ব্র্যাককে পার্টনার অব চয়েস হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে

বিশ্বের বৃহৎ বেসরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ব্র্যাকের চেয়ারপারসন। ১৯৯৬ সালে স্বাধীন থিংক ট্যাংক পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) প্রতিষ্ঠার আগে ২০ বছর ধরে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে শীর্ষস্থানীয় গবেষক হিসেবে কাজ করেন। ২০০৮ সালে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাও ছিলেন। বাংলাদেশ সরকারের দারিদ্র্য হ্রাস কৌশলপত্র (পিআরএসপি) প্রণয়নে নেতৃত্ব দেন এবং সার্ক দারিদ্র্য কমিশনের (আইএসএসিপিএ) সদস্য ছিলেন। বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিভাগ, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও জাতীয় সংস্থায় পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেছেন।

বিশ্বের বৃহৎ বেসরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ব্র্যাকের চেয়ারপারসন। ১৯৯৬ সালে স্বাধীন থিংক ট্যাংক পাওয়ার অ্যান্ড পার্টিসিপেশন রিসার্চ সেন্টার (পিপিআরসি) প্রতিষ্ঠার আগে ২০ বছর ধরে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানে শীর্ষস্থানীয় গবেষক হিসেবে কাজ করেন। ২০০৮ সালে গঠিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টাও ছিলেন। বাংলাদেশ সরকারের দারিদ্র্য হ্রাস কৌশলপত্র (পিআরএসপি) প্রণয়নে নেতৃত্ব দেন এবং সার্ক দারিদ্র্য কমিশনের (আইএসএসিপিএ) সদস্য ছিলেন। বিশ্বব্যাংক, এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক, যুক্তরাজ্য আন্তর্জাতিক উন্নয়ন বিভাগ, জাপান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সংস্থাসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক জাতীয় সংস্থায় পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করেছেন। ব্র্যাকের সম্ভাবনা চ্যালেঞ্জসহ নানা বিষয়ে বণিক বার্তার সঙ্গে কথা বলেন। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন এম এম মুসা

আবেদ স্যার শেষ পর্যন্ত ব্র্যাকের চেয়ারম্যান ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর কিছুদিন আগে থেকে আপনি পদে স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। তাকে কীভাবে দেখেছেন?

আবেদ ভাইকে কীভাবে দেখেছি প্রশ্নের উত্তর দুইভাবে দেয়ার চেষ্টা করব। প্রথমত, তাঁকে দূর থেকে দেখেছি। আমি তাঁর ঘনিষ্ঠ সার্কেলের কোনো সদস্য ছিলাম না। তাঁর সঙ্গে খুব বেশি সামাজিক যোগাযোগও ছিল না। কিন্তু আবেদ ভাইকে আমি দেখেছি বাংলাদেশের বেসরকারি খাতের সামাজিক অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম একজন কারিগর-উদ্যোক্তা-সংগঠক হিসেবে। সন্দেহাতীতভাবে তিনি বেসরকারি খাতের একজন পুরোধা ব্যক্তিত্ব ছিলেন। ব্র্যাক কী করছে, কোন কোন ক্ষেত্রে কাজের চেষ্টা করছে, সেটি সম্পর্কে সবসময়ই দূর থেকে ওয়াকিবহাল ছিলাম; যেহেতু গবেষক হিসেবে আমি সমরূপ বিষয় নিয়ে কাজ করেছি, নাড়াচাড়া করেছি। বিশেষত দারিদ্র্য বিমোচন কীভাবে হতে পারে, কোন সামাজিক-অর্থনৈতিক নীতিগুলো সামাজিক পরিবর্তন আনতে পারেএসব বিষয় ছিল আমার মনোযোগের ক্ষেত্র। তিনিও এসব বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন। কাজেই আবেদ ভাইকে ওই দৃষ্টিকোণ থেকে বাংলাদেশে দারিদ্র্য বিমোচন, নারীর ক্ষমতায়ন এবং তৃণমূল পর্যায়ে সামাজিক-অর্থনৈতিক পরিবর্তনের অন্যতম কারিগর হিসেবে দেখেছি।

দ্বিতীয়ত, কিছু সরাসরি যোগাযোগের ঘটনাও ছিল। ছয়-সাত বছর আগে তিনি আমাকে আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন দেখা করার জন্য। ব্র্যাকের তৎকালীন নির্বাহী পরিচালক . মাহবুব হোসেন তখন অসুস্থ, তাঁর কার্যমেয়াদও প্রায় শেষ। ওই সময় আবেদ ভাই আমাকে ব্র্যাকের নির্বাহী পরিচালক হওয়ার প্রস্তাব দিয়েছিলেন। আমার অন্যান্য কাজ থাকায় আমি আমন্ত্রণটি গ্রহণ করিনি।

এরও আগে আমার খেয়াল পড়ে যে, ১৯৯২ সালের দিকে আবেদ ভাইয়ের সঙ্গে আরেকটি যোগাযোগের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছিল। তখনো বাংলাদেশে সেভাবে দারিদ্র্য নিয়ে আলাদাভাবে গবেষণার কাজটি ব্যাপকভাবে শুরু হয়নি। আমরা তখনঅ্যানালাইসিস অব পভার্টি ট্রেন্ডসনামে একটি জাতীয় পর্যায়ে পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের গবেষণার কাজ করছিলাম।রিথিংকিং রুরাল পভার্টিশিরোনামে একটি আন্তর্জাতিক প্রকাশনা ওই গবেষণা থেকে বেরিয়েছিল। ওই সময় বিআইডিএসে ওই গবেষণাকাজের শেষে একটি জাতীয় কনফারেন্সের আয়োজন করি, যেটি তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছিলেন। অন্যতম আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে আবেদ ভাই, . মুহাম্মদ ইউনূস, ডা. জাফরুল্লাহ্ চৌধুরীসহ ওই সম্মেলনে অনেকে উপস্থিত ছিলেন। বহু পরে মানে গত বছর ব্যক্তিগত আলাপচারিতায় আবেদ ভাই আমাকে জানান যে, আমাদের ওই গবেষণা তার অন্যতম দুটি উদ্যোগ হাতে নিতে প্রভাবিত করেছিল।

 

ব্র্যাকের সঙ্গে কীভাবে সম্পৃক্ততা ঘটল?

২০১৯-এর গোড়ার দিকে আবেদ ভাই ফোন করে ব্র্যাকের সঙ্গে আরেকটু সম্পৃক্ত হওয়ার জন্য আমন্ত্রণ করেছিলেন। আমি ইতিবাচক সাড়া দিলাম। ব্র্যাকে নীতিনির্ধারণী পদে অন্তর্ভুক্তির নিয়ম হলো, ব্র্যাক সোসাইটির সদস্য হওয়া। বলা হয়েছিল, ব্র্যাক সোসাইটির সদস্য হওয়ার জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য পাঠাতে। আমি পাঠিয়ে দিয়েছিলাম। এতটুকু আলোচনা, এর চেয়ে বেশি কিছু হয়নি। স্মরণে পড়ছে, এরও কয়েক মাস আগে ২০১৮-এর নভেম্বরে একটি আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সম্মেলনসংক্রান্ত জটিলতার সমাধানে তার সঙ্গে আমি যৌথভাবে কাজ করেছিলাম।

২০১৯-এর মে মাসে ব্র্যাকের গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজি নিয়ে একটি ওয়ার্কশপ হচ্ছিল সাভারে। ব্র্যাকের এক্সিকিউটিভ পরিচালক মুসা সাহেব আমাকে সেখানে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন। আমি গিয়েছিলাম। আবেদ ভাইও ছিলেন সেখানে। আমার খেয়াল পড়ে যে, সেখানে আমন্ত্রিতদের আবেদ ভাই বলেছিলেন ব্র্যাকের দুটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ আল্ট্রা পুওর প্রোগ্রাম এবং ব্র্যাক ব্যাংক দুটি কাজের উৎসাহ কিছুটা আমার গবেষণা জ্ঞান থেকে পেয়েছিলেন। তিনি সুনির্দিষ্টভাবে আমার দুটি গবেষণার কথা সেখানে উল্লেখ করেছিলেন। সেটি করেছিলেন মূলত যারা ওয়ার্কশপে ছিলেন তাদের সঙ্গে আমাকে পরিচয় করিয়ে দেয়ার জন্য।

জুলাই ২০১৯-এর মাঝামাঝি আবেদ ভাই জানতে পারেন তিনি দুরারোগ্য ব্রেন ক্যান্সারে আক্রান্ত। তাঁর রোগ নির্ণয় (ডায়াগনসিস) বোধহয় হয়েছিল লন্ডনে। তিনি লন্ডন থেকে যেদিন ফিরলেন, তার পরের দিনই আমাকে দেখা করতে অনুরোধ করেছিলেন তার সেক্রেটারির মাধ্যমে। বলেছিলাম, কয়েক দিন পরে যাব। তিনি তার সেক্রেটারি দিয়ে খবর পাঠালেন আজকেই আসা দরকার। আমি বুঝলাম জরুরি কিছু হবে। আমি তাত্ক্ষণিকভাবে গেলাম। তাকে তেমন বিচলিত দেখলাম না। তিনি খুবই শান্তভাবে তাঁর শারীরিক অবস্থার বিবরণ দিলেন, ‘আমি দুরারোগ্য ব্যাধিতে আক্রান্ত, ডাক্তার বলেছে আয়ু বেশি নেই। সার্জারি করলে হয়তো আর কয়েক মাস বাড়াতে পারি। সিদ্ধান্ত নিয়েছি সার্জারি করব না। সময়টায় বরং প্রতিষ্ঠানের পদ হস্তান্তর প্রক্রিয়া (সাকসেশন) ঠিক করতে চাই। ব্র্যাকের বোর্ডে পরিবর্তন আনতে হবে ইত্যাদি। আমি আপনাকে চাই।আমি ভেবেছিলাম বোর্ডে যোগ দিতে হবে। বললাম ঠিক আছে, আমি যোগ দেব। তখন তিনি বললেন, ব্র্যাক বাংলাদেশের চেয়ারম্যান হতে হবে। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হতে হবে। এতে আমি কিছুটা আশ্চর্যান্বিত হয়েছিলাম। কারণ তাঁর সঙ্গে বেশি ওঠা-বসা ছিল না, তেমন সামাজিক ঘনিষ্ঠতার ইতিহাসও নেই। হয়তো তিনি আমার গবেষণার দিকে নজর রেখেছিলেন। আমি তাঁকে এবং প্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্র্যাককে সবসময় খুবই সম্মানের সঙ্গে দেখে এসেছি। আমি মুহূর্তের সিদ্ধান্তেই তার আমন্ত্রণে সাড়া দিয়েছিলাম।

৫০ বছরের ইতিহাসে নয়, স্বল্প সময়ের যে ঘনিষ্ঠতা তাতে আমি আবেদ ভাইয়ের পুরো চারিত্রিক একটা চিত্র টানতে পারলাম। খুবই অনুপ্রাণিত হলাম যে, সার্বিকভাবে জীবনের লক্ষ্যটা তিনি কীভাবে শেষ পর্যন্ত ঠিক করলেন। নিজের স্বাস্থ্যের বিষয়টিকে মূল্যায়ন খুব একটা করলেন না; প্রতিষ্ঠান এবং এর কার্যক্রমের ভবিষ্যত্টাকে আরো বেশি গুরুত্ব দিলেন। সবচেয়ে বড় বিষয়, অত্যন্ত দ্রুততা-দক্ষতার সঙ্গে কিন্তু সুনির্দিষ্ট আনুষ্ঠানিক পর্যায়ে পুরো বিষয়টি সমাধান করলেন।

 

আবেদ স্যার ব্র্যাককে বিশ্বের সর্ববৃহৎ এনজিওতে পরিণত করেছেন। এটি কীভাবে পারলেন?

আমার মনে হয়, এক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয় কাজ করেছে। একটা হলো, তিনি সার্বিকভাবে হ্যান্ডস অন ছিলেন। তার মধ্যে হ্যান্ডস অন অ্যাপ্রোচ ছিল। তিনি প্রতিটি পর্যায়ে কিন্তু জড়িত ছিলেন। অনেক সময় আমরা অনেক বড় বড় শব্দ ব্যবহার করি। যেমন ডেলিগেশন, টিম ইত্যাদি। সবই ঠিক আছে। কিন্তু একটা সার্বক্ষণিক নজর থাকা দরকার পড়ে। তবে নজরটা হলো বিকাশের প্রয়োজনে, খবরদারির প্রয়োজনে নয়। সার্বিক প্রতিষ্ঠানের বিকাশের প্রয়োজনে সার্বক্ষণিক নজর থাকাটা খুব জরুরি। আবেদ ভাইয়ের সফলতার পেছনে এটি একটি বড় ফ্যাক্টর বলে মনে করি।

