গ্লোবাল সাউথ ও রাশিয়ার ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা

জ্বালানির ক্ষেত্রে ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে দেশটিতে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে এবং বেলারুশ, তুরস্ক ও ভারত থেকে শোধিত জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে।

পশ্চিমা বিশ্বের একঘরে করার চেষ্টা সত্ত্বেও রাশিয়া বিচ্ছিন্ন হয়নি, বরং গ্লোবাল সাউথের বহু দেশের সঙ্গে মস্কোর সম্পর্ক এমন এক ভূরাজনৈতিক বাস্তবতা, যা ভাঙা পশ্চিমের পক্ষে কঠিন। গত দুই সপ্তাহে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন কিরগিজস্তানের বিশকেক, রাশিয়ার ভ্লাদিভোস্তক ও ভারতের নয়াদিল্লিতে তিনটি অনুষ্ঠানে অংশ নেন এবং ভিয়েতনামের নেতার রাষ্ট্রীয় সফরের আয়োজন করেন। এ সময়ে তিনি প্রায় ১৮ জন রাষ্ট্রপ্রধানের সঙ্গে বৈঠক করেন। আলোচনায় ইউক্রেন যুদ্ধের প্রসঙ্গ উঠলেও মূলত জোর দেয়া হয় জ্বালানি, বাণিজ্য ও পরিবহনের ওপর।

জ্বালানির ক্ষেত্রে ইউক্রেনের হামলায় রাশিয়ার তেল শোধনাগারগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে দেশটিতে জ্বালানি সংকট দেখা দিয়েছে এবং বেলারুশ, তুরস্ক ও ভারত থেকে শোধিত জ্বালানি আমদানি করতে হচ্ছে। একই সময়ে মস্কো রফতানি বাড়াতে সচেষ্ট। চীনের সঙ্গে ‘পাওয়ার অব সাইবেরিয়া ২’ গ্যাস পাইপলাইন, ভিয়েতনামে কৌশলগত তেল মজুদ কেন্দ্র এবং তুরস্ক, ভিয়েতনাম ও ভারতের সঙ্গে পারমাণবিক সহযোগিতা—সবই এর অংশ।

তাছাড়া নিষেধাজ্ঞার কারণে গ্লোবাল সাউথের সঙ্গে বাণিজ্য করাটা রাশিয়ার টিকে থাকার জন্য অপরিহার্য। ব্রিকস বিশ্ব জিডিপির প্রায় ৪০ শতাংশ ধারণ করে। ভ্লাদিমির পুতিনের দাবি অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) সঙ্গে রাশিয়ার বাণিজ্য ৪০০ বিলিয়ন ডলার ছাড়িয়েছে। রাশিয়ার মোট বাণিজ্যের ৭৩ দশমিক ৪ শতাংশই এশিয়ার সঙ্গে।

সবশেষে মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতা রাশিয়ার বন্ধুদেরও প্রভাবিত করছে। তাই মস্কো বিকল্প ট্রানজিট বের করার চেষ্টা করছে, যার একটি হলো বাল্টিক বন্দরকে ইরান হয়ে মুম্বাইয়ের সঙ্গে যুক্ত করা ‘আন্তর্জাতিক উত্তর দক্ষিণ পরিবহন করিডোর’।

[সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের এক নিবন্ধ থেকে অনূদিত]

ড. আলেক্সি ডি মুরাভিয়েভ: অস্ট্রেলিয়ার কার্টিন বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় নিরাপত্তা ও কৌশলগত অধ্যয়নের সহযোগী অধ্যাপক

আরও