ডলারের দাম একদিনে সর্বোচ্চ বৃদ্ধির রেকর্ড! গতকাল বুধবারের সংবাদটি আমাদের জন্য মোটেও সুসংবাদ নয়। টানা পাঁচ সপ্তাহ স্থির থাকার পর আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজারে আবার ডলারের দাম বাড়ল। এবার একলাফে বেড়েছে ২৫ পয়সা, যা একদিনে সর্বোচ্চ বৃদ্ধির রেকর্ড। গতকাল বুধবার আন্তঃব্যাংকে ডলারের দামে ওঠে ৮৬ টাকা ৪৫ পয়সা। খোলাবাজারের ডলারের দাম আরো চড়া, প্রায় ৯৩ টাকা। যদিও দুদিন আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রতি ডলারের বিক্রয়মূল্য দেয়া হয়েছে ৮৬ টাকা ২০ পয়সা। এছাড়া ব্যাংকেও নগদ ডলারের দাম এখন ৯১ টাকা। অর্থাৎ অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে সবচেয়ে বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে মার্কিন ডলার। বেশ কয়েকবছর ধরে মার্কিন ডলারের দাম ধারাবাহিভাবে বাড়লেও তার সঙ্গে বাংলাদেশী টাকার বর্তমান বিনিময় হার এখন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। ডলারের এমন দাম বাড়ার কারণে হু হু করে বাড়ছে আমদানি পণ্যের দামও। এভাবে চলতে থাকলে অনেক আমদানীকারক খুব শিগগিরই যথাযথভাবে ব্যাংকের দায় পরিশোধ করতে পারