বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর
রহমানের ৭ মার্চের ভাষণের
পর জাতীয়
আন্দোলনের সঙ্গে
সম্পৃক্ত হওয়ার
উল্লেখ পাওয়া
যায় বাংলাদেশের
গ্রামগুলোয়। ১৯৭০ সালের নির্বাচনের
পর গ্রামগুলো
সক্রিয় হয়ে ওঠে এবং সনাতন যেসব গ্রামীণ রাজনৈতিক
গোষ্ঠী ছিল সেগুলো চাপের
মধ্যে পড়ে। ৭ মার্চের
ভাষণের কারণে
গ্রামগুলো সংগঠিত
হতে থাকে নিজেদের ভাবনা,
সাধ্য ও ইচ্ছা অনুসারে।
সে কারণে
এ ভাষণ একটি জাতীয়
ঐক্য সৃষ্টি
করে, যার ভিত্তিতে পরবর্তী
সময়ে প্রতিরোধ
হয় এবং প্রতিরোধ পর্বের
পর বড় পরিসরে ঘটে জাতীয় যুদ্ধ।
ওই সময় অনেক গ্রামে সংগ্রাম কমিটি গঠন হয়, যার নেতৃত্বে ছিলেন আওয়ামী লীগের কর্মীরা। তবে অন্যান্য দল এমনকি মুসলিম লীগের কিছু নেতা সংগ্রাম কমিটির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এ রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বহুমাত্রিক ছিল। গ্রামীণ রাজনৈতিক কাঠামোর সঙ্গেও এটি জড়িত ছিল।
২৫ মার্চ ঢাকার
আক্রমণ ও পরবর্তী সময়ে
অন্যান্য শহরের
ওপর আক্রমণ
গ্রামের মানুষকে
অস্থির ও চিন্তিত করে।
নির্যাতনের খবর প্রথমে এসেছে
বিদেশী রেডিও
এবং পরে শহর থেকে
পালিয়ে যাওয়া
মানুষের মাধ্যমে।
ফলে মানুষের
মধ্যে যেমন
দুর্ভাবনার সৃষ্টি
হয়, তেমনি
অনেকে প্রতিরোধের প্রস্তুতি নেয়। তবে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ঢাকা থেকে বহু দূরে বাংলাদেশের কোনো প্রত্যন্ত গ্রামে
গিয়ে তাদের
সহচরদের সঙ্গে
নিয়ে নির্যাতন
করবে। এটা খুব কম মানুষই আশঙ্কা
করেছিল। কারণ
এ ধরনের
ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা
গ্রামের মানুষের
আগে ছিল না।
প্রত্যন্ত গ্রামের তুলনায় সীমান্তবর্তী গ্রামে নির্যাতন ও আক্রমণ বেশি হয়েছে। ট্রেনিংয়ের পর মুক্তিবাহিনীও সেখানে প্রবেশ করেছে এবং পাকিস্তানি বা তাদের সহায়কদের সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। যেখানে সংঘর্ষ হয়েছে সেখানে নির্যাতনও হয়েছে। দু-এক স্থানে পাকিস্তানি আর্মি নদী দিয়ে এসে অভিযান চালিয়েছে। রাস্তা খারাপ বা না থাকার কারণে পাকিস্তানি সেনারা সব এলাকায় যেতে পারত না। আবার বর্ষা মৌসুমের পর বিভিন্ন স্থানে পানি বেড়ে যাওয়ায় ওইসব এলাকায় পাকিস্তানিদের চলাচল সীমাবদ্ধ হয়ে যায়।
শহরের কাছাকাছি গ্রামগুলোয়ও পাকিস্তানি আর্মি গেছে, বিশেষ করে এপ্রিলের দিকে তারা যখন বাংলাদেশ পুনরায় দখল করে। আর্থসামাজিক দ্বন্দ্বের কারণে গ্রামগুলোয় বিভিন্ন শত্রুপক্ষ তৈরি হয়, যারা অনেক সময় প্রতিশোধ নেয়ার জন্য অথবা শত্রুপক্ষকে ঘায়েল করতে পাকিস্তান আর্মিকে ডেকে নিয়ে গেছে। এসব ক্ষেত্রে পাকিস্তানি সেনাদের নির্যাতনের সহায়ক ছিল স্থানীয়রা।
গ্রামীণ প্রতিরোধের একাধিক চিত্র পাওয়া গেছে। অর্থাৎ ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা সম্প্রদায়গত প্রতিরোধের উল্লেখ রয়েছে। একটি গ্রামে মুক্তিবাহিনীকে আশ্রয় দেয়ার যেমন মানুষ ছিল, ঠিক তেমনিভাবে তাদের বিরোধিতা করার লোকও ছিল, যদিও সেই সংখ্যা খুব কম। সংগৃহীত তথ্য মতে, পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তার ক্ষেত্রে রাজনৈতিক ভাবনার সঙ্গে ব্যক্তিস্বার্থ কাজ করেছে। অর্থাৎ কিছু ক্ষেত্রে পারিবারিক রেষারেষির কারণে গ্রামের মানুষ নির্যাতনের শিকার হয়েছে। অতএব জাতীয় রাজনৈতিক গণ্ডি বা পরিসরের বাইরে গ্রামীণ দ্বন্দ্ব কাজ করেছে সংঘর্ষ সৃষ্টি ও নির্যাতন ঘটানোর পেছনে।
পাকিস্তানিদের নির্যাতন: বিভিন্ন
জায়গায় দেখা
গেছে, এলাকার
পাকিস্তানপন্থীরা প্রয়োজনে
সেনাদের ডেকে
নিয়ে গেছে
বিরোধী পক্ষকে
ঘায়েল করার
জন্য বা কোনো এলাকার
মানুষ বা গোষ্ঠীকে শায়েস্তা
করার জন্য।
এতে গ্রামীণ
সমাজে যে যৌথ সম্পর্কের
কাঠামো ছিল সেটি একাত্তর
সালে দুর্বল
হয়ে পড়ে।
বিশেষ করে অবস্থাপন্ন ও নিম্নবিত্ত মানুষের
মধ্যে। সামাজিক
পর্যায়ে যথেষ্ট
তিক্ততা সৃষ্টির
কারণে লুটতরাজ
ও খুনখারাবি
হয়।
নির্যাতনের বিভিন্ন চিত্র ছিল।
খুন, জখম, আগুন দেয়া,
নারী নির্যাতন
ছাড়াও দেশত্যাগ
ছিল একটি
অন্যতম সূচক।
ওই সময়ে
আহারের কমতি,
লেখাপড়া বন্ধ
হয়ে যাওয়া,
রুজি কমে যাওয়া ইত্যাদি
নির্যাতনের সূচক
হিসেবে দেখা
যায়। অতএব
সরাসরি অত্যাচার
যেমন প্রধান
নির্যাতন, তেমনিভাবে
যার ওপর শারীরিক অত্যাচার
হয়নি সেও নির্যাতিত বলে ধরা যায়।
নির্যাতন কেবল
ব্যক্তির বিরুদ্ধে
হয়নি, সমাজের
বিরুদ্ধেও হয়েছে।
শান্তি কমিটি ও রাজাকারদের ভূমিকা: স্বল্প কিছু শান্তি কমিটির লোককে বাদ দিলে রাজনৈতিক কারণে পাকিস্তান সমর্থক খুব কম ছিল গ্রামে। একই সঙ্গে কিছু শান্তি কমিটির সদস্য গ্রামের মানুষের নিরাপত্তা দেয়ার ক্ষেত্রে সহায়তা করেছে নানাভাবে।
রাজাকাররা প্রায় ক্ষেত্রে গ্রামের নিম্নবিত্ত শ্রেণীর লোক ছিল। তারা পাক সরকারের বেতনভুক্ত কর্মচারী হিসেবে কাজ করেছে। তাদের অস্ত্র দেয়া হয় পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে। তাদের মূল কাজ ছিল পাকিস্তানের কথামতো গ্রাম পাহারা দেয়া। অর্থাৎ মুক্তিযোদ্ধারা যেন গ্রামে প্রবেশ করতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারি করা। তারা প্রবেশ করলে সেই খবর শান্তি কমিটি বা পাক আর্মিকে দেয়া। নির্যাতন করার অধিকারটা আসে এ সম্পর্ক থেকেই। অস্ত্র এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর ছত্রছায়ায় থাকার কারণে রাজাকাররা নির্যাতন করে। তাদের কাজের মধ্যে আরো ছিল পাকিস্তানি সেনাদের গ্রামের রাস্তা দেখানো ও লুটযোগ্য মাল কোথায় আছে তার সন্ধান দেয়া এবং নারীদের খোঁজ দেয়া। সে সুযোগে রাজাকাররা নিজেরাও গ্রামে লুটতরাজ ও নির্যাতন করেছিল।
