প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস ৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সভায় চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তাৎক্ষণিক নির্দেশ প্রদান করেন এবং জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধান খুঁজে বের করতে চার উপদেষ্টাকে (সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান, ফারুক ই আজম বীর প্রতীক এবং আদিলুর রহমান খান) বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছেন। তারই পরিপ্রেক্ষিতে ১৮ জানুয়ারি তিন উপদেষ্টা চট্টগ্রাম সফর করে সরেজমিন মাঠ পর্যবেক্ষণ করেন এবং ১৯ জানুয়ারি চট্টগ্রাম সার্কিট হাউজে বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে আগামী চার মাসের মধ্যে জলাবদ্ধতা সমস্যার দৃশ্যমান অগ্রগতির লক্ষ্যে এক মতবিনিময় সভার আয়োজন করেন। ওই সভায় পরিবেশবিদ হিসেবে আমন্ত্রিত হয়ে অংশগ্রহণের সুযোগ হয় এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা ও নগর পরিবেশে প্রভাব নিয়ে কিছু বিষয় তুলে ধরছি।
বাংলাদেশের অন্যান্য শহর অপেক্ষা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য এবং ভৌগোলিক গুরুত্বপূর্ণ অবস্থানে থাকা সত্ত্বেও অপরিকল্পিত নগরায়ণ, সচেতনতা ও যথাযথ সমন্বয়ের অভাবে বন্দরনগরী চট্টগ্রামের পরিবেশ নানা হুমকির সম্মুখীন।
চট্টগ্রাম মহানগরীর ৭০-৭৫ লাখ জনসংখ্যার বিভিন্ন চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে নগর পরিবেশের ওপর প্রতিকূল প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। প্রাকৃতিকভাবে চট্টগ্রাম একটি ব্যতিক্রম শহর এবং সমুদ্র, পাহাড়, নদী ও ঢালুভূমির মাঝখানে এ শহরের অবস্থান। পানি নিষ্কাশনের জন্য চট্টগ্রাম শহরে প্রাকৃতিকভাবে একটি চমৎকার ব্যবস্থা থাকার পরও এখানে জলাবদ্ধতার সমস্যা দিন দিন প্রকট আকার ধারণ করছে। প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট কারণে কোনো স্থানে পানি জমে বা আবদ্ধ থাকলে তাকে জলাবদ্ধতা বলে। চট্টগ্রামের ক্ষেত্রে দেখা যায়, এখানে ৩০ মিনিট থেকে প্রায় ৫ ঘণ্টা পর্যন্ত জলাবদ্ধতা স্থায়ী হয়। জলাবদ্ধতার গভীরতা স্থানভেদে শূন্য দশমিক ৫০ থেকে ১ দশমিক ৬০ মিটার পর্যন্ত হয়ে থাকে। বন্দরনগরী চট্টগ্রামে মূলত জোয়ারজনিত এবং বর্ষাকালীন এ দুই ধরনের জলাবদ্ধতা লক্ষ করা যায়, তবে মূলত বর্ষাকালীন জলাবদ্ধতা সমস্যা প্রকট। চট্টগ্রামে বর্ষার সময় ৩০ মিনিট থেকে ১ ঘণ্টার বৃষ্টিতে মহানগরীর ৪০-৫০ শতাংশ এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। মৌসুমি বায়ু দীর্ঘ সময় সক্রিয় থাকলে বৃষ্টিপাত অধিক হয়, তাছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনসহ নানা কারণে ইদানী বৃষ্টির ধরন ও তীব্রতায় পরিবর্তন এসেছে। ফলে অল্প সময়ে এ অধিক বৃষ্টির পানি ধারণ করতে পারছে না এ বন্দর শহর। স্লুইস গেট যথাযথ কার্যকর না হওয়ায় জোয়ারের পানি অনুপ্রবেশ করে নগরের নিচু এলাকা সহজে প্লাবিত হয় এবং বর্ষাকালে বৃষ্টির সময় জোয়ার বিদ্যমান থাকলে চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার প্রকট দীর্ঘ হয়। আগের এক গবেষণায় (আকতার ও অন্যান্য, ২০২২) দেখা যায়, চট্টগ্রামে যদি জলাবদ্ধতায় পানির গভীরতা যদি এক মিটার হয়, তবে শহরের ১৫ দশমিক ৫০ শতাংশ এলাকা ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ২৫ শতাংশ বসতবাড়িতে জলাবদ্ধতার পানি প্রবেশ করে। বিদ্যমান খাল ও নালা পর্যাপ্ত পরিমাণে প্রশস্ত ও পরিচ্ছন্ন না হওয়ায় জলাবদ্ধতা প্রকট হচ্ছে। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা থেকে উত্তরণের জন্য বাংলাদেশ সরকার চারটি প্রকল্পে প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরীর ৩৬টি খাল সংস্কার ও সম্প্রসারণর জন্য ২০১৬ একনেকে প্রায় ৫ হাজার ৬১৬ কোটি টাকার মেগা প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়, যা পরবর্তী সময়ে অনুমোদন সাপেক্ষে বৃদ্ধি করে ৯ হাজার ৬২৬ কোটি টাকা করার কথা রয়েছে। ২০১৭ থেকে ২০২০ সাল মেয়াদি সিডিএর জলাবদ্ধতা প্রকল্পের ৭৬ শতাংশ কাজ শেষ হলেও এর সুফল নগরবাসী কবে পাবে তা অনিশ্চিত, ২০২৪ সালেও দেখা যায় কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে হাবুডুবু খেতে হয়েছে চট্টগ্রামকে।
ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আমার এক গবেষণায় দেখা যায়, এ নগরীর জলাবদ্ধতার জন্য মানুষ্য সৃষ্ট কারণ দায়ী ৬৩ শতাংশ (যেমন অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নিয়মিতভাবে খাল ও নালা পরিষ্কারের অভাব, অপরিকল্পিত বাঁধ, ব্রিজ, কালভার্ট ও সড়ক; পাহাড় কর্তন, পুকুর ও জলাশয় ভরাট; ড্রেনেজ ব্যবস্থায় প্রতিবন্ধকতা, যেমন শহরের নানা বর্জ্য, প্লাস্টিক ও পাহাড়ের মাটি, ভবনের নির্মাণসামগ্রী ও পাইলিংয়ের মাটি, চট্টগ্রামের বিভিন্ন খাল ও নালায় সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সরবরাহ লাইন, অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও ভূমি ব্যবহার পরিবর্তন ইত্যাদি) এবং প্রাকৃতিক কারণগুলো দায়ী ৩৭ শতাংশ (যেমন বৃষ্টিপাত, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত প্রভাব, ভূপ্রকৃতি এবং নদী ও সমুদ্র তীরবর্তী শহর ইত্যাদি)। জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে ইদানীং বর্ষাকালে বৃষ্টিপাতের ধরন ও পরিমাণ/তীব্রতা অনেক বেড়েছে। চট্টগ্রাম ও পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে বছরে প্রায় তিন হাজার মিমি বৃষ্টিপাত হয়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত হয় জুন-জুলাইয়ে। সাধারণত এ দুই মাসে প্রতিদিন গড়ে ২০ মিমি করে মাসিক ৬০০ মিমি বর্ষণ হয়। গত কয়েক বছরের জলাবদ্ধতার ঘটনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জুন-জুলাইয়ের বর্ষাকালীন গড় বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক সময় থেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। যেমন স্মরণকালের ভয়াবহ বিপর্যয়কর দুটি পাহাড়ধসের সময় (২০০৭ ও ২০১৭ সালে) ২৪ ঘণ্টায় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ছিল যথাক্রমে ৪০৮ মিমি ও ৩৬৫ মিমি। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয় গত ৩০ বছরে বাংলাদেশে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত বেড়েছে ৮ শতাংশ।
চট্টগ্রামে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও পানি নিষ্কাশনের জন্য সমন্বিত কোনো ব্যবস্থা না থাকায়, জলাবদ্ধতা সমস্যা মারাত্মক রূপ নিচ্ছে। চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান মেগা প্রকল্প কর্তৃপক্ষ শহরের ব্রিজ ও কালভার্টের নিচে তিন সেবা সংস্থার (ওয়াসা, বিটিসিএল ও কর্ণফুলী গ্যাস সিস্টেম) ১২৩টি পাইপলাইন চিহ্নিত করেছে, যেখানে বর্জ্যগুলো আটকে জলাবদ্ধতা সমস্যাকে প্রকট করে তুলছে। যেকোনো নগরের প্রাকৃতিক ও মানবিক পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় পুকুর ও জলাশয়ের গুরুত্ব অপরিসীম। অপরিকল্পিত নগরায়ণের কারণে চট্টগ্রাম শহরের বহু বিখ্যাত পুকুর-দীঘি-জলাশয়-ডোবা ইত্যাদি ভরাট হয়ে যাচ্ছে। নগরীর পুকুর জলাশয়গুলো পানি চক্রের একটি ক্ষুদ্রতম অংশ এবং জলাশয়গুলো তাপমাত্রা কমাতে এবং বৃষ্টির অতিরিক্ত পানি ধারণ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কর্তৃপক্ষের অনুমতি ব্যতীত জলাশয় ও পুকুর ভরাট নিষিদ্ধ হলেও সবার সামনেই চট্টগ্রামে অবাধে নগরের পুকুর-জলাশয়-ডোবার ভরাট কাজ চলছে নির্বিঘ্নে। ২০০০ সালে প্রণীত আইন অনুযায়ী স্থানীয় সরকার, জেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও সিডিএ জলাশয় ও উন্মুক্ত স্থান সংরক্ষণ করবে। কিন্তু এ আইনকে বিভিন্নভাবে ফাঁকি দিয়ে পুকুর ও জলাশয় ভরাটের কাজ চলছে। ১৯৯১ সালে জেলা মৎস্য বিভাগের তথ্য অনুযায়ী চট্টগ্রামে জলাশয়ের সংখ্যা ১৯ হাজার ২৫০, অন্যদিকে সিডিএর ডিটেইলড এরিয়া প্লানের আওতায় ২০০৬-০৭ সালে ৭৭০ বর্গকিলোমিটার জলাশয় চিহ্নিত করছে ৪ হাজার ৫২৩টি। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগের, এমফিল গবেষণায় মোরশেদ ও তৈয়ব চৌধুরী, ২০১৮) দেখা যায়, নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডে ১ হাজার ৩৫২টি জলাশয় চিহ্নিত করেন এবং এ গবেষণায় দেখা যায়, চট্টগ্রামে প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে পুকুর ও জলাশয় হ্রাস পাচ্ছে। চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী সব পুকুর ও জলাশয় ভরাট করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণের ফলে নগরের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিপর্যস্ত হচ্ছে এবং অল্প সময়ের বৃষ্টিতে পর্যাপ্ত জলাশয়ের অভাবে নগরী তলিয়ে যাচ্ছে জলাবদ্ধতায়। চট্টগ্রাম শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্বে রয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন। চট্টগ্রাম শহরে বিভিন্ন উৎস থেকে দৈনিক আড়াই থেকে তিন হাজার টন বর্জ্য সৃষ্টি হয়। কিন্তু প্রায় ৭০ লাখ নগরবাসীর বর্জ্য অপসারণের জন্য প্রয়োজনীয় জনবলের অভাবে দৈনিক ২৫০-৩০০ টন বর্জ্য রাস্তা, নালা, নর্দমা, খালে বিচ্ছিন্নভাবে পড়ে থাকে এবং পরবর্তী সময়ে এসব বর্জ্য নালা ও খালে পড়ে ড্রেনেজ ব্যবস্থার প্রতিবন্ধকতা ও শহরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি করছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম শহরের শত শত টন বিভিন্ন প্লাস্টিক বর্জ্য প্রতিনিয়ত জমা হচ্ছে কর্ণফুলী নদীতে, ফলে নদীদূষণসহ ভরাট হচ্ছে তলদেশ। কর্ণফুলী নদীতে ২০১৮ সালের ড্রেজিংয়ের সময় ৪৮ লাখ ঘনমিটার বালিযুক্ত মাটি উত্তোলন করা হয়; এর মধ্যে ২২ লাখ ঘনমিটার ছিল পলিথিনযুক্ত বালিমাটি।
বিবিএসের দুর্যোগসংক্রান্ত ২০১৬-এর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৯-২০১৪ পর্যন্ত জলাবদ্ধতায় বাংলাদেশে প্রতি বছর ৩১ মিলিয়ন ডলার সম্পদের ক্ষতি হয়েছে এবং ধারণা করা হয়, এ ক্ষতি না হলে বাংলাদেশের জিডিপি প্রতি বছর শূন্য দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি হতো। গত এক দশকে (২০১১-২০২১) জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রামের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রাণ কেন্দ্র খাতুনগঞ্জ, চাক্তাই, আসাদগঞ্জ ও কোরবানীগঞ্জ ২ হাজার ৫১৭ টাকার ক্ষতি হয়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৫ হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ী। এছাড়া চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার প্রভাব পড়ে: সড়কে জলাবদ্ধতার পানিতে চলাচল কয়েক ঘণ্টার জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায়; জলাবদ্ধতার কারণে চট্টগ্রাম মহানগরীর প্রধান সড়ক থেকে গলিপথ পর্যন্ত ক্ষতিগ্রস্ত হয় প্রতি বছর; প্রধান সড়কে পিচ উঠে চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে; রিকশা ও ভ্যান ভাড়া বৃদ্ধি পায়; জলাবদ্ধতার পানিতে চলাচল করে নষ্ট হয় ব্যক্তিগত ও পাবলিক পরিবহন। চট্টগ্রাম মহানগরীতে আগস্ট, ২০২৩-এর জলাবদ্ধতার কারণে চসিকের ১ হাজার ৩০০ কিমি সড়কের মধ্যে ৫০ কিমি সড়ক সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, এছাড়া দুই কিমি ফুটপাত ও দুই কিমি ড্রেন ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং ২০১৭ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত বর্ষাকালে জলাবদ্ধতায় ড্রেনে পড়ে ১১ ব্যক্তির করুণ মৃত্যু হয়।
সামগ্রিক দিক বিবেচনায় চট্টগ্রাম মহানগরীর আলোচিত এ সমস্যা থেকে মুক্ত হতে নিম্নোক্ত উদ্যোগগুলো গ্রহণ করা যেতে পারে: পূর্বের মাস্টার প্ল্যানের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সময়োপযোগী আধুনিক বাস্তবসম্মত ড্রেনেজ মাস্টার প্ল্যান প্রণয়ন; দখলকৃত নালা-খাল উদ্ধার করে চট্টগ্রাম শহরের প্রকৃত ড্রেনেজ ডাটাবেজ প্রণয়ন করা; বিদ্যমান খাল ও নালার ওপর প্রতিবন্ধকতা চিহ্নিতকরণ ও অপসারণ করতে হবে; নিয়মিত ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে খাল পরিষ্কার ও বিদ্যমান খালের প্রশস্ততা বৃদ্ধি করা; সিটি করপোরেশন, সিডিএ, ওয়াসা ও পানি উন্নয়ন বোর্ডসহ বিভিন্ন সেবা সংস্থাগুলো একটি সমন্বয় কমিটির মাধ্যমে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করা; পরিকল্পিতভাবে কালভার্ট, ব্রিজ নির্মাণ করা এবং শহরে সবুজের আচ্ছাদন বৃদ্ধি করা; কঠোর নজরদারির মাধ্যমে পাহাড় কাটা বন্ধ করা এবং পানির প্রাকৃতিক জলাধার-নগরীর পুকুর জলাশয় ও নিচু জমিগুলো রক্ষা করতে হবে এবং এ ব্যাপারে রাজনৈতিক মতৈক্য খুবই জরুরি; জোয়ারজনিত জলাবদ্ধতা নিরসনে খালগুলোর মুখে যথাযথ স্লুইস গেট স্থাপন করা এবং খালের মধ্যে বর্জ্য নিক্ষেপ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা; নালা ও খাল অবৈধ দখল ও ভরাট থেকে রক্ষা এবং সচেতনতা বৃদ্ধির জন্য ব্যাপক প্রচারণার ব্যবস্থা করা; যত্রতত্র অপরিকল্পিত স্থাপনা গড়ে ওঠায় জলাবদ্ধতা নিরসনে রাজনৈতিক ও সামাজিক একতা প্রয়োজন, এজন্য সঠিক পরিকল্পনা, দক্ষ ব্যবস্থাপনা এবং যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণ ও সচেতনতার ওপর দৃষ্টি দিতে হবে।
ড. মো. ইকবাল সরোয়ার: অধ্যাপক, ভূগোল ও পরিবেশবিদ্যা বিভাগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়