বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে চব্বিশের ৫ আগস্ট নিঃসন্দেহে যুগান্তকারী এক দিন। রাষ্ট্রক্ষমতার পরিবর্তন পৃথিবীর ইতিহাসে নতুন কিছু নয়। কিন্তু কিছু পরিবর্তন কেবল সরকার বদলের ঘটনা নয়, বরং রাষ্ট্র, সমাজ ও অর্থনীতির গভীরে দীর্ঘদিন ধরে জমে ওঠা সংকটের বহিঃপ্রকাশ। ৫ আগস্টের ঘটনাকেও সেই বৃহত্তর প্রেক্ষাপটেই দেখা প্রয়োজন। এটিকে যদি কেবল একজন নেতা কিংবা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা রাজনৈতিক দলের উত্থান-পতনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা হয়, তবে ইতিহাসের প্রতি সুবিচার হয় না। বরং এটি ছিল দীর্ঘ সময় (২০০৯-২৪) ধরে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক, প্রাতিষ্ঠানিক, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অসন্তোষের সম্মিলিত প্রকাশ।
যেকোনো রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা কেবল শক্তিশালী প্রশাসন, অবকাঠামো উন্নয়ন কিংবা অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর নির্ভর করে না। এগুলোর সঙ্গে সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ নাগরিকদের আস্থা, ন্যায্যতার অনুভূতি, প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা এবং রাজনৈতিক অন্তর্ভুক্তি। রাষ্ট্রের সঙ্গে নাগরিকের এ অলিখিত সামাজিক চুক্তি যখন দুর্বল হতে থাকে, তখন দৃশ্যমান স্থিতিশীলতার আড়ালেও গভীর অস্থিরতা জন্ম নিতে পারে। ইতিহাস আমাদের বারবার সেই শিক্ষা দিয়েছে। এ বাস্তবতাকে ব্যাখ্যা করার জন্য বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক দার্শনিক জন রল্সের ‘জাস্টিস অ্যাজ ফেয়ারনেস’ বা ‘সমদর্শিতাই ন্যায্যতা’ তত্ত্ব বিশেষভাবে প্রাসঙ্গিক। রল্সের মূল বক্তব্য অত্যন্ত সরল হলেও এর তাৎপর্য ছিল গভীর। তিনি মনে করেন, একটি রাষ্ট্রের শক্তি তার ক্ষমতায় নয়, বরং তার ন্যায্যতায়। কোনো রাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে সফল, প্রশাসনিকভাবে দক্ষ, এমনকি জনপ্রিয়ও হতে পারে; কিন্তু যদি তার মৌলিক প্রতিষ্ঠানগুলো নাগরিকদের সমান স্বাধীনতা, স্বাধিকার, ন্যায্য সুযোগ এবং মর্যাদাপূর্ণ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়, তবে সেই রাষ্ট্রের বৈধতা ধীরে ধীরে ক্ষয়িষ্ণুতার দিকে যেতে থাকে।
রল্স যে মৌলিক ‘ন্যায্যতার দুই মূলনীতি’র কথা বলেছেন, তার প্রথমটিই প্রত্যেক নাগরিকের সমান মৌলিক স্বাধীনতা নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়টি হলো, সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে সবার জন্য সুযোগের সমতা প্রতিষ্ঠিত করা এবং রাষ্ট্রের সুযোগ-সুবিধা ও সম্পদ এমনভাবে বণ্টিত হতে হবে যাতে সমাজের সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা মানুষ তার সর্বোচ্চ বরাদ্দ ও সুফল পায়। ন্যায্যতার এ দুই মূলনীতির আলোকে বিচার করলে স্পষ্ট হয় যে রাষ্ট্রের বৈধতা কেবল নির্বাচনের ফলাফল কিংবা প্রশাসনিক দক্ষতার ওপর নির্ভর করে না; বরং নাগরিকরা বাস্তবে কতটুকু ন্যায্যতা অনুভব করছেন তার ওপরও এটি নির্ভরশীল।