এশিয়ায় দ্রুত বাড়ছে প্রবীণ জনগোষ্ঠী। জাপানে ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সীদের হার এখন মোট জনসংখ্যার ২৯ দশমিক ৬ শতাংশ। আরো তাৎপর্যপূর্ণ হলো দেশটিতে গত বছর ৬৫ বছরের বেশি বয়সী ৯৪ লাখ ৩০ হাজার মানুষ কর্মরত ছিলেন, যা মোট কর্মজীবীর ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ। অর্থাৎ বয়স বাড়লেও বিপুলসংখ্যক মানুষকে অর্থনীতিতে সক্রিয় থাকতে হচ্ছে।
এ বাস্তবতা শুধু জাপানের নয়, বিশ্বব্যাংকের হিসাবে থাইল্যান্ডে ৬৫ বছরের বেশি বয়সীদের হার ২০২০ সালের ১৩ শতাংশ থেকে ২০৬০ সালে ৩১ শতাংশে উঠতে পারে। একই সময়ে কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর হার ৭১ থেকে ৫৬ শতাংশে নেমে আসবে। আর ইউএনএফপিএর পূর্বাভাস, ২০৫০ সালের মধ্যে এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে প্রতি চারজনের একজনের বয়স হবে ৬০ বছরের বেশি।
সমস্যা কেবল দীর্ঘায়ু নয়, সুস্থভাবে বেঁচে থাকার সময়ও গুরুত্বপূর্ণ। ১৮৩ দেশের বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে মায়ো ক্লিনিকের গবেষকরা দেখেছেন, মানুষের মোট আয়ু ও সুস্থ জীবনের ব্যবধান ২০১৯ সালে ৯ দশমিক ৬ বছরে পৌঁছেছে। অসংক্রামক রোগ এ ব্যবধান বাড়ানোর বড় কারণ।
তাই বার্ধক্য নিয়ে আলোচনা অবসরের বয়সে পৌঁছার পর শুরু করলে দেরি হয়ে যাবে। মধ্যবয়স থেকেই স্বাস্থ্যঝুঁকি শনাক্ত, নিয়মিত পরীক্ষা ও প্রতিরোধে গুরুত্ব দেয়া প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানগুলোরও গুরুত্বপূর্ণ কর্মীদের স্বাস্থ্যকে উত্তরাধিকার পরিকল্পনার মতোই ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অংশ হিসেবে দেখা উচিত। এশিয়ার বার্ধক্যজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় মূল লক্ষ্য হওয়া দরকার শুধু বেশি দিন বাঁচা নয়, বেশি দিন সুস্থ থাকা।
[সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক নিবন্ধ থেকে অনূদিত]
ভিনসেন্ট কারাডেক: সহপ্রতিষ্ঠাতা ও সিইও, হেলদি লাইফ, ব্যাংকক