[গতকালের
পর]
গ্রন্থটির
শেষ
দিকে
লেখক
একটি
অধ্যায়
নিবেদন
করেছেন
নোবেল
বিজয়ী
অর্থনীতিবিদ
অমর্ত্য
সেনের
উদ্দেশে।
অমর্ত্য
সেন
কেবলই
একজন
অর্থনীতিবিদ
নন।
একজন
মানবতাবাদী
দার্শনিক
ও
গণতন্ত্রমনা
সমাজবিজ্ঞানী
হিসেবেও
তার
জগত্ব্যাপী
সুনামও
রয়েছে।
গণতন্ত্র,
প্রাতিষ্ঠানিক
উন্নয়ন,
অর্থনৈতিক
প্রবৃদ্ধি
ইত্যাদি
বিষয়ে
অধ্যাপক
সেনের
রয়েছে
অনেক
অনেক
মৌলিক
গবেষণা,
প্রকাশনা
ও
তাত্পর্যপূর্ণ
আলোচনা।
বাংলাদেশের
সঙ্গে
তার
একটি
নাড়ির
সম্পর্কও
আছে।
তাই
স্বাভাবিকভাবেই
তিনি
এ
দেশ
ও
দেশের
মানুষের
প্রতি
বেশ
সহানুভূতিশীল
ও
সংবেদনশীল।
এই গুণীজন
বাংলাদেশের
উন্নয়নে
গর্ববোধ
করেন
এবং
সুযোগ
পেলে
অকপটে
আমাদের
মাতৃভূমির
প্রশংসাও
করেন।
তার
লেখা
পড়ে
ও
বক্তৃতা-বিবৃতি
শুনে
স্পষ্ট
বোঝা
যায়,
তিনি
মনেপ্রাণে
চান
গণতন্ত্র,
জবাবদিহিতা
ও
মানবিক
মূল্যবোধের
ওপর
ভর
করে
দক্ষিণ
এশিয়া
তথা
সারা
পৃথিবীর
দেশগুলো
দ্রুত
তরক্কির
দিকে
এগিয়ে
যাক।
অধ্যাপক
সেনের
মতে,
যেসব
দেশে
গণতন্ত্র
ও
গণতান্ত্রিক
আইনের
শাসনে
ঘাটতি
দেখা
দেয়,
সেসব
দেশের
স্বাধীন
সংবাদমাধ্যম
ও
সুশীল
সমাজের
গঠনমূলক
সরকারবিরোধী
সমালোচনা
জনগণের
অর্থনৈতিক,
সামাজিক
ও
রাজনৈতিক
অধিকারের
রক্ষাকবচ
হতে
পারে।
ইদানীং তিনি
‘Public
reasoning’-এর
মতো
একটি
নতুন
ধারণাকে
জোরালোভাবে
সামনে
নিয়ে
এসেছেন।
তিনি
মনে
করেন,
যেখানে
রাষ্ট্রীয়
প্রতিষ্ঠানগুলো
ও
নির্বাচনী
গণতন্ত্র
দিনে
দিনে
দুর্বল
থেকে
দুর্বলতর
হচ্ছে,
সেসব
দেশে
সামাজিক
সুবিচার
ও
মানবাধিকারের
নিশ্চয়তার
জন্য
‘Public
reasoning’
একটি
কার্যকর
ব্যবস্থা
হতে
পারে।
কিন্তু
আমার
প্রশ্ন,
যেখানে
সরকার
ও
রাষ্ট্র
একাকার
হয়ে
একটি
পূর্ণাঙ্গ
কর্তৃত্ববাদী
ব্যবস্থার
জন্ম
দেয়,
সেখানে
‘Public
reasoning’
করবে
কারা
এবং
তারা
কি-ইবা
হাসিল
করতে
পারবে?
