বাজেট প্রতিক্রিয়া

বড় বাজেটের চেয়ে বেশি জরুরি উন্নত ও জবাবদিহিমূলক আর্থিক ব্যবস্থাপনা

প্রতি বছর সংসদে জাতীয় বাজেট উপস্থাপনের পর পরিচিত কিছু সংখ্যাই আলোচনার কেন্দ্রে চলে আসে।

বাজেটের আকার, বাজেট ঘাটতি, রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা, রাজস্ব ঘাটতি এবং এসব ঘাটতি পূরণে সরকারের কত ঋণ নিতে হবে—এগুলো তার অংশ। সদ্য ঘোষিত জাতীয় বাজেটও সেই পরিচিত ধারারই অংশ। সরকার প্রায় ৯ দশমিক ৩ লাখ কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেছে এবং প্রায় ২ দশমিক ৪৩ লাখ কোটি টাকার বাজেট ঘাটতি নির্ধারণ করেছে, যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রায় ৩ দশমিক ৭ শতাংশের সমান। অন্যদিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) জন্য রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকা। কিন্তু অতীত অভিজ্ঞতা বলে, এ লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এনবিআরের রাজস্ব ঘাটতি ৪০ হাজার কোটি টাকা থেকে ১ লাখ কোটি টাকায় চলে গেছে। অর্থনীতি বিশ্লেষকদের অনেকে মনে করেন, আগামী অর্থবছরেও একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি ঘটবে। এজন্য জনগণকে নিয়মিত বলা হচ্ছে যে বাংলাদেশের সামনে দুটি বড় আর্থিক চ্যালেঞ্জ রয়েছে—বাজেট ঘাটতি ও রাজস্ব ঘাটতি। কিন্তু যদি এ দুটি ঘাটতির বড় অংশই আসলে এক ধরনের ভ্রম হয়? যদি দেশের প্রকৃত সমস্যা অন্য কোথাও লুকিয়ে থাকে? যদি দেশের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘাটতি আর্থিক বা রাজস্বগত না হয়ে নৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক হয়?

এ প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজতে হলে আমাদের তিন ধরনের ঘাটতির মধ্যে পার্থক্য করতে হবে। প্রথমটি বাজেট ঘাটতি, দ্বিতীয়টি রাজস্ব ঘাটতি আর তৃতীয়টি হলো ইজিজি (এথিকস অ্যান্ড গুড গভর্ন্যান্স) ঘাটতি বা নৈতিকতা ও সুশাসনের ঘাটতি। আমার যুক্তি হলো, প্রথম দুটি মূলত ভৌতিক ঘাটতি; তৃতীয়টিই প্রকৃত ঘাটতি ও এক ধরনের সংকট।

প্রথমটি ভৌতিক ঘাটতি: বাজেট ঘাটতি

সরকারি ব্যাখ্যা দীর্ঘদিন ধরেই সরল। সরকারের ব্যয় তার আয়ের চেয়ে বেশি; ফলে বাজেট ঘাটতি তৈরি হয় এবং ঘাটতি মেটাতে ঋণ নেয়া লাগে। শুরুতে ব্যাখ্যাটি যুক্তিসংগত মনে হতে পারে। কিন্তু একটি মৌলিক প্রশ্নে প্রেক্ষাপট পাল্টে যায়। সেটি হলো বাজেটে বরাদ্দকৃত অর্থের কতটুকু আসলে নির্ধারিত গন্তব্যে পৌঁছায়? বহু বছর ধরে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি), সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি), শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির পর্যবেক্ষণ এবং অসংখ্য গবেষক, সাংবাদিক ও নীতিবিশ্লেষকরা অর্থনীতি খাত নিয়ে গবেষণা ও বিশ্লেষণ করছেন। তারা বিভিন্ন সময় সরকারি ব্যয়ে ব্যাপক অপচয়, অতিমূল্যায়ন, দুর্নীতি এবং প্রকল্পসংক্রান্ত অনিয়মের বিষয় তুলে ধরেছেন। বিভিন্ন খাত ও বিভিন্ন গবেষণা-পদ্ধতিতে হিসাবের পার্থক্য থাকলেও একাধিক গবেষণা ইঙ্গিত করে যে এ অপচয় ও সম্পদ-হরণের পরিমাণ এতই বেশি যে তা ঘোষিত বাজেট ঘাটতির সমপর্যায়ের এবং কোনো কোনো ক্ষেত্রে তারও বেশি হতে পারে। কিছু বিশ্লেষণে বলা হয়েছে যে সরকারি ব্যয়ের প্রায় ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের দুর্নীতি, অপচয় ও সম্পদ অপসারণের মাধ্যমে হারিয়ে যেতে পারে। অন্য গবেষণাগুলোয় অল্প পরিসরে হলেও উল্লেখযোগ্য মাত্রার অপচয়ের কথা বলা হয়েছে। এর সুনির্দিষ্ট শতাংশ নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। তবে মাত্রাতিরিক্ত সম্পদ আহরণের বাস্তবতা নিয়ে আজ বেশি বিতর্ক নেই। প্রশ্ন হলো এ অপচয় ও লুটপাটের সম্মিলিত প্রভাব অর্থনীতিতে কতটা ঝুঁকি তৈরি করে।

