অভিমত

কার্ল মার্ক্সের পুঁজির ধারণা

ফরাসি অর্থনীতিবিদ টমাস পিকেটির সর্বাধিক বিক্রীত ‘ক্যাপিটাল ইন দ্য টোয়েন্টি-ফার্স্ট সেঞ্চুরি’ (একবিংশ শতকে পুঁজি) গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ২০১৪ সালের মার্চে। যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত সাপ্তাহিক ‘দি ইকোনমিস্ট’ পত্রিকার ২০১৪ সালের ৪ মে সংখ্যায় পিকেটি সম্পর্কে বলা হয় পিকেটি হলেন ‘আধুনিক [কালের] কার্ল মার্ক্স।’ পিকেটির গ্রন্থটির প্রচ্ছদ মার্ক্সের ‘দাস ক্যাপিটাল’ গ্রন্থটির প্রচ্ছদের

ফরাসি অর্থনীতিবিদ টমাস পিকেটির সর্বাধিক বিক্রীত ক্যাপিটাল ইন দ্য টোয়েন্টি-ফার্স্ট সেঞ্চুরি (একবিংশ শতকে পুঁজি) গ্রন্থটি প্রকাশিত হয় ২০১৪ সালের মার্চে। যুক্তরাজ্যের বিখ্যাত সাপ্তাহিক দি ইকোনমিস্ট পত্রিকার ২০১৪ সালের মে সংখ্যায় পিকেটি সম্পর্কে বলা হয় পিকেটি হলেন আধুনিক [কালের] কার্ল মার্ক্স। পিকেটির গ্রন্থটির প্রচ্ছদ মার্ক্সের দাস ক্যাপিটাল গ্রন্থটির প্রচ্ছদের পুনরাবৃত্তি করায় তাদের এমন মনে হয়ে থাকতে পারে। কারণ, আমার মতে মার্ক্সের ক্যাপিটাল বা পুঁজির সংজ্ঞায়ন পিকেটি ক্যাপিটাল বলতে যা বুঝিয়েছেন তার মধ্যে কার্যত কোনো মিল নেই।

পিকেটি তার ক্যাপিটাল ইন দ্য টোয়েন্টি-ফার্স্ট সেঞ্চুরি গ্রন্থে পুঁজি বলতে মানুষবহির্ভূত একগুচ্ছ সম্পদ বুঝিয়েছেন। মানুষের বাইরে সম্পদগুলোর মধ্যে বিভিন্ন উৎপাদনী যন্ত্রপাতি, প্রযুক্তি ইত্যাদি বুঝিয়েছেন। কিন্তু কার্ল মার্ক্স পুঁজি বলতে এসব বস্তু বোঝেননি। মার্ক্স পুঁজিকে একটি প্রক্রিয়া হিসেবে দেখেছেন, যেখানে মানুষের সঙ্গে উৎপাদনের সম্পর্ক প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হচ্ছে। অধ্যাপক রিচার্ড উলফ বিষয়ে বিস্তৃত ব্যাখ্যা দিয়েছেন। আমার লেখা সেই আলোচনাকে কেন্দ্র করে অগ্রসর হয়েছে।

পুঁজি হলো কিছু জড়বস্তুর সমাহার কথা আমরা মূলধারার অর্থশাস্ত্রে পাই। অর্থশাস্ত্রের ছাত্রাবস্থায় আমার আগে পরে শ্রেণীকক্ষে ধারণা দেয়া হতো এবং এটিই অধিক চর্চিত হয়ে আসছে। মূলধারার অর্থশাস্ত্রের চোখে পুঁজি হলো উৎপাদনের উপায় বা উপকরণগুলোর সমাহার। উদাহরণস্বরূপ উৎপাদনের কাজে ব্যবহূত প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি, মূলধন, বিনিয়োগের অর্থ ইত্যাদি সবই হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুমে আলোচিত মূলধারার অর্থশাস্ত্রের পুঁজির সংজ্ঞা। আমাদের দেশের বামপন্থীরাও পুঁজি বলতে মূলধারার অর্থশাস্ত্রের সংজ্ঞাকেই বুঝে থাকেন। শুধু তা- নয়, তারা একেই মার্ক্সের পুঁজি বলে চালিয়ে দেন। কারণ যিনি বলেন যারা শোনেন তারা কেউ দাস ক্যাপিটাল: ক্রিটিক অব পলিটিক্যাল ইকোনমি বা বাংলায় পুঁজি: রাজনৈতিক অর্থশাস্ত্রের সমালোচনা গ্রন্থটি আলসেমিবশত নিজে পড়ে দেখেননি। ফলে তারা প্রত্যেকেই অন্যের কাছ থেকে শোনা কথায় নিজে আওড়াচ্ছেন। ইতিহাসের কোনো পর্যায়েই অজ্ঞতা দিয়ে কোনো কিছু সৃষ্টি করা যায় না।

মার্ক্স পুঁজি বলতে উল্লিখিত বিষয়গুলোর কোনো কিছুই বোঝাননি। তাহলে মার্ক্সের পুঁজি কী? কিংবা মার্ক্স পুঁজি বলতে কী বুঝিয়েছেন? মার্ক্সের মতে, পুঁজি হলো মূল্যের আত্মস্ফীত রূপ বা সেলফ-এক্সপান্ডিং ভ্যালু মার্ক্স বুঝিয়েছেন, পুঁজি হলো একটি সম্পর্কের নাম। সম্পর্ক বা সম্পর্কগুলো সৃষ্টি হয় কিংবা রূপান্তরিত হয় কতকগুলো প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে। কিন্তু সে প্রক্রিয়া যে রকমই হোক না কেন সেটির মূলকথা হলো শুরুতে সে যা ছিলযাত্রা করে একটি নির্দিষ্ট সময়ে সেই প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাওয়ার শেষে সে বাড়তি মূল্য যোগ করবেযে মূল্য শুরুতে ছিল না। এজন্যই মার্ক্স পুঁজিকে একটি সম্পর্ক বা প্রক্রিয়া বলেছেন। এটি এই অর্থে, সম্পর্ক এমন একটি প্রক্রিয়ার ভেতর দিয়ে যাওয়ার ফলে শুরুতে সে যে সত্তা ছিল তার রূপান্তর ঘটছে। রূপান্তরের ফলে বস্তুটির শুরুতে যে মূল্য ছিল সেটি কিছু সময় প্রক্রিয়া শেষে নতুন বাড়তি মূল্য অর্জন করে। তার মানে, প্রক্রিয়ায় সময়ের সঙ্গে মূল্যের বৃদ্ধি ঘটে যদি প্রক্রিয়াটি চলমান থাকে। মার্ক্সও বিষয়গুলো উদাহরণের মাধ্যমে সুন্দরভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন।

তবে নতুন মূল্য বা বাড়তি দাম যোগ করা কিন্তু নতুন কোনো ঘটনা নয়। মার্ক্সের পুঁজিসংক্রান্ত পার্থক্যসূচক নতুন ব্যাখ্যাটি জানতে আরো একটু অপেক্ষা করতে হবে। হাজার বছর ধরে ইতিহাসে নানাভাবে মূল্য যোগ করার প্রক্রিয়া চলে আসছে। অতীতে আমরা দেখতে পাই ধার করা কিংবা ধার দেয়া দুভাবেই মূল্যসংযোজন করা হতো এবং অবশ্যই উৎপাদিত পণ্য কিছুটা বাড়তি দামে হাতবদল হতো। টাকা ধার যিনি করেন তিনি জানেন, কর্জের টাকা ফেরত দেয়ার সময় কিছুটা বেশি ফেরত দিতে হবে। অর্থাৎ মূল টাকার সঙ্গে সুদসহ সুদাসল ফেরত দিতে হবে। ধরা যাক, একজন ব্যক্তি ১০০ টাকা কর্জ করল। যিনি ধার দিলেন তিনি বলে দিলেন, ফেরত দেয়ার সময় ১০ টাকা বাড়তি দিতে হবে। অর্থাৎ সুদাসল মিলে এক বছর পর শতকরা ১০ টাকা হারে মোট ১১০ টাকা দেনাদার পাওনাদারকে ফেরত দেবেন। বাড়তি মূল্য এভাবেই যোগ হতো। ১০০ টাকা একটি নির্দিষ্ট সময়ে স্ফীত হয়ে ১১০ টাকা হতো। সম্পর্ককে বলা হয় দেনা-পাওনার সম্পর্ক।

কিন্তু মূল্যসংযোজন বা বাড়তি মূল্য যোগ করার ঐতিহ্য বেশ পুরনো। শুধু ধার-দেনার মাধ্যমেই অতীতে মূল্যের আত্মস্ফীতি হয়নি। ব্যবসার মাধ্যমেও তা হয়েছে। দেশে মাড়োয়ারিরা যেসব ব্যবসা করতযারা ইধারকা মাল উধার, উধারকা মাল ইধার’—অর্থাৎ এদিকের পণ্য নদীর ওদিকে নেয়া এবং নদীর ওপারের পণ্য এদিকে আনাসেখানেও মূল্যসংযোজনের ঘটনা ঘটে থাকত। কোনো ব্যবসায়ী পাইকারি বাজার থেকে বেশি করে কোনো পণ্য কিনে খুচরা বাজারে তার ছোট্ট মুদি দোকানে রাখলে সেখান থেকে খুচরা বিক্রির সময় তার ক্রয়কৃত মূল্যে তিনি বিক্রি করবেন না। বরং খুচরা বিক্রির সময় তিনি ক্রয়কৃত মূল্যের সঙ্গে কিছুটা বাড়তি মূল্য যোগ করে বিক্রি করবেন। তাহলে সে পণ্যটির মূল্য ধার-দেনা প্রক্রিয়ার মতো এক্ষেত্রেও মূল্যসংযোজন বা বাড়তি মূল্যযোগ ঘটল। ফলে ব্যবসায়ীরা পুঁজিবাদী প্রক্রিয়ার অংশ হয়ে পড়ল, কারণ তারা সম্পর্কের মধ্যে যে ভূমিকা রাখলেন তাতে মূল্যস্ফীতি ঘটল। উল্লিখিত মূল্যসংযোজন প্রক্রিয়া হাজার হাজার বছর থেকে বিদ্যমান রয়েছে।

কিন্তু মার্ক্স পুঁজি বা পুঁজিবাদী ব্যবস্থা বলতে উল্লিখিত মূল্যসংযোজন বোঝাননি। মার্ক্স পুঁজির যে ব্যাখ্যা দিয়েছেন তা সম্পূর্ণ নতুন এক ব্যাখ্যা। হাজার বছর ধরে মূলত যে দু-তিনটি প্রক্রিয়ায় মূল্যের আত্মস্ফীতির ঘটনা ঘটছিল তার বাইরে আধুনিক বিশ্বে নতুন মূল্যসংযোজন প্রক্রিয়া মার্ক্সের নজরে আসে। তিনি লক্ষ করলেন, মূল্যের আত্মস্ফীতি নির্ধারণ করে দিচ্ছে পণ্য সেবার উৎপাদন প্রক্রিয়ার পদ্ধতি কেমন হবে। সনাতন মূল্যসংযোজন প্রক্রিয়ায় ধার-দেনা কিংবা পাইকারি-খুচরা ব্যবসায় উৎপাদন প্রক্রিয়া জড়িত ছিল। অর্থাৎ আগের বা প্রাক-আধুনিক যুগের মূল্যের আত্মস্ফীতির প্রক্রিয়া কিংবা উৎপাদন প্রক্রিয়ার পদ্ধতি কেমন হবে তা নির্ধারণ করতে পারত না। কারণ ধার-দেনার বিষয়টি দাঁড়িয়ে থাকত ব্যক্তির বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তির ওপর নির্ভর করে, সেখানে কোনো উৎপাদন প্রক্রিয়ার ব্যাপার আসত না। আর যিনি ব্যবসায়ী তিনি তো কোনো কিছু উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। ব্যবসায়ী শুধু পণ্যের ক্রয়মূল্যের সঙ্গে বাড়তি মূল্য যোগ করে বাজারে সেই একই পণ্য বিক্রি করেন। কিন্তু মার্ক্স বলছেন, মূল্যের আত্মস্ফীতির ধারণা পণ্য সেবা উৎপাদন প্রক্রিয়াকে দখল করে নিয়েছে। মার্ক্স বলছেন, এতে আমরা এমন এক ব্যবস্থা পেয়েছি, যা চালাচ্ছে পুঁজিবাদীরা এবং তারা প্রযুক্তি, যন্ত্রপাতি, কাঁচামাল, শ্রমিকের শ্রমশক্তি ইত্যাদি কিনে নেয় এবং এমনভাবে সার্কিটের ভেতর পরস্পরকে যুক্ত করে, যা পণ্য সেবা উৎপাদন করবে মুনাফাকে কেন্দ্রীয় বিবেচনায় রেখে। পুঁজিবাদীরা এসব উপকরণ (শ্রমশক্তি, প্রযুক্তি ইত্যাদি) কিনতে যতটুকু খরচ করেছিল তার চেয়ে বেশি বাড়তি মূল্য সৃষ্টি করবে এমন উৎপাদন প্রক্রিয়াই নির্বাচন করবেন। প্রক্রিয়াটি হাজার বছরের পুরনো ছিল না, বরং এটি ছিল বড়জোর ৩০০-৪০০ বছরের নতুন এক পরিস্থিতি। দাস ব্যবস্থায় এমন কোনো বিনিয়োগ ব্যবস্থা ছিল না যাতে দাস-মালিকের টাকা আত্মস্ফীত হয়। সামন্ততান্ত্রিক ব্যবস্থায় ভূস্বামীও তার উৎপাদন পদ্ধতিতে বাড়তি মূল্য যোগ করতে পারতেন না। সামন্তপ্রভু তা পারতেন না, কারণ তার ব্যবস্থা সেভাবে আয়োজিত ছিল না।

কিন্তু পুঁজিবাদী ব্যবস্থা আগেরগুলোর মতো নয়। পুঁজিবাদী ব্যবস্থা যখন বিস্তৃত হওয়া শুরু করল তখন পণ্য সেবা উৎপাদনের পুরো প্রক্রিয়া জবরদখল করে নিল। উদাহরণস্বরূপ একজন শ্রমিককে ঘণ্টা শ্রমঘণ্টার (যদিও বাংলাদেশে খুব কম অনানুষ্ঠানিক কর্মক্ষেত্র রয়েছে যেখানে এটি মানা হয়) চুক্তিতে দৈনিক হাজার টাকা মজুরিতে নিয়োগ দেয়া হলো। পরিমাণ টাকা পুঁজিবাদী মালিক শ্রমিককে দিতে রাজি হলো, কারণ পুঁজিপতি জানে দৈনিক শ্রমিকের উল্লিখিত শ্রমঘণ্টা ব্যবহার করে হাজার টাকার কয়েক গুণ অর্থ সে আয় করতে পারবে। সুযোগটি মালিকের না থাকলে সে পরিমাণ অর্থে শ্রমিককে নিয়োগই দিত না। ধরনের তাড়না সামন্ত প্রথা কিংবা দাস প্রথার কোনোটারই ছিল না। কারণেই পুঁজিবাদী ব্যবস্থা একদিকে নতুন নতুন প্রযুক্তি উদ্ভাবনে সাহায্য করে। ইতিহাসে কোনো কালপর্বেই প্রযুক্তির এত দ্রুত রূপান্তর অগ্রসরমানতা দেখা যায় না যতটা না পুঁজিবাদী উৎপাদন প্রক্রিয়ায় দেখা যায়। কিন্তু (দ্রুত মুনাফা বাড়ানোর প্রবণতা) করতে গিয়ে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা পরিবেশের ধ্বংস সাধন করে। পরিবেশের ক্ষতি সে এমনভাবে করে যা আর শুধরানো যায় না কোনোভাবেই। পরিবেশের সমূহ ক্ষতির বিপর্যয়কর প্রভাব দরিদ্র রাষ্ট্রগুলোর ওপর পড়ে। ফলে সেসব রাষ্ট্রে পরিবেশগত-সর্বহারা শ্রেণীর সৃষ্টি হয়। নতুন সৃষ্ট শ্রেণী পুঁজিবাদী ব্যবস্থার সৃষ্ট শ্রমিক-শ্রেণীর সমান্তরালে সৃষ্টি হলেও দুই শ্রেণীর ভেতর কোনো ব্যাপক সংযোগ থাকে না। অন্যদিকে পুঁজিবাদী ব্যবস্থা যেহেতু সারা পৃথিবীকে নতুন বিন্যাসে সাজায়, তাই ধনী রাষ্ট্রগুলো এসব পরিবেশগত সর্বহারা উদ্বাস্তু শ্রেণীকে তাদের দেশের ভেতর স্থান দেয় না, যদিও মানুষগুলোর দুর্দশার কারণ ধনী রাষ্ট্রগুলোর অতিমাত্রার পরিবেশদূষণ। পুঁজিবাদী ব্যবস্থা তার প্রক্রিয়ার ফলাফল নিয়ে কখনই মনোযোগী নয়। এটি পুঁজিবাদের অনেক অন্তর্দ্বন্দ্বের মধ্যে একটি বিপর্যয়কর দ্বন্দ্ব।

জগত্খ্যাত নাট্যকার শেক্সপিয়ার তার ষোড়শ শতাব্দীর নাটক মার্চেন্ট অব ভেনিস- দেখান, ইতালির ভেনিস শহরের ব্যবসায়ী আন্তোনিও ব্যবসার কাজে টাকা ধার করেন নিষ্ঠুর ইহুদি লগ্নিপুঁজি ব্যবসায়ী শায়লকের কাছ থেকে। কিন্তু ঘটনা পরিক্রমায় দেনাদার আন্তোনিও পাওনাদার শাইলককে সময়মতো টাকা ফেরত দিতে ব্যর্থ হলে কীভাবে অমানবিকভাবে সম্পর্কের ভেতর দিয়ে মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয় তা দেখানো হয়। সমাজ সভ্যতা সুরক্ষায় শেক্সপিয়ার মানুষের ভেতর মানবিক গুণাবলির জাগরণ চেয়েছেন। তার লেখা হ্যামলেট, কিং লিয়ার অন্যান্য নাটকে মানুষের প্রতি মানুষের সহানুভূতি সহযোগিতার মৌলিক গুরুত্বের কথা অত্যন্ত স্পষ্ট তাত্পর্যপূর্ণভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন। শেক্সপিয়ার তার সময়ের উৎপাদন পদ্ধতির প্রভাব মানুষের জীবনকে কীভাবে বিপন্ন করেছিল তার মর্মস্পর্শী গাথা এঁকেছিলেন। আজকের পুঁজিবাদী উৎপাদন ব্যবস্থা তার চেয়ে অনেক জটিল ব্যাপকভাবে বিধ্বংসী। আজ যদি শেক্সপিয়ার বেঁচে থাকতেন তবে তিনি নিশ্চয়ই মানুষের নানা মাত্রার মানবিক বিপর্যয়ের মর্মগাথা দিয়ে আমাদের জাগিয়ে তুলতেন।  

 

আহমেদ জাভেদ: দ্য পিপলস ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের অর্থনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং বাঙলার পাঠশালা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি

আরও