পোশাক
শিল্প এ
দেশের অর্থিনীতিতে
অবদান রাখার
পাশাপাশি সবুজ
কারখানা স্থাপনেও
দৃষ্টান্ত রেখে
চলেছে। এরই
মধ্যে ১৫০টির
বেশি পোশাক
কারখানা ইউএস
গ্রিন বিল্ডিং
কাউন্সিলের (ইউএসজিবিসি)
লিডারশিপ ইন
এনার্জি অ্যান্ড
এনভায়রনমেন্টাল ডিজাইন
(এলইইডি) সার্টিফিকেশন
পেয়েছে। অন্যদিকে
জাতিসংঘের জলবায়ুবিষয়ক
সংস্থা ইউএনএফসিসিসির
সমন্বয়ে ‘ফ্যাশন
ইন্ডাস্ট্রি চার্টার
ফর ক্লাইমেট
অ্যাকশন’-এর
আওতায় পোশাক
শিল্প মালিকদের
সংস্থা বিজিএমইএ
২০৩০ সাল
নাগাদ এ
খাতের গ্রিনহাউজ
গ্যাস নির্গমন
৩০ শতাংশ
কমাতে অঙ্গীকার
করেছে।
সত্যি বলতে,
সামনের দিনগুলোয়
পরিবেশ সুরক্ষায়
এবং জলবায়ু
পরিবর্তন প্রশমনে
আমাদের পোশাক
খাতের প্রতিশ্রুতি
ও নেয়া
উদ্যোগ আন্তর্জাতিক
বাজারে অবস্থান
ধরে রাখতে
অনেক বেশি
সহায়ক হবে।
রফতানিনির্ভর শিল্প
হওয়ায় পোশাক
খাতকে আন্তর্জাতিক
বাজারে বিভিন্ন
দেশের সঙ্গে
প্রতিযোগিতা করে
টিকে থাকতে
হয়। আবার
২০২৬ সাল
নাগাদ বাংলাদেশ
স্বল্পোন্নত দেশ
থেকে উন্নয়নশীল
দেশে উন্নীত
হতে যাচ্ছে।
ফলে পোশাক
রফতানিতে বাংলাদেশ
এখন যে
সুবিধা পাচ্ছে,
তা ২০২৬-এর
পর না-ও
থাকতে পারে।
বিভিন্ন বিশ্লেষণে
দেখা যায়,
শীর্ষ পোশাক
রফতানিকারক দেশগুলোর
সঙ্গে আমাদের
প্রতিদ্বন্দ্বিতা ক্রমেই
বাড়বে।
সবকিছু নির্ভর
করবে পোশাক
খাতে নেয়া
আমাদের কর্মকৌশলের
ওপর। এক্ষেত্রে
জ্বালানি সাশ্রয়
ও নবায়নযোগ্য
জ্বালানির ব্যবহার
পোশাক কারখানার
উৎপাদন খরচ
বাঁচানোর পাশাপাশি
জলবায়ুর জন্য
ক্ষতিকর গ্রিনহাউজ
গ্যাস নির্গমন
নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ
ভূমিকা রাখতে
পারে। যদিও
জ্বালানি দক্ষতা
বৃদ্ধিতে শুরুতে
বিনিয়োগ প্রয়োজন,
স্বল্প সময়েই
সে বিনিয়োগ
উঠে আসে।
উদাহরণস্বরূপ, এশীয়
উন্নয়ন ব্যাংকের
সহায়তায় ২০১২-১৩
সালে ২০টিরও
বেশি পোশাক
কারখানায় করা
সমীক্ষায় দেখা
যায়, পোশাক
খাতে ৩০
শতাংশেরও বেশি
জ্বালানি সাশ্রয়
করা সম্ভব
এবং এ
উদ্দেশ্যে বিনিয়োগ
করা হলে
তা তিন
বছরেরও কম
সময়ে উঠে
আসবে। আবার
কিছু ক্ষেত্রে
এ বিনিয়োগ
তুলে আনতে
বছরখানেক বা
তার কম
সময় লাগে।
জ্বালানি দক্ষতা
বৃদ্ধির সঙ্গে
জ্বালানি সংরক্ষণে
বা অপচয়
রোধেও মনোযোগ
দেয়া জরুরি।
মনে রাখতে
হবে জ্বালানি
সংরক্ষণে/অপচয়
রোধে বিশেষ
কোনো বিনিয়োগের
প্রয়োজন নেই।
শুধু সচেতনতা
বৃদ্ধি এবং
কারখানার কর্মীদের
জন্য অভ্যন্তরীণ
প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা
করতে হবে।
সংগত কারণেই
জ্বালানি দক্ষতা
বৃদ্ধি ও
সংরক্ষণ অনেক
কারখানার কাছে
অত্যন্ত আকর্ষণীয়
একটি পথ,
যা উৎপাদন
খরচ কমিয়ে
বৈশ্বিক প্রতিদ্বন্দ্বিতায়
টিকে থাকতে
সহায়তা করতে
পারে।
জ্বালানি দক্ষতা
বৃদ্ধি ও
অপচয় রোধের
গুরুত্ব বুঝতে
হলে আমরা
গত এক
দশকে বিদ্যুৎ
ও বিভিন্ন
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির
দিকে তাকাতে
পারি। এদিকে
বিদ্যুৎ ও
জ্বালানি খাতে
সরকার ভর্তুকি
শূন্যের কোটায়
নামিয়ে আনতে
পদক্ষেপ নেয়ায়
অন্যান্য ভোক্তার
মতো কারখানা
পর্যায়েও বিদ্যুৎ
ও জ্বালানি
খরচ ভবিষ্যতে
আরো বাড়বে।
আবার গত
বছর থেকে
বিশ্ববাজারে জ্বালানি
তেল ও
গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধির
প্রভাব এ
দেশের জ্বালানি
খাতেও পড়েছে।
ফলে জ্বালানি
বা বিদ্যুতের
দাম আরো
বাড়তে পারে।
এ অবস্থায়
দক্ষতা বৃদ্ধি
ও অপচয়
রোধ করে
জ্বালানি সাশ্রয়
করাটাই সমীচীন।
জ্বালানি সাশ্রয়
ছাড়াও আমাদের
সুযোগ রয়েছে
সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার
করার। সূর্যের
আলো থেকে
প্রতি ইউনিট
বিদ্যুৎ উৎপাদনে
একটি কারখানার
খরচ জাতীয়
গ্রিড থেকে
কেনা বিদ্যুতের
চেয়ে অনেকাংশেই
কম। ছাদে
সৌর প্যানেল
স্থাপন করে
অন্যান্য কারখানার
মতো সহজেই
পোশাক কারখানাগুলো
সৌরবিদ্যুতের সুবিধা
নিয়ে জ্বালানি
তথা উৎপাদন
খরচ কমাতে
পারে। পর্যাপ্ত
সূর্যের আলো
থাকাকালীন সৌরবিদ্যুৎ
এবং অন্য
সময় গ্রিডের
বিদ্যুৎ ব্যবহার
পোশাক কারখানার
জ্বালানি ব্যবস্থাপনায়
যথেষ্ট অবদান
রাখতে পারে।
উল্লেখ্য, কারখানা
কিংবা বাণিজ্যিক
ভবনের ছাদে
সৌর প্যানেল
স্থাপন উৎসাহিত
করতে বাংলাদেশ
সরকার নেট
মিটারিং গাইডলাইনস
প্রণয়ন করেছে।
এখন পর্যন্ত
বেশকিছু পোশাক
কারখানাতেই জ্বালানি
দক্ষতা বৃদ্ধিতে
ও সৌরবিদ্যুৎ
উৎপাদনে নেয়া
উদ্যোগ সফলভাবে
বাস্তবায়ন হয়েছে।
এগিয়ে থাকা
এসব কারখানা
থেকে অন্য
কারখানাগুলো অভিজ্ঞতা
অর্জন করতে
পারে। প্রয়োজনে
তারা পোশাক
শিল্প খাতের
সংগঠন বিজিএমইএর
সহায়তাও নিতে
পারে।
আবার এ
ধরনের প্রকল্প
বাস্তবায়নে আর্থিক
প্রতিষ্ঠান থেকে
ঋণ নেয়া
কিংবা সুদহার
বড় বাধা
হয়ে দাঁড়ায়।
তবে আশার
কথা, বাজারে
ঋণের হার
বেশ কম
হওয়ায় বিনিয়োগের
জন্য সময়
এখন অনেকটাই
অনুকূল। সঙ্গে
রয়েছে বাংলাদেশ
ব্যাংকের পুনঃঅর্থায়ন
স্কিম। তাছাড়া
দেশীয় আর্থিক
প্রতিষ্ঠান ইডকল
সবুজ জলবায়ু
তহবিলের আওতায়
পোশাক শিল্পের
জ্বালানি দক্ষতা
বৃদ্ধিতে যে
প্রকল্প হাতে
নিয়েছে, তাতে
ঋণের খরচ
অন্য আর্থিক
প্রতিষ্ঠান থেকে
কম হবে—এমনটি
ধারণা করা
যায়। পরিশেষে,
খরচ বাঁচাতে
এবং ২০২৬
সাল পরবর্তী
রফতানি বাণিজ্যের
কথা বিবেচনায়
আন্তর্জাতিক বাজারে
অবস্থান ধরে
রাখতে কিংবা
সমুন্নত করতে
পোশাক কারখানাগুলোয়
জ্বালানি দক্ষতা
বৃদ্ধি ও
সংরক্ষণের সঙ্গে
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে
বিনিয়োগের এখনই
সময়। আন্তর্জাতিক
বাজারের ক্রেতারা
জেনে খুশি
হবেন যে
বাংলাদেশের পোশাক
তৈরিতে আগের
চেয়ে কম
জ্বালানি খরচ
হচ্ছে এবং
নবায়নযোগ্য জ্বালানি
ব্যবহার হচ্ছে।
বলে রাখা
প্রয়োজন, কিছু
আন্তর্জাতিক ক্রেতা
গ্রিনহাউজ গ্যাস
নির্গমন কমাতে
এ দেশের
পোশাক শিল্প
খাত ও
বিজিএমইএর সঙ্গে
বেশ কিছুদিন
ধরে কাজ
করে যাচ্ছে।
মূল উদ্দেশ্য
একটাই—বৈশ্বিক
জলবায়ু পরিবর্তন
প্রশমনকে বেগবান
করা। বাংলাদেশ
সরকারও এ
লক্ষ্যে নীতিমালা
প্রণয়ন করেছে।
কাজেই জীবাশ্ম
জ্বালানি নির্ভরতা
ও জ্বালানি
ব্যবহারের পরিমাণ
কমিয়ে পোশাক
খাত বাংলাদেশ
সরকারের বিভিন্ন
জ্বালানি ও
জলবায়ু সম্পর্কিত
নীতিমালার লক্ষ্য
অর্জনে অবদান
রাখতে পারে।
অন্যদিকে জ্বালানি
সাশ্রয় কিংবা
নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে
বিনিয়োগে আগ্রহী
করতে সরকার
বিভিন্ন কারখানাকে
জাতীয় পর্যায়ে
স্বীকৃতি কিংবা
অ্যাওয়ার্ড প্রদানে
উদ্যোগ নিতে
পারে।
শফিকুল আলম: পরিবেশ অর্থনীতিবিদ