একই সময়ে ২০৫০ সালের মধ্যে ২৩-২৫ কোটি মানুষের জন্য খাদ্য উৎপাদন অন্তত ৭০-১০০ শতাংশ বাড়ানোর মানবিক চ্যালেঞ্জও আমাদের সামনে। গত পাঁচ দশকে জমি ব্যবহারে উৎপাদন চার গুণ বাড়লেও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে বিধ্বংসী রোগবালাই, উৎপাদন খরচ এবং পরিবেশগত সংকট; যা কৃষিকে অলাভজনক ও খাদ্যনিরাপত্তাকে গভীর অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। এ পুঞ্জীভূত সংকট কাটাতে বিষাক্ত কেমিক্যালের বিকল্প হিসেবে প্রযুক্তিনির্ভর বৈপ্লবিক রূপান্তর এখন সময়ের দাবি, যেখানে সরকারের সাম্প্রতিক ‘জাতীয় বালাইনাশক-সংক্রান্ত পরামর্শক কমিটি’ গঠন উত্তরণের একটি নতুন পথ উন্মোচন করেছে।
সবুজ বিপ্লব থেকে বিষাক্ত চক্র; কৃষির ছায়া ও কৃত্রিম অলৌকিকতার দেউলিয়াত্ব
বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সবুজ বিপ্লবের পর থেকে খাদ্য চাহিদা মেটাতে রাসায়নিক বালাইনাশককে এক অলৌকিক বা জাদুকরী সমাধান হিসেবে দেখা হয়ে আসছিল। রাসায়নিক বালাইনাশকের ইতিহাসের দিকে তাকালে বিজ্ঞানের এক অদ্ভুত দ্বিচারিতা চোখে পড়ে। ১৮৭৪ সালে প্রথম সংশ্লেষিত হলেও ১৯৩৯ সালে সুইস বিজ্ঞানী পল মুলার ডিডিটির জাদুকরী কীটনাশক গুণাগুণ আবিষ্কার করেন এবং এর জন্য তাকে নোবেল পুরস্কারে ভূষিত করা হয়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী সময়ে কৃষিতে অর্গানোক্লোরিন গ্রুপের এ কীটনাশকগুলোর ব্যাপক ব্যবহার শুরু হলেও সত্তর দশকের শুরুতে মার্কিন জীববিজ্ঞানী রÅাচেল কারসনের যুগান্তকারী গ্রন্থ ‘সাইলেন্ট স্প্রিং’ উন্মোচন করে দেয় যে এগুলো পরিবেশে দীর্ঘস্থায়ী জৈব দূষক হিসেবে থেকে যায় এবং খাদ্যশৃঙ্খলে জমা হতে থাকে। কিন্তু পরে জানা যায় এগুলো মানুষের স্নায়ুতন্ত্রের জন্য তীব্র বিষ। আজ দেশে বালাইনাশকের ব্যবহার নব্বইর দশকের ৮-১০ হাজার টন থেকে বেড়ে বর্তমানে প্রায় ৪০ হাজার টনে দাঁড়িয়েছে, যার পেছনে কৃষক প্রতি বছর ব্যয় করছেন প্রায় ৪-৫ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু এ ‘সস্তা স্প্রে’র অর্থনৈতিক হিসাব অত্যন্ত নির্মম। অতিরিক্ত বালাইনাশক মানে উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধি, একই পোকার বিরুদ্ধে বারবার স্প্রে, বালাইয়ের মধ্যে প্রতিরোধ ক্ষমতা সৃষ্টি এবং নতুন নতুন শক্তিশালী বিষের প্রবর্তন। কৃষকের চিকিৎসা ব্যয়, কর্মঘণ্টা নষ্ট, দূষিত পানি ও মাটির পুনরুদ্ধার, খাদ্য পরীক্ষার ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বিষাক্ত অবশিষ্টাংশের কারণে কৃষিপণ্য প্রত্যাখ্যানের লোকসান মেলালে এ চর্চা পুরো জাতীয় অর্থনীতিকে এক সর্বগ্রাসী ক্ষতির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
কৃষকের নীরব হাহাকার ও ভোক্তার আচরণের দায়