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক অভিজ্ঞতায় এ প্রশ্নগুলোই ক্রমে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। গত দেড় দশকে অবকাঠামোগত উন্নয়ন, প্রবৃদ্ধি এবং উন্নয়ন আখ্যানের পাশাপাশি আরেকটি বাস্তবতাও দৃশ্যমান হয়ে ওঠে। একদিকে নাগরিকদের একটি অংশের মধ্যে রাজনৈতিক অংশগ্রহণ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা ও ন্যায্য সুযোগ নিয়ে ক্রমবর্ধমান উদ্বেগ, এবং অন্যদিকে রাষ্ট্রের প্রতি মানুষের আস্থা কেবল অর্থনৈতিক সাফল্যের ওপর টিকে থাকে না; বরং তার ভিত্তি থাকে এ বিশ্বাসের ওপর যে রাষ্ট্র সবার সঙ্গে সমান আচরণ করছে। রল্স এ সমদর্শিতাকেই ন্যায্যতার ভিত্তিমূল হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এ প্রেক্ষাপটে ২০২৪ সালের কোটা আন্দোলনকে কেবল একটি প্রশাসনিক নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ হিসেবে দেখলে ভুল হবে। এটি ছিল তরুণ প্রজন্মের ন্যায্যতার অনুভূতির বহিঃপ্রকাশ। চাকরি শুধু আয়ের উৎস নয়; সামাজিক ও জীনকুশলতার সক্ষমতা, মানবিক মর্যাদা, নাগরিক সমতা ও ভবিষ্যতের প্রতীক। যখন বিপুলসংখ্যক শিক্ষিত তরুণ মনে করে যে প্রতিযোগিতার ক্ষেত্রটি সমান নয়, তখন সেই অসন্তোষ ধীরে ধীরে বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রশ্নে রূপ নিতে পারে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানের ভাষায় এটিই ন্যায্যতার সংকট বা ক্রাইসিস অব ফেয়ানেস, আর রাজনৈতিক অর্থনীতির ভাষায় এটি বৈধতার সংকট বা ক্রাইসিস অব লেজিটিমেসি।
তবে কোনো রাষ্ট্রের সংকট কেবল একটি নীতিগত সিদ্ধান্ত থেকে জন্ম না-ও নিতে পারে। রাজনৈতিক বিজ্ঞান আমাদের শেখায়, বড় ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন সাধারণত ব্যাপক দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত কারণের ফল। অর্থনীতি, রাজনীতি, সামাজিক প্রত্যাশা, প্রতিষ্ঠান এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতি—এ সব উপাদান একে অন্যের সঙ্গে ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়ার মধ্য দিয়ে এমন একটি পরিস্থিতি তৈরি করে, যেখানে একটি ছোট ঘটনাও বৃহৎ পরিবর্তনের সূচনা করতে পারে। এ কারণেই ৫ আগস্টকে বুঝতে হলে আমাদের তাৎক্ষণিক ঘটনাপ্রবাহের বাইরে গিয়ে রাষ্ট্রের গভীরতর রাজনৈতিক অর্থনীতি এবং রাজনৈতিক সংস্কৃতির দিকে দৃষ্টি দিতে হবে।
কোনো রাষ্ট্রের স্থিতিশীলতা কেবল আইন, সংবিধান কিংবা অর্থনৈতিক সূচকের ওপর নির্ভর করে না; বরং এটি নির্ভর করে রাজনৈতিক সংস্কৃতির ওপরও। রাজনৈতিক সংস্কৃতি বলতে বোঝায় নাগরিক, রাজনৈতিক দল, রাষ্ট্র এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পারস্পরিক আচরণ, আস্থা, সহনশীলতা ও জবাবদিহির সেই সম্মিলিত সংস্কৃতিকে। এগুলোই গণতন্ত্রকে টিকিয়ে রাখে। যেখানে সংলাপের পরিবর্তে মুখোমুখি অবস্থান, সমঝোতার পরিবর্তে প্রতিদ্বন্দ্বিতার রাজনীতি এবং প্রতিষ্ঠানের পরিবর্তে ব্যক্তিনির্ভর শাসন ব্যবস্থা প্রাধান্য পায়, সেখানে রাজনৈতিক সংকট একসময় প্রাতিষ্ঠানিক সংকটে রূপ নেয়।
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রায় নির্বাচন ব্যবস্থার বিশ্বাসযোগ্যতা বরাবরই একটি কেন্দ্রীয় প্রশ্ন। ১৯৯৬ সালে সংবিধানের ত্রয়োদশ সংশোধনীর মাধ্যমে নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা প্রবর্তনের মূল যুক্তি ছিল দলীয় সরকারের অধীনে অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন নিয়ে রাজনৈতিক আস্থার ঘাটতি। সে সময় রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে একটি বিস্তৃত ঐকমত্য গড়ে উঠেছিল যে নির্বাচনকালীন একটি নিরপেক্ষ প্রশাসনিক ব্যবস্থা গণতান্ত্রিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিষয়।
পরবর্তীকালে ২০১১ সালে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সেই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বিলুপ্ত করা হয়। এর আগে আপিল বিভাগের রায়ে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থাকে সংবিধানের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও রায়টি এবং তার ব্যাখ্যা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে আইনজ্ঞ, রাজনীতিবিদ ও গবেষকদের মধ্যে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। এ সাংবিধানিক পরিবর্তনের পর অনুষ্ঠিত ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের প্রধান বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো, বিভিন্ন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি এবং আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকদের একটি অংশ নির্বাচনগুলোর অংশগ্রহণমূলক চরিত্র, প্রতিযোগিতামূলক পরিবেশ ও বিশ্বাসযোগ্যতা সম্পর্কে গুরুতর প্রশ্ন ও প্রমাণ উত্থাপন করে। ফলে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা, নির্বাচনকালীন সরকারের কাঠামো এবং গণতান্ত্রিক বৈধতা—এ তিন বিষয় জনপরিসরের অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়।
এখানে লক্ষণীয় যে সাংবিধানিক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় ক্ষমতাসীন দলের বিপরীতে বিরোধী মত ও পথের কার্যকর উপস্থিতি ছাড়া শাসকের জবাবদিহিতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায় না। জন কেনেথ গেলব্রেথ এটিকে বলেছেন ‘কাউন্টারভেইলিং পাওয়ার’ বা সংরোধক ক্ষমতা। যুক্তি-বুদ্ধি ও তর্ক দিয়ে শাসক দলকে তার সিদ্ধান্তের ভেতরে যে কায়েমি স্বার্থ কিংবা অন্যায্যতা রয়েছে সেগুলোকে উন্মোচিত করতে না পারলে গণতন্ত্র বাস্তবে কার্যকর হয় না। সে সময়ে সংসদে কোনো সত্যিকারের বিরোধী দল ছিল না এবং নির্বাচনগুলোও ছিল অভিনব উপায়ে কারসাজির নির্বাচন, যেখানে জনগণের সঙ্গে সরকারের সত্যিকারের প্রতিনিধিত্ব ছিল না; ছিল না কোনো সামাজিক চুক্তি ও আস্থার সম্পর্ক।
রাজনৈতিক অর্থনীতির দৃষ্টিকোণ থেকে এ অবস্থা কেবল একটি সাংবিধানিক বিতর্ক ছিল না; বরং রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিক আস্থার প্রশ্ন। একটি রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠান তখনই শক্তিশালী হয়, যখন নাগরিকরা বিশ্বাস করেন যে প্রতিযোগিতার নিয়ম সবার জন্য সমান এবং রাষ্ট্র কোনো পক্ষের নয়। এ বিশ্বাস দুর্বল হয়ে পড়লে অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাফল্যও রাজনৈতিক বৈধতার ঘাটতি পূরণ করতে পারে না।
এ প্রসঙ্গে অমর্ত্য সেনের ‘দ্য আইডিয়া অব জাস্টিস’ আমাদের একটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দেয়। রল্স মূলত ব্যাখ্যা করেছেন রাষ্ট্র পরিচালিত হবে বিভিন্ন ধরনের সামাজিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে, ফলে একটি ন্যায্য প্রতিষ্ঠানের আদর্শ রূপ কেমন হওয়া উচিত তা তুলে ধরেছেন। কিন্তু অমর্ত্য সেন প্রতিষ্ঠানের বদলে আমাদের দৃষ্টি ফেরান মানুষের বাস্তব যাপিত জীবনের দিকে। তার প্রশ্ন হলো, মানুষ কি বাস্তবে ন্যায্য সুযোগ পাচ্ছে? রাষ্ট্র কি এমন পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারছে, যেখানে নাগরিকরা নিজেদের সক্ষমতা বিকাশের প্রকৃত স্বাধীনতা অর্জন করছেন? অর্থাৎ ন্যায্যতার চূড়ান্ত মানদণ্ড কেবল আইনের ভাষায় নয়, বরং মানুষের বাস্তব অভিজ্ঞতাটি কীরূপে হাজির হচ্ছে সেটিই মূল বিবেচনার বিষয়।
এ দৃষ্টিকোণ থেকে ২০২৪ সালের ঘটনাবলি আমাদের সামনে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য তুলে ধরে। তরুণদের আকাঙ্ক্ষা, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তা, জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি (বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতি ছিল দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ ও তা দশকের ঘরে ছিল), সামাজিক বৈষম্য, রাজনৈতিক অংশগ্রহণের সীমাবদ্ধতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন। এসব পৃথক ঘটনা নয়; বরং একই বাস্তবতার বিভিন্ন প্রকাশ। যখন নাগরিকদের একটি বড় অংশ মনে করতে শুরু করে যে তাদের কণ্ঠস্বর যথাযথভাবে রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিফলিত হচ্ছে না, তখন অসন্তোষ ধীরে ধীরে একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হতে পারে।
ইতিহাসের আরেকটি শিক্ষা হলো, কোনো সরকারের পতন কখনই কেবল বিরোধী রাজনীতির শক্তির কারণে ঘটে না; বরং তখনই ঘটে, যখন শাসন ব্যবস্থার ভেতরে আত্মসমালোচনার সক্ষমতা কমে যায় এবং রাষ্ট্র ধীরে ধীরে সমাজের পরিবর্তিত প্রত্যাশা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। গণতন্ত্রে বিরোধী দল যেমন অপরিহার্য, তেমনি সমানভাবে অপরিহার্য শক্তিশালী ও নিরপেক্ষ প্রতিষ্ঠান, স্বাধীন বিচার ব্যবস্থা, কার্যকর নির্বাচন কমিশন, জবাবদিহিমূলক প্রশাসন এবং একটি সক্রিয় নাগরিক সমাজ।
অতএব, ৫ আগস্টকে কেবল একটি রাজনৈতিক পরিবর্তনের দিন হিসেবে দেখলে তার পূর্ণ তাৎপর্য ধরা পড়বে না। এটি ছিল আমাদের রাষ্ট্র ব্যবস্থার জন্য একটি গভীর আত্মসমালোচনার মুহূর্ত। এ ঘটনা আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে রাষ্ট্রের দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতা কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বা উন্নয়ন প্রকল্পের ওপর নির্ভর করে না; বরং নির্ভর করে ন্যায্য প্রতিষ্ঠান, অংশগ্রহণমূলক রাজনীতি, বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন, আইনের শাসন এবং নাগরিকদের সমান মর্যাদা কার্যকরভাবে উপস্থিত থাকার ওপর।
বাংলাদেশের বর্তমান ও ভবিষ্যৎ গণতন্ত্রকে আরো শক্তিশালী করতে হলে আমাদের এমন একটি রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে, যেখানে নির্বাচন কেবল ক্ষমতা পরিবর্তনের প্রক্রিয়া নয়, বরং জনগণের সার্বভৌম ইচ্ছার নির্ভরযোগ্য প্রতিফলন হবে; যেখানে রাষ্ট্রের প্রতিটি প্রতিষ্ঠান ব্যক্তি বা দলের ঊর্ধ্বে উঠে সংবিধানের প্রতি অনুগত থাকবে; এবং যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য সংঘাতের নয়, গণতান্ত্রিক শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের ভিত্তি হয়ে উঠবে। ইতিহাসের প্রকৃত শিক্ষা এখানেই। ন্যায্যতা, প্রাতিষ্ঠানিক আস্থা এবং জনগণের অংশগ্রহণকে শক্তিশালী না করলে কোনো রাষ্ট্রই দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা ও সমৃদ্ধির দিকে যেতে পারে না।
আহমেদ জাভেদ: বুদ্ধিবৃত্তিক সংগঠন বাঙলার পাঠশালা ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা এবং সহকারী অধ্যাপক, অর্থনীতি বিভাগ, সিটি ইউনিভার্সিটি