কৃষি ভাবনা

ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধির চাপ সামলাতে লক্ষ্যভিত্তিক কৃষি ভর্তুকি দেয়া উচিত

জ্বালানি তেলের দাম দফায় দফায় বাড়ার প্রধান কারণ হলো আন্তর্জাতিক বাজারে এর মূল্যবৃদ্ধি। গত বছর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল প্রায় ৬০ ডলার।

গ্রামবাংলার মানুষের জীবনযাত্রায় জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব এখন সরাসরি দৃশ্যমান। দেশের প্রায় সব গ্রামীণ পরিবার বিদ্যুতের আওতায় এলেও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক পরিবারকে এখনো বিকল্প জ্বালানি পণ্যের ওপর নির্ভর করতে হয়। কিন্তু সেসব পণ্য—যেমন কেরোসিনের দাম বেড়ে যাওয়ায় আলো জ্বালানো, রান্না কিংবা রাতে মাছ ধরার মতো কাজে ব্যয় বেড়েছে। অন্যদিকে কৃষকের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ডিজেলের মূল্যবৃদ্ধি। সেচ, জমি প্রস্তুত, ফসল কাটা, মাড়াই ও কৃষিপণ্য পরিবহনে ডিজেলের ব্যবহার থাকায় এর দাম বাড়লে এর সরাসরি প্রভাব পড়ে উৎপাদন ব্যয়ে। নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্যের মধ্যে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি গ্রামীণ মানুষের ওপর বাড়তি চাপ তৈরি করেছে।

গত ২১ সেপ্টেম্বর থেকে কেরোসিন, ডিজেল, পেট্রল ও অকটেনের দাম আর এক দফা বেড়েছে। এর আগে চলতি বছরের এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম দুবার বেড়েছে। এবারের মূল্যবৃদ্ধি যোগ করে তিন দফায় জ্বালানি তেলের দাম প্রকারভেদে বেড়েছে লিটারে ৩৫-৪৫ টাকা। দেশের ইতিহাসে বর্তমানে জ্বালানি তেলের দাম সর্বোচ্চ। ২১ সেপ্টেম্বর সব প্রকার জ্বালানি তেলের দাম ২০ টাকা বেড়েছে প্রতি লিটারে। শতকরা হিসেবে ডিজেলের দাম ১৭ দশমিক ৪, কেরোসিন ১৪ দশমিক ৮, পেট্রল ১৪ দশমিক ৩ এবং অকটেন ১৩ দশমিক ৮ শতাংশ বেড়েছে।

জ্বালানি তেলের দাম দফায় দফায় বাড়ার প্রধান কারণ হলো আন্তর্জাতিক বাজারে এর মূল্যবৃদ্ধি। গত বছর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ছিল প্রতি ব্যারেল প্রায় ৬০ ডলার। বর্তমানে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের দাম হয়েছে প্রায় ১০০ ডলার, যা ৯০-১১০ ডলার পর্যন্ত ওঠানামা করছে। তাতে এ বছর মার্চ থেকে আগস্ট এ ছয় মাসে প্রায় ২২ হাজার ৮৭৫ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন। আন্তর্জাতিক বাজারে তেল ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় এমন লোকসান দিতে হচ্ছে বিপিসিকে। তা পুষিয়ে নিতেই তেলের দাম এভাবে বাড়ানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টদের দাবি।

অন্যদিকে দেশের বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতিও বিবেচনায় নিতে হচ্ছে সরকারকে। রাজস্ব আদায় আশানুরূপ না হওয়ায় সরকারের ব্যয় নির্বাহে ব্যাংক খাত থেকে ঋণ নেয়ার প্রয়োজন হচ্ছে। এরই মধ্যে সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানো হয়েছে, যার ফলে সরকারের বার্ষিক ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। এসব ব্যয়ের চাপ শেষ পর্যন্ত কর ও ভ্যাটসহ বিভিন্ন মাধ্যমে জনগণের ওপর পড়তে পারে। একই সময়ে কৃষি উপকরণের মূল্যবৃদ্ধির কারণে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে। ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়ের পাশাপাশি কৃষকের ওপরও তৈরি হচ্ছে বাড়তি চাপ।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির অভিঘাত বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন নয়। সত্তর দশকের শুরু ও শেষ দিকে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধিকে কেন্দ্র করে বিশ্ব অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধির স্থবিরতা দেখা দিয়েছিল। পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন দেশে ব্যয় সংকোচন ও অর্থনৈতিক সংস্কারের উদ্যোগ নেয়া হয়। কৃষিসহ বিভিন্ন খাতে ভর্তুকি কমানোর ফলেও কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিলেন। বর্তমান পরিস্থিতিতে অতীতের সেই অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেয়া প্রয়োজন। কারণ বাংলাদেশের মতো কৃষিনির্ভর অর্থনীতিতে উৎপাদন ব্যয় হঠাৎ বেড়ে গেলে এর প্রভাব শুধু কৃষকের আয়েই সীমাবদ্ধ থাকে না; খাদ্য সরবরাহ ও বাজারদরেও তার প্রভাব পড়ে।

দেশে যে পরিমাণ জ্বালানি তেল ব্যবহার করা হয় তার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ডিজেল ও কেরোসিন। এর বড় অংশ ব্যয় হয় গ্রামীণ অর্থনীতিতে। কেরোসিন ব্যবহৃত হয় মূলত আলো জ্বালানোর জন্য এবং চুলায় রান্নার কাজে। আর ডিজেলের ব্যবহার হয় প্রধানত যান্ত্রিক চাষ, সেচ, ফসল কাটা, মাড়াই ও পরিবহনকাজে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে প্রায় ৭৪ লাখ টন জ্বালানি তেল বিক্রি করা হয়েছিল। এর মধ্যে শতকরা প্রায় ৭৫ ভাগই ডিজেল। তার ২৪ ভাগ ব্যবহৃত হয়েছে কৃষি খাতে, পানি সেচের জন্য। এছাড়া বিভিন্ন মিল পরিচালনা করা, যানবাহন চালানো, নৌকা চালানো ইত্যাদি ক্ষেত্রেও ডিজেলের ব্যবহার হচ্ছে। এগুলোর ব্যবহারকারী গ্রামের সাধারণ মানুষ। অতএব, তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে সবচেয়ে বেশি অসুবিধায় পড়েছেন গ্রামীণ অর্থনীতির অংশীজনরা।

সাম্প্রতিক তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে সবচেয়ে বড় ধরনের অভিঘাত এসেছে সেচনির্ভর কৃষিতে। সেচ দেয়া কৃষকদের উৎপাদন খরচ বেড়ে যাবে। ফলে কৃষির উৎপাদন থেকে নিট মুনাফা কমবে। কৃষকরা এতে কৃষির উৎপাদনে নিরুৎসাহিত হতে পারেন। সেচ ও যান্ত্রিক চাষের সম্প্রসারণ বাধাগ্রস্ত হলে আধুনিক কৃষির বিকাশও ব্যাহত হতে পারে। এর প্রভাব পড়তে পারে সামগ্রিক কৃষি উৎপাদন ও খাদ্য আমদানির ওপর। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশে প্রায় ৭৬ লাখ টন খাদ্যশস্য আমদানি হয়েছে। কৃষি উৎপাদনের প্রবৃদ্ধি কমে গেলে ভবিষ্যতে আমদানির ওপর নির্ভরতা আরো বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

বিশেষ করে সামনে রবি ও বোরো মৌসুম। এ সময় সেচের জন্য ডিজেলের ব্যবহার বাড়ে। ফলে বর্তমান মূল্যবৃদ্ধির প্রকৃত প্রভাব তখন কৃষকের উৎপাদন ব্যয়ে আরো স্পষ্ট হয়ে উঠবে। গত দুই বছর কৃষি খাতের প্রবৃদ্ধির হারও ৩ শতাংশের নিচে ছিল। এ অবস্থায় উৎপাদন ব্যয় আরো বেড়ে গেলে কৃষির প্রবৃদ্ধিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। তাই কৃষিকে এ বাড়তি ব্যয়ের অভিঘাত থেকে সুরক্ষা দেয়ার বিষয়টি এখনই বিবেচনা করা প্রয়োজন।