কোনো বিশ্লেষক অপেক্ষাকৃত রক্ষণশীলভাবে শুধু বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) কেন্দ্রিক হিসাব করলেও যে অংক পাওয়া যাবে তা ঘোষিত বাজেট ঘাটতিতে উল্লেখযোগ্য হারে কমিয়ে দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে কিছু হিসাবও বিলুপ্ত করতে পারে। সরকারি হিসাবে বাজেট ঘাটতি প্রায় ২ দশমিক ৪৩ লাখ কোটি টাকা। অথচ দুর্নীতি, অতিমূল্যায়ন, অদক্ষতা এবং পদ্ধতিগত সম্পদ-হরণের ফলে যে ক্ষতির কথা বলা হয়, তার পরিমাণ অনেক ক্ষেত্রে এ ঘাটতির সমান কিংবা তারও বেশি। এ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বাজেট ঘাটতি কেবল অর্থায়নের সমস্যা বলার অবকাশ থাকে না। এটি সম্পদ-হরণের সমস্যা বলেই প্রতীয়মান হয়। তবে এর মানে এই হয় যে অনিয়মের মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া অর্থ দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব। এটি আমাদের একটি গভীরতর বাস্তবতার দিকে নিয়ে যায়: বাংলাদেশের আর্থিক সমস্যা মূলত সম্পদের ঘাটতির সমস্যা নয়; এটি সুশাসনের ব্যর্থতার সমস্যা। এ দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে বাজেট ঘাটতির বড় অংশই এক ধরনের ভৌতিক ঘাটতি, যা একটি এলিট-নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মধ্যে প্রাতিষ্ঠানিক ও পদ্ধতিগত সম্পদ-নিষ্কাশনের ফল।

দ্বিতীয় ভৌতিক ঘাটতি: রাজস্ব ঘাটতি

দ্বিতীয় ভৌতিক ঘাটতিটি দেখা দেয় রাজস্ব আহরণের ক্ষেত্রে। বছরের পর বছর এনবিআর তার রাজস্ব সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে ব্যর্থ হচ্ছে। বিশ্লেষকরা সাধারণত প্রশাসনিক দুর্বলতা, সীমিত সক্ষমতা, অনানুষ্ঠানিক অর্থনীতির ব্যাপকতা কিংবা অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে এর কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন। এসব ব্যাখ্যার মধ্যে কিছু সত্যতা রয়েছে। কিন্তু তাতে সার্বিক চিত্র মেলে না।

বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত বিশ্বের সর্বনিম্নগুলোর মধ্যে একটি। এটি বৈশ্বিক গড়ের তুলনায় অনেক কম এবং উন্নয়নের অনুরূপ পর্যায়ে থাকা বহু দেশের তুলনায়ও উল্লেখযোগ্যভাবে নিচে। প্রশ্ন এটা নয় যে বাংলাদেশে সম্পদ আছে কিনা। বাস্তবতা হলো দেশে উল্লেখযোগ্য সম্পদ সৃষ্টি হয়েছে। বিলাসী ভোগব্যয় বৃদ্ধি পাচ্ছে, উচ্চমূল্যের আবাসন খাত সম্প্রসারিত হচ্ছে, বিপুল ব্যক্তিগত সম্পদ সঞ্চিত হয়েছে। একই সঙ্গে অবৈধ আর্থিক প্রবাহ ও মূলধন পাচারের মাধ্যমে বিপুল অর্থ দেশের বাইরে চলে যাওয়ার অভিযোগও দীর্ঘদিনের। প্রকৃত প্রশ্ন হলো এত বিপুল করযোগ্য সম্পদের কত বড় অংশ কার্যকর কর ব্যবস্থার আওতার বাইরে থেকে যাচ্ছে। একটি রাজস্ব কর্তৃপক্ষ কেবল প্রশাসনিক সক্ষমতার প্রতিফলন নয়; এটি রাজনৈতিক অগ্রাধিকারেরও প্রতিফলন। কর অব্যাহতি, বিশেষ নিয়ন্ত্রক আদেশ (এসআরও), বিবেচনামূলক ক্ষমতা, বিশেষ সুবিধা, দুর্বল প্রয়োগ, আন্ডার ইনভয়েসিং, বাণিজ্যিক মূল্য কারসাজি এবং রাজনৈতিক প্রভাব—এসবই কার্যকর কর আদায়কে কমিয়ে দিতে পারে। ফলে অনেক পর্যবেক্ষক মনে করেন যে রাজস্ব ঘাটতির একটি বড় অংশ অর্থনৈতিক সক্ষমতার অভাবের ফল নয়; বরং এটি সুশাসন ও রাজনৈতিক সদিচ্ছার দীর্ঘস্থায়ী ব্যর্থতার প্রতিফলন। যে ধরনের সুশাসন-সংকট ব্যয় খাতে দুর্নীতিকে উৎসাহিত করে, সেই একই দুর্বলতাগুলো রাজস্ব খাতেও ফাঁকফোকর সৃষ্টি করে। কর ফাঁকি, কর এড়ানো, বিশেষ সুবিধা প্রদান এবং নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থার দখলদারত্ব যদি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো যায়, তাহলে তথাকথিত রাজস্ব ঘাটতির বড় অংশই মিটে যেতে পারে। এখানেও সমস্যার মূল কারণ সম্পদের অভাব নয়। সমস্যা হলো রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোর সেই সম্পদ কার্যকর, ন্যায্য এবং সৎভাবে সংগ্রহ করার অক্ষমতা—অথবা অনিচ্ছা। যদি ব্যয়পক্ষের ঘাটতি এবং রাজস্বপক্ষের ঘাটতি উভয়ই মূলত সুশাসনের ব্যর্থতার ফল হয়, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন আসে: বাংলাদেশের প্রকৃত ঘাটতি আসলে কোনটি?

প্রকৃত ঘাটতি: ইজিজি

এর উত্তর নিহিত রয়েছে যাকে আমরা ইজিজি ঘাটতি বলতে পারি—নৈতিকতা ও সুশাসনের ঘাটতি। আর্থিক ঘাটতির মতো এ ঘাটতি ঋণ নিয়ে পূরণ করা যায় না। রাজস্ব ঘাটতির মতো এটি করের হার বাড়িয়ে সমাধান করা যায় না। বাজেট ঘাটতির মতো এটিকে হিসাবের কারসাজির আড়ালে লুকিয়েও রাখা যায় না। এ ঘাটতি বিভিন্নভাবে প্রকাশ পায়। ফলাফল হলো এমন একটি ব্যবস্থা, যা ঠিক সেভাবেই কাজ করে যেভাবে সেটি কাজ করার জন্য গড়ে উঠেছে। অনেকে বাংলাদেশের সুশাসন-সংকটকে একটি ভেঙে পড়া ব্যবস্থার লক্ষণ বলে মনে করেন। কিন্তু এ নির্ণয়টি হয়তো ঠিক নয়। ব্যবস্থাটি ভেঙে পড়েনি; বরং এটি অত্যন্ত কার্যকরভাবে কাজ করছে। সমস্যাটি হলো এটি ভুল উদ্দেশ্যে কার্যকরভাবে কাজ করছে। জনকল্যাণ সর্বাধিক করার পরিবর্তে এটি প্রায়ই একটি এলিট-নিয়ন্ত্রিত ব্যবস্থার মধ্যে সম্পদ আহরণের সুযোগ সর্বাধিক করে। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বারবার দেখা দেয়া বাজেট ঘাটতি কোনো দুর্ঘটনাজনিত ফল নয়; বরং প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর একটি পূর্বানুমেয় ফলাফল।

বড় বাজেট কেন সমাধান নয়

জনপরিসরের আলোচনায় প্রায়ই ধরে নেয়া হয় যে বড় বাজেট মানেই অগ্রগতি। প্রতি বছরই নতুন বাজেট আগের বছরের চেয়ে বড় হওয়াকে অনেকেই অগ্রগতির প্রমাণ হিসেবে তুলে ধরেন। কিন্তু বড় বাজেট মানেই ভালো ফলাফল নয়, বিশেষ করে যখন আমরা গুণগত ফলাফলের দিকে তাকাই। যদি সম্পদ অপসারণের হার অপরিবর্তিত থাকে, তাহলে বড় বাজেট কেবল বড় আকারে সম্পদ আহরণের সুযোগ সৃষ্টি করে। দুর্বল সুশাসনের অধীনে ১০ লাখ কোটি টাকার বাজেট জনগণের জন্য যে মূল্য সৃষ্টি করবে, তা অনেক সময় সততা ও দক্ষতার সঙ্গে পরিচালিত ৬ লাখ কোটি টাকার বাজেটের চেয়েও কম হতে পারে। বাজেটের আকার নিয়ে এই মোহ আমাদের আরো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। প্রতিটি টাকা কতটুকু জনকল্যাণ সৃষ্টি করছে? কতটুকু প্রকৃত উপকারভোগীর কাছে পৌঁছাচ্ছে? কতটুকু শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, অবকাঠামো, জননিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সুযোগের উন্নতিতে ভূমিকা রাখছে? আর কতটুকু ব্যক্তিগত বা গোষ্ঠীগত পকেটে চলে যাচ্ছে? এ প্রশ্নগুলো বাজেটের শিরোনামসংক্রান্ত সংখ্যার চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দেশের প্রয়োজন বাজেটের আকার নিয়ে কম আলোচনা এবং বাজেটের গুণগত মান, সততা ও কার্যকারিতা নিয়ে বেশি আলোচনা।

জাতিকে ভৌতিক ঘাটতি সম্পর্কে সচেতন করা

সম্ভবত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো জনসচেতনতা সৃষ্টি করা। নাগরিকদের বারবার বলা হয় যে ঘাটতি অনিবার্য। তাদের বলা হয় যে ঋণ নেয়া ছাড়া উপায় নেই। তাদের বলা হয় যে দেশের সম্পদের অভাব রয়েছে। কিন্তু খুব কমই তাদের সামনে আরেকটি সম্ভাবনা তুলে ধরা হয়—যে বাজেট ঘাটতির একটি বড় অংশ আসলে দুর্নীতি ও সম্পদ অপসারণের মাধ্যমে হারিয়ে যাওয়া অর্থের প্রতিফলন হতে পারে। সুশাসন-সংকটের ব্যাপ্তি আরো স্পষ্ট হয় যখন আমরা সেই সব হিসাবের দিকে তাকাই, যেখানে বলা হয়েছে যে গত দেড় দশকে অবৈধ আর্থিক প্রবাহ ও মূলধন পাচারের মাধ্যমে ২০০ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ দেশ থেকে পাচার হয়েছে। এ প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ৪-৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণসহায়তা তুলনামূলকভাবে খুবই ক্ষুদ্র বলে মনে হয়। তখন স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন জাগে: বাংলাদেশ কি সত্যিই সম্পদের অভাবে ভুগছে, নাকি এমন একটি ব্যবস্থার শিকার, যা বিপুল পরিমাণ সম্পদকে নিয়মিতভাবে বাইরে চলে যেতে দেয়? একইভাবে রাজস্ব ঘাটতির একটি বড় অংশ হয়তো সেই করের প্রতিনিধিত্ব করে, যা আদায় হওয়ার কথা ছিল কিন্তু আদায় হয়নি। এসবই ইঙ্গিত করে যে প্রকৃত সংকট আর্থিক সংকট নয়; এটি সুশাসনের সংকট।

সামনের পথ

বাংলাদেশের সামনে যে চ্যালেঞ্জ রয়েছে, তা কেবল অর্থনৈতিক নয়; এটি প্রাতিষ্ঠানিক, নৈতিক ও পদ্ধতিগত। বাংলাদেশের প্রয়োজন বড় বাজেট নয়; তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন একটি উন্নত, নৈতিক ও জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা। জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত ঘাটতির অর্থায়ন নয়; বরং সেই শর্তগুলো দূর করা, যেগুলো এ ঘাটতিগুলো সৃষ্টি করে। সেদিনই বাংলাদেশ উপলব্ধি করবে যে বাজেট ঘাটতি ও রাজস্ব ঘাটতি কখনই প্রকৃত কাহিনী ছিল না।

ড. মোহাম্মদ ওমর ফারুক: অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, অর্থনীতি বিভাগ, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

আরও