খাদ্যনিরাপত্তার নায়ক যে কৃষক পোকামাকড়ের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে গিয়ে বালাইনাশককে সহযোদ্ধা বানিয়েছিলেন, অবৈজ্ঞানিক ও অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহারের কারণে আজ সেই বালাইনাশক তার প্রধান শত্রুতে পরিণত হয়েছে। সাম্প্রতিক এক সরকারি গবেষণার চাঞ্চল্যকর তথ্য অনুযায়ী, দেশের ক্যান্সার রোগীদের প্রায় ৬০ শতাংশই কৃষক। মাঠ পর্যায়ে ‘একটু বেশি স্প্রে করলে ক্ষতি কী’ কিংবা ‘দুই ঢাকনার জায়গায় চার ঢাকনা দিলে ভালো কাজ করবে’ এমন মারাত্মক ভুল ধারণায় বুঁদ হয়ে কৃষক প্রতিনিয়ত বিষের মুখোমুখি হচ্ছেন। অমৌসুমে ফসল খাওয়ার অতিরিক্ত পছন্দ মেটাতে গিয়ে জমিতে দেয়া হচ্ছে চরম মাত্রার বিষ। এমনকি ফসল সুরক্ষিত থাকলেও আমাদের রান্নার অনিরাপদ প্রক্রিয়ায় তেলের অতি-ভাজাপোড়া থেকে তৈরি হচ্ছে অ্যাক্রিলামাইড নামক বিষ, যা নিউরাল ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। সরকারি তথ্যমতে, দেশে নিবন্ধিত প্রতিবন্ধী ব্যক্তির সংখ্যা ৩৮-৪৮ লাখ এবং জাতীয় জরিপ অনুযায়ী ২ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ প্রতিবন্ধিতায় আক্রান্ত, যার অন্যতম মূল কারণ দরিদ্র পরিবারগুলোতে পুষ্টির অভাব এবং গর্ভকালীন থেকে শুরু করে খাদ্যশৃঙ্খলে এসব বিষাক্ত উপাদানের অবশিষ্টাংশ।
আইনের ফাঁকফোকর, নিয়ন্ত্রণ সংস্থার ব্যর্থতা ও জাতীয় নিরাপত্তা
বাংলাদেশে বালাইনাশক আইন-২০১৮ এবং বালাইনাশক বিধিমালা-২০২১ থাকলেও বইয়ের পাতা থেকে মাঠের বাস্তবতায় এর প্রয়োগ অত্যন্ত দুর্বল। জাতিসংঘ খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) তথ্য সূত্রে জানা যায়, বিশ্বে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অন্তত ২৫-৩০টি অতি বিপজ্জনক বালাইনাশক দেশী-বিদেশী বিভিন্ন কোম্পানি নতুন নাম দিয়ে বাংলাদেশে অবাধে বিক্রি করছে, যার প্রত্যক্ষ উদাহরণ এমামেকটিনের মতো উপাদান। ডিলারদের তথ্যমতে, এমামেকটিন বিক্রির শীর্ষ তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘এলডি ফিফটি’ সীমা হেরফের করে দেশীয় আইনি প্রয়োগকে নমনীয় করা হয়েছে। বিশ্বের বহু দেশে ক্যান্সার সৃষ্টিকারী হিসেবে নিষিদ্ধ গ্লাইফোসেটের মতো বিপজ্জনক বালাইনাশক বাংলাদেশে অনায়াসে ‘সবুজ শ্রেণী’র নিরাপদ উপাদান হিসেবে বাজারজাত করা হচ্ছে। এ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যর্থতার দায় এককভাবে কৃষকের বা বিক্রেতার নয়, বরং সমগ্র নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থার। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করা শুধু কৃষি মন্ত্রণালয়ের একক কাজ হতে পারে না; এটি স্বাস্থ্য, পরিবেশ, বাণিজ্য, স্থানীয় সরকার এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থার এক সমন্বিত দায়বদ্ধতা। পরিচ্ছন্ন ও নিরাপদ খাদ্য যদি রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হয়, তবে বালাইনাশক ব্যবস্থাপনাকে অবশ্যই জাতীয় নিরাপত্তার অংশ হিসেবে গণ্য করতে হবে। বালাইনাশকের বেপরোয়া ব্যবহার কেবল মানুষকে মারছে না, ধ্বংস করছে পুরো প্রকৃতিকে। এ বিপর্যয় থেকে বাঁচার একমাত্র বৈজ্ঞানিক পথ হলো ‘সবুজ রসায়ন’-এর নীতি অনুসরণ করে আধুনিক ‘সবুজ বালাইনাশক’ বা বায়োপেস্টিসাইড প্রবর্তন করা।
‘বাংলাদেশ বায়োগোল্ড’—আমাদের মাটি ও সমুদ্রের অমূল্য অণুজীব সম্পদ
