা নিজেরাই সমাধান করতে পারে। আর এ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যদি সক্ষমতা অর্জন করতে না পারে তাহলে এ ব্যাংকগুলোকে বসিয়ে রেখে দিনের পর দিন সহায়তা করার কোনো যৌক্তিকতা নেই। তাহলে এ ব্যাংকগুলোকে বিলোপ করে দেয়াই শ্রেয়। এক্ষেত্রে গ্রাহকদের স্বার্থ যেন রক্ষা করা হয় সেদিকে নজর রাখতে হবে। অর্থাৎ গ্রাহকের আমানত পরিশোধে উদ্যোগ নিতে হবে। আমেরিকায় অনেক ব্যাংক ব্যবসা গুটিয়ে নিতে বাধ্য হয়। কিছুদিন আগেও আমেরিকার কিছু ব্যাংক ব্যর্থ হয়েছে। কিন্তু আমেরিকার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ সিস্টেমস কোনো সহায়তা দিয়ে তাদের বাঁচিয়ে রাখার চেষ্টা করেনি। বাংলাদেশেরও সে রকম চিন্তা করা উচিত।

বাংলাদেশের কিছু পুরনো ব্যাংক আছে, যেমন আইসিবি বা ওরিয়েন্টাল ব্যাংককে তখন সহায়তা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা হয়েছিল। তার পরও যে খুব ভালো করেছে এমন কিন্তু নয়, তারা এখনো আছে কিন্তু তারা শুধু কোনোমতে টিকে আছে। অর্থনীতিতেও তেমন কোনো অবদান রাখতে পারছে না।

এক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের করণীয় কী?

দুর্বল ব্যাংকগুলোকে ঘুরে দাঁড়াতে সময় বেঁধে দিতে হবে। তারপর না পারলে বন্ধ করে দেয়া কিংবা মার্জারের পথে হাঁটতে হবে। দুর্বল ব্যাংকগুলোর জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের নীতিগুলো সুস্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন এবং নীতিগুলোর সঠিক প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। নীতির ক্ষেত্রে কোনোভাবেই ছাড় দেয়া চলবে না। অতীতে বিভিন্ন সময়ে দেখেছি, বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের নীতিমালার পরিবর্তন ঘটিয়েছে। একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর স্বার্থে নীতিগুলোর পরিবর্তন ঘটিয়ে বর্তমানে ব্যাংক খাতের এসব সমস্যার সৃষ্টি করা হয়েছে। কাজেই এ সংস্কৃতি থেকে আমাদের বেরিয়ে আসতে হবে। ব্যাংক ব্যবস্থাকে সবল করে তুলতে যে নীতি কাঠামো প্রয়োজন সেই নীতি কাঠামোকে গ্রহণ করতে হবে। এ নীতি কাঠামো সব ক্ষেত্রে বাস্তবায়ন নিশ্চিতের পাশাপাশি নিয়ন্ত্রক সংস্থা হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করলে বর্তমানের দুর্বল ব্যাংক ব্যবস্থার সমস্যা কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

আরও