আখ বাংলাদেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের একটি অর্থকরী ফসল। ফসলটির সঙ্গে হাজার হাজার আখচাষী এবং কৃষি শ্রমিকের জীবনজীবিকা জড়িত। কৃষি শ্রমিকের কর্মসংস্থান ও দারিদ্র্য বিমোচনে এবং গ্রামীণ অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে আখ চাষের গুরুত্ব অপরিসীম। আখের জমিতে নালা কাটা, বীজখণ্ড তৈরি, বীজ শোধন, নালায় বীজ রোপণ, আগাছা দমন, সেচ, উপরিসার ও কীটনাশক প্রয়োগ, আখের গোড়ায় মাটি দেয়া, আখ বাঁধা, আখ কাটা, আঁটি বাঁধা, পাওয়ার টিলারে আখ বোঝাই প্রভৃতি কাজে বছরে অন্য ফসলের চেয়ে অনেক বেশি কৃষি শ্রমিকের প্রয়োজন হয় এবং সারা বছর কাজের এক অপূর্ব সুযোগ সৃষ্টি হয় কৃষি শ্রমিকদের।
জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উষ্ণতা বৃদ্ধি, অসময়ে অতিবৃষ্টি, ঘন ঘন ঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের ফলে বাংলাদেশে সবচেয়ে ক্ষতির শিকার হচ্ছে কৃষি। ২০২৩ সালের মার্চ-এপ্রিলে অত্যধিক তাপমাত্রার কারণে দেশের অনেক জায়গায় বোরো ধানের চিটার পরিমাণ বেড়ে যায়। ফলন কম হয় এবং কৃষক আর্থিকভাবে ক্ষতির শিকার হন। এছাড়া হঠাৎ বন্যা ও পাহাড়ি ঢলে হাওরাঞ্চলসহ নিচু এলাকার আমন ধান বিনষ্ট হয়ে যায়। অনেক সময় বন্যার কারণে আমন ধানের চারা, রোপণকৃত আমন ধান এবং গ্রীষ্মকালীন সবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়। কিন্তু আখ এমন একটি ঘাতসহিষ্ণু ফসল, যা খরা, বন্যা ও ঝড়-জলোচ্ছ্বাসের সঙ্গে যুদ্ধ করেই টিকে থাকে। ১৯৭৭ ও ১৯৭৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় সারা দেশের মাঠের সব ফসল তলিয়ে গেলেও আখ বন্যার ঘোলা জলের সঙ্গে যুদ্ধ করেই মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে ছিল। বন্যার পর কৃষক তাড়াতাড়ি আখ কেটে গুড় তৈরি করে বা চিনিকলে সরবরাহ করে যে অর্থ আয় করেন, তা দিয়েই তারা তাদের ঘরবাড়ি ও কৃষি যন্ত্রপাতি মেরামত করেন। বারি ফসলের জন্য বীজ, সার কিনে নতুন উদ্যমে আবার কৃষিকাজ শুরু করেন। বন্যার সময় গবাদি পশুর খাবারের তীব্র সংকটের সময় কৃষক আখের আধা শুকনা পাতা খাইয়ে গবাদি পশুর জীবন রক্ষা করেন। অনেক গরিব মানুষ বন্যার সময় দু-তিন খণ্ড আখ চিবিয়ে খেয়েও বেঁচে থাকেন। পোকা-মাকড় ও রোগবালাইয়ের আক্রমণে আখের ক্ষতি হলেও আখ ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয় না। পোকা ও রোগাক্রান্ত আখ থেকেও কৃষক গুড় তৈরি করে কিছু অর্থ আয় করতে পারেন। কৃষি বিজ্ঞানীরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবেলায় আমাদের বেশি করে আখের মতো ঘাতসহিষ্ণু ফসলের চাষ করতে হবে।
আখ চাষের সুবিধা: বাংলাদেশের মাটি ও আবহাওয়া আখ চাষের জন্য উপযোগী। উঁচু, মাঝারি উঁচু ও চরের পলিযুক্ত বালি মাটিতেও আখ চাষ করা যায়। আবার মধুপুর ও বরেন্দ্র অঞ্চলের লাল মাটিতেও আখের ফলন কম হয় না। আখ একটি দীর্ঘমেয়াদি ফসল। রোপণ থেকে কর্তন পর্যন্ত ১২-১৪ মাস সময়ের প্রয়োজন হয়। এ সময়ে দুই সারি আখের মধ্যবর্তী ফাঁকা জায়গায় দুটি সাথী ফসলের চাষ করা যায়। প্রথম সাথী ফসল হিসেবে আলু, পেঁয়াজ, রসুন, তেল ও ডালজাতীয় ফসল এবং শীতকালীন সবজি ও দ্বিতীয় সাথী ফসল হিসেবে গ্রীষ্মকালীন মুগ ডালের চাষ করা যায়।
রাষ্ট্রায়ত্ত প্রত্যেক চিনিকলে একটি কৃষি বিভাগ আছে। সেখান থেকে আখ চাষের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ, যেমন সার, বীজ ও বালাইনাশক ঋণ হিসেবে দেয়া হয়। এছাড়া নালা তৈরি, সেচ ও পোকা দমনের জন্য কৃষকদের মধ্যে স্বল্প সুদে নগদ ঋণ দেয়া হয়। আখ উন্নয়ন সহকারীরা (সিডিএ) কৃষকের বাড়ি বাড়ি গিয়ে এসব ঋণ প্রদান করেন। ফলে ঋণের জন্য কৃষককে ব্যাংকের মতো সিডিএদের দ্বারে দ্বারে ঘুরতে হয় না। আখচাষীরা এসব ঋণ মিলে আখ সরবরাহের মাধ্যমে পরিশোধ করেন। আবার আখ বিক্রির সঙ্গে সঙ্গে আখচাষীদের আখের মূল্য মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রদান করা হয়। ই-পুর্জি চালু হওয়ার ফলে আখ বিক্রির ব্যাপারে কৃষকদের আর মিলে ছোটাছুটি করতে হয় না। ঘরে বসেই আখ বিক্রির অনুমতি পত্র (পুর্জি) এখন কৃষক মোবাইল ফোনের মাধ্যমে পেয়ে থাকেন। চিনিকলগুলোয় কৃষক তাদের উৎপাদিত আখ সরকার নির্ধারিত মূল্যে বিক্রি করতে পারেন। এছাড়া মিলে আখ সরবরাহকারী কৃষকদের সরবরাহকৃত আখের বিপরীতে পারিবারিক প্রয়োজন মেটানোর জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণ চিনি সরকারি মূল্যে সরবরাহ করা হয়। প্রত্যেকটি চিনিকলে রয়েছে একটি কেজিস্কুল। এই স্কুলে চিনিকলের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ছেলেমেয়েদের সঙ্গে আখচাষীদের ছেলেমেয়েরাও লেখাপড়ার সুযোগ পায়। শিক্ষা প্রসারে চিনিকলগুলো প্রতি বছর আখচাষীদের মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে এককালীন বৃত্তি প্রদান করে। চিনিকলের চিকিৎসা কেন্দ্রে আখচাষী ও তাদের পরিবাররা চিকিৎসাসেবার সুযোগ পেয়ে থাকেন। চিনিকলগুলো শুধু চিনিই উৎপাদন করে না; চিনিকল এলাকার রাস্তাঘাট মেরামত এবং ছোট ছোট ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণ করে এলাকার অবকাঠামো উন্নয়নে অবদান রাখে। চিনিকলে কর্মরত শতশত কর্মচারী যে বেতন-ভাতা এবং আখচাষীরা যে আখের মূল্য পান তা ওই এলাকায় চক্রাকারে আবর্তিত হয়ে গ্রামীণ অর্থনীতির চাকাকে সচল রাখে। দেখা গেছে, আখচাষীদের ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া, বিয়েশাদি, বাড়িঘর নির্মাণের খরচ আখ বিক্রির টাকা থেকেই আসে।
আখ চাষ ও পরিবেশ: আখ একটি পরিবেশবান্ধব সি-৪ উদ্ভিদ। এটি ধানের চেয়ে চার গুণ কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণ করে এবং সমপরিমাণে অক্সিজেন ত্যাগ করে বায়ুমণ্ডলের বাতাসকে বিশুদ্ধ রাখে। আখের শুকনা পাতা ঘর ছাউয়া, কাঁচা পাতা পশুর খাবার, মুথা জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। লক্ষ করে দেখা গেছে, আখ চাষ এলাকায় কৃষক তাদের পারিবারিক রান্নাবান্নার কাজে আখের মুথা অথবা আখের ছোবড়া ব্যবহার করেন। ওইসব এলাকায় জ্বালানির জন্য তেমন কোনো গাছ কাটা হয় না বললেই চলে। চিনিকলে জ্বালানি হিসেবে আখের ব্যাগাস ব্যবহার করা হয়। গুড় তৈরির সময়ও আখের ছোবড়াই জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা হয়। এছাড়া আখ রোপণ থেকে কাটা পর্যন্ত ১৪ মাস সময়ের প্রয়োজন হয়। ওই সময় আখখেত শেয়াল, গুইসাপ, সাপ, বেজি, সজারু, খরগোসসহ নানা প্রজাতির প্রাণী এবং বিভিন্ন পাখির অভয়াশ্রম হিসেবে কাজ করে। এছাড়া আখের শিকড় মাটির চারদিকে এবং বেশ গভীরে বিস্তৃত থাকে। এসব শিকড় পচে ও মাটিতে মিশে জমিতে জৈব পদার্থ যোগ করে জমির উর্বরতা শক্তি বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।
চিনি শিল্পের সমস্যা: কাঁচামালের অভাব ও নিম্ন চিনি আহরণ হার হলো বাংলাদেশের চিনিকলগুলোর প্রধান সমস্যা। তাই চিনিকলগুলোকে আখের আধুনিক প্রযুক্তি প্রয়োগের মাধ্যমে হেক্টরপ্রতি আখের ফলন বাড়াতে হবে। বাংলাদেশে ১০০ কেজি আখ থেকে আট-নয় কেজি গুড় উৎপাদন হলেও চিনিকলে ১০০ কেজি আখ থেকে মাত্র পাঁচ থেকে সাড়ে পাঁচ কেজি চিনি উৎপাদন হয়। আখের এ নিম্ন চিনি আহরণ হারই হলো চিনি শিল্পের প্রধান প্রতিবন্ধকতা। ২০২৩-২৪ মাড়াই মৌসুমে জয়পুরহাট চিনিকলের আখ মাড়াই লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫০ হাজার টন, চিনি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা ছিল ২ হাজার ৭৫০ টন ও চিনি আহরণ হার লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৫০ শতাংশ। চিনিকলটি ৪ দশমিক ৯৩ শতাংশ চিনি আহরণ হারে ৪০ দিনে ৫৫ হাজার ৫২১ টন আখ মাড়াই করে ২ হাজার ৭৩২ দশমিক ৫০ টন চিনি উৎপাদনের পর বন্ধ হয়ে যায়। অন্যদিকে রাজশাহী চিনিকলটি ৫৩ দিনে ৫ দশমিক শূন্য ৪ রিকভারি রেটে ৭০ হাজার ৭২০ টন আখ মাড়াই করে ৩ হাজার ৫৬৭ টন চিনি উৎপাদনের পর বন্ধ হয়ে যায়। ২০২৩-২৪ মাড়াই মৌসুমে ভারতের তামিলনাড়ু ও বিহার প্রদেশের চিনিকলগুলো চিনি আহরণ হার ছিল যেখানে ১০-এর ওপর আর বাংলাদেশে ছিল তা ৫-এর নিচে। দেখা গেছে, বাংলাদেশে নিম্ন চিনি আহরণ হারের কারণে আখ থেকে উৎপাদিত চিনি বিক্রি করে যে টাকা পাওয়া যায়, তা দিয়ে আখের মূল্যই পরিশোধ করা সম্ভব হয় না। তারপর চিনি তৈরির জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণ যেমন চুন, সালফারের প্রয়োজন রয়েছে। এছাড়া আখ পরিবহন খরচ ও কর্মকর্তা এবং কর্মচারীদের বেতন-ভাতাই বা কোত্থেকে আসে? কেরু অ্যান্ড কোম্পানির মতো চিনিকলের উপজাত থেকে বিভিন্ন পণ্য উৎপাদনের মাধ্যমে চিনিকলগুলোকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার উদ্যোগ নিতে হবে। আমাদের দেশের চিনিকলগুলোয় আশির দশকেও চিনি আহরণ হার ছিল শতকরা ৮ ভাগের মতো। ওই সময় কৃষক আউশ ধান ও পাট কেটে আশ্বিন-কার্তিক মাসে আগাম আখের চাষ করতেন। এখন কৃষক আমন ধান কাটার পর ওই জমিতে একটি রবি ফসলের চাষ করেন এবং রবি ফসল তোলার পর মার্চে নামলা আখের চাষ করেন। এ নামলা রোপণকৃত আখ কৃষক ডিসেম্বরে চিনি কলগুলোয় সরবরাহ করেন। আখ ফসল পরিপক্ক হতে কমপক্ষে ১২ মাস সময়ের প্রয়োজন হয়। কিন্তু নামলা রোপণের কারণে কৃষক আট মাসের অপরিপক্ব আখ মিলে সরবরাহ করেন। আর এ কারণেই চিনিকলগুলো ৪-৫ শতাংশ চিনি আহরণ হারে চালু করে আখ পরিপক্বতা অর্জনের আগেই বন্ধ হয়ে যায়। ভারতের তামিলনাড়ুর মিলগুলোয় ১০ শতাংশ চিনি আহরণের পেছনে আগাম আখ রোপণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ওইসব মিলিয়ে আগাম আখ চাষের পরিমাণ ৩০ শতাংশের ওপর। এছাড়া ভারতের চিনিকলগুলোয় ৮ শতাংশ চিনি আহরণ হারের নিচের আখ মিলে ক্রয় করা হয় না। অন্যদিকে বাংলাদেশে প্রক্রিয়াকরণ অপচয়ও পৃথিবীর অন্যান্য চিনি উৎপাদনকারী দেশের তুলনায় বেশি। এছাড়া পুরনো ও জরাজীর্ণ যন্ত্রপাতিও কম চিনি আহরণের অনেকাংশে দায়ী। চিনিকলে ময়লা-আবর্জনাযুক্ত, কচি ডগা ও শিকড়-মাটিযুক্ত আখ সরবরাহও নিম্ন চিনি আহরণ হারের অন্যতম কারণ। আশির দশকে ঈশ্বরদী-১৬ ও ঈশ্বরদী-১৮ নামের দুটি জাত চিকিকল ও আখচাষীদের কাছে ছিল অত্যন্ত জনপ্রিয়। কারণ জাত দুটির ফলন ও চিনি আহরণ হার ছিল তুলনামূলকভাবে অন্যান্য জাতের চেয়ে বেশি। ঈশ্বরদী-১৬ জাতটি ছিল একটি আগাম পরিপক্ব ও উচ্চচিনি আহরণযুক্ত জাত। অন্যদিকে ঈশ্বরদী-১৮ ছিল কৃষকবান্ধব জাত। ওই জাত অল্প যত্নে ও অল্প পরিচর্যায় ভালো ফলন দিতে সক্ষম ছিল। জাতটি একবার চাষ করে কৃষক দুবার অনায়াসে মুড়ি রাখতে পারতেন। লাল পচা রোগের কারণে জাত দুটির চাষ চিনিকল এলাকা থেকে উঠে যাওয়ার কারণে আখ মাড়াই ও চিনি আহরণ হারে যে সংকট সৃষ্টি হয়, তা থেকে আজও পরিত্রাণ পায়নি চিনিকল ও আখচাষীরা।
আমাদের বিশ্বাস, চিনিকলগুলো টিকিয়ে রাখতে হলে হেক্টরপ্রতি আখের ফলন বৃদ্ধির সঙ্গে চিনি আহরণ হার বৃদ্ধির কোনো বিকল্প নেই। এজন্য নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণ করা যেতে পারে।
১. প্রত্যেক চিনিকল এলাকায় কমপক্ষে ৩০ শতাংশ জমিতে আগাম আখের চাষ নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য আগাম আখের সঙ্গে কমপক্ষে পদ্ধতিগতভাবে একটি সাথী ফসলের চাষ নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে সাথী ফসল চাষের জন্য স্বল্প সুদে (শতকরা ৪ ভাগ) কৃষককে প্রয়োজনীয় ঋণ প্রদান করতে হবে। চিনিকলগুলোয় আগাম আখের মতো মুড়ি আখচাষেও অধিকতর গুরুত্ব প্রদান করতে হবে।
২. বিএসআরআইকে ঈশ্বরদী-১৬ ও ঈশ্বরদী-১৮-এর মতো কৃষকবান্ধব ও মিলবান্ধব আখের উচ্চ ফলন ও উচ্চ চিনি আহরণ হারযুক্ত নতুন জাত উদ্ভাবন করতে হবে।
৩. প্রতিটি বাইরের কেন্দ্রে ও মিলগেট কেন্দ্রে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন আগাডগা ও মাটি-শেকড় মুক্ত আখ ক্রয় নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য আখচাষী প্রশিক্ষণ ও উদ্বুদ্ধকরণের ব্যবস্থা আরো জোরদার ও গতিশীল করতে হবে।
৪. কাঁচা পাতার পরিবর্তে আখের ছাল দিয়ে আখ বাঁধার জন্য আখচাষীদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে।
৫. হাঁসুয়ার পরিবর্তে কোদাল দিয়ে আখ কাটার কাজে কৃষি শ্রমিক ও আখচাষী ভাইদের উদ্বুদ্ধ করতে হবে। হাঁসুয়া দিয়ে আখ কাটার কারণে জমিতে উচ্চ চিনি আহরণ যুক্ত ২-৩ ইঞ্চি পরিমাণ আখের গোড়া থেকে যায়। এতে কৃষকের ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়ায় একরে প্রায় তিন থেকে চার টন, যা বাজারমূল্য ১২-১৮ হাজার টাকা।
৬. এছাড়া আখ কাটার ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আখচাষীদের আখ ক্রয় কেন্দ্রে আখ সরবরাহ করতে হবে। পচা ও বাসি আখ কোনো অবস্থাতেই সরবরাহ করা যাবে না।
৭. প্রতিটি কেন্দ্রে দৈনিক ক্রয় কোটা মোতাবেক আখ ক্রয় করে দিনের ক্রয় করা আখ ওইদিনই মিলে সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। এ ব্যাপারে মিল গ্যারেজ ও আখ সংগ্রহ উপবিভাগকে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
৮. জিলবাংলা চিনিকলে সব কেন্দ্রের ক্রয়কৃত আখ ওইদিনই রাত ১২টার মধ্যে মিলের ডোঙ্গায় এসে পড়ে। এ কারণে অন্য চিনিকলের তুলনায় প্রতিকূল পরিবেশেও জিলবাংলা চিনিকলে শতকরা চিনি আহরণ হার বেশি।
৯. প্রক্রিয়াকরণ অপচয় কমানোর ব্যাপারে মিলের যন্ত্র প্রকৌশল ও রসায়ন বিভাগকে আরো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
নিতাই চন্দ্র রায়: সাবেক মহাব্যবস্থাপক (কৃষি)
বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশন