সিলেটকে বিনিয়োগবান্ধব করার বিষয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে

আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট সিটি করপোরেশনের নবনিযুক্ত প্রশাসক। সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সিলেট জেলার সব সংসদীয় আসনে বিএনপি প্রার্থীদের নির্বাচনী কাজের সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করেছেন।

সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব হিসেবেও কাজ করেছেন। তিনি বর্তমানে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সিন্ডিকেট সদস্য। সিলেট নগরী উন্নয়ন ভাবনা ও অগ্রাধিকার নিয়ে সম্প্রতি কথা বলেন বণিক বার্তায়। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন আনিকা মাহজাবিন ও সাবিদিন ইব্রাহিম

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছেন। প্রশাসক হিসেবে আপনার অগ্রাধিকার কী থাকবে?

গত ২২ ফেব্রুয়ারি দেশের ছয় শহরে প্রশাসক নিয়োগের আদেশ হয়। ২৩ ফেব্রুয়ারি আমরা যোগদান করি। আমাদের ছয়জনের যোগদানপত্র স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও প্রতিমন্ত্রী মীর শাহ আলমের কাছে যোগদান পত্রটি দিই। সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে আমাদের সৌজন্য সাক্ষাৎ হয়। প্রধানমন্ত্রী আমাদেরকে কাজ করার উপযুক্ত মনে করছেন বলে ওনাকে ধন্যবাদ জানাই। আমরা তারই দলের পোড়খাওয়া কর্মী। মাঠে-ময়দানে সংগ্রাম করেছি। তাছাড়া অতীতেও আমাদের এ ধরনের কাজ করার অভিজ্ঞতা আছে। সবকিছু বিবেচনা করেই তিনি আমাদের এ দায়িত্বের জন্য নির্বাচন করেছেন। সৌজন্য সাক্ষাতের সময়ই উনি আমাদের কিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। আমাদের প্রত্যেককে নিজ নিজ শহরের সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে নগরবাসীর কল্যাণ কীভাবে নিশ্চিত করা যায় তা ভাবতে হবে। ভেবেচিন্তে আমাদের পরিকল্পনা নিতে হবে। আমরা যে পরিকল্পনা নিচ্ছি সেগুলো যেন ওনাকে অবহিত করি সে নির্দেশনাও প্রধানমন্ত্রী দিয়েছেন। আমরা যে পরিকল্পনা নেব সেগুলো বাস্তবায়নের জন্য সরকার পদক্ষেপ নেবে। দীর্ঘদিন এ প্রতিষ্ঠানগুলোতে রুটিনমাফিক কাজ হয়েছে কিন্তু দেখভাল করার মতো কেউ ছিল না। ফলে শহরে বহুবিধ সমস্যা তৈরি হয়েছে। আমার কাজ হবে প্রধান সমস্যাগুলো সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নেয়া।

নগরীকে বাসযোগ্য করে তোলার জন্য সরকারপ্রধান আপনাদের সঙ্গে গ্রিন সিটি-ক্লিন সিটি পরিকল্পনা উপস্থাপন করেছেন। এ পরিকল্পনা সম্পর্কে যদি বিস্তারিত কিছু বলতেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শহরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়ে বেশি জোর দিয়েছেন। সিটিগুলোতে ধুলাবালি বাড়ছে। তাছাড়া যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনাও ফেলা হচ্ছে। এ সমস্যাগুলো দূর করে একটি পরিচ্ছন্ন শহর মানুষের কাছে উপস্থাপন করতে চাই। সবুজায়নের মাধ্যমে শহরগুলোকে আমরা গ্রিন ও ক্লিন করব। অর্থাৎ শহরের মধ্যে প্রাকৃতিক সৌন্দর্য এবং পরিচ্ছন্নতা—এ দুটোই থাকবে। এখন গ্রিন সিটি বলতে যে বৈজ্ঞানিক ধারণাটি রয়েছে বা শহুরে ব্যবস্থাপনা রয়েছে সেটা অল্প সময়ে বাস্তবায়ন করা আমাদের পক্ষে এখনই সম্ভব না। তবে ভবিষ্যতে আমরা নগরগুলোকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজায়নের মাধ্যমে বাসযোগ্য করার উদ্যোগ নেব। এখন সর্বপ্রথম শহরকে পরিষ্কার করার কাজটি করতে হবে। বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে টেকসই করা দরকার। যত্রতত্র ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখলে অনেক রোগবালাইয়ের সংক্রমণ বাড়ে। বিশেষত মশার উপদ্রবই আমাদের ভোগায় বেশি। এডিস মশা কিন্তু বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানিতে জন্ম নেয়। এডিস মশার কামড়ে ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া হয়।

সবচেয়ে বড় কাজ হলো শহরটাকে পরিষ্কার করা, বর্জ্য ব্যবস্থাপনাটাকে শক্তিশালী করা। বর্জ্যের কারণে বিভিন্ন রোগবালাইয়ের উপসর্গ তৈরি হয়। এডিস মশা এখান থেকে হয়। এ মশা থেকে ডেঙ্গু ও চিকনগুনিয়া হয়। সুতরাং আমরা শহরকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার বিষয়ে বেশি জোর দিচ্ছি। শহরে দৈনন্দিন চলার ক্ষেত্রে মানুষের যে সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হতে হয় সেগুলো থেকে রেহাই দেয়ার জন্যই আমাদের কর্মপরিকল্পনা নিতে হবে এবং সেগুলো বাস্তবায়নের কার্যকরী ভূমিকা রাখার কাজটি করতে হবে।

সিলেটে সামান্য বৃষ্টি হলেই জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। তাছাড়া বিভিন্ন সময় সুপেয় পানির তীব্র অভাব দেখা দেয়। এ সমস্যাগুলো মোকাবেলায় আপনাদের পদক্ষেপ কেমন হবে?

এখন তো রমজান মাস। স্বাভাবিকভাবেই সুপেয় পানির চাহিদা বেশি। এ সময়টায় জলাবদ্ধতা বড় সমস্যা নয়। সাধারণত বর্ষা মৌসুমে জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এ সময় অতিবৃষ্টির কারণে শহরের বিভিন্ন স্থানে পানি জমে যায় এবং জলাবদ্ধতা দেখা দেয়। এখন এগুলোর বিষয়েই আমাদের পরিকল্পনা নিতে হবে। বর্ষা আসার আগেই যেন আমরা এ সমস্যা থেকে মুক্তি পাই সে পদক্ষেপ নিতে হবে। শহরে যেন বৃষ্টির পানি জমে না থাকে সেজন্য ড্রেন আর কালভার্ট নির্মাণ করতে হবে। আবার অনেক জলাশয় আছে যেগুলো দখল হয়ে আছে। এসব দখল হয়ে যাওয়া জলাশয়গুলোকে পুনরুদ্ধার করতে হবে। সিলেটে নদী, জলাশয় ও হাওর রয়েছে। বৃষ্টির পানি যদি আমরা জলাশয়গুলোতে পাঠানোর ব্যবস্থা করতে পারি তাহলে জলাবদ্ধতার মতো সমস্যা আর থাকবে না। আপনারা জানেন সিলেট প্রবাসী অধ্যুষিত শহর। শহরের দূষণের পেছনে এটি একটি বড় কারণ। এখানে অনেক প্রবাসীর বাস। প্রতি বছর প্রবাসীরা ছুটির সময় সিলেটে ঘুরতে আসেন। তারা যেন নিরাপদে থাকতে পারে সেজন্য আমাদের পরিকল্পনা নিতে হবে। প্রবাসীদের জন্য বাসযোগ্য নগরী গড়ে তোলাটা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। অনেক সময় দেখা যায়, প্রবাসীদের জমিজমা অন্যরা দখল করে ফেলে। বিভিন্ন সময় প্রবাসীরা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়। এসব সমস্যা সমাধানের জন্য আমি কাজ করব। সমস্যাগুলো সমাধানের জন্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বিশেষ করে পুলিশের সহযোগিতা নেব। এগুলো ভবিষ্যৎ ভাবনা। এবার আসা যাক রমজান মাসের পরিকল্পনা। এ সময়টাতে শহরে যানজট বাড়ে। শহরের মধ্যে অনেক যানবাহন প্রবেশ করে। এগুলো নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে হবে। আমি দায়িত্বে থাকা অবস্থায় এসব সমস্যা সমাধানের জন্য কাজ করে যাব। কিন্তু এ কাজে সফল হওয়ার জন্য আমি সিলেটবাসীর সহযোগিতা চাই।

সিলেটে বহু পর্যটন আকর্ষণ কেন্দ্র রয়েছে। সমস্যা হলো, এসব পর্যটন স্থানের আশপাশে আবাসন সুবিধা অপ্রতুল। শহরেই হোটেল বা সেবাগুলো কেন্দ্রীভূত। এজন্য সিলেটের পর্যটন খাত পরিপূর্ণভাবে তার সম্ভাবনা নিশ্চিত করতে পারছে না। এদিকে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যও মানবসৃষ্ট নানা কারণে বিনষ্ট হচ্ছে। সিলেট সিটি করপোরেশন এ ক্ষেত্রে কী করতে পারে?

আমি সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি। আবার এ বছর জাতীয় নির্বাচনে সিলেট জেলার প্রধান সমন্বয়কারীর দায়িত্ব পালন করেছি। সিলেটে দলীয়ভাবে আমাদের ফল অনেক ভালো। মন্ত্রিপরিষদে সিলেট থেকে দুজন নির্বাচিত এমপি জায়গা পেয়েছেন। খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির বাণিজ্য শিল্প এবং টেক্সটাইল মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে আছেন। আর সিলেট-৪ আসনের আরিফুল হক প্রবাসী কল্যাণ ও শ্রম মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পেয়েছেন। এছাড়া হুমায়ুন কবির পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা হয়েছেন। আমরা সবাই সিলেটকে কীভাবে পর্যটনবান্ধব করা যায় তা নিয়ে ভাবছি। কীভাবে সংস্কার করা যায় তা নিয়ে আমাদের সবারই ভাবনা রয়েছে।

চট্টগ্রামের মতো সিলেটে কিন্তু ওই অর্থে শিল্প-কারখানা নেই। অথচ এখানে অনেক অলস অর্থ থাকলেও পর্যাপ্ত বিনিয়োগ নেই। সম্ভাবনার কথা চিন্তা করে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ার বিষয়ে আপনাদের পরিকল্পনা কী?

আসলে বিনিয়োগ কম থাকার বিষয়টি দুঃখজনক। সিলেট অঞ্চলে শিল্প-কারখানা গড়ার বিষয়ে অতীতে অনেক সরকারই তেমন উদ্যোগী ছিল না। বিশেষত বিগত কর্তৃত্ববাদী সরকারের শাসনামলে তো আরো হয়নি। ওই সময় সরকার ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে লুটপাটে ব্যস্ত ছিল। এখন আমরা এসব নিয়ে নতুন করে চিন্তাভাবনা শুরু করেছি। বাণিজ্যমন্ত্রী নিজেও একটি সেমিনারে এ নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। সিলেটকে কীভাবে বিনিয়োগবান্ধব করে তোলা যায় তা নিয়ে আমাদের পরিকল্পনা আছে। এজন্য বিশেষায়িত কিছু অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ার ভাবনা রয়েছে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিদেশী বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নেয়া হবে। নতুন কর্মসংস্থান তৈরি করার জন্যও আমাদের চিন্তা রয়েছে।

সিলেট শহরে অর্থনৈতিক বৈষম্য কম নয়। নিম্নবিত্ত ও মধ্যবিত্তের জীবনে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়ছে। নিত্যপণ্যের দামও চড়া। অনেক জায়গায় চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। বাজার ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণে স্বল্পমেয়াদে আপনার পদক্ষেপ কী হবে?

