খেলাপি ঋণ আদায়ে অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি কাজে আসবে না

আবার আরেকটা ধারণা তৈরি করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের বিশাল অংকের খেলাপি ঋণ আদায় বা খেলাপি ঋণকে ক্রয় করার জন্য স্বতন্ত্র অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি বা সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যেতে পারে। এ ধারণার প্রধান উদ্যোক্তা হলো এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বা এডিবি। তবে তারাও বলেছে এটা একটা ধারণা।

আবার আরেকটা ধারণা তৈরি করা হচ্ছে যে, বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতের বিশাল অংকের খেলাপি ঋণ আদায় বা খেলাপি ঋণকে ক্রয় করার জন্য স্বতন্ত্র অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি বা সম্পদ ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা যেতে পারে। ধারণার প্রধান উদ্যোক্তা হলো এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক বা এডিবি। তবে তারাও বলেছে এটা একটা ধারণা। সরকার ইচ্ছা করলে চিন্তা করতে পারে। আসলে বাংলাদেশ খেলাপি ঋণটাকে বড় হতে দিয়ে এমন একটা অবস্থা সৃষ্টি করেছে যে, এখন এর থেকে উত্তরণের জন্য যে কেউ যেকোনো পন্থা বাতলালেই মনে হবে এটাই ঠিক, অন্তত ওই পথে গিয়ে একবার চেষ্টা করা যেতে পারে। কিন্তু সে চেষ্টার ব্যয় কত? অনেক। ধরনের একটা বা একাধিক কোম্পানি গঠন করার জন্য যে সমর্থনযোগ্য কাগজপত্র তৈরি করতে হবে, এর ব্যয় বহন করবে কথিত দাতা সংস্থা এডিবি। এর আগেও আন্তর্জাতিক লেন্ডিং এজেন্সি আমাদের আর্থিক খাতে অনেক টেকনিক্যাল অ্যাসিস্ট্যান্স দিয়েছে, ওগুলোর কোনোটি থেকে কিছু ফল পাওয়া গেছে, কোনোটি থেকে কোনো ফলই পাওয়া যায়নি। এসব ঋণ বিক্রেতা সংস্থা সুন্দর সুন্দর ধারণাপত্র উপস্থাপনে ওস্তাদ। তাদের ব্রিফকেসেই এসব ধারণা ঋণপ্রস্তাবের ব্যাকগ্রাউন্ড পেপারগুলো তৈরি থাকে। তারা ঘুরে ঘুরে দেখে কোন দেশের অর্থনীতিতে কী সমস্যা আছে এবং সে অনুপাতে একটু রদ-বদল করে কাগজগুলো বের করে দেয়। এদের বিশেষজ্ঞরা ঋণ বিক্রয়ের জন্য যুতসই প্রজেক্ট তালাশ করতে থাকে। এবং বাংলাদেশের আর্থিক খাতের মতো সমস্যাপূর্ণ খাতগুলোকে উদ্ধার করার লক্ষ্যে এরা কাঙ্ক্ষিত প্রকল্প পেয়েও যায়। বাস্তবতা হলো বাংলাদেশের আর্থিক খাতের এখন যে ডুবন্ত অবস্থা, তাতে ইচ্ছে করলে তারা শুধু একটা প্রজেক্টই বিক্রয় নয়, বেশ কয়েকটি প্রজেক্টও বেচতে পারে। যেহেতু বাংলাদেশ ঋণ নেয়ার জন্য একটা ভালো প্রার্থী, সেজন্য তারাও দেখে আর কোথায় কোথায় দেশের কাছে ঋণ বিক্রয় করা যেতে পারে। সবাই একটা কথা জানে, বাংলাদেশের আর্থিক খাতের বর্তমানের সব সমস্যা আমাদের নিজেদেরই সৃষ্টি; আর এই সমস্যা সৃষ্টি আমরা অব্যাহত রাখলে এডিবি কেন, অন্য  ম্যাজিক পাওয়ারের অধিকারী সংস্থাও আমাদের এই আর্থিক খাতকে উদ্ধার করতে পারবে না। সরকারের নীতিনির্ধারকদের একটা অংশের ধারণা খেলাপি ঋণ যদি এত বড় ঝুঁকিই তৈরি করে, তাহলে আজতক কেন পুরো আর্থিক খাত ধসে পড়ল না। আসলে এরা শুধু এক চোখ দিয়ে দেখে, যে চোখে আবার রঙিন চশমা লাগানো। অথবা এমনও হতে পারে যে, সামগ্রিক অর্থে তাদের জ্ঞানের কমতি আছে। আর কতটা লাল সংকেত দিলে আমরা বলব, আমাদের আর্থিক খাত ধসে পড়ছে। এখন একটা একটা করে ইট খুলে পড়ছে। আর কিছু ইট খুলে গেলে পুরো ইমারতই ধসে পড়বে। তবে এখনো মালিকরা বেহুঁশ থাকলে শেষ পর্যন্ত ইমারত তাদের ওপরই ভেঙে পড়বে। এই যে বেসিক ব্যাংক, যেটা একসময় গর্ব করার মতো ব্যাংক ছিল। আজকে চলতে পারছে না, সেটাও কি এক ধরনের ধসে পড়েনি! ডাকাতরা যখন ব্যাংক ডাকাতি করেছিল, তখন সেই আরামে ঘুমন্ত নীতিনির্ধারকরা ভাবছিল আরো একটু ঘুমিয়ে নিই, ডাকাতদের পরে ধরা যাবে। শেষ পর্যন্ত তাদের কি ধরা গেল! যখন নীতিনির্ধারকরা ঘুম থেকে জাগল, তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। ততক্ষণে লুটপাটের অর্থ ভাগ হয়ে গেছে। কিছু অংশ বিদেশেও চলে গেছে। আমরাই যদি আমাদের ঘরকে পাহারা না দিই, তাহলে এডিবিকে ভাড়া করলে তারা কি আমাদের ঘরকে পাহারা দিতে পারবে! মানুষ অতীতের অনেক কিছু ভুলে যায়। বিশ্বব্যাংক, এডিবিসহ আন্তর্জাতিক ঋণ বিক্রেতা এজেন্সিগুলোও আমাদের

আরও