বাংলাদেশে বর্তমানে বিদ্যুচ্চালিত পানি সেচের ক্ষেত্রে কিছু ভর্তুকি দেয়া হচ্ছে। সেচকাজে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিলের ২০ শতাংশ কৃষকদের রেয়াত দেয়া হচ্ছে। তাতে উপকৃত হচ্ছেন বিদ্যুৎতায়িত গভীর নলকূপ, অগভীর নলকূপ এবং শক্তিচালিত পাম্প ব্যবহারকারী মুষ্টিমেয় কিছু কৃষক। তাদের অধীনে রয়েছে মাত্র প্রায় ৫০ শতাংশ সেচ এলাকা। বাকি ৫০ শতাংশ এলাকায় সেচ প্রদানকারী কৃষকরা ডিজেল ব্যবহার করছেন বিধায় তারা ওই ভর্তুকির সুবিধা পাচ্ছেন না। পানি সেচে ব্যবহৃত ডিজেলের ওপর ভর্তুকি দেয়া হলে তা কৃষকদের কাছে সঠিকভাবে পৌঁছাবে কিনা এবং কী পদ্ধতিতে তা প্রদান করা হবে এ নিয়ে প্রশ্ন আছে। তবে পানি সেচের জন্য যে কৃষক ডিজেল কিনবেন তার ভাউচারে প্রদর্শিত টাকার অংকের ওপর ২০ শতাংশ নগদ ভর্তুকি প্রদান করা তেমন জটিল কাজ বলে মনে হয় না। ডিজেলের দাম এবার প্রায় ১৭ শতাংশ বেড়েছে। এর বহুমুখী নেতিবাচক প্রভাব রয়েছে। তাতে কৃষকদের উৎপাদন খরচ বাড়তে পারে প্রায় ১৫-২০ শতাংশ। এ পরিমাণ টাকা নগদ ভর্তুকি প্রদান কৃষকদের জন্য খুবই প্রয়োজন। পাশের কোনো কোনো দেশে সেচের ওপর ভর্তুকি ৫০ শতাংশেরও বেশি।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে কৃষিপণ্য পরিবহনের খরচ বেড়েছে। তাতে বেড়ে গেছে কৃষিপণ্যের বিপণন খরচও। এবারে বিভিন্ন প্রকার জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে প্রায় ১৪ থেকে সাড়ে ১৭ শতাংশ। কিন্তু বাস, ট্রাক, টেম্পো এবং লঞ্চের মালিকরা দেশের বিভিন্ন স্থানে অলিখিতভাবে পরিবহন ভাড়া বাড়িয়ে দিয়েছেন তার চেয়ে বেশি হারে। সরকার শুধু ডিজেলচালিত বাস ভাড়া বৃদ্ধির অনুমোদন দিয়েছে। অথচ সিএনজিচালিত বাস ভাড়াও মালিকরা বাড়িয়ে দিয়েছেন। ফলে সাধারণ মানুষ ও কৃষকরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির ফলে বাজারে কৃষিপণ্যের দাম আরো এক ধাপ বেড়ে গেছে। নতুন বেতন স্কেল অনুমোদন, আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের বিপরীতে টাকার মূল্যহ্রাস, আমদানিতে পণ্যের পরিবহন খরচ বৃদ্ধি ইত্যাদি কারণে দেশের অভ্যন্তরে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সম্প্রতি বেড়েছে। এবার তেলের মূল্যবৃদ্ধির কারণে কৃষিপণ্যের দাম আরো এক ধাপ বেড়ে যেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তদুপরি এক শ্রেণীর অসাধু সিন্ডিকেট তেলের দাম বৃদ্ধিসহ অন্যান্য অজুহাতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের বাজারে বিদ্যমান অস্থিতিশীলতাকে আরো উসকে দিচ্ছে। কিন্তু কৃষক তার উৎপাদিত পণ্য বিক্রির ক্ষেত্রে এ মূল্যবৃদ্ধির সুবিধাটুকু পাচ্ছেন না। এ পরিস্থিতিতে বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে তদারকি আরো বাড়ানো দরকার। ভোক্তাদের চাহিদা মেটানো জন্য অপ্রধান শস্যগুলোর আবাদ উৎসাহিত করা প্রয়োজন। বিশেষ করে বৃষ্টিনির্ভর কৃষির উৎপাদনকে অধিকতর উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর ও নিবিড় করতে হবে।

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পাশাপাশি সার, কীটনাশক ও বীজের ঊর্ধ্বমুখী দামও কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে। ফলে কৃষক একাধিক দিক থেকে ব্যয়ের চাপে পড়ছেন। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম কমলে দেশেও দ্রুততার সঙ্গে জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে কর ও ভ্যাটের হার যৌক্তিক পর্যায়ে কমানোর বিষয়টিও বিবেচনা করা যেতে পারে। জ্বালানি তেলের দাম কমানোর সুযোগ তৈরি হলে তার সুফল কৃষক ও সাধারণ ভোক্তার কাছে পৌঁছানো নিশ্চিত করতে হবে।

দীর্ঘমেয়াদে কৃষির একক জ্বালানি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমানোও জরুরি। সৌরশক্তি ও অন্যান্য নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে হবে। বিশেষ করে সেচে সৌরশক্তির ব্যবহার সম্প্রসারণের সুযোগ রয়েছে। পাশাপাশি বৃষ্টিনির্ভর কৃষির উৎপাদনশীলতা বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার এবং পানি ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন করা প্রয়োজন। এতে কৃষিতে ডিজেলনির্ভরতা কিছুটা কমানো সম্ভব হবে।

এছাড়া দিনের আলোয় বেশির ভাগ কাজ করা ও প্রাকৃতিক গ্যাসের অনুসন্ধান করা ইত্যাদির মাধ্যমে জ্বালানি তেলের ব্যবহার হ্রাস করা সম্ভব। তবে এসব দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগের সুফল পেতে সময় লাগবে। তাৎক্ষণিকভাবে কৃষকের উৎপাদন ব্যয়ের চাপ কমানোই এখন প্রধান প্রয়োজন। তাই ডিজেলনির্ভর সেচ ব্যবস্থার আওতায় থাকা কৃষকদের জন্য অন্তত ২০ শতাংশ লক্ষ্যভিত্তিক নগদ ভর্তুকি দেয়ার বিষয়টি সরকার বিবেচনা করতে পারে। একই সঙ্গে ভর্তুকি প্রকৃত কৃষকের কাছে পৌঁছাচ্ছে কিনা, সেচের ব্যয় কতটা কমছে এবং কৃষিপণ্যের দামে এর প্রভাব কী হচ্ছে—তা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পুরো চাপ কৃষকের ওপর ছেড়ে দিলে তা শুধু কৃষকের আয় কমাবে না, খাদ্য উৎপাদন ও বাজারদরেও এর প্রভাব পড়তে পারে। তাই একদিকে সরকারি ব্যয়ে প্রয়োজনীয় সংযম, অন্যদিকে উৎপাদনশীল খাত হিসেবে কৃষিতে লক্ষ্যভিত্তিক সহায়তা—এ দুই দিককে সমন্বয় করেই বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবেলা করা প্রয়োজন।

ড. জাহাঙ্গীর আলম: কৃষি অর্থনীতিবিদ। সাবেক উপাচার্য, ইউনিভার্সিটি অব গ্লোবাল ভিলেজ (ইউজিভি) এবং সাবেক মহাপরিচালক, বাংলাদেশ প্রাণিসম্পদ গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএলআরআই)

আরও