বাজারে চাঁদাবাজদের ব্যাপারে আমরা জিরো টলারেন্স অবস্থান রেখেছি। সরকারও এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান ধরে রাখবে। এখন সামাজিক পরিসরে আয়বৈষম্য কিছুটা হলেও থাকবেই। এখানকার বাজারে কিছু কিছু জায়গায় পণ্যের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি। এসব সমস্যা কীভাবে কমিয়ে আনা যায় সে উদ্যোগ নেয়ার ভাবনা আমাদের পরিকল্পনায় আছে।

দেখা যাচ্ছে, সিলেটে কৃষি উৎপাদন অন্যান্য বিভাগের চেয়ে কম। বেশির ভাগ খাদ্যপণ্যই দেশের অন্যান্য অংশ থেকে আসছে। এতে সিলেটে দ্রব্যমূল্য অন্যান্য এলাকার চেয়ে বেশি। এ সমস্যাকে কীভাবে দেখেন?

খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে দেশের মানুষের মধ্যে কিছুটা হলেও অলসতা তো আছেই। অলস হওয়ার এ প্রবণতার কারণেই আসলে মানুষ উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ড থেকে দূরে রয়েছে। এখন কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর ব্যাপারেই আমাদের আগ্রহ বেশি। কীভাবে উৎপাদন বাড়ানো যায় সেজন্য স্বল্পমেয়াদে আমাদের টেকসই পরিকল্পনা নিতে হবে। কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পাশাপাশি সরকারের অংশীজনদের নিয়ে সমন্বিতভাবে আমরা কাজ করব। এই তো কিছুদিন আগেই বাণিজ্যমন্ত্রী জানিয়েছিলেন, সিলেট অঞ্চলটি মার্কেটিং ও বাজার বিপণনে অনেক পিছিয়ে আছে। সিলেটের বাজারকে দেশব্যাপী পরিচিত করার জন্য উনি গ্রামীণ হাট চালু করার বিষয়টিতে জোর দিয়েছেন। এখন সিলেটের একেক অঞ্চলে একেক ধরনের খাদ্যশস্য ও সবজির চাষ হয়। এসব উৎপাদিত পণ্য যেন সারা দেশে সঠিকভাবে বিপণন হয় তা নিশ্চিত করতে হবে। কৃষক যাতে উপযুক্ত মূল্যেই সব পণ্য বিক্রি করতে পারে সেটা দেখতে হবে। উৎপাদনের প্রাথমিক পর্যায় থেকেই যেন আসলে সবকিছু সুষ্ঠুভাবে হয় তা নিয়ে আমাদের চিন্তাভাবনা অনেক। আমরা কাজও করছি এ নিয়ে।

চা শিল্প নিয়ে আপনাদের কিছু পরিকল্পনার কথা বলেছেন। সিলেট অঞ্চলে চা শ্রমিকদের বেতন-ভাতা ও সুবিধা নিয়ে আপনাদের আসলে ভাবনা কী?

বাণিজ্য এবং শ্রম মন্ত্রণালয়ে যে দুজন মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন তারা দুজনই কিন্তু সিলেটের। জাতীয় সংসদে তারা জনগণের প্রতিনিধিত্বও করছেন। অর্থাৎ তাদের দুটি ভূমিকা রয়েছে। এ ভূমিকা দুটির নিরিখেই বলা যেতে পারে তারা এ নিয়ে কাজ করবেন। এখন চা শিল্প নিয়ে আমাদেরও আলাদা কিছু পরিকল্পনা থাকতে হবে। একসময় চা উৎপাদনকারী দেশ হিসেবে আমাদের ব্যাপক সুনাম ছিল। বর্তমানে তার পরিবর্তন ঘটেছে। এটা হতে পারে চা উৎপাদনের যে গুণগত মান ও উৎপাদন আধুনিকায়ন প্রয়োজন ছিল, তা থেকে আমরা অনেকাংশে দূরে সরে গেছি। আমাদের চেষ্টা থাকবে সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধান করার। চা শিল্পসংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে কীভাবে সমস্যাগুলোর সমাধান করা যায় সে উদ্যোগ আমাদের থাকবে।

সিলেট অঞ্চলটিতে প্রাকৃতিক গ্যাসেরও মজুদ রয়েছে। এ গ্যাস আহরণ ও বিপণনের বিষয়ে কী আপনাদের ভাবনা আছে?

হরিপুর, রশিদপুর বা ফেঞ্চুগঞ্জের মতো জায়গা তো পুরনো গ্যাস ক্ষেত্র। এসব গ্যাস ক্ষেত্রের সম্ভাবনা নিয়ে কাজ তো হবেই। এখন নতুন গ্যাস ক্ষেত্র অনুসন্ধানের জন্য আলাদা জরিপ চলছে। এজন্য সার্ভেও করা হচ্ছে। আমরা সার্ভের ভিত্তিতে গ্যাস ক্ষেত্রের সম্ভাবনাগুলো যাচাই করব। এ বিষয়ে সরকারের গুরুত্ব আছে অবশ্যই। এ মুহূর্তে সারা দেশে জ্বালানি সংকট একটি বড় জটিলতা। এ জটিলতা বিবেচনা করেই আমাদের বিকল্প জ্বালানির উৎসগুলোকে খুঁজে নিতে হবে। অর্থাৎ জ্বালানির উৎসকে বহুমুখী করার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিতে হবে।

অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে সিলেটের ঐতিহ্যবাহী সাদা পাথর লুট হওয়ার ঘটনা ঘটেছিল। সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সুরক্ষায় আপনাদের পদক্ষেপ কী হবে?

ভোলাগঞ্জের সাদা পাথর পর্যটক আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। মানুষ ওখানে এলে সাদা পাথরের সৌন্দর্য উপভোগ করতে যায়। এ পাথরই যদি না থাকে তাহলে তো আর ওখানে দেখার মতো কিছু থাকে না। কিছু অসাধু এ পাথর চুরি ও চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত ছিল। বিগত সরকারের সময়ে সাদা পাথর চুরি বন্ধের জন্য উদ্যোগ নেয়া হয়েছিল। এক অর্থে তারা কিছুটা হলেও অসাধুদের উপদ্রব থামাতে পেরেছে। এখন আমরা দায়িত্ব নিয়েছি। দায়িত্ব নেয়ার পর আশ্বাস দিচ্ছি, অসাধু কোনো তৎপরতাকে প্রশ্রয় দেব না। প্রাণপ্রকৃতি ধ্বংস হয় এমন কোনো তৎপরতা কোনোভাবেই প্রশ্রয় পাবে না। এক্ষেত্রে দলীয় পরিচয় কোনোভাবেই প্রাধান্য পাবে না। \\

প্রশাসকের দায়িত্বে আপনারা কতদিন থাকবেন?

আসলে দীর্ঘদিন এ সংস্থায় সরকারি কর্মকর্তারাই রুটিন দায়িত্ব পালন করছিলেন। এভাবে দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে তারা বেশকিছু সমস্যার মুখোমুখি তো হয়েছেনই। এখন আমাদেরকে সুশাসন প্রতিষ্ঠার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার কাঠামোর নির্বাচন হওয়ার আগ পর্যন্ত আমরা দায়িত্ব পালন করব। সিটি করপোরেশনের মেয়র নির্বাচনের আগ পর্যন্ত আমাদের কাজ করে যেতে হবে। আবার দায়িত্বে থাকা অবস্থায় কারো যদি মনে হয়, আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন তাহলে দায়িত্ব থেকে ইস্তফা দিতে হবে। তারপর তারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। এখন কাজ করতে হবে। আমরা কাজগুলো সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে চাই।

আরও