আর
কিছু
করতে
পারলেই
বা
কী,
Public
reasoning তো
সংবিধানস্বীকৃত
গণতন্ত্র
ও
সুষ্ঠু
নির্বাচন
ব্যবস্থার
বিকল্প
হতে
পারে
না।
অমর্ত্য
সেন
আরো
বলেছেন,
‘দুনিয়ায়
এমন
কোনো
নজির
নেই,
যেখানে
গণতন্ত্র
প্রবৃদ্ধিকে
বাধাগ্রস্ত
করেছে।
এমনও
বলা
যায়
না
যে
উন্নয়নের
লক্ষ্যমাত্রা
অর্জিত
হওয়ার
পরেই
কেবল
একটি
জাতি
গণতন্ত্রের
জন্য
উপযুক্ত
হয়,
বরং
গণতন্ত্রের
মাধ্যমেই
উন্নতি
করার
কথা।’
এসব
বক্তব্যের
পর
তিনি
যখন লেখেন,
‘As long
as the economies are booming and the economic fortunes of all classes go up,
democratic rights may not be that important; but at the time of any economic
crises, the political and economic rights may be desperately missed by those
whose livelihoods are severely affected, which in turn may lead to disruptive
regime changes.’ (Mahmud: 2021 - p. 76) তখন
আমি
রীতিমতো
ধন্দে
পড়ে
যাই।
অমর্ত্য
সেনের
এ
বাক্যের
প্রথম
ও
শেষাংশ
একসঙ্গে
যায়
না।
তাই
আমি
স্পষ্টভাবে
বুঝতে
পারছি
না
এ
নোবেল
বিজয়ী
অর্থনীতিবিদ
এখানে
কী
বোঝাতে
চাইছেন?
অধ্যাপক ওয়াহিদউদ্দিন
মাহমুদ
তার
এ
বইয়ের
সব
শেষ
অধ্যায়ে
লিখেছেন
আরেকজন
নোবেল
বিজয়ীর
কথা,
যার
নাম
মুহাম্মদ
ইউনূস।
তিনিও
একজন
নোবেল
বিজয়ী
ব্যক্তিত্ব।
শিক্ষাদীক্ষায়
অর্থনীতিবিদ
হলেও
তিনি
পুরস্কারটি
পেয়েছেন
বিশ্ব
শান্তিতে।
মুহাম্মদ
ইউনূস
গ্রামীণ
ব্যাংকের
প্রতিষ্ঠাতা।
কিন্তু
এখানে
তার
উপস্থিতির
কারণ
গ্রামীণ
ব্যাংক
নয়,
বরং
তার
সামাজিক
ব্যবসার
ধারণা।
মুহাম্মদ
ইউনূস
তার
এ
তত্ত্ব
এমন
একসময়
জনসমক্ষে
হাজির
করেছেন
যখন
জগত্জুড়ে
মানুষ
পুঁজিবাদী
অর্থ
ব্যবস্থার
ওপর
আর
আস্থা
রাখতে
পারছে
না।
আমেরিকায় প্রেসিডেন্ট
বারাক
ওবামার
সময়ে
শুরু
হওয়া
‘অকুপাই
ওয়াল
স্ট্রিট’
আন্দোলনের
আগুন
পুরোপুরি
নিভে
গেছে,
একথা
বলা
যায়
না;
গণমানুষের
সেই
আবেগ
হয়তো
এখন
সুপ্ত
অবস্থায়
আছে।
এর
মাঝে
২০১৬-তে
ডোনাল্ড
ট্রাম্প,
‘America
first & Lets make America great again’ স্লোগান
নিয়ে
রাজনীতির
রঙ্গমঞ্চে
আবির্ভূত
হন।
মুক্ত
বাজার
বাণিজ্য
ও
বিশ্বায়নের
বিরুদ্ধে
মার্কিন
যুক্তরাষ্ট্রে
ব্যাপক
জনঅসন্তোষকে
কাজে
লাগিয়ে
তিনি
রক্ষণশীল
ধনী
ও
নিম্ন
আয়ের
শ্বেতাঙ্গ
মানুষগুলোকে
একত্র
করে
প্রেসিডেন্ট
নির্বাচিত
হয়ে
শুধু
আমেরিকার
জনগণকেই
নয়,
বরং
বিশ্ববাসীকে
রীতিমতো
তাক
লাগিয়ে
দিলেন।
তারপর
২০২০
সালে
পুনর্নির্বাচিত
হতে
না
পেরে
৬
জানুয়ারি
ওয়াশিংটন
