স্মৃতিচারণ পর্ব-৭

আমাদের কালের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন

সেই যুগে আমাদের তরুণ শিক্ষকরা যেমন সাহসী ও তেজি ছিলেন, তেমনি বয়োজ্যেষ্ঠ অধ্যাপকরাও ছিলেন জ্ঞানে, গুণে ও আপন আপন মহিমায় উদ্ভাসিত। এ রকমই তিনজন শিক্ষকের কথা এখানে উল্লেখযোগ্য বলে মনে করি। প্রথমত, আমাদের সময়ে অর্থনীতি বিভাগে একমাত্র ফুল প্রফেসর ছিলেন ড. মালিক খসরু চৌধুরী। তিনি একসঙ্গে বিভাগীয় প্রধান ও সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিনও ছিলেন। চৌধুরী

সেই যুগে আমাদের তরুণ শিক্ষকরা যেমন সাহসী তেজি ছিলেন, তেমনি বয়োজ্যেষ্ঠ অধ্যাপকরাও ছিলেন জ্ঞানে, গুণে আপন আপন মহিমায় উদ্ভাসিত। রকমই তিনজন শিক্ষকের কথা এখানে উল্লেখযোগ্য বলে মনে করি। প্রথমত, আমাদের সময়ে অর্থনীতি বিভাগে একমাত্র ফুল প্রফেসর ছিলেন . মালিক খসরু চৌধুরী। তিনি একসঙ্গে বিভাগীয় প্রধান সমাজবিজ্ঞান অনুষদের ডিনও ছিলেন। চৌধুরী স্যার প্রশাসনিক কাজে এবং সভা-সমিতি নিয়ে এতটাই ব্যস্ত থাকতেন, শ্রেণীকক্ষে পড়ানোর ফুরসত পেতেন না বললেই চলে। আমার জানামতে দৈবক্রমে তিনি মাত্র একদিনই চক-ডাস্টার নিয়ে আমাদের ক্লাসে এসেছিলেন। স্যার সেদিন তাত্ত্বিক অর্থশাস্ত্রের ওপর অনেক কিছুই বলেছিলেন, এর মধ্যে যে কথাটি আজ আমার মনে পড়ে তা হলো, ওইদিন তার কোনো ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণই আমার মাথায় ঢোকেনি। 

তার যে প্রশ্নটি আমার স্মৃতিতে এখনো চিরজাগরূক হয়ে আছে তা অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়। বলা যায়, এটি সাধারণ জ্ঞানের একটি অসাধারণ অনুষঙ্গ। বক্তৃতার এক পর্যায়ে তিনি বলেছিলেন, ‘আজ থেকে আগামীকালের দূরত্ব ২৪ ঘণ্টা হলে গতকাল কত দূর?’ প্রশ্ন শুনেই আমি মনে মনে খুব পুলকিত বোধ করেছিলাম। বাহ, আমি তো এর উত্তর জানি! মুখ ফুটে বলব কি বলব না, ভাবতে ভাবতে দেখলাম, স্যার নিজের সওয়ালের জবাব নিজেই দিচ্ছেন। স্যারের বয়ান শেষ হতে না হতেই আমার মনটা খারাপ হয়ে গেল। বুঝলাম, আমার জানাটা ষোলো আনাই ভুল। সহি উত্তর হলো, ‘মাত্র ২৪ ঘণ্টা পর আজ থেকে আগামীকালে পৌঁছা যায়, কিন্তু যে দিন গেল, সে তো চিরতরেই চলে গেল, গতকালে আর কোনো দিনই ফেরা সম্ভব নয়।সেদিন স্যারের সেই প্রশ্নোত্তর আমার মনোজগতে যে কৌতূহলী দুয়ার খুলে দিয়েছিল, তা এখনো উন্মুক্ত কিন্তু এতে আমার কোনো ফায়দা হচ্ছে না। নিত্য যে পথে নতুন নতুন জ্ঞান আমার হূদয়মন্দিরে এসে ঢুকে, সেই পথ দিয়ে তা আবার বেরিয়ে যেতেও বেশি সময় লাগে না। অর্থাৎ আমি যত তাড়াতাড়ি শিখি তত তাড়াতাড়ি আবার ভুলেও যাই।

এরপর যার কথা বলব, তিনি ছিলেন গণিত বিভাগের প্রধান অধ্যাপক . দেলোয়ার হোসেন। দেলোয়ার স্যারও ছিলেন ওই বিভাগের একমাৎর ফুল প্রফেসর। তার সম্পর্কে আমাদের বড় ভাইদের কাছে শুনেছি, তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াতেন এবং সে দেশের স্থায়ী বাসিন্দাও ছিলেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর স্বদেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হয়ে দেশ গড়ার তাগিদে স্যার ঢাকায় ফিরে এসে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগ দেন। তিনিও একদিন অপ্রৎযাশিতভাবে আমাদের অংক সাবসিডিয়ারি ক্লাসে এসে হাজির হয়েছিলেন। দেলোয়ার স্যার সেদিন কিছু পড়িয়েছিলেন কিনা, ব্ল্যাকবোর্ডে কোনো থিওরেম প্রমাণ করেছিলেন কিনা এসব কিছুই বর্তমানে আমার স্মরণশক্তির আওতার বাইরে। তবে যে ঘটনাটি মনে আছে তা হলো, তিনি গল্পের ছলে পাটিগণিতের বিপরীতে বীজগণিতের অপরিহার্যতা খুব সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন।

স্যার সেদিন প্রশ্নটি যেভাবে উত্থাপন করেছিলেন, তা যদি আমার মতো করে আমার ভাষায় বলি তাহলে রকম দাঁড়াবেএকটি ছোট্ট মেয়ে তার ফুলের সাজিতে করে কয়েকটি তাজা ফুল নিয়ে পুকুরপাড়ে এল। পুকুরের চারদিকে চারটি পাথরের ঘাট ছিল। মেয়েটি প্রথম ঘাটে নেমে ফুলের সাজি পানিতে ডোবাল, সঙ্গে সঙ্গে সাজির ফুল দ্বিগুণ হয়ে গেল, তারপর সে ওই ঘাটে গুনে গুনে পাঁচটি ফুল রেখে দ্বিতীয় ঘাটে গেল। সেখানেও একইভাবে তার ফুলগুলো ম্যাজিকের মতো দ্বিগুণ হয়ে গেল এবং সে পাঁচটি ফুল সযত্নে রেখে দিল। একই তরিকায় বালিকা তৃতীয় চতুর্থ ঘাটে পাঁচটি করে ফুল রাখার পর তার সাজিতে গুনে দেখে ২১টি তাজা ফুল অবশিষ্ট আছে। এখন প্রশ্ন হলো, করিত্কর্মা সেই মেয়ে কতটি ফুল নিয়ে বাড়ি থেকে পুকুরঘাটে এসেছিল? স্যার আরো বলেছিলেন, সমস্যার সহজ সমাধান পাটিগণিতের দ্বারা সম্ভব নয়। বীজগণিতের একটি সরল সমীকরণের (লিনিয়ার ইকুয়েশন) সমাধানের মধ্যেই প্রশ্নের সঠিক উত্তর নিহিত। আমি বীজগণিতে তালিম নিতে শুরু করেছি সপ্তম শ্রেণী থেকে, অথচ এর তাত্পর্য প্রয়োজনীয়তা বুঝতে আমার সাত সাতটি বছর লেগে গেল। দেলোয়ার স্যারের মতো একজন শিক্ষক না পেলে আমার মাঝে জীবনের এই অপূর্ণতা হয়তো আজও রয়ে যেত।

তৃতীয় ঘটনাটির অনুঘটক একই বিভাগের তত্কালীন সহযোগী অধ্যাপক . মুনিবুর রহমান চৌধুরী। স্যার অত্যন্ত তীক্ষ মেধার অধিকারী একজন স্পষ্টবাদী মানুষ ছিলেন। তিনি তার অন্য সহকর্মীদের মতো অনার্সের ছাত্র ছিলেন না। স্যারপাসকোর্সে বিএসসি পাস, তবে তিনি ওই পরীক্ষায় গোটা বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথম স্থান অধিকার করেছিলেন। রহমান স্যারের কাছে আমরা সাবসিডিয়ারি কোর্সলিনিয়ার অ্যালজেবরা পড়েছি। তিনি ক্লাসে খুব দ্রুত পড়াতেন। বোর্ডে একদিকে লিখতেন এবং আরৎকেদিকে অনবরত মুছতে থাকতেন, তাকে ক্লাসে অনুসরণ করে নোট নেয়া বড়ই কঠিন কাজ ছিল। গণিত বিভাগের আমাদের বন্ধু জাফরের কাছে শুনেছি, একদিন অনার্স ক্লাসে তিনি একটা উপপাদ্য প্রমাণ করেছেন। একজন ছাত্র বলল, ‘স্যার, বুঝলাম না।তিনি তাকে উল্টো প্রশ্ন করলেন, ‘কী বুঝলে না?’ ছেলেটি সবিনয়ে জবাব দিল, ‘কী বুঝলাম না স্যার, তাও বুঝলাম না!’ আমাদের বন্ধুর উত্তর শুনে উপস্থিত ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে কড়া মেজাজের মুনিবুর রহমান স্যার নিজেও সেদিন হেসে দিয়েছিলেন।