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বদ্বীপ বাংলাদেশ প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য ও অণুজীবের এক অফুরন্ত খনি। এ অণুজীব সম্পদকে আমি নাম দিয়েছি ‘বাংলাদেশ বায়োগোল্ড’। এ অমূল্য সম্পদ কেবল মাটির গভীরে সীমাবদ্ধ নয়; গাছের টিস্যুর ভেতরে থাকা এন্ডোফাইট, নদ-নদীর পলল এবং বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের গভীরে কোটি কোটি উপকারী অণুজীব লুকিয়ে রয়েছে। মাটি, উদ্ভিদ ও সমুদ্রের বুকের এ অদৃশ্য সম্পদকে আবিষ্কার ও মানবকল্যাণে ব্যবহারের লক্ষ্যে আমরা ‘মাইনিং বাংলাদেশ বায়োগোল্ড’ নামক একটি উচ্চাভিলাষী গবেষণা প্রকল্প পরিচালনা করছি। গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের (আইবিজিএ) গবেষকরা এরই মধ্যে উদ্ভিদের এন্ডোফাইট থেকে স্পোর-গঠনকারী ব্যাসিলাস ব্যাকটেরিয়া ও মাটির ট্রাইকোডার্মা ছত্রাক পৃথক করে পরিবেশবান্ধব জৈব-বালাইনাশক ও জৈব-সার উদ্ভাবন করেছেন। রাসায়নিকের বিষে মৃতপ্রায় মাটির উর্বরতা পুনরুদ্ধার, ফসলের প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের চরম প্রভাব সামলে নিতে এ দেশীয় অণুজীবগুলো এক অলৌকিক নিয়ামক হিসেবে কাজ করছে।
কীটনাশকমুক্ত টেকসই কৃষিতে জিনোম এডিটিং ও বায়োইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বৈপ্লবিক দিগন্ত
কৃষিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক বালাইনাশকের ক্রমাগত ব্যবহারের ফলে এরই মধ্যে বিভিন্ন ক্ষতিকর পোকামাকড় ও রোগজীবাণুর মধ্যে কীটনাশকবিরোধী প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠেছে, যা আজ আমাদের উদ্ভিদ সুরক্ষা ও সমগ্র খাদ্যনিরাপত্তার জন্য এক চরম হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষাক্ত চক্র থেকে বেরিয়ে এসে সিন্থেটিক বালাইনাশকের প্রয়োগ শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা এবং কৃষকের উৎপাদন খরচ বহুগুণ কমার সবচেয়ে কার্যকর ও বৈজ্ঞানিক উপায় হলো যুগান্তকারী জিনোম এডিটিং ও বায়োইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তির প্রবর্তন। বিশেষ করে উদ্ভিদের বালাই সংবেদনশীল জিন বা ‘এস-জিন’ এডিটিংয়ের মাধ্যমে রোগ ও পরিবেশগত চাপ সহনশীল জাত উদ্ভাবনে বিশ্বজুড়ে অর্জিত সাফল্য কৃষিতে এক নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে।
বৈশ্বিক সাফল্যের ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও বর্তমানে একটি অত্যন্ত সম্ভাবনাময় গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। বাংলাদেশ একাডেমি অব সায়েন্সেস (বিএএস) এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৃষি বিভাগের (ইউএসডিএ) যৌথ অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন একটি উচ্চাভিলাষী গবেষণার মূল লক্ষ্য হলো জিনোম এডিটিং প্রযুক্তি ব্যবহার করে উচ্চফলনশীল, বালাই প্রতিরোধী এবং পরিবেশগত প্রতিকূলতা সহনশীল নতুন ধানের জাত উদ্ভাবন করা।
সমন্বিত নীতিগত কৌশল, আইনি প্রয়োগ ও জাতীয় সচেতনতার দিকনির্দেশনা
কৃষি খাতে এ সবুজ বিপ্লবকে বাস্তবে রূপ দিতে হলে আইন প্রয়োগ, জৈব-বালাইনাশকের প্রসারের পাশাপাশি জিনোম এডিটিং ও বায়োইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মতো সর্বাধুনিক বিজ্ঞানকে জাতীয় কৃষিনীতির মূলধারায় অন্তর্ভুক্ত করার এক সমন্বিত রূপরেখা প্রয়োজন। প্রথমত, মানবস্বাস্থ্য ও বাস্তুতন্ত্রের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ বালাইনাশকগুলো অবিলম্বে বাজার থেকে প্রত্যাহার করতে হবে এবং বিশ্বজুড়ে নিষিদ্ধ বা ক্যান্সার সৃষ্টিকারী রাসায়নিক উপাদানগুলোর নিবন্ধন বাতিল করতে হবে। দ্বিতীয়ত, বালাইনাশক আইনের ৩০ (গ) ধারা কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করে প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে বালাইনাশক বিক্রয়কর্মী, কৃষক ও কৃষিকর্মীদের জন্য বিনামূল্যে নিয়মিত বাধ্যবাধকতামূলক স্বাস্থ্য পরীক্ষার ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে প্রথাগত কেমিক্যাল বালাইনাশকের আমলাতান্ত্রিক নিয়ম শিথিল করে ‘জৈব-বালাইনাশক’ নিবন্ধন এবং জিনোম এডিটেড (বিশেষ করে বালাই-সংবেদনশীল ‘এস-জিন’ এডিটিং) উচ্চফলনশীল ও বালাইসহনশীল ফসলের জাতের দ্রুত ছাড়পত্রের জন্য একটি আধুনিক ‘ফাস্ট-ট্র্যাক রেগুলেটরি সেল’ ও সুনির্দিষ্ট বায়োসেফটি নীতিগত কাঠামো গঠন করা সময়ের দাবি। তৃতীয়ত, আমদানীকৃত রাসায়নিকের মান যাচাই এবং খাদ্যে বিষাক্ত অবশিষ্টাংশ নিখুঁতভাবে পরীক্ষার জন্য প্রধান প্রধান আমদানি পয়েন্টে আন্তর্জাতিক মানের ‘রেফারেন্স ল্যাবরেটরি’ ও প্রতিটি জেলায় অবশিষ্টাংশ পরীক্ষাগার স্থাপন করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানে উদ্ভাবিত বায়োগোল্ড-ভিত্তিক বায়োপেস্টিসাইড ও জিনোম এডিটিং প্রযুক্তি প্রান্তিক কৃষকের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) মডেল চালু করা এবং রাসায়নিক সারের বিশাল ভর্তুকির একটি অংশ জৈব-বালাইনাশক ও প্রযুক্তি উদ্ভাবনে রূপান্তর করা আবশ্যক। সর্বোপরি, প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু করে গণমাধ্যম পর্যন্ত নিরাপদ খাদ্য, জনস্বাস্থ্য ও সবুজ কৃষির গুরুত্ব নিয়ে ব্যাপক জাতীয় সচেতনতা আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। ‘নিরাপদ খাদ্য’ কোনো বিলাসী বস্তু নয়, এটি প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক ও জন্মগত অধিকার। বহুকাল ধরে চলা অনিয়ন্ত্রিত রাসায়নিক বালাইনাশকের বিষাক্ত ও আত্মঘাতী চক্র থেকে বেরিয়ে এসে আমাদের কৃষির শেকড়ে প্রযুক্তিগত রূপান্তর আনার এটাই উপযুক্ত সময়। এ রূপান্তর বাস্তবায়নে প্রয়োজন আইনি কাঠামোর কঠোর প্রয়োগ, আন্তর্জাতিক মানের পরীক্ষাগার স্থাপন, আমাদের অমূল্য ‘বাংলাদেশ বায়োগোল্ড’ (উপকারী অণুজীব) সম্পদের বাণিজ্যিক সম্প্রসারণ এবং জিনোম এডিটিংয়ের মতো সর্বাধুনিক বিজ্ঞানকে জাতীয় কৃষিনীতির মূলধারায় যুক্ত করা। নীতিনির্ধারক, বিজ্ঞানী, শিল্পোদ্যোক্তা ও কৃষকদের এ সমন্বিত ও দৃঢ় পদক্ষেপের মাধ্যমেই কেবল ক্ষতিকর রাসায়নিকের ভয়াল থাবা থেকে আমাদের মাটি, পানি, পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যকে রক্ষা করা সম্ভব।
ড. তোফাজ্জল ইসলাম: অধ্যাপক ও প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, ইনস্টিটিউট অব বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং (আইবিজিই), ডিন, গ্র্যাজুয়েট স্টাডিজ অনুষদ, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এবং ফেলো, ফুলব্রাইট, বাংলাদেশ ও বিশ্ব বিজ্ঞান একাডেমি