গ্রামের মুরব্বি বা শান্তি কমিটির সহায়তা ছাড়া বেশির ভাগ ক্ষেত্রে রাজাকাররা নির্যাতন করতে পারত না। কেননা শান্তি কমিটির লোকরাই ছিল পাকিস্তানিদের স্থানীয় প্রতিনিধি এবং তাদের সম্মতি ছাড়া নির্যাতনের আশঙ্কা ছিল কম। তবে কয়েকটি স্থানে এর ব্যতিক্রমও পাওয়া যায়।
গ্রামের রাজনৈতিক বা সামাজিক অবস্থান প্রচণ্ড চাপের মধ্যে থাকলেও টিকে থেকেছে। যেসব ধাক্কা সমাজ কাঠামোকে আঘাত করে তার মধ্যে ছিল লুটতরাজ, আগুন দেয়া, নারীদের উঠিয়ে নিয়ে যাওয়া, পালিয়ে যেতে বাধ্য করা এবং শারীরিক নির্যাতন ও হত্যা। এ কর্মকাণ্ড রাজাকার বা শান্তি কমিটির মাধ্যমেই ঘটেছে। অর্থাৎ গ্রামের যে ক্ষমতাকাঠামো তাকে কেন্দ্র করেই নির্যাতনের কাঠামো তৈরি হয়েছে। অতএব গ্রামের ক্ষমতাবান ও অবস্থাপন্ন দলের লোক বা রাজাকারদের মাধ্যমে এসব নির্যাতন হয়। এসব ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পরিচিতির পাশাপাশি সম্পদ লুটের ইচ্ছা ছিল বাস্তবতা।
হিন্দু জনগোষ্ঠীর বিপদ: সমাজে হিন্দু জনগোষ্ঠী ছিল সবচেয়ে নাজুক অবস্থায়। সামাজিক গোষ্ঠী হিসেবে তাদের ওপর সবচেয়ে বেশি নির্যাতনের তথ্য পাওয়া যায়। কেবল ধর্মীয় পরিচয়ের কারণেই অনেক স্থানে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন হয়। তারা কখনো অন্য এলাকায়, আবার কখনো পাশের দেশে চলে যায়। ভারত বা অন্য গ্রামে চলে যাওয়া, আশ্রয় নেয়া ছিল নির্যাতনের অভিজ্ঞতার ইতিহাসের একটি পরিসর। বস্তুত সব মানুষের বাঁচার জন্য পালানো এবং আশ্রয় সন্ধান ছিল একাত্তরের জীবনের অন্যতম প্রধান বিষয়। এ পালানোর কারণে তাদের যে অভিজ্ঞতা হয়েছে তাকে নির্যাতন বলা যায়।
শরণার্থী
হওয়ার ক্ষেত্রে
হিন্দু জনগোষ্ঠীর
বিভিন্ন কারণ
ছিল। পাকিস্তান
আর্মি ও তাদের সহযোগীরা
কিছু কিছু
ক্ষেত্রে শত্রু
জনগোষ্ঠী হিসেবে
হিন্দুদের লক্ষ্য
করে আক্রমণ
চালিয়েছে। তাদের
উদ্দেশ্য ছিল হিন্দুদের ভারতে
চলে যেতে
বাধ্য করা।
ভারতে চলে যাওয়ার সঙ্গে
অনেক ক্ষেত্রে
আর্থসামাজিক বিষয়ও
জড়িত ছিল।
হিন্দু জনগোষ্ঠীর
অবস্থাপন্ন সদস্যরা
লুটতরাজের শিকার
হয়েছে। আক্রমণ
হওয়ার পরও যারা জানে
বেঁচে গেছে
তারা নিশ্চিতভাবেই চলে গেছে। আর ওই অঞ্চলের
অনেক হিন্দু
জনগোষ্ঠীর মানুষ
নিরাপত্তার অভাববোধ
থেকে তাদের
পিছু নিয়েছে।
মুসলমান জনগোষ্ঠী হিন্দুদের আশ্রয় দিয়েছে, যতক্ষণ না ওই মুসলিম পরিবারের জন্য আশ্রয় দেয়াটা নির্যাতনের ঝুঁকি তৈরি করেছে। কেউ কেউ ঝুঁকি নিয়ে হিন্দুদের গ্রামে থাকতে দিয়েছে, রাতে পাহারা দিয়েছে। অনেক সময় নিজেদের নিরাপত্তাঝুঁকি থাকার কারণে হিন্দুদের অন্যত্র চলে যেতে বলেছে বা সহায়তা করেছে।
হিন্দুদের
পরিবার হিসেবে
ভারতে চলে যাওয়ার অভিজ্ঞতা
থেকে জানা যায়, অনেক ক্ষেত্রে তারা পরিবারের সবাইকে
সঙ্গে নিয়ে যেতে পারেনি।
অনেক ক্ষেত্রে
তারা বয়স্ক
আত্মীয়কে কারো আশ্রয়ে রেখে বা বাড়িতে
রেখে গেছে।
কিছু কিছু ক্ষেত্রে যুদ্ধের
মধ্যেই দেশে ফিরে বৃদ্ধদের
নিয়ে যাওয়া
