অর্থনীতির আকারে তুলনামূলক ছোট প্রতিবেশী দেশগুলো বর্তমানে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলায় আগ্রহী। কেননা এতে এসব দেশের দরকষাকষির সুযোগ বাড়ছে।
চীনের সঙ্গে সীমান্ত বিরোধ অমীমাংসিত থাকলেও ভারত অর্থনৈতিকভাবে চীননির্ভর। একই সঙ্গে চীন পাকিস্তানকে অস্ত্র, সাবমেরিন ও ঋণ দিয়ে কৌশলগত মিত্র বানিয়েছে। বাংলাদেশে শেখ হাসিনার পতনের পর নতুন সরকার চীনের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে। নেপাল, শ্রীলংকা ও মালদ্বীপ—প্রত্যেকেই চীন-ভারত প্রতিদ্বন্দ্বিতাকে কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগ এবং সহায়তা আদায় করছে, ফলে ভারতের একচেটিয়া প্রভাব খর্ব হচ্ছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রও ক্রমে লেনদেনভিত্তিক নীতি নিয়েছে—ট্রাম্প ভারতের ওপর শুল্ক বাড়িয়ে পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছেন, যা ঐতিহাসিকভাবে ১৯৭১ ও নিক্সন-যুগের স্মৃতি ফিরিয়ে আনছে।
ভারতকে অঞ্চল থেকে বিচ্ছিন্ন করা হচ্ছে না, বরং একচেটিয়া আধিপত্য থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে। তাই পুরনো আধিপত্য পুনরুদ্ধারের বদলে প্রতিবেশীদের জনমত, অর্থনৈতিক চাহিদা ও কৌশলগত উদ্বেগ বুঝে উদারভাবে সাড়া দেয়াই এখন ভারতের করণীয়।
সৈয়দ মুনির খসরু: আন্তর্জাতিক থিংক ট্যাংক IPAG Asia-Pacific-এর চেয়ারম্যান
সাউথ চাইনা মর্নিং পোস্টে প্রকাশিত এক নিবন্ধে