ডিসির
‘ক্যাপিটল
হিল’-এ
ট্রাম্প
যে
তেলেসমাতি
কাণ্ড
ঘটালেন
তা
অবিশ্বাস্য
ও
অবিস্মরণীয়
ঘটনা
হিসেবে
আমেরিকার
ইতিহাসে
লেখা
থাকবে।
আটলান্টিকের ওপারে
আজকের
ব্রিটিশ
প্রধানমন্ত্রী
বরিস
জনসন
একই
পথের
পথিক।
২০১৬-তে
ট্রাম্প
যখন
তার
নির্বাচনী
প্রচারণা
জোরেশোরে
শুরু
করেছেন
তখন
বরিস
জনসনও
‘ব্রেক্সিট’
আন্দোলন
নিয়ে
রাজনীতির
ময়দান
চষে
বেড়াচ্ছেন।
জুনে
ব্রেক্সিট
ইস্যুতে
অনুষ্ঠিত
গণভোটে
তিনি
ও
তার
দল
জিতল
এবং
নভেম্বরে
আমেরিকায়
ট্রাম্প
প্রেসিডেন্ট
হলেন।
এই
দুই
যুগান্তকারী
ঘটনার
ধারাবাহিকতায়
সামনে
কী
আছে
আমরা
জানি
না।
তবে
রাজনীতি
ও
সমাজ
বিশ্লেষকদের
ধারণা
পুঁজিবাদ
ও
গণতন্ত্রের
জন্য
এমন
আত্মঘাতী
আলামত
অদূরভবিষ্যতে
ইউরোপ-আমেরিকার
অন্যান্য
দেশেও
দেখা
যেতে
পারে।
এ পটভূমিকায়
মুহাম্মদ
ইউনূসের
‘সামাজিক
ব্যবসা’র
পালে
হাওয়া
লাগলে
লাগতেও
পারে।
এবার
আমি
সামাজিক
ব্যবসার
ওপর
দু-চারটি
কথা
বলে
আমার
এ
লেখার
ইতি
টানব।
প্রথমেই
দেখা
যাক
সামাজিক
ব্যবসা
বিষয়টি
কী।
সংক্ষেপে
মুহাম্মদ
ইউনূস
তার
এই
নতুন
ধারণাকে
এভাবে
সংজ্ঞায়িত
করেছেন:
এটা
এমন
এক
ব্যবসা,
যা
তৈরি
করা
হয়েছে
কোনো
সামাজিক
সমস্যা
সমাধানের
লক্ষ্যে।
এ
ব্যবসায়
বিনিয়োগকারীর
মূল
পুঁজি
অক্ষত
থাকে,
তবে
তার
মুনাফা
কামাইয়ের
কোনো
সম্ভাবনা
নেই।
এই
নতুন
ব্যবসার
রূপরেখা
এমনভাবে
বিন্যাস
করা
হয়েছে,
তাতে
আপন
শক্তিতে
সে
কেবলই
টিকে
থাকার
সক্ষমতা
রাখে
না,
বরং
উত্তরোত্তর
উন্নতি
ও
সমৃদ্ধি
লাভের
সম্ভাবনায়
ভরপুর।
এ
থেকে
যা
আর্থিক
ফায়দা
পাওয়া
যায়
তা
একই
ব্যবসায়
অথবা
আরেকটি
সামাজিক
ব্যবসায়
বিনিয়োগ
করা
হয়।
মুহাম্মদ
ইউনূস
একদিকে
এটাকে
‘ব্যবসা’
বলছেন,
কারণ
এ
থেকে
মুনাফা
হয়,
যদিও
মুনাফার
লভ্যাংশ
বিনিয়োগকারীর
হাতে
পৌঁছে
না।
অন্যদিকে
তিনি
এই
নতুন
উদ্যোগকে
‘সামাজিক’
বলছেন,
কারণ
এটা
কোনো
বাণিজ্যিক
প্রতিষ্ঠান
নয়। মোদ্দাকথা,
সামাজিক
ব্যবসার
লক্ষ্য
ও
উদ্দেশ্য
সমাজের
উপকার
ও
মানুষের
সেবা
করা,
মুনাফা
হাসিল
নয়।
একই উদ্দেশ্যে
দেশ-বিদেশে
চ্যারিটেবল
ফাউন্ডেশন
(সিএফ), নন-প্রফিট
অর্গানাইজেশন
(এনপিও), নট
ফর
প্রফিট
অর্গানাইজেশন
(এনএফপিও) ও
করপোরেট
ফিলানথ্রপি অথবা
সিএসআরের
মতো
আরো
বিভিন্ন
ধরনের
প্রতিষ্ঠান
ও
কর্মতত্পরতা
রয়েছে।
এবার
প্রথমে
দেখা
দরকার
এগুলোর
মধ্যে
পারস্পরিক
সম্পর্ক
কী।
সমাজসেবামূলক
এ
প্রতিষ্ঠানগুলোয়
প্রায়ই
একটির
বদলে
আরেকটি
ব্যবহার
হয়।
আসলে
এদের
মধ্যে
বেশ
ভালো
রকমের
ব্যবধান
আছে।
প্রথমত
সব
সিএফই
এনপিও
কিন্তু
তার
উল্টোটা
সত্যি
নয়।
এ
দুয়ের
মাঝে
আরেকটা
তফাত
হলো
এনপিও আমেরিকার
‘রাজ্য
করপোরেট’
আইন
দ্বারা
নিয়ন্ত্রিত।
তার
বিপরীতে
সিএফ
সে
দেশের
ফেডারেল
কর
আইনের
দ্বারা
পরিচালিত
ও
নিয়ন্ত্রিত।
এবার
দেখা
যাক
এনপিও ও
এনএফপিও—এ
দুয়ের
মধ্যে
ফারাকটা
কী।
এই
দুই
ধরনের
প্রতিষ্ঠানই
মুনাফা
কামাই
করে
না,
তবে
তারা
আয়
করতে
পারে
তাদের
কল্যাণমূলক
সামাজিক
কার্যক্রম
জারি
রাখার
উদ্দেশ্যে।
তারা
তাদের
নিয়মিত
উদ্যোগের
মাধ্যমে
যে
আয়-উপার্জন
করে
তা
কাজে
লাগায়
ভিন্ন
পদ্ধতিতে।
এনপিও যাবতীয়
খরচ
বাদে
যা
নিট
আয়
থাকে
তা
সংগঠনকে
ফেরত
দিতে
বাধ্য।
এখানে
কর্মচারী-কর্মকর্তারা
বেতনের
বিনিময়ে
কাজ
করতে
পারেন
কিন্তু
চাঁদা
তুলে
তা
থেকে
কোনো
টাকা
নিতে
পারেন
না।
পক্ষান্তরে
এনএফপিও-তে
চাকরিরত
কর্মচারী-কর্মকর্তারা
চাঁদার
টাকার
একটি
অংশ
নিতে
পারেন।
এবার দেখব
সামাজিক
ব্যবসার
সঙ্গে
এদের
মিল-গরমিল
কোথায়।
এনপিও, এনএফপিওর
মতো
সামাজিক
ব্যবসায়
চাঁদা
আদায়
ও
চাঁদা
তোলার
মতো
কোনো
কাজকারবার
নেই।
মুহাম্মদ
ইউনূসের
এ
নতুন
ব্যবসা
চলে
বিনিয়োগের
ভিত্তিতে।
এর
বিপরীতে
এনপিও ও
এনএফপিও
চলে
মানুষের
দানের
ওপর
নির্ভর
করে।
এবার
দেখতে
চাই
সিএসআরের
সঙ্গে
সামাজিক
ব্যবসার
তারতম্যটা
কী।
সিএসআর
এককালীন
আসুক
অথবা
বারবার
আসুক,
এটাও
একটা
দান।
সামাজিক
ব্যবসা
কারো
কাছে
দান
চায়ও
না,
নেয়ও
না।
এখানে
কেবল
মুনাফাবিহীন
বিনিয়োগ
নেয়া
হয়।
সামাজিক
ব্যবসার
অংশীজনরা
তাদের
মূল
বিনিয়োগের
টাকা
তুলে
নিতে
পারেন,
তাই
এটা
দান
নয়।
আবার
এ
বিনিয়োগ
গতানুগতিক
বিনিয়োগও
নয়,
কারণ
এ
বিনিয়োগ
কোনো
মুনাফা
দেয়
না।
এ
ব্যবসা
চিরাচরিত
ব্যবসাও
নয়,
বরং
সামাজিক
ব্যবসা।
সামাজিক
ব্যবসার
অংশীজনরা
মুনাফা
পান
না,
সেকথাও
বোধ
করি
কঠিনভাবে
বলা
যায়
না।
সঠিকভাবে
বলতে
গেলে
বলা
উচিত
সামাজিক
ব্যবসার
বিনিয়োগকারী
কোনো
আর্থিক
মুনাফা
পান
না
ঠিকই,
তবে
এমন
এক
ধরনের
মনস্তাত্ত্বিক
প্রশান্তি
পান,
যার
মূল্য
আর্থিক
মুনাফাকেও
ছাড়িয়ে
যেতে
পারে।
সব শেষে
বলব,
সামাজিক
ব্যবসার
জন্য
যথেষ্ট
পরিমাণ
বিনিয়োগকারী
ও
বিনিয়োগযোগ্য
পুঁজি
কি
পাওয়া
যাবে?
যদি
যায়,
তাহলে
আমি
মনে
করি,
মুহাম্মদ
ইউনূসের
সামাজিক
ব্যবসা
গ্রামীণ
ব্যাংকের
চেয়েও
মৌলিক,
নতুন
ও
বাংলাদেশের
জন্য
আন্তর্জাতিক
গৌরব
অর্জনের
নিমিত্তে
হতে
পারে
আরেকটি
মোক্ষম
অনুষঙ্গ।
[শেষ]
আবু এন এম ওয়াহিদ: অধ্যাপক, টেনেসি স্টেট ইউনিভার্সিটি
ম্যানেজিং এডিটর: জার্নাল অব ডেভেলপিং এরিয়াজ