দেশে মাদকের বিস্তার রোধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেয়ার বিকল্প নেই। সৃজনশীল কার্যক্রম, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম ও সুস্থ বিনোদনের অভাব থাকায় তরুণ প্রজন্মের একাংশ নানা ধরনের মাদকের প্রতি নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। এ সুযোগ নিয়ে অনেক মাদক ব্যবসায়ী পাড়া, মহল্লা এমনকি গ্রামেও ছড়িয়ে পড়ছে। মাদকাসক্তি যেমন অনেক তরুণের সম্ভাবনাকে ধ্বংস করছে, তেমনি অনেক পরিবারকেও নানাভাবে বিপদগ্রস্ত করে তুলছে। ফলে মাদক নির্মূলে সরকারের কার্যকর ও কঠোর আইনি নীতিমালা অনুসরণ এবং বাস্তবায়নের বিকল্প নেই। নিয়মিত দেশব্যাপী মাদক নির্মূলে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পাশাপাশি তদারকি বাড়ানোরও বিকল্প নেই।
মাদক বিস্তারে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামীণ ও মফস্বল এলাকার তরুণদের একাংশ। মাদকের সহজলভ্যতা বাড়ায় এ সমস্যা আরো বাড়ছে। জনমিতিক লভ্যাংশ আদায়ের সুবর্ণ সুযোগ এখন আমাদের রয়েছে। এ সম্ভাবনা আদায়ের পথে বড় বাধা হয়ে উঠছে মাদকাসক্তি। বর্তমান সরকার ক্রিয়েটিভ অর্থনীতিকে গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ধরনের অর্থনীতির বিকাশে সৃজনশীল মানসিকতা ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যাপক গুরুত্ব দিতে হয়। ফলে সমাজে এমন কোনো উপাদান রাখা ঠিক নয়, যা এ ধরনের অর্থনীতির বিকাশ ব্যাহত করে।
জনমিতিক লভ্যাংশ আদায় বাড়ানো ও ক্রিয়েটিভ অর্থনীতির বিকাশের জন্যই মাদক নিয়ন্ত্রণে কিছু উদ্যোগ নেয়া যায়। সারা দেশে মাদকের বিরুদ্ধে একটি সাঁড়াশি অভিযান পরিচালনা করা এবং এর সঙ্গে যারাই যুক্ত, এদের গ্রেফতার করে স্পেশাল ট্রাইব্যুনালে কঠোর শাস্তির ব্যবস্থা নিতে হবে। মাদকের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। শিশুদের আনন্দময় শৈশব নিশ্চিত করতে হবে। দেশে পরিকল্পিতভাবে মাঠ ও পার্ক বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে শিশুদের খেলার উপযুক্ত ও নিরাপদ জায়গা গড়ে তুলতে হবে। শারীরিক কার্যক্রম বাড়াতে পারলে শিশুর মানসিক বিকাশও গতিশীল হবে।
রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, ক্লাব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে মাদকবিরোধী ক্যাম্পেইনে যুক্ত করতে হবে। এ যুক্ত করার বিষয়টি সহযোগিতামূলক ও প্রতিনিধিত্বমূলক কাঠামোর অধীনে করা যেতে পারে। অধিকাংশ সংগঠনই এ ধরনের সহযোগিতা করতে প্রস্তুত রয়েছে।
পাঠ্যবইয়ে মাদকের বিষয়ে সচেতনতা বাড়াতে কনটেন্টের মানে বৈচিত্র্য আনতে হবে। কনটেন্ট এমনভাবে তৈরি করা ঠিক হবে না, যাতে তরুণ প্রজন্ম নির্দিষ্ট মাদকের সঙ্গে পরিচিত হয় বেশি। বরং তারা যেন মাদকের অপব্যবহার ও নেতিবাচক দিক সম্পর্কে সচেতন হয় এবং এর প্রভাব জেনে নিজের ভবিষ্যৎ বিষয়ে সতর্ক হয় সেটি নিশ্চিত করা হবে কনটেন্টে। ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাদকবিরোধী কার্যকর প্রচার প্রচারণা লাগবে। যারা মাদক ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত, তাদের মুখ সমাজের সামনে উন্মুক্ত করে দিতে হবে।
মাদক নিয়ন্ত্রণে এরই মধ্যে অনেক দেশ কঠোর অবস্থান নিয়েছে। আমাদেরও অনুসরণীয় উদ্যোগগুলো নিতে হবে। তবে মাদক নিয়ন্ত্রণ শুধু সরকারের একার দায় নয়। মাদক নির্মূলে সামাজিক আন্দোলনেরও গুরুত্ব অনেক। এজন্য সচেতন মহল ও তরুণ প্রজন্মকেই সৃজনশীল উদ্যোগ নিতে হবে। যূথবদ্ধভাবে মাদক নির্মূলে আমাদের কাজ করতে হবে।
মো. নিজাম উদ্দিন: সহসভাপতি, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদ