পর্যালোচনা

কভিড বর্জ্যে স্বাস্থ্যঝুঁকি ও সংক্রামক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা

বিশ্ব প্রায় সাত মাস ধরে অবলোকন করে চলেছে নভেল করোনাভাইরাসের ভয়াল রূপ। প্রথম রোগী শনাক্তের পর থেকে আমরাও পার করে ফেলেছি প্রায় পাঁচ মাস। ভাইরাসের প্রকোপ দিন দিন বেড়েই চলেছে। কভিড আক্রান্ত রোগীর সংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। নভেল করোনাভাইরাসের প্রাত্যহিক আপডেটেড ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার ডটকম থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ও মৃতের হিসাবে বিশ্বতালিকায় আমাদের অবস্থান যথাক্রমে ১৭ ও ২৭ নম্বরে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, এ মুহূর্তে আমরা নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের সর্বাধিক সীমারেখা অতিক্রম করছি। যদিও অপ্রতুল নমুনা পরীক্ষণকে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এখনো পর্যন্ত সীমাবদ্ধতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এই মুহূর্তে লকডাউনকালীন বিধিনিষেধ মানতে অনীহা কিংবা স্বাস্থ্যবিধি পালনে জনসাধারণের অসচেতনতা এই সংক্রমণের বেগ ত্বরান্বিত করছে।

বিশ্ব প্রায় সাত মাস ধরে অবলোকন করে চলেছে নভেল করোনাভাইরাসের ভয়াল রূপ। প্রথম রোগী শনাক্তের পর থেকে আমরাও পার করে ফেলেছি প্রায় পাঁচ মাস। ভাইরাসের প্রকোপ দিন দিন বেড়েই চলেছে। কভিড আক্রান্ত রোগীর সংখ্যার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে মৃতের সংখ্যাও। নভেল করোনাভাইরাসের প্রাত্যহিক আপডেটেড ওয়েবসাইট ওয়ার্ল্ডোমিটার ডটকম থেকে প্রাপ্ত পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা মৃতের হিসাবে বিশ্বতালিকায় আমাদের অবস্থান যথাক্রমে ১৭ ২৭ নম্বরে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী, মুহূর্তে আমরা  নভেল করোনাভাইরাস সংক্রমণের সর্বাধিক সীমারেখা অতিক্রম করছি। যদিও অপ্রতুল নমুনা পরীক্ষণকে যথাযথ সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে এখনো পর্যন্ত সীমাবদ্ধতা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। পাশাপাশি এই মুহূর্তে লকডাউনকালীন বিধিনিষেধ মানতে অনীহা কিংবা স্বাস্থ্যবিধি পালনে জনসাধারণের অসচেতনতা এই সংক্রমণের বেগ ত্বরান্বিত করছে।