দ্বিতীয়ত, তিনি ম্যানেজমেন্টের বিষয়টি ভালোভাবে উপলব্ধি করতেন। সেখানে দক্ষ নিষ্ঠাবান জনবল জড়ো করার বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। তৃতীয়ত, সাশ্রয়ী পদ্ধতিতে এগোনো। প্রথম দিকে ব্র্যাকে বেতন খুব বেশি উচ্চ পর্যায়ের ছিল না। পরে ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়েছে। অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, অনেক এনজিও হঠাৎ করে বিশাল খরচের দিকে চলে যায়। বড় গাড়ি, বড় বিল্ডিং ইত্যাদি। কিন্তু ব্র্যাকের বিকাশটা সাশ্রয়ী পর্যায়ে হয়েছে। চতুর্থত, মাঠের কথাটা শোনা। প্রোগ্রাম ডিজাইনে সুফলভোগীর প্রয়োজন বোঝাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তার জন্য তিনি মাঠে মাঠে ঘুরেছেন, মাঠ অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তিনি অনুপস্থিত জমিদার ধরনের মানসিকতার (অ্যাবসেন্টি ল্যান্ডলর্ড) ছিলেন না। তিনি আসলে প্রতিটি জায়গায় গেছেন। পরিশ্রম করার জায়গাটি কিন্তু খুব গুরুত্বপূর্ণ। মাঠ থেকে শোনার বিষয়টি জরুরি। তার একটা লক্ষ্য ছিল ভাগ্যবিড়ম্বিত মানুষের প্রয়োজনে কাজ করা দরকার, তাদের সহায়তা করা দরকার, তাদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের জন্য কাজ করা দরকার। অনেকেই আছেন যারা মতবাদভিত্তিক সমাধানটা চাপানোর চেষ্টা করেন। আবেদ ভাই তার উল্টোটা ছিলেন। তিনি মাঠ থেকে দেখার চেষ্টা করতেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে যেটি সফল, সেটি নিয়ে এগোতেন। যেটি সফল না, তা বাদ দিতেন। এভাবে এগোতেন। অধিকন্তু এটি বোঝাও গুরুত্বপূর্ণ ছিল, প্রয়োজনগুলো বহুমাত্রিক এবং সেগুলো পরিবর্তনশীল। কারণ আশির দশকে গ্রামের নারীদের প্রয়োজন এক ধরনের ছিল। দুই হাজার দশকে অনেক পরিবর্তন হয়েছে। তখন তাদের প্রয়োজনটা আরেকটু অন্য ধরনের। পরিবর্তনশীল প্রয়োজনকে কীভাবে অ্যাড্রেস করা যায়, তার প্রয়োজনে নতুন নতুন প্রোগ্রাম কীভাবে উদ্ভাবন করা যায়, তার অন্বেষণে তিনি সচেষ্ট থাকতেন। দেখা যায়, অনেকেই প্রতিষ্ঠানের বিকাশের জায়গায় সেন্টিমেন্টাল থাকেন। সেন্টিমেন্ট খারাপ নয়; কিন্তু সেন্টিমেন্টাল হওয়ার আবার একটা দুর্বলতা থাকে প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের ক্ষেত্রে। সেখানে প্রয়োজনের স্বার্থে যা সিদ্ধান্ত নেয়া প্রয়োজন, সেটি নেয়া দরকার। তার মধ্যে মেধাবীদের যুক্ত করার একটি অ্যাপ্রোচ সব সময়ই ছিল। অধিকন্তু তার আরেকটি বাড়তি গুণ ছিল, তিনি অত্যন্ত একজন দূরদর্শী বিনিয়োগকারী, যেহেতু প্রাথমিকভাবে তিনি এসেছেন ব্যবসার জগৎ থেকে। একটি প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ভিত্তি (অ্যাসেট বেজ বিল্ডিং) তৈরি করা খুব চ্যালেঞ্জিং। খুবই সুচারুরূপে তিনি সেটি করেছেন। সম্পদ ভিত্তিগুলো কিন্তু বিভিন্ন ধরনের। গ্রামীণ পর্যায়ে হ্যান্ডিওয়ার্কের ফ্যাক্টরিগুলো এক ধরনের, আবার লার্নিং সেন্টারগুলো অন্য ধরনের সম্পদ। বলা যায়, বিনিয়োগ করার তাঁর যে বিচক্ষণতা বহুমাত্রিকতা, সেটি খুবই শক্তিশালী ছিল। আমার মনে হয় এসব কারণে আবেদ ভাইয়ের উদ্যোগগুলো সফল হয়েছে এবং সেগুলো বিদেশেও বিস্তৃত হয়েছে।

 

সুশাসনের চ্যালেঞ্জ কীভাবে মোকাবেলা করবেন?

প্রথম কথা হলো, একটা লিগ্যাসি এবং কাজের একটা ধারাবাহিকতা আছে। টিমও একটা আছে। একক কারো কিছু করার বিষয় নয়, কাজেই প্রাথমিকভাবে আস্থা রাখাটা খুবই জরুরি। এখন গভর্ন্যান্স বিষয়টিকেও সক্রিয়ভাবে চিন্তা করতে হবে। গভর্ন্যান্স দায়িত্বটি সঠিকভাবে পালন করতে হলে সক্রিয়তার প্রয়োজন। ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, আমার নিজের কিছুটা পরিশ্রম করতে হবে। পুরো কার্যক্রম সম্পর্কে আরো গভীরতম ধারণা তৈরি করতে হবে। সাম্প্রতিক সময়ে সিলেটে মাঠকর্মীদের সঙ্গে নিজ উদ্যোগে একটি বৈঠক করেছি। তাদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনা করে মাঠ বাস্তবতা বোঝার চেষ্টা করেছি। হয়তো ধরনের আরো কয়েকটি বৈঠক অন্যান্য অঞ্চলে করা প্রয়োজন হবে। এটি করব আমার সক্রিয়ভাবে গভর্ন্যান্স দায়িত্বটি পালনের সুবিধার্থে। অধিকন্তু ম্যানেজমেন্টে যারা আছেন এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর, ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং সিনিয়র ম্যানেজার, তাদের সঙ্গেও আমি আলোচনা করছি কিছু পারফরম্যান্স সূচক খোলাসা করতে। এসব সূচক বোঝার জন্য নিয়মিত ভিত্তিতে বিভিন্ন তথ্য যদি স্বাধীনভাবে, বিশ্বাসযোগ্যভাবে জেনারেট হয়ে আমাদের কাছে আসে, তাহলে আমাদের গভর্ন্যান্স দায়িত্ব পালন সহজতর হবে। মূল কথা হচ্ছে, গভর্ন্যান্স দায়িত্বটি শুধু অ্যাবসেন্টি বা নিষ্ক্রিয় স্টাইলে হওয়া উচিত নয়। আবার খবরদারি স্টাইলেও হওয়া উচিত নয়। এটি সক্রিয়ভাবে আলোচনাভিত্তিক হওয়া উচিত। মাসিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে মাসিক বৈঠকের কথাও বিবেচনায় আছে, যাতে কোনো সমস্যা হলে আমাদেরও কিছু দিকনির্দেশনা পরামর্শ দেয়ার দায়িত্বটা সঠিকভাবে পালন করা যায়।

আবেদ ভাইয়ের অন্যতম একটি শক্তি ছিল সার্বিকভাবে উন্নয়ন জগতের ধারা কোন দিকে এগোচ্ছে, সে ব্যাপারে নিয়মিত খবর রাখা। এটি মূলত কর্মসূচি পর্যায়ে নয়, উন্নয়ন ধারণা পর্যায়ে প্রভাব রাখার জন্য। কাজও আমি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার চেষ্টা করব।

আবেদ ভাই যখন জেনেছেন তার সময় সীমিত, তিনি নিজের দিকে না তাকিয়ে দুটি বিষয়ের ওপর খুব নজর দিলেন। এক. তিনি সাকসেশন এমনভাবে করবেন যেন কোনো অনিশ্চয়তার জায়গা তৈরি না হয়। তিনি সফলভাবে তা করলেন। একই সঙ্গে তিনি নতুন যারা দায়িত্ব পেলেন, তাদের কাছে চ্যালেঞ্জ রেখে গেলেন। চ্যালেঞ্জটা হলো যা আছে তা নয়, ব্র্যাককে আরো অন্য পর্যায়ে নিয়ে যেতে হবে। নিয়ে যেতে হবে বৈশ্বিক পর্যায়ে। এজন্য গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজি করেছেন। একটি প্রশ্ন ছিল, গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজি কীভাবে পরিচালিত হবে? গ্লোবাল কার্যক্রমে গভর্ন্যান্স কীভাবে হবে? প্রথমে তিনি ভেবেছিলেন তার নেতৃত্বে কাজটি হবে এবং এজন্য তিনি কাজও শুরু করেছিলেন। কিন্তু পরে তিনি উপলব্ধি করলেন কন্ট্রিবিউশন করার তার ফিজিক্যাল ক্যাপাসিটি দ্রুত ফুরিয়ে যাচ্ছে। তখন তিনি সজ্ঞানে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিলেন। একটি গ্লোবাল গভর্ন্যান্স কমিটি করলেন। যারা গভর্ন্যান্স কীভাবে হবে তার রূপরেখা তৈরি করবে। সেখানে আমাকে এবং আমিরা হককে কো-চেয়ার করলেন। আমরা লন্ডনে বসে এবং পরবর্তী সময়ে আরো কিছু মিটিং করে অক্টোবরের মধ্যে একটা রূপরেখা তৈরি করে ফেললাম। তিনি গ্রহণ করলেন এবং এর ভিত্তিতে এখন গ্লোবাল একটি বোর্ড এরই মধ্যে তৈরি হয়ে গেছে। ওই বোর্ডের চেয়ার আমিরা হক এবং আমি হলাম এর সিনিয়র ট্রাস্টি। আরেকজন লর্ড মার্ক মেলক-ব্রাউন তিনি মেম্বার। আরো কিছু মেম্বার যুক্ত হবেন। গ্লোবাল বোর্ড হওয়ার পর গত -১০ জানুয়ারি নেদারল্যান্ডসের হেগে অলরেডি প্রথম গ্লোবাল বোর্ডের মিটিংও করে ফেলেছি। সেখানে বেশকিছু সিদ্ধান্তও নিয়েছি। কাজেই গ্লোবাল স্ট্র্যাটেজিটা কীভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হবে, তার বিষয়ে একটি বোর্ডও তৈরি হলো। এখানে অনেক এক্সাইটিং টিম আছে, অনেক ট্যালেন্ট আছে। আমি আশা করি, সবাই যদি সম্মিলিতভাবে ভূমিকাটা পালন করে যাই, তাহলে বাংলাদেশের ভেতরেও ব্র্যাকের বিকাশটা অব্যাহত থাকতে পারে, আমাদের প্রতিষ্ঠানের বৈশ্বিক আকাঙ্ক্ষাও পূরণ হতে পারে।

 

আমরা মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হতে যাচ্ছি। অনেক চ্যালেঞ্জ সামনে আসবে। বিশেষ করে অর্থায়ন। সেগুলো কীভাবে মোকাবেলা করা যাবে বলে মনে করেন?

অর্থায়ন কীভাবে হতে পারে তা নিয়ে সক্রিয়ভাবে চিন্তা শুরু হয়েছে। সরকারই কিন্তু এখন অনেক ফান্ডের সোর্স। সুতরাং সরকারের সঙ্গে কার্যভিত্তিক সম্পৃক্ততা (এনগেজমেন্ট) বাড়ানো একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এখানে ব্যক্তিগতভাবে ব্র্যাকের ম্যানেজমেন্ট ফিল্ড ওয়ার্কারদের বলার চেষ্টা করছি, আমাদের এক ধরনের লক্ষ্য নিয়ে এগোতে হবে। নিজেদের এমনভাবে গড়ে তুলব, যাতে করে আমরা সরকারের উন্নয়ন সহযোগীদের এক নম্বর পার্টনার অব চয়েস হতে পারি। শুধু বৃহৎ এনজিও নয়, নাম্বার ওয়ান পার্টনার অব চয়েস। ব্র্যাক এটি এরই মধ্যে হয়েছে রোহিঙ্গাদের ক্ষেত্রে। রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে ব্র্যাক বিরাট কাজ করছে। কাজেই আমাদের এক নম্বর পার্টনার অব চয়েস হতে হবেসরকারেরও, উন্নয়ন সংস্থাগুলোরও। জায়গায় নিজেকে নিয়ে যাওয়ার জন্য অনেক কাজ করার দরকার হবে। পার্টনারশিপের মাধ্যমে ফান্ডিংয়ের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করা যেতে পারে। অধিকন্তু সরকারের সঙ্গে এমনভাবে সম্পৃক্ত হওয়া, যাতে নীতিনির্ধারণী বিষয়গুলো আরো সহযোগী হয়। সেভাবে বিষয়গুলোকে ডেভেলপ করা। আরেকটি হলো, বৈশ্বিক ফান্ডিং সোর্সগুলোকে আরো সক্রিয়ভাবে ধরার চেষ্টা করা। গ্লোবাল বোর্ডে একটি চিন্তা এসেছে, বিভিন্ন দেশভিত্তিক কর্মকাণ্ড চিন্তা না করে (বাংলাদেশ তো আছেই) গ্লোবাল প্রজেক্টস নিয়ে কাজ করার। যেমন আল্ট্রা পুওর গ্র্যাজুয়েশন প্রজেক্ট। এটি একটি গ্লোবাল প্রজেক্ট। এটি খুবই সফলভাবে বাস্তবায়ন হচ্ছে। রকম প্রকল্প শিক্ষায় হতে পারে, স্বাস্থ্যে হতে পারে। বিশেষ করে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ে বড় ধরনের কার্যক্রম হাতে নিয়ে মাঠে নামার সুযোগ আছে। এখানে ব্র্যাক একটি অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে পারে। একটি গ্লোবাল প্রজেক্ট সেখানে তৈরি হতে পারে। কাজেই ফান্ডিং ল্যান্ডস্কেপ বদলাচ্ছে, কিন্তু সেখানে এগিয়ে যাওয়ার জন্য চিন্তাগুলোও তৈরি হচ্ছে। এভাবে আমরা এগোচ্ছি। একটা হলো সরকারের সঙ্গে এনগেজমেন্টের জায়গা কীভাবে করা যায়; আরেকটি হলো শুধু ট্র্যাডিশনাল দাতা সংস্থা নয়, অনেক ফাউন্ডেশন আছে, করপোরেট গ্রুপস আছে, সোস্যাল গ্রুপস আছে, তারা পয়সা নিয়ে বসে আছে। তাদের সঙ্গে পার্টনার অব চয়েস হয়ে যাওয়া এবং গ্লোবাল প্রজেক্টগুলো ফরমুলেট করা। এভাবে এগোনোর এখন একটা ভালো সময়।

 

ব্র্যাকের জন্য দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ কী মনে করছেন?

চ্যালেঞ্জ যেটি দেখছি, তা হলো ট্রানজিশন টেকসই করা। ট্রানজিশন যেটি হয়েছে, এটিকে মোটামুটি সফল বলা যায় এজন্য যে, কোনো অনিশ্চয়তার আবহ তৈরি করেনি। আবেদ ভাই চলে গেছেন, কিন্তু প্রাথমিকভাবে ব্র্যাক কোনো সমস্যায় পড়েছে ধরনের কোনো ঘটনা এখনো তৈরি হয়নি। চ্যালেঞ্জ হলো, গভর্ন্যান্স ম্যানেজমেন্টের যে নতুন স্টাইল, সেটিকে আরো টেকসই করা। এটি একটি চ্যালেঞ্জ। দুই নম্বর হলো, বৈশ্বিক আকাঙ্ক্ষা পরিপূরণ। এটা কীভাবে নিশ্চিত করা যায়এটি দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ। আর তিন নম্বর হলো, বিশেষ করে সামাজিক খাতে যে কার্যক্রমগুলো (শিক্ষা, স্বাস্থ্য) আরো জোরদার করার চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে, সেখানে কীভাবে এগোনো যেতে পারে, তার রূপরেখা তৈরি। সেখানে ক্লায়েন্ট গ্রুপও বদলেছে। এখানে মধ্যবিত্তও এসেছে। তাদেরও অ্যাড্রেস করার বিষয় থাকতে পারে। এটা আরেক ধরনের চ্যালেঞ্জ। সার্বিকভাবে বৈষম্য বাড়ছে, ব্র্যাককে অবশ্যই শুধু কর্মকাণ্ড নয়, ফলাফল বা ইম্প্যাক্টের ওপরও নজর রাখতে হবে, যাতে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন প্রক্রিয়া জোরদার হয়।

এখন অনেকগুলো ব্র্যাক আছে। যেমন ব্র্যাক বাংলাদেশ, ব্র্যাক ইউকে, ব্র্যাক ইন্টারন্যাশনাল, ব্র্যাক ইউএসএ ইত্যাদি। এখন একটি গ্লোবাল বোর্ড হয়েছে। এর মধ্যে ওয়ান ব্র্যাক হওয়ার বিষয়টি নিহিত। যদিও প্রতিটি আলাদা আলাদা এনটিটি হিসেবে কাজ করবে এবং একটি ডিসেন্ট্রালাইজ ভাবও থাকবে। কিন্তু ওই জায়গায় একটি অ্যালাইনমেন্টের বিষয় আছে যে প্রত্যেকে কী ধরনের উদ্দেশ্য নিয়ে এগোচ্ছে। এটি নিশ্চিতকরণ জরুরি। একেকজন যদি ভিন্ন ভিন্ন ধারণায় এগোয়, তখন দেখা যাবে যে নাম হয়তো একই, কিন্তু কাজ করবে ভিন্ন। এটিও একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখছি। সব চ্যালেঞ্জই পরিষ্কারভাবে বোঝাটা যেমন জরুরি, তেমনি চ্যালেঞ্জ মোকাবেলার জন্য সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসাটাও দরকার।

 

ব্র্যাক নিয়ে আপনার পরিকল্পনা কী?

আমার পরিকল্পনা কী এভাবে দেখাটা হয়তো সঠিক নয়। সম্মিলিতভাবে ব্র্যাককে আরো কীভাবে বিকশিত করা যায় এটিই মুখ্য বিষয়। আবেদ ভাই একটি দর্শন রেখে গেছেন যে, সমাজের ভাগ্য বিড়ম্বিতদের দিকে নজর দেয়া জরুরি, তাদের জীবনমানের মৌলিক পরিবর্তনের লক্ষ্যে উদ্ভাবনী টেকসই কর্মসূচি হাতে নেয়া। দর্শনটা সামনে রেখে সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে যুগোপযোগী কর্মসূচির বিকাশ করতে হবে। ব্র্যাক বিশ্বের এক নম্বর এনজিও শিরোপায় এরই মধ্যে অধিষ্ঠিত হয়েছে। আগামীতে ব্র্যাককে বিভিন্ন খাতে এবং সরকার, উন্নয়ন সহযোগীসহ বিভিন্ন অংশীজনের কাছে এক নম্বর পার্টনার অব চয়েস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।

ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি, বর্তমান বিশ্বে পরিবর্তনের জায়গায় আমরা দুভাবে কাজ করতে পারি। একটা সরাসরি, আরেকটি অন্যদের কর্মকাণ্ড ধারণাগুলোকে প্রভাবিত করার মাধ্যমে। এই দ্বিতীয়টিকে নলেজ অ্যাকশন বলতে পারি। জায়গায় কাজ করার আগ্রহ আমার ব্যক্তিগতভাবে আছে। আমি মনে করি, পশ্চিমা জ্ঞান উন্নয়ন ধারণার ওপর নির্ভরশীলতার জায়গাটি কাটিয়ে ওঠা খুব প্রয়োজন। বর্তমানে অনেক ধরনের জ্ঞান সম্মেলন হচ্ছে। দাভোস হয় ধনীদের উদ্যোগে। রিজিওনাল পাওয়ারসদের কিছু উদ্যোগও আছে। সোস্যাল সামিট বলে একটি সম্মেলন কিছুদিন আগে হতো। এটি এখন অনেকটা হারিয়ে গেছে। বেসরকারি খাতে কী হচ্ছে, এনজিও খাতে কী হচ্ছে, এদের শক্তিগুলোকে নিয়ে এসে একটি জ্ঞান নেতৃত্বের জায়গায় যাওয়া অত্যন্ত জরুরি। ধরনের একটি নতুন বৈশ্বিক উদ্যোগ খুবই জরুরি। আমাদেরই নেতৃত্বে নিয়মিত একটি বৈশ্বিক নলেজ আয়োজন চিন্তায় আছে। যেখানে মূলত মাঠ পর্যায়ের অভিজ্ঞতা প্রাতিষ্ঠানিক জ্ঞানের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি হবে। এটার মাধ্যমে জ্ঞানের ধারণাগুলোর ওপর যে নির্ভরশীলতা, সেটি কাটিয়ে উঠে শিক্ষায়, স্বাস্থ্য, জলবায়ু পরিবর্তনে, অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে কীভাবে কাজ করা উচিত, সে ধারণাগুলো আমরাই তৈরি করব। জায়গায় একটা বড় উদ্যোগ রাখার চেষ্টা করব।

 

শ্রুতলিখন: হুমায়ুন কবির

আরও