গ্যাসের উচ্চমূল্যের জন্য ইউক্রেন যুদ্ধকে দায়ী করা বন্ধ করেন

হরমুজের বিকল্প হিসেবে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর স্থলপথের পাইপলাইনও এখন হুথিদের হামলার হুমকিতে। ফলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের পাশাপাশি পরিশোধিত জ্বালানির সংকটও তীব্র হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম বাড়ার জন্য ইউক্রেনকে দায়ী করার যুক্তি বিভ্রান্তিকর। ইউক্রেন রাশিয়ার শোধনাগার ও তেল স্থাপনায় ড্রোন এবং ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে রুশ জ্বালানি অবকাঠামোর ক্ষতি করেছে—এটি সত্য। কিন্তু বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বর্তমান সংকটের মূল কারণ এটি নয়। আমি বরং দেখছি, ছয় মাস ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল ও ইরান যুদ্ধ কীভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি বাণিজ্যকে বিপর্যস্ত করেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে যুদ্ধের আগে প্রতিদিন প্রায় দুই কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানি পরিবহন হতো। এখন স্বাধীন ট্যাংকার-ট্র্যাকারদের হিসাবে তা নেমে এসেছে আট-নয় মিলিয়ন ব্যারেলে। ইরানি হামলার ঝুঁকিতে ট্যাংকার চলাচল ও বীমা ব্যয়ও বেড়েছে।

হরমুজের বিকল্প হিসেবে সৌদি আরবসহ উপসাগরীয় দেশগুলোর স্থলপথের পাইপলাইনও এখন হুথিদের হামলার হুমকিতে। ফলে বিশ্ববাজারে তেল সরবরাহের পাশাপাশি পরিশোধিত জ্বালানির সংকটও তীব্র হচ্ছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার হিসাবে, বৈশ্বিক শোধনাগারগুলোর উৎপাদন গত বছরের গড়ের তুলনায় প্রতিদিন প্রায় ৫০ লাখ ব্যারেল কম। রাশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও চীনের কিছু শোধনাগার বন্ধ থাকায় গ্যাসোলিন, ডিজেল ও জেট ফুয়েলের সরবরাহে চাপ তৈরি হয়েছে।

ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার শোধন সক্ষমতার ১২-১৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও অধিকাংশ ক্ষেত্রে উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধ থাকে; স্থায়ীভাবে বিপুল সক্ষমতা অচল হয়নি। তাই যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড জ্বালানি দামের দায় কিয়েভের ওপর চাপানো মূল সমস্যাকে আড়াল করে। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিকভাবে সুবিধাজনক বলে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে দায়ী করা হচ্ছে, কিন্তু বাস্তব সংকটের উৎস অনেক গভীরে।

কিথ জনসন: ‘ফরেন পলিসি’র জ্বালানি ও ভূরাজনীতি বিষয়ক সাংবাদিক। ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের জ্বালানি ও ভূরাজনৈতিক বিষয় তার লেখার অন্যতম প্রধান ক্ষেত্র।

আরও