অতি সংক্রমণক্ষম এই ভাইরাসের ছড়িয়ে পড়ার মাধ্যম হিসেবে হাঁচি, কাশি, কফ, থুতু কিংবা রোগীর সংস্পর্শকে মূল ধরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা প্রথম থেকেই সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ, মাস্ক পরিধান নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘর থেকে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে এসেছে। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণায় এটাও নিশ্চিত হয়েছে যে কভিড রোগীদের বর্জ্য যেমন মলমূত্র, ব্যবহূত মাস্ক, গ্লাভস, ব্যান্ডেজ, সিরিঞ্জসহ চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীদের ব্যক্তিগত নিরাপত্তা সরঞ্জামসহ (পিপিই) সমুদয় চিকিৎসা বর্জ্য স্থানীয় পর্যায়ে করোনা সংক্রমণের জন্য বহুলাংশে দায়ী। শুধু কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালগুলোই চিকিৎসা বর্জ্য তৈরির একমাত্র উৎস নয়, নমুনা পরীক্ষণের ল্যাবরেটরি বর্জ্য কিংবা যেসব কভিড রোগী বাসাবাড়িতে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন কিংবা আইসোলেশনে আছেন, তাদের বর্জ্যও কভিড বর্জ্য হিসেবে পরিগণিত। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রেস রিলিজ অনুযায়ী, শুধু ঢাকা চট্টগ্রাম মহানগরীতেই কভিড ডেডিকেটেড হাসপাতালের সংখ্যা ৩১টি আর দেশের প্রায় ৮১টি পরীক্ষাগারে কভিড নমুনা পরীক্ষণ চলছে। এই মুহূর্তে আইসোলেশনে থাকা রোগীর সংখ্যা প্রায় ১৯ হাজারসহ কোয়ারেন্টিন আর আইসোলেশনে থাকা ব্যক্তির সংখ্যা প্রায় ৫০ হাজারের কাছাকাছি। নমুনা পরীক্ষণে বায়োসেফটি বায়োসিকিউরিটি সুচারুরূপে নিয়ন্ত্রিত না হলে কিংবা চিকিৎসাকেন্দ্রে বর্জ্যের ডিসইনফেকশন (সংক্রমণে অক্ষম) ব্যবস্থায় সীমাবদ্ধতা থাকলে করোনা বর্জ্য বর্জ্যপানি পরিবেশের সঙ্গে মিশে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাছাড়া অন্যান্য দেশের মতো আমাদের দেশেও মোট করোনা রোগীর বৃহদাংশ বাসায় থেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। অসচেতনতার কারণে তাদের কভিড বর্জ্য প্রাত্যহিক গৃহস্থালি বর্জ্যের সঙ্গে একই ময়লার ব্যাগে মিশে যাচ্ছে। সিটি করপোরেশনগুলোর পক্ষ থেকে গৃহস্থালি বর্জ্য কভিড বর্জ্য একীভূত না করার জন্য বলা হলেও নিবিড় পর্যবেক্ষণে সীমাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভবপর হয়ে উঠছে না। ফলে মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছেন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা, আর যেখানে সেখানে মাস্ক গ্লাভস ফেলে রাখার দরুন সাধারণ মানুষও আক্রান্ত হচ্ছে।

মাস দুয়েক আগে পরিবেশবাদী বেসরকারি সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোস্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশনের (এসডো) বরাতে জানা যায় করোনা সংক্রমণের প্রথম মাসেই (২৬ মার্চ থেক ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত) দেশে উদ্ভূত করোনা বর্জ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ১৪ হাজার টন। এর মাঝে প্লাস্টিক বর্জ্যই (হ্যান্ড গ্লাভস) দখল করে আছে প্রায় এক-তৃতীয়াংশের বেশি। বিশ্বস্বীকৃত স্বাস্থ্য সাময়িকী দ্য ল্যান্সেট- প্রকাশিত এক প্রবন্ধে বিভিন্ন মাধ্যমে করোনা জীবাণুর আয়ুষ্কাল নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে ব্যবহূত মাস্কের বাইরের স্তরে করোনা ভাইরাল লোড থাকতে পারে সাতদিনের বেশি আর ভেতরের স্তরে চার থেকে সাতদিন পর্যন্ত। অন্যদিকে প্লাস্টিক বর্জ্যগুলোয় করোনার আয়ুষ্কাল চারদিনের বেশি বলে সেই গবেষণা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। প্রায় একই চিত্র ফুটে উঠেছে আরেক বিখ্যাত জার্নাল দ্য নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিন-এর প্রকাশিত আরেকটি গবেষণাপত্রে। এর দ্বারা বোঝাই যাচ্ছে যেখানে সেখানে পড়ে থাকা এই মাস্ক আর হ্যান্ডগ্লাভসগুলো করোনা সংক্রমণের ক্ষেত্রে কতটা শক্তিশালী মাধ্যম হতে পারে।

কভিড-১৯ ড্যাশবোর্ড থেকে জানা যায়, পর্যন্ত প্রায় ৩০ লাখের অধিক পিপিই, ৫০ লাখের অধিক গ্লাভস ৯০ লাখের অধিক মাস্ক বিতরণ করা হয়েছে। ফলে অনেক পরিমাণে কভিড বর্জ্য তৈরি হতে পারে। অতিসম্প্রতি তিনটি বেসরকারি সংস্থার (নেটওয়ার্ক অন ক্লাইমেট চেঞ্জ ইন বাংলাদেশ, এনভায়রনমেন্ট ডিফেন্স নেটওয়ার্ক উন্নয়ন ধারা ট্রাস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, শুধু ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় গড়ে ২০৬ টনের বেশি কভিড বর্জ্য উৎপাদন হয়। এতে শুধু ঢাকা শহরেই প্রায় প্রতি মাসে সাত থেকে আট হাজার টন কভিড বর্জ্যের সম্ভাবনা তৈরি হচ্ছে। নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, চট্টগ্রাম, সিলেট, রাজশাহী, খুলনা, ময়মনসিংহ, রংপুর, বরিশালসহ অন্যান্য শহর অঞ্চলেও প্রচুর পরিমাণ কভিডবর্জ্য তৈরি হচ্ছে। এমনিতেই আমাদের দেশে চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন পর্যন্ত টেকসই অবস্থানে যেতে পারেনি। তার ওপর এই কভিড বর্জ্য আমাদের জন্য বয়ে আনতে পারে অশনিসংকেত। উপরন্তু, দেশের কয়েকটি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি বর্ষা মৌসুমে অতিবৃষ্টির কারণে বিভিন্ন স্থানে সৃষ্ট জলাবদ্ধতা এই বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে অন্তরায় হতে পারে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কর্তৃক কভিড বর্জ্য ব্যবস্থাপনার একটি নির্দেশনামূলক সারসংক্ষেপ প্রকাশিত হয়েছে, যেখানে বর্জ্যগুলোকে আলাদা ব্যাগে বা কনটেইনারে জমা রাখার জন্য বলা হয়েছে এবং অনসাইট (এক জায়গার বর্জ্য অন্য জায়গায় না নিয়ে) পরিশোধনের সুপারিশ করা হয়েছে। যদিও সুযোগটি সাধারণত হাসপাতাল বা ক্লিনিকগুলোতেই সম্ভব, বাসাবাড়িতে যে কভিড বর্জ্য রয়েছে, সেক্ষেত্রে অনসাইট পরিশোধন সম্ভব নয়। গত ২৩ মার্চ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কর্তৃক প্রকাশিত কভিড বর্জ্য ব্যবস্থাপনার নির্দেশনার দ্বিতীয় সংস্করণে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশমালা আত্মীকরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আরো কিছু নীতিমালাও এতে সংযোজিত হয়েছে, যা যথাযথ প্রতিপালিত হলে কভিড বর্জ্য থেকে সৃষ্ট ঝুঁকি এড়ানো সম্ভব। কিন্তু বর্জ্য সংগ্রহ, পৃথকীকরণ, অপরাপর বর্জ্যের সঙ্গে তরল বর্জ্য, অটোক্লেভের সীমাবদ্ধতা, পোড়ানোর স্থান না-থাকাসহ নানা প্রতিকূলতা এই নীতিমালার বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফাঁকা স্থান না থাকায় কভিড বর্জ্য মাটিচাপা দেয়া বা ইনসিনারেটর (পোড়ানোর যন্ত্র) অভাবে পুড়িয়েও ফেলা যাচ্ছে না বিধায় অনসাইট পরিশোধন সম্ভব হচ্ছে না। তাছাড়া অনিরাপদ ইনসিনারেটর ব্যবহারের ফলে পরিবেশ প্রতিবেশের ক্ষতি হতে পারে বলে ধারণা করা হয়। এক্ষেত্রে মাইক্রোওয়েভনির্ভর চিকিৎসা বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্রযুক্তি ব্যবহার করে এই কভিড বর্জ্যের পরিবেশবান্ধব শোধন করা সম্ভব, কিন্তু আমাদের দেশে এই ব্যবস্থাপনাও খুব বেশি নেই। যদিও মাইক্রোওয়েভ প্রযুক্তির স্থাপন ব্যয় কিছুটা বেশি, তবুও সামগ্রিক অর্থে সাশ্রয়ী এই প্রযুক্তি অনেক কম সময়ে সংক্রামক বর্জ্যের নিরাপদ নির্গমন নিশ্চিত করতে পারে।

