শিক্ষা নিয়ে বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার ছিল উচ্চাভিলাষী, তবে তার কেন্দ্রবিন্দু ছিল স্পষ্ট। শিক্ষাকে শুধু সনদ অর্জনের প্রক্রিয়া না রেখে আধুনিক, আনন্দময়, প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষতাভিত্তিক এবং কর্মসংস্থানমুখী করা।
নির্বাচনী ইশতেহারে পর্যায়ক্রমে শিক্ষাখাতে জিডিপির ৫ শতাংশ বরাদ্দ, ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’, মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম, মাধ্যমিক স্তর থেকে তৃতীয় ভাষা ও কারিগরি শিক্ষা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ফ্রি ওয়াই-ফাই, বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’, মেয়েদের স্নাতকোত্তর ও ছেলেদের স্নাতক পর্যন্ত অবৈতনিক শিক্ষা এবং উপবৃত্তি সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছিল।
এ প্রতিশ্রুতির পেছনে সরকারের ঘোষিত শিক্ষা-দর্শনও ছিল বিস্তৃত। বিদ্যালয়কে মুখস্থবিদ্যা ও পরীক্ষার অতিরিক্ত চাপের জায়গা থেকে বের করে অনুসন্ধান, সমস্যা সমাধান, দলগত কাজ, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতা ও খেলাধুলার কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলা; শিক্ষককে প্রযুক্তির মাধ্যমে আরো কার্যকর করা; বাংলা ও ইংরেজির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রয়োজনীয় ভাষা শেখানো; সাধারণ শিক্ষার সঙ্গে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক দক্ষতা যুক্ত করা; শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও শিল্পখাতের সংযোগ বাড়ানো এবং উচ্চশিক্ষায় গবেষণা, উদ্ভাবন ও উদ্যোক্তা তৈরির পরিবেশ প্রতিষ্ঠা- সব মিলিয়ে একটি ধারাবাহিক মানবসম্পদ উন্নয়ন কাঠামো তৈরিই ছিল লক্ষ্য।
সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের অগ্রগতি বিচার করতে হলে তাই শুধু কতগুলো নতুন প্রকল্প ঘোষণা হয়েছে, তা নয়; ইশতেহারের অঙ্গীকারগুলো বাস্তবায়নের কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে, সেটিই গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে মৌলিক প্রশ্নটি অর্থায়নের, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে শিক্ষাখাতে জিডিপির প্রায় ২ শতাংশ বরাদ্দ করা হয়েছে। আগের বছরগুলোতে এই হার ১.৪ থেকে ১.৭ শতাংশের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।
এটি এখনও ঘোষিত ৫ শতাংশের অনেক নিচে, তবে সরকার পর্যায়ক্রমে সেখানে পৌঁছানোর কাজ শুরু করেছে। প্রাথমিক শিক্ষার ভিত শক্ত করতে PEDP-5 এবং কারিগরি শিক্ষা সম্প্রসারণে ‘BRIDG for TVET’ ও ‘INSPIRE for TVET’-এ বিশেষ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।
অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষায় ৫ হাজার ২২০ শিক্ষককে SEND প্রশিক্ষণ এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ২২ হাজার ৯২৯টি হুইলচেয়ার, শ্রবণযন্ত্র, চশমা ও ক্র্যাচ দেয়া হয়েছে। পার্বত্য ও দুর্গম এলাকার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের জন্য ফ্রি বাস এবং পাহাড়ে ৩২৯টি নতুন টেকনিক্যাল স্কুল-কলেজ নির্মাণের বাজেটও অনুমোদিত হয়েছে।
প্রযুক্তিনির্ভর শিক্ষার প্রধান প্রতিশ্রুতি ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’। প্রাথমিক পর্যায়ে কর্মসূচিটির ২০ শতাংশ প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে। শিক্ষকদের আইটি প্রশিক্ষণ-চাহিদা নিরূপণ, প্রশিক্ষণ মডিউলের খসড়া এবং ১০০টি ডিজিটাল মডেল পাঠ IPEMIS পোর্টালে আপলোড করা হয়েছে। জামালপুরে পাইলটের পর ১৫ জুন ২০২৬ থেকে হোয়াটসঅ্যাপভিত্তিক দৈনিক শিক্ষক উপস্থিতি ব্যবস্থা সারা দেশে চালু হয়েছে।
কারিগরি শিক্ষায় BRIDG for TVET-এর অধীনে প্রস্তাব সংশ্লিষ্ট বিভাগে পাঠানো হয়েছে; মাদ্রাসার ১ লাখ ৬০ হাজার শিক্ষকের জন্য ৭০০ কোটি টাকার SEDP স্কিমও প্রণয়নাধীন।
মাল্টিমিডিয়া শ্রেণীকক্ষেও দৃশ্যমান অগ্রগতি রয়েছে। আগে বিতরণ করা ৬৫ হাজার ল্যাপটপ এবং ৬২ হাজার মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর ও স্পিকার সংস্কার করে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৮২ শতাংশ সংশ্লিষ্ট ক্লাসরুম সচল করা হয়েছে।
কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতায় ৩২৭টি ডিজিটাল ক্লাসরুম স্থাপিত হয়েছে; আরো ৬ হাজার ৬০০টির প্রকল্প প্রস্তুত। ৬৫৩টি মাদ্রাসায় ১ হাজার ৩১৫টি মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম সচল এবং আরও ৫ হাজার ৯০৭টি মাদ্রাসায় ১৪ হাজার ৩০৯টি ক্লাসরুম চালুর কাজ প্রক্রিয়াধীন।
আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারের সঙ্গে শিক্ষাকে যুক্ত করার আরেকটি অঙ্গীকার ছিল তৃতীয় ভাষা। মাধ্যমিক, কওমি ও আলিয়া মাদ্রাসার ষষ্ঠ শ্রেণীর জন্য বিদেশী ভাষার সমন্বিত কারিকুলামের খসড়া প্রস্তুত হয়েছে।
কারিগরি শিক্ষা বোর্ডে কোরিয়ান, জাপানিজ, আরবি ও চায়নিজ ভাষার শর্ট কোর্স চলছে। Skills 21-এর অধীনে ল্যাঙ্গুয়েজ ল্যাবের অবকাঠামো রাখা হয়েছে; খুলনা ও সিলেটে প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণ শেষে ইতালিয়ান ভাষার নতুন স্কিম অনুমোদিত হয়েছে। সরকারের পরিকল্পনায় ভবিষ্যৎ কারিকুলামে JLPT, TOPIK বা IELTS-এর মতো আন্তর্জাতিক মান বিবেচনায় রাখার বিষয়টিও রয়েছে।
কারিগরি শিক্ষাকে মূলধারায় নেয়ার ক্ষেত্রে ষষ্ঠ শ্রেণীর জন্য ‘আমার কারিগরি শিক্ষা’ নামে নতুন পাঠ্যবইয়ের খসড়া শতভাগ শেষ হয়েছে। সচেতনতায় এক লাখ পোস্টার বিতরণ ও সেমিনার হয়েছে। BITAC-এর শিল্পমুখী প্রশিক্ষণে ৩ হাজার ৪৮৮ জন প্রশিক্ষণ পেয়েছেন, যাদের ১ হাজার ৮২২ জনের সরাসরি শিল্পকারখানায় কর্মসংস্থান হয়েছে।
মাদ্রাসা ও ভোকেশনাল ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের সিলেবাসও আধুনিকায়ন করা হয়েছে। অর্থাৎ কারিগরি শিক্ষা বাধ্যতামূলক করার পূর্ণ বাস্তবায়ন এখনও সামনে থাকলেও পাঠ্যক্রম, প্রশিক্ষণ ও চাকরির সংযোগ তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।
ডিজিটাল বৈষম্য কমাতে ৬৫ হাজার ৫৬৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ইন্টারনেটের জন্য মাসে এক হাজার টাকা করে দেয়া হচ্ছে এবং ব্রডব্যান্ড সংযোগের কাজ চলমান। সরকারি কারিগরি ইনস্টিটিউট ও পলিটেকনিকের ই-লাইব্রেরি ও ক্যাম্পাসে শতভাগ ফ্রি ওয়াই-ফাই সচল হয়েছে।
বেসরকারি ২ হাজার ২০০ এমপিওভুক্ত কারিগরি প্রতিষ্ঠানের জন্য বাজেট অনুমোদিত এবং মাদ্রাসায় সংযোগ দিতে SEDP-এর আওতায় ২০০ কোটি টাকার স্কিম তৈরি হয়েছে।
‘বিনামূল্যে স্কুল ড্রেস’ কর্মসূচির জন্য জাতীয় কমিটি ও উপ-কমিটি গঠন, বিদ্যালয় নির্বাচন, শিক্ষার্থীদের মাপ এবং ড্রেসের নমুনা প্রস্তুতের কাজ শেষ হয়েছে। প্রথম শ্রেণীর সব শিক্ষার্থীকে ড্রেস এবং প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের ব্যাগ দেয়ার প্রস্তুতি নেয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ভান্ডারে প্রথম চালানে ১ লাখ ৫ হাজার ড্রেস এবং ২৫ হাজার জোড়া জুতো জমা হয়েছে।
শিক্ষার সঙ্গে পরিবেশ সচেতনতার সংযোগ ঘটাতে ‘ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি’ কর্মসূচিও এগিয়েছে। নির্দেশিকার খসড়া ও বাজেট সংস্থান শেষে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদক ২০২৬ অনুষ্ঠানে চারা রোপণের মাধ্যমে কর্মসূচি উদ্বোধন করেন।
ইতোমধ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৬০৯টি চারা, মেডিকেল ও ডেন্টাল শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে ১৪ হাজার এবং কারিগরি ও মাদ্রাসা বোর্ডের ৩০৮ প্রতিষ্ঠানে আরো ১৩ হাজার ৪২২টি গাছ লাগানো হয়েছে।
‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’-এর অধীনে প্রাক-প্রাথমিক শিক্ষায় ১২৫ কর্মকর্তাকে ToT এবং ২ হাজার ১৯০ শিক্ষককে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। ৬৫ হাজার ৬৩৬টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিখন উপকরণ ও শ্রেণীকক্ষ সাজাতে ৪৯.৯৩ কোটি টাকা বরাদ্দ হয়েছে।
কারিগরি ও মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠানে বছরে দুটি দেয়াল পত্রিকা, বিতর্ক, ক্লাব, স্কিলস কম্পিটিশন এবং ৭৭ প্রতিষ্ঠানে জব ফেয়ারের নির্দেশনা রয়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআর মাদ্রাসার আনন্দময় পাঠ্যপুস্তকের খসড়াও তৈরি করছে।
সর্বাঙ্গীন বিকাশের অংশ হিসেবে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে চতুর্থ শ্রেণী থেকে পাঁচটি নির্ধারিত ক্রীড়া ইভেন্ট বাধ্যতামূলক করার পাঠ্যক্রম ও সিলেবাস চূড়ান্ত হয়েছে। ‘জাতীয় ক্রীড়া উন্নয়ন তহবিল নীতিমালা, ২০২৬’ গেজেট হয়েছে।
৩০০ পেশাদার ক্রীড়াবিদ নিয়মিত সম্মানী পাচ্ছেন, ৩২৫ জন পেয়েছেন স্মার্ট ক্রীড়া কার্ড; সেপ্টেম্বর থেকে ৫০০ জনকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ১,৭৯৭ অসচ্ছল, অসুস্থ বা আহত ক্রীড়াসেবককে অর্থসহায়তা, ১ হাজার ৪২৩ ক্রীড়া শিক্ষার্থীকে বৃত্তি এবং ৬৯ ক্রীড়াবিদকে চিকিৎসা অনুদান দেয়া হয়েছে।
নারী শিক্ষায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রথম কিস্তিতে ৭৪ লাখ ১০ হাজার ৫৭৯ এবং দ্বিতীয় কিস্তিতে ৬৬ লাখ ৭০ হাজার ২৭৩ শিক্ষার্থীর অভিভাবকের মোবাইল হিসাবে মোট ১ হাজার ১৮১.৪৪ কোটি টাকা উপবৃত্তি দেয়া হয়েছে। সাধারণ, কারিগরি, মাদ্রাসা ও উচ্চশিক্ষায় অসচ্ছল নারী শিক্ষার্থীদের মাস্টার্স পর্যন্ত বিনা বেতনে অধ্যয়নের প্রশাসনিক নির্দেশনাও কার্যকর হয়েছে।
শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের আর্থিক বকেয়ার ক্ষেত্রেও বড় পদক্ষেপ এসেছে। সরকার দায়িত্ব নেয়ার সময় অবসর সুবিধা বোর্ড ও কল্যাণ ট্রাস্টে ১ লাখ ২৩ হাজারের বেশি আবেদন ঝুলে ছিল। ১৫ আগস্ট থেকে iBAS++ এর API, NID ও ব্যাংক হিসাব যাচাই এবং EFT ব্যবহার করে সরাসরি অর্থ দেওয়া শুরু হয়েছে।
অবসর সুবিধার আওতায় ২০২২ সাল থেকে অপেক্ষমাণ ৭০ হাজার ১১৯ শিক্ষক-কর্মচারীকে মোট ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকা, ব্যক্তিপ্রতি সর্বোচ্চ ৪ লাখ ১৫ হাজার টাকা এবং কল্যাণ ট্রাস্টে এপ্রিল ২০২৩ থেকে ১০ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত অপেক্ষমাণ ৫৩ হাজার ৪৭৭ জনকে ৪৮৫ কোটি ৮৬ লাখ টাকা, ব্যক্তিপ্রতি সর্বোচ্চ ২ লাখ ৩৯ হাজার টাকা দেওয়ার কার্যক্রম চলছে।
প্রথাগত শিক্ষার বাইরেও ট্যালেন্ট হান্টের পরিকল্পনা নেয়া হয়েছে। তৃতীয় থেকে পঞ্চম শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের জন্য গণিত, মেধা ও বিজ্ঞান অলিম্পিয়াডের নীতিগত খসড়া প্রস্তুত। দীর্ঘদিন স্থগিত জাতীয় প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা নতুন খাতা মূল্যায়ন ব্যবস্থায় সম্পন্ন করে ফল প্রকাশ হয়েছে এবং বৃত্তির অর্থ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মেডিকেল ও ডেন্টাল কলেজেও সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিভা বিকাশে কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদ ও জাতীয় মেলা ক্যালেন্ডার সমন্বয় করা হয়েছে।
মাদ্রাসা আধুনিকায়নে দারুল আরকাম প্রকল্পের ৯৯৮ প্রতিষ্ঠানে ৫৯ হাজার ৮০০ শিক্ষার্থী নৈতিক ও প্রাথমিক বিজ্ঞান শিক্ষা পাচ্ছে। ইসলামিক ফাউন্ডেশনের ৬৯ হাজার ৮৭৪ কেন্দ্রে ২২ লাখ ৮৪ হাজার ৩৮৮ শিক্ষার্থীর শিক্ষা কার্যক্রম চলছে, লক্ষ্যমাত্রার ৯৪ শতাংশ। ৫০টি মডেল মসজিদ ও ইসলামিক কালচারাল সেন্টারের নির্মাণ শেষ হয়েছে এবং মাদ্রাসায় আইটি প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।
উচ্চশিক্ষায় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের আট আঞ্চলিক শাখাকে কেন্দ্রীয় ডাটাবেজে যুক্ত করা হয়েছে। UGC ও শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে সেশনজট কমাতে ডিজিটাল ক্র্যাশ ক্যালেন্ডার ও ই-খাতা মূল্যায়ন ব্যবস্থা বাস্তবায়ন এগিয়েছে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর ৫ শতাংশে নামিয়ে টিউশন ফি কমানোর নির্দেশিকাও জারি হয়েছে।
দুর্গম অঞ্চলে ঝরে পড়া ঠেকাতে ১৫০টি দরিদ্র ও দুর্গম উপজেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং বা মিড-ডে মিল চালু হয়েছে; আরো ৩৪৯ উপজেলায় সম্প্রসারণের DPP চূড়ান্ত অনুমোদনের পর্যায়ে। কক্সবাজার, বান্দরবান ও ভাসানচরের ২ লাখ ২১ হাজার শিশুও ফিডিং কর্মসূচির আওতায় এসেছে। পাহাড় ও চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের আবাসন, যাতায়াত ভাতা ও বিশেষ উপবৃত্তির জন্য ‘INSPIRE for TVET’ অনুমোদন পেয়েছে।
উদ্ভাবন ও উচ্চশিক্ষার অর্থায়নেও নতুন কাঠামো তৈরি হয়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সমমূলধনী ইক্যুইটি অর্থায়নে ‘বাংলাদেশ স্টার্টআপ ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানি পিএলসি’ গঠিত হয়েছে। নতুন ক্লাস্টার ও FSFDMSME পুনঃঅর্থায়ন স্কিম চালু এবং PKSF-এর মাধ্যমে ৫৭৩ কোটি টাকার ক্রেডিট গ্যারান্টি দেয়া হয়েছে। ৯ হাজার ৬০০ তরুণকে AI প্রশিক্ষণের পরিকল্পনার প্রথম ধাপে ১ হাজার ৬০০ জনের অ্যাডভান্স প্রশিক্ষণও শুরু হয়েছে।
বিদেশে মেডিকেল, ডেন্টাল, প্রকৌশল ও কারিগরি উচ্চশিক্ষার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও প্রাইভেট ব্যাংক অ্যাসোসিয়েশন যৌথভাবে ‘স্টুডেন্ট লোন ফ্রেমওয়ার্ক’ চূড়ান্ত করেছে; জামানতের শর্ত শিথিল এবং অফার লেটারপ্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের ঋণ প্রক্রিয়া ডিজিটাল করা হয়েছে।
প্রথম ১৮০ দিনের চিত্র তাই মিশ্র হলেও দিকনির্দেশনা স্পষ্ট। ৫ শতাংশ শিক্ষা বাজেট, সবার জন্য কারিগরি শিক্ষা বা পূর্ণাঙ্গ ‘ওয়ান টিচার, ওয়ান ট্যাব’ এর মতো বড় অঙ্গীকার এখনো সম্পূর্ণ বাস্তবায়িত হয়নি।
কিন্তু বাজেট বৃদ্ধি, পাঠ্যক্রম সংস্কার, ডিজিটাল অবকাঠামো, শিক্ষক কল্যাণ, অন্তর্ভুক্তিমূলক শিক্ষা, দক্ষতা, ভাষা, খেলাধুলা, নারী শিক্ষা, দুর্গম অঞ্চলের সহায়তা এবং উদ্ভাবন অর্থায়নে একাধিক কাঠামোগত কাজ শুরু হয়েছে।
পরবর্তী চ্যালেঞ্জ হবে এই সূচনাগুলোকে প্রকল্প ও নির্দেশিকার পর্যায় থেকে প্রতিটি বিদ্যালয়, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর বাস্তব অভিজ্ঞতায় রূপ দেয়া। শেষ পর্যন্ত সরকারের শিক্ষা-অঙ্গীকারের সাফল্য সেখানেই পরিমাপ হবে।
অনন্য আফরোজ: ঢাকাভিত্তিক সাংবাদিক ও বিশ্লেষক। রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ক বিশ্লেষণ ও লেখালেখিতে আগ্রহী।