লিখতে গিয়ে এই মাত্র মনে পড়ল, গণিত বিভাগে আমরা আরেকজন শিক্ষক পেয়েছিলাম। তিনি অন্য তিনজনের মতো সিনিয়র অধ্যাপক ছিলেন না। বয়সে খুব বেশি হলে আমাদের চেয়ে মাত্র ছয়-সাত বছরের বড় ছিলেন। চাকরিতে তার অবস্থান ছিল হয় লেকচারার অথবা অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর। স্যারের নাম ছিল হুমায়ূন কবির। তিনি আমাদের সাবসিডিয়ারি ক্লাসেডিফারেন্সিয়াল ইকুয়েশনস পড়াতেন। যে কারণে কবির স্যারের কথা আজ শ্রদ্ধার সঙ্গে বিশেষভাবে স্মরণ করতে চাই তা হলো, তার ব্যক্তিত্ব, নীতি-নৈতিকতা, নিয়মানুবর্তিতা, সময়নিষ্ঠা এবং চরিত্রের সরলতা, অখণ্ডতা, সম্পূর্ণতা বিশুদ্ধতা। এমন আদর্শ শিক্ষক কেবল আজকের জন্য নয়, সব যুগে নিতান্তই বিরল!

একটি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র-ছাত্রীদের কেবলই কেতাবি জ্ঞানদান করে না। শিল্প-সংস্কৃতি, কথা বলা, কাপড়-চোপড় পরা, আদব-কায়দা, জীবনে শৃঙ্খলা নিয়মানুবর্তিতা বোধ ইত্যাদিও জ্ঞানের অন্তর্ভুক্ত। এসব এলেমের বেশির ভাগই আমরা পাই মা-বাবা পারিবারিক সূত্রে। বাকিটা হাসিল করি বৃহত্তর সামাজিক পরিবেশে, যাদের সঙ্গে আমরা ওঠা-বসা খেলাধুলা করে বেড়ে উঠি। এসবের প্রায় কোনো কিছুই বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণীকক্ষে পাওয়া যায় না। পাওয়া যায় বৃহত্তর উন্মুক্ত পরিবেশে। আমি অনেক কিছু সহপাঠী বন্ধুদের সঙ্গে চলেফিরে, দেখেশুনে শিখেছি। কিছু আবার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কর্মচারী-কর্মকর্তাদের কাছ থেকেও রপ্ত করেছি। অনেক বিষয় শিখলেও নিয়মিত অনুশীলন করতে পারি না, আর অনেক কিছু এখনো শেখাই হয়নি।

আবার এটাও ঠিক, অনানুষ্ঠানিকভাবে প্রতিনিয়ত আমরা কিছু না কিছু শিখেই চলেছি। এই তো সেদিন, লেখার আগের কোনো এক কিস্তি পড়ে আমার একজন গুণগ্রাহী পাঠক-বন্ধু তাচ্ছিল্য করে আমাকে জানিয়েছেন, ১৯৭০ দশকের গোড়ার দিকে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ছিল একটি হাই সু্কলের মতো, নিয়ে এত কথার দরকার কী! তিনি আমাকে অন্য একটি বিষয়ে লেখারও ইঙ্গিত দিয়েছেন। পাঠক বন্ধুকে আশ্বস্ত করতে চাই, সময় এলে সে লেখাও যে লিখব না, তা তো বলা যায় না। আর লেখার  প্রয়োজনীয়তা নিজে থেকে না বুঝলে আমি কাউকে বোঝাতেও পারব না। তবে আমি স্বীকার করি, আমার পাঠকের অন্য কথাটি স্থূল অর্থে সঠিক, কিন্তু আমার বন্ধু যে জায়গায় ভুল করেছেন সেটা হলো, একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের আকার যত ছোট হোক না কেন এবং তার ছাত্র সংখ্যা যত কমই হোক না কেন, তার অবকাঠামো কিন্তু ছোট হয় না। তার চেয়েও বড় কথা, একটি ছোট বিশ্ববিদ্যালয়েরও সম্ভাবনা, স্বপ্ন-সাধ এবং সাফল্য হতে পারে গগনচুম্বী। উদাহরণস্বরূপ আমি বলতে পারি, মাত্র দুই হাজার ছাত্র-ছাত্রীর প্রতিষ্ঠান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেরক্যাল-টেক’ (ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি) পৃথিবীর সেরা ১০টি বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম।

বন্ধুকে আরো বলছি, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়কে এখন কিন্তু আর ছোট বলা যায় না। তবে একথাও ঠিক, যখন ছোট ছিল তখন আমার প্রিয় বিশ্ববিদ্যালয় একটি পরিবারের মতোই ছিল। পরিবারের সদস্য হিসেবে আমরা সবাই পরস্পরের কাছ থেকে শেখার সুযোগ পেয়েছি এবং কিছু না কিছু হলেও শিখেছি। বাস্তবতাকে মাথায় রেখেই এখন একদিনের চমত্কার একটি অভিজ্ঞতার কাহিনী বর্ণনা করার লোভ সামলাতে পারছি না।

যত দূর মনে পড়ে, বিশ্ববিদ্যালয়জীবনের প্রথম অথবা দ্বিতীয় বছর থেকেই আমি তত্কালীন ইংরেজি দৈনিক মর্নিং নিউজের (এটি এখন আর নেই) জাবি প্রতিনিধি ছিলাম। যখন মাস্টার্সের ছাত্র তখন বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির একজন কর্মকর্তাও বনে গেলাম। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী হলো জানুয়ারির ১২ তারিখ।

যে বছরের কথা বলছি সে বছরের একেবারে গোড়ার দিকের ঘটনা। আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথমবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। অনুষ্ঠানের মাত্র কয়েক দিন আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা (নামটা উহ্য রাখার কারণ শিগগিরই আপনাদের কাছে খোলাসা হয়ে যাবে) ঢাকায় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের দাওয়াত দিতে যাবেন, সাংবাদিক সমিতির প্রতিনিধি হিসেবে সঙ্গে আমাকেও নিয়ে গেলেন। সারা দিন তার সঙ্গে গাড়িতে করে ঢাকায় ঘোরাঘুরি করলাম। সচিবালয়, বিভিন্ন সংবাদপত্র এবং অন্যান্য সরকারি আধা সরকারি সংস্থার অফিসে গেলাম। স্যার অনৎকেের সঙ্গে দেখা করলেন, কথা বললেন, দাওয়াত দিলেন। তিনি যে কত লোককে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন, তা দেখে সেদিন আমি বিস্মিত না হয়ে পারিনি! পরিচিত কিংবা অপরিচিত ব্যক্তিদের অফিসে ঢোকা, সালাম করমর্দন করা, বসা, কথা বলা, বিদায় নেয়া ইত্যাদির মধ্যে সেদিন তার চরিত্র ব্যক্তিত্বের একটি অনবদ্য বহিঃপ্রকাশ আমি দেখতে পেয়েছিলাম। এর সবকিছুই আমার কাছে সন্দেহাতীতভাবে একটি শিক্ষণীয় বিষয় ছিল।

এই দাওয়াত পর্বের শেষ পর্যায়ে আমরা গিয়ে পৌঁছলাম পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের তত্কালীন এক যুগ্ম সচিবের অফিসে। তিনি আমাকে চিনতে পারেননি এবং চেনার কথাও নয়, তবে তাকে দেখেই আমি চিনে ফেলি। ১৯৬৬ সালে তিনি বৃহত্তর সিলেট জেলায় অবস্থিত মৌলভীবাজার মহকুমার এসডিও (মহকুমা হাকিম) ছিলেন। আমি তখন ওই মহকুমার অন্তর্গত বড়লেখা থানার পিসি (পাথারিয়া ছোটলেখা) হাই স্কুলে অষ্টম শ্রেণীর ছাত্র। ওই বছরের জুলাই-আগস্টের কোনো এক সময় তিনি বড়লেখায় এসেছিলেন এবং এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে আমাদের স্কুলে তাকে একটি নাগরিক সংবর্ধনা দেয়া হয়েছিল। সেই অনুষ্ঠানে আমি একটি পদ্য আবৃত্তি করেছিলাম এবং বড়লেখা ইউনিয়নের তত্কালীন চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান সাহেব এসডিও সাহেবের উদ্দেশে একটি মানপত্র পড়েছিলেন। মানপত্রের শুরুতে রবি ঠাকুরের একটি কবিতার কয়েকটি চরণ উদ্ধৃত ছিল। সেগুলো আমার কাছে এত ভালো লেগেছিল, আমি মুখস্থ করে ফেলেছিলাম। সেই কবিতার পঙিক্তগুলো এখনো আমি মাঝে মাঝে আওড়াই। মানপত্রটির একটি কপি অনেক দিন আমার হেফাজতে ছিল। আড়াই বছর পর ম্যাট্রিক ফাইনাল পরীক্ষার প্রস্তুতিতে বাংলা দ্বিতীয় পত্রের জন্য এটি আমি মুখস্থ করার ব্যর্থ চেষ্টা করেছিলাম। সেই দিনের সেই সচিব মহোদয়ের নাম ফখরুদ্দীন আহমদ। কালের পরিক্রমায় ২০০৬ সালে তিনিই বাংলাদেশের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হয়েছিলেন।

 

আবু এন এম ওয়াহিদ: অধ্যাপক অর্থনীতি বিভাগ

টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটি

এডিটর, জার্নাল অব ডেভেলপিং এরিয়াজ

[email protected]

আরও