আপাতসময়ে চিকিৎসাকেন্দ্রগুলোয় যথাযথভাবে কভিড বর্জ্যগুলোয় উেস পৃথকীকরণ নিশ্চিত করতে হবে এবং ইনসিনারেটরে আসার আগ পর্যন্ত নিবিড় পর্যবেক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে। এতে স্থানীয় সংক্রমণ প্রতিরোধ সম্ভব হবে। সেই সঙ্গে পরিবেশে করোনা জীবাণু ছড়িয়ে পড়া রোধ করা যাবে। আর বাসাবাড়িতে কভিড বর্জ্য যেন আলাদা ব্যাগে রাখা হয়, সে ব্যাপারে সিটি করপোরেশনের কঠোর পদক্ষেপ প্রয়োজন। এক্ষেত্রে করোনা আক্রান্ত রোগীদের তথ্য সংগ্রহ করে কিংবা কভিড টেস্টের ফলাফলে পজিটিভ রিপোর্ট এলে স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে তাদের কাছে বায়োহ্যাজার্ড ব্যাগ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা যেতে পারে। নচেৎ জনগণের অসচেতনতার কারণে গৃহস্থালি বর্জ্য আর কভিড বর্জ্য একাকার হয়ে যাবেযা মাটি, পানি, বায়ুতে মিশে যাওয়ার সমূহ সম্ভাবনা থাকছে। এতে এই জীবাণু খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করার আশঙ্কা থেকে যাচ্ছে। পাশাপাশি জলজ প্রাণিসম্পদ হুমকির মুখে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। যেহেতু নভেল করোনাভাইরাস একটি উচ্চ মিউটেশন ক্ষমতাসম্পন্ন ভাইরাস, তাই স্থলজ বা জলজ পরিবেশে নতুন রূপে এর মিউটেশন হতে পারে, যা পরবর্তী সময়ে এই সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউ (সেকেন্ড ওয়েভ) নিয়ে ফিরে আসতে পারে। একটু সহজ করে বললে এটা অনেকটা ভূমিকম্পের অব্যবহিত পরে আফটার শক বা আরেকটা ধাক্কার মতো। আর এই সেকেন্ড ওয়েভে ভাইরাসের নতুন রূপ কিছু ক্ষেত্রে আগের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়ে থাকে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্বাহী পরিচালক . মাইক রায়ান গত ১৩ মে একটি প্রেস ব্রিফিং ভাইরাসের মিউটেশন আর সেকেন্ড ওয়েভ নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ২০০৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশন (সিডিসি) কর্তৃক প্রকাশিত একটি নিবন্ধে ১৯১৮-এর ইনফ্লুয়েঞ্জা মহামারী নিয়ে একটি জরিপে দেখা গেছে এর পরবর্তী সব ইনফ্লুয়েঞ্জা কোনো না কোনোভাবে সেই মহামারীর জীবাণুর উত্তরাধিকার বহন করে। অর্থাৎ সেই জীবাণু পরিবেশের সঙ্গে নিজেকে খাপ খাইয়ে নিয়েছে। 

এই মুহূর্তে বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে প্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ হিসেবে গ্রহণ করা বাঞ্ছনীয়। একটি কেন্দ্রীয় বর্জ্য শোধনাগার ব্যবস্থা এখন অতিজরুরি। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় তত্ত্বাবধানে বিভাগীয় শহরগুলোয়ও রকম ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে, যাতে টেকসই বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা যায়। এতে শুধু করোনা মোকাবেলাই নয়, পরবর্তী যেকোনো দুর্যোগ পরিস্থিতিতে এই উদ্যোগ মাইলফলক হিসেবে থাকবে। এরই মধ্যে প্রণীত নীতিমালার সুষ্ঠু বাস্তবায়নের পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে। এতে সরকারি, বেসরকারি, এনজিওসহ সব সংস্থাগুলোকে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক প্লাটফর্মের আওতায় এনে সামগ্রিক কর্মসম্পাদনে ব্রতী হতে হবে। জনগণের মাঝে সংক্রামক বর্জ্যের স্বাস্থ্যঝুঁকির দিকগুলো তুলে ধরে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। প্রত্যেকের স্ব-স্ব অবস্থান থেকে সম্মিলিত এই উদ্যোগ শুধু এই কভিড বর্জ্য মোকাবেলাই নয়, একটি সুন্দর স্বাস্থ্যকর আগামীর নির্দেশকও বটে।

 

মো. মেহেদী হাসান সোহাগ: সহকারী অধ্যাপক

জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড বায়োটেকনোলজি বিভাগ

জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়

আরও