হয়েছে। অনেক বৃদ্ধ দেশ ছাড়তে না চাওয়ায় পরিবারের
সদস্যরা তাদের
রেখে যায়।
ছোট ছোট শিশুদের
নিয়ে ভারতে
যাওয়া ছিল অত্যন্ত উদ্বেগময়।
প্রথমত, তারা নিরাপদে ভারতে
পৌঁছতে পারবে
কিনা তার ভাবনা; দ্বিতীয়ত,
ভারতে গিয়ে তারা কী অবস্থায় পড়বে সেটা নিয়েও
চিন্তা ছিল। ভারতে কারো কারো আত্মীয়-স্বজন ছিল, কিন্তু সবাই যে আত্মীয়দের
আশ্রয় বা সাহায্য পেয়েছে
তা নয়। কিছু কিছু মানুষ ভারত থেকে আবার দেশে ফিরে আসে বলে তথ্য পাওয়া
যায়। ভারতে
চলে যাওয়াটা
জীবনে নিরাপত্তা
দিয়েছে বটে, কিন্তু শরণার্থী
জীবন ছিল অত্যন্ত কষ্টদায়ক।
হিন্দু জনগোষ্ঠীর একটি অংশ ভারতে গিয়েছিল সেখানে অবস্থানরত আত্মীয়-স্বজনের ওপর নির্ভর করে। সেদিক থেকে মধ্যবিত্ত শ্রেণী সুবিধায় ছিল, কারণ তারা অনেকেই ভারতে গিয়ে আশ্রয় পেয়েছিল। নিম্নবিত্তের হিন্দুরা তাদের আত্মীয়দের কাছে আশ্রয় পেয়েছে কম, যেহেতু তাদের আত্মীয়-স্বজন ছিল তাদের মতোই কম বিত্তের মানুষ। মধ্যবিত্তরা অনেকেই শরণার্থী শিবিরে গেছে। নিম্নবিত্তের হিন্দু জনগোষ্ঠীর অনেকের জন্য শরণার্থী শিবিরে যাওয়া ছাড়া কোনো পথ ছিল না।
আশ্রয়ের সংকট: দেশের সব মানুষের জন্য আশ্রয়ের সন্ধান অর্থাৎ নিরাপত্তা ছিল প্রধান বিষয়। প্রায় সব ক্ষেত্রেই তারা স্বল্পকালীন বা কখনো কখনো দীর্ঘকালীন আশ্রয় পেয়েছে। ওই সময়ে খাবার সংকট বড় সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। যেহেতু আশ্রয়দানকারীও অনেক ক্ষেত্রে দরিদ্র ছিল, তাই স্বল্পসময়ের জন্য কাউকে তারা আশ্রয় দিতে পেরেছে, দীর্ঘকালীন আশ্রয় দেয়া তাদের পক্ষে সম্ভব ছিল না।
পারিবারিক
দায়িত্ব হিসেবেই
বিপদগ্রস্তদের আশ্রয়
দিয়েছে আত্মীয়রা,
তাদের অর্থনৈতিক
অবস্থা যাই হোক না কেন। অনেক ক্ষেত্রে আশ্রিতরা
একপর্যায়ে নিজেরাই
নিজেদের খাবার
সংগ্রহ ও আলাদা রান্না
করে খেয়েছে।
স্বল্পসময়ের জন্য অচেনা মানুষকেও
অনেকে আশ্রয়
দিয়েছে। অনেক পরিবারের উল্লেখ
পাওয়া যায়, যারা সারা বছর ভারতে
যাওয়া মানুষকে
খাবার দিয়ে সহায়তা করেছে।
সম্ভবত এ আশ্রয় প্রদান
কাঠামোর কারণে
মানুষ টিকে থাকতে পেরেছে,
অনেক ক্ষেত্রে
জানে বেঁচেছে।
শুধু পাশের দেশেই
মানুষ চলে যায়নি, দেশের
ভেতরেও মানুষ
এক স্থান
থেকে অন্য স্থানে আশ্রয়
নিয়েছে। অনেক মানুষ গ্রাম
থেকে গ্রামে
গেছে, শহর থেকে গ্রামে
গেছে এবং গ্রামের কেউ কেউ আবার শহরে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।
ওই সময়ে লুট হয়ে যাওয়া ঘরবাড়ি,
পুড়ে যাওয়া
ফসল বা ঘর, রুজির
সীমাবদ্ধতা নিয়ে বেঁচে থাকাটাই
ছিল সবচেয়ে
বড় বাস্তবতা।
মুক্তিবাহিনী কোনো গ্রামে বা অঞ্চলে সক্রিয়
না হলে পাকিস্তানিরা সাধারণত
সেখানে বারবার
হানা দেয়নি।
যাতায়াতের সমস্যা
থাকার কারণেও
পাকিস্তানিরা অনেক এলাকায় যায়নি।
তবে কোনো এলাকায় পাকিস্তানি আর্মি একবার আক্রমণ চালানোর পর সাধারণ মানুষের যে ক্ষতি হতো সেটাই তাদের পক্ষে সামাল দেয়া ছিল অত্যন্ত কষ্টকর। মানসিক দুর্ভাবনা ছিল বড় ক্ষতি।
যাতায়াত ও খাওয়ার কষ্ট: আর্থিক ও খাদ্যের কষ্টে প্রায় প্রতিটি মানুষ জীবন কাটিয়েছে। যেহেতু যুদ্ধের কারণে স্বাভাবিক জীবন ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে, তার সঙ্গে সঙ্গে অর্থনৈতিক কাঠামোও দুর্বল হয়ে যায়। যাতায়াত করাটা ছিল কেবল দুর্গম নয়, অত্যন্ত বিপজ্জনক। যেকোনো স্থানে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকত। পাকিস্তানি আর্মি খোঁজ নিত মুক্তিবাহিনী বা তাদের সহায়কদের। আর স্থানীয় রাজাকাররা সুযোগ পেলে পথযাত্রীদের নিয়মিত লুট করত। এসব কারণে অনেকেই তাদের যাতায়াত কমিয়ে দিয়েছিল। প্রয়োজন ছাড়া বাজার বা রাস্তায় কম গেছে। তবে এর মধ্যেও রুজি-রোজগারের প্রয়োজনে মানুষ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গেছে, জিনিসপত্র আনতে বেচতে।
যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে অর্থনৈতিক কার্যক্রম যেমন বাধাগ্রস্ত হয়, একই কারণে স্থানীয় বড় বড় বাজারও ছোট হতে থাকে। কারণ ক্রেতাদের দূর থেকে এসে খরচ করে জিনিসপত্র নিয়ে যাওয়াটা নিরাপদ ছিল না। ফলে গ্রামীণ অর্থনীতি সংকীর্ণ হতে থাকে এবং কাজকর্ম কমে যায়। সংগৃহীত তথ্য থেকে বোঝা যায়, অনেকেই পেশা পরিবর্তন করতে বাধ্য হয় এবং বিকল্প পেশার দিকে মানুষের নজর পড়ে। কিন্তু তেমন সুযোগ কম থাকায় তুলনামূলক দারিদ্র্য বেড়েছিল। কিছুটা হলেও ভালো অবস্থায় ছিল বেতনভুক্ত মানুষ। ওই সময় লবণ ও কেরোসিন তেল ছাড়া অন্য জিনিসপত্রের দাম চাহিদার অভাব থাকায় তেমন বাড়েনি। ’৭০ সালের ঘূর্ণিঝড়ের কারণে দেশে লবণ উৎপাদন অনেক কমে যায়। তাই লবণের দাম বিত্তহীনদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে চলে যায়। তারা লবণের বিকল্প হিসেবে গাছের ছাল, এমনকি লবণাক্ত মাটি ব্যবহার করেছে।
গ্রামের স্কুলের অবস্থা: ’৭১ সালে গ্রামের স্কুলগুলো চালু থাকলেও শিক্ষার্থীরা খুব একটা যায়নি। সংগৃহীত তথ্যে দেখা যায়, কিছু স্কুল খোলা থাকলেও শিক্ষকরা কেবল চাকরি রক্ষার জন্য স্বাক্ষর করতে যেতেন। সেদিক থেকে শিশুদের ওই সময়ে খেলাধুলার সুযোগ বেশি ছিল। নিজের পরিবার, গ্রাম, অঞ্চল ক্ষতিগ্রস্ত না হলে তাদের জন্য এটি একটি মিশ্র অভিজ্ঞতার সময় ছিল। কারণ দুশ্চিন্তা ছিল সবার নিত্যসঙ্গী।
ঋণ ব্যবস্থা: গ্রামীণ অর্থনৈতিক কাঠামো দুর্বল হয়ে যাওয়ার ফলে কয়েকটি পেশা প্রায় বিলুপ্ত হয়ে যায়। কিন্তু তার পরও গ্রামের মধ্যে ঋণের প্রয়োজন ছিল নানা কারণে, যেটি আসতে থাকে পারিবারিক বা পাড়ার পর্যায় থেকে। যেহেতু ঋণ নিয়ে যে সম্পদ গচ্ছিত রাখা হয় তার নিরাপত্তা দেয়া কঠিন ছিল, তাই বন্ধকি ব্যবসা দুর্বল হয়ে পড়ে। চুরি-ডাকাতির ভয়ে মানুষ সাধারণত নিজের আর্থিক অবস্থা গোপন রাখতে চাইত। নিজেদের টিকিয়ে রাখার জন্য ধনীদের বিভিন্ন শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে হতো, যাদের কেউ মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের আবার কেউ বিপক্ষের ছিল।
যেহেতু
সমাজ আঘাতপ্রাপ্ত হয়, তাই নৈতিকতা,
মূল্যবোধ ও সম্পর্কের কাঠামো
ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সাধারণ মানুষের
জন্য লড়াই ছিল দুটি।
একটি ব্যক্তি
বা পারিবারিক
জীবনে টিকে থাকা, অন্যটি
সমাজে টিকে থাকা। যেহেতু
পরিবার ও সমাজ একই সূত্রে গাঁথা,
তাই যুদ্ধের
কারণে উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সমাজের ওপর যুদ্ধের যে নেতিবাচক চাপ তৈরি হচ্ছিল
তা ক্রমেই
বেড়েছে।
মানুষের জীবন ও ধর্মচর্চার ওপরও যুদ্ধের প্রভাব পড়েছিল। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে মসজিদের ইমামরা যুদ্ধ বা পাকিস্তানের পক্ষে জুমার নামাজে খুতবা দেননি। তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে রাজনৈতিকভাবে সক্রিয় ইমামরা এ কাজটি করেছেন। অনেক গ্রামের মসজিদের ইমাম নিজেও নির্যাতনের একজন ভুক্তভোগী ছিলেন। অনেক ক্ষেত্রে তাকে চলতে হয়েছে গ্রামবাসীর সহায়তা নিয়ে। অতএব নির্যাতনকারীর পক্ষে কথা বলার কারণ খুব একটা ছিল না। মানুষের সঙ্গে তার সম্পর্কের ভিত্তি ছিল সামাজিক, রাজনৈতিক নয়।
শুক্রবারের দিন নামাজ পড়তে যাওয়া, একত্রে মিলিত হওয়ার সুযোগ হলেও ঈদের নামাজ প্রধানত উৎসবকেন্দ্রিক, কিন্তু যুদ্ধাবস্থায় ঈদ পালনের অভিজ্ঞতা গ্রামবাসীর জন্য ছিল কষ্টের। যেহেতু হাতে টাকা-পয়সা বা নিরাপত্তা কোনোটাই ছিল না। ওই বছরে মানুষ ঈদকে মনে রেখেছে একটি নিরানন্দ অভিজ্ঞতা হিসেবে। অর্থাৎ ঈদ পালিত হয়েছে, উদযাপন হয়নি। বেশির ভাগ মানুষ পুরনো পোশাক পরেই ঈদের মাঠে গেছে। কিছু স্থানে দেখা গেছে, ঈদের মাঠে মুক্তিযোদ্ধাদের পাহারায় নামাজ হয়েছে। একই সঙ্গে রোজার সময় ইফতারির স্বল্পতার কথা শোনা যায়, যদিও মানুষরা নিয়মিত রোজা রেখেছে।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকে হিন্দু জনগোষ্ঠী পূজামণ্ডপে গিয়ে তেমন পূজা করতে পারেনি। অনেকে ঘরের এক কোনায় প্রতিমা রেখে পূজা করেছে। তবে ভয়ে উলুধ্বনি দিত না।
ধর্ম এবং বাস্তবতাকে
মানুষ কীভাবে
মেলানোর চেষ্টা
করেছে তার উদাহরণ পাওয়া
যায় একটি হিন্দু বিয়ের
বিবরণ থেকে।
পরিবারের কয়েকজনের
উপস্থিতিতে উৎসবহীন
ওই বিয়েতে
পুরোহিত মন্ত্র
পড়েছেন, কিন্তু
এই মন্ত্র-উচ্চারণ ছিল প্রায় নীরবে।
নারীদের সংকট ও চিকিৎসা ব্যবস্থা: যাত্রাপথ ছিল যেকোনো নারীর জন্য নির্যাতনের কষ্টকর অভিজ্ঞতা। এটি কেবল তাদের যাত্রাপথের বিপদ বা মানসিক দুর্ভাবনা ছিল না। নারীর ব্যক্তিগত প্রাকৃতিক বিষয় একটি বড় কষ্টের জায়গা ছিল। তাদের পক্ষে সব জায়গায় মলমূত্র ত্যাগ করা সম্ভব হতো না। অতএব প্রাকৃতিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য অনেক ক্ষেত্রে যাত্রাপথে তাদের রাতের জন্য অপেক্ষা করতে হতো। কোনো স্থানে আশ্রয় নিলে তাদের ভাবনা হতো যৌন নির্যাতন হয় কিনা। এছাড়া সঙ্গে থাকত বাচ্চাকাচ্চা, যাদের সামলানোর দায়িত্ব ছিল তাদের। কিছু কিছু ক্ষেত্রে পরিবার থেকে শিশুদের বিচ্ছিন্ন হওয়ার উল্লেখ পাওয়া যায়। পথের মধ্যে সবসময় নজর রাখাও সম্ভব হতো না, বিশেষ করে অন্ধকার নামলে। বিভিন্ন তথ্য থেকে বোঝা যায়, নারীর প্রাকৃতিক ও যৌননিরাপত্তার বিষয়টি ছিল বড় দুশ্চিন্তার কারণ।
পাকিস্তানি সেনারা কোনো গ্রামে হানা দিলে মানুষ পালিয়েছে। তাদের প্রধান লক্ষ্য ছিল শিশু ও মেয়েদের রক্ষা করা। পালিয়ে গেলে নারীরা কীভাবে প্রাকৃতিক পরিস্থিতি সামাল দেবে সেটা কারো মনে আসেনি, এমনকি ভুক্তভোগীরও না। অতএব বন-বাদাড়, পুকুর-নদীতেই মানুষ তার প্রাকৃতিক প্রয়োজন মিটিয়েছে।
যেকোনো
পরিস্থিতিতে প্রাকৃতিক
কাজ সম্পন্ন
করা ছিল নারীর জন্য কঠিন। বিপদের
মধ্যে নারীর
ঋতুস্রাবকালীন সমস্যা
সামলানো ছিল আরো কঠিন ব্যাপার। অনেক ক্ষেত্রে এ ঋতুস্রাব ঘটেছে
যাত্রাপথে। তখন কাপড় সন্ধান
করে, লজ্জা
নিবারণ করে, পথের কষ্ট সহ্য করে গন্তব্যে পৌঁছানো
ছিল দুরূহ।
শরণার্থীদের মধ্যে কেউ অন্তঃসত্ত্বা হলে তাদের সংকট ছিল আরো প্রকট। এতে তাদের পথচলার কষ্ট যেমন বাড়ত, তেমনি ছিল চিকিৎসার অভাব। ভারতে পৌঁছানোর পর শরণার্থীদের মধ্যে এ সংকট ছিল ব্যাপক আকারে।
সাধারণভাবে ’৭১ সালে চিকিৎসা ব্যবস্থা দুর্বল ছিল। অনেকেই বিভিন্ন রকম প্রাকৃতিক ওষুধ ব্যবহার করলেও শিশু হওয়ার সময় দাই বা ডাক্তারের বিকল্প ছিল না। ’৭১ সালে শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার বেশি ছিল।
প্রতিরোধ ও প্রস্তুতি: ১৯৭১ সালে প্রতিরোধ ও প্রতিশোধ দুটিই ছিল। অর্থাৎ পাকিস্তান আর্মি ও তাদের সহযোগীদের ঠেকানোর চেষ্টা যেমন হয়েছে, তেমনিভাবে তাদের হাতে যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা প্রতিশোধ নেয়ার চেষ্টা করেছে। স্মরণীয়, ঊনসত্তরের আগে বাংলাদেশের গ্রামগুলো জাতীয় রাজনীতির সঙ্গে এতটা সম্পৃক্ত ছিল না। ১৯৭০ সালের নির্বাচন এ অবস্থাটা পাল্টে দেয় এবং ১৯৭১ সালের মার্চ মাসের পর মানুষের মধ্যে এক ধরনের রাজনৈতিক ঐক্য সৃষ্টি হয়।
২৫ মার্চের আক্রমণের পরে প্রায় মাসখানেক লেগে যায় পাকিস্তানি সেনাদের গোটা বাংলাদেশের ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করতে। ঢাকার ওপর আক্রমণের পর এবং সেনাবাহিনী কর্তৃক বিভিন্ন স্থান দখল নেয়ার আগ পর্যন্ত ছিল প্রতিরোধের কাল। এ সময় গ্রামে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বলতা দেখা যায়নি। তবু মানুষ দুশ্চিন্তার মধ্যে সময় কাটিয়েছে।
ঢাকাসহ অন্য শহর থেকে বহু মানুষ বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে পড়েছে, বিশেষ করে তাদের নিজস্ব গ্রামের বাড়িতে। তারাই শহরের সংবাদ গ্রামে নিয়ে যায়। এছাড়া আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম থেকেও সাধারণ মানুষ এসব বিষয় জানতে পায়। ফলে প্রস্তুতির প্রক্রিয়া বা মানুষজনকে সক্রিয় করে তোলা একদিকে যেমন সহজ ছিল, অন্যদিকে এ সময়টা ছিল অনিশ্চয়তার, মানুষের মধ্যে ছিল ব্যাপক উদ্বেগ।
ঢাকা আক্রমণ থেকে পাকিস্তানের পুনর্দখল পর্যন্ত বাংলাদেশ ছিল স্থানীয় মানুষের নিয়ন্ত্রণে। এ অন্তর্বর্তীকালে বাংলাদেশপন্থীদের সঙ্গে পাকিস্তানপন্থী সামরিক ও বেসামরিক মানুষের একাধিক সংঘর্ষ হয়।
প্রতিরোধকালে গ্রামগুলো এক ধরনের জনশক্তি ও রসদের সরবরাহ কেন্দ্রে পরিণত হয়। বাংলাদেশের গ্রামগুলো সে অর্থে রাজনৈতিকভাবে একেকটি ‘দুর্গে’ পরিণত হয়। এটি কেবল রাজনৈতিক ছিল, তা নয়। নিজেকে রক্ষার মাধ্যমে গ্রাম রক্ষার ভাবনা ব্যাপক প্রভাবিত করেছে একাত্তর সালের ইতিহাসকে। এপ্রিলের শেষের দিকে বাংলাদেশ পুনর্দখলে নেয় পাকিস্তানিরা। তখন তারা এদেশের মানুষের ওপর প্রতিরোধকালের কর্মকাণ্ডের জন্য প্রতিশোধ নেয়।
পাকিস্তানিরা বাংলাদেশ পুনর্দখলের পর কিছু কিছু ক্ষেত্রে গ্রামের মানুষ গ্রামরক্ষা করার জন্য পাকিস্তানিদের সঙ্গে সম্পর্ক রেখেছে। অন্যদিকে একই কারণে মানুষ সশস্ত্র যুদ্ধে জড়িয়েছে সহায়ক বা সক্রিয়ভাবে। নিরস্ত্র এবং সশস্ত্র সংগ্রামকে বিচ্ছিন্ন করে দেখাটা সম্ভব নয়। সাধারণ মানুষের কাছে ভূমি বা জনপদ রক্ষার আন্দোলন বড় বাস্তবতা ছিল।
নিরস্ত্র প্রতিরোধে সবাই অংশগ্রহণ করলেও সশস্ত্র যুদ্ধে যারা অংশ নেয় তাদের কয়েকটি সূচক লক্ষ করা যায়। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এরা ছিল তরুণ। এ তরুণদের মধ্যে আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ ও বাম সংগঠনের সদস্যরা রাজনৈতিক পরিচয়ে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর সদস্যরাও ব্যাপক হারে যুদ্ধে অংশ নিয়েছিল। তারা যুদ্ধে গেছে প্রতিশোধ নিতে অথবা গ্রাম বা পাড়াকে নিরাপদ করতে। মার্চ-এপ্রিলের পর পরই এরা প্রশিক্ষণের জন্য ভারতে চলে যায় এবং ফিরে এসে সশস্ত্র ভূমিকায় সক্রিয় হয়। তরুণদের জন্য ওই সময়টা ছিল বিভিন্ন ধরনের বিপদের কাল। কেননা তরুণদের সন্দেহ করা হতো মুক্তিযুদ্ধের সহায়ক বা হবু মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে।
একসঙ্গে
থাকা, একই অভিজ্ঞতার সম্মুখীন
হওয়া এবং একই আবেগের
বশবর্তী হয়ে অনেক তরুণের
যুদ্ধে অংশগ্রহণ
ছিল লক্ষণীয়।
তরুণদের আর্থসামাজিক পরিচয়টা এ কারণে
গুরুত্বপূর্ণ। এ তরুণদের সবার রাজনৈতিক পরিচয়
ছিল না। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে এরা ছিল সমাজের
মধ্য বা কম বিত্তের
মানুষ। (ইউপিএল
প্রকাশিত ‘গ্রামের
একাত্তর’ বই থেকে নেয়া)
আফসান চৌধুরী: মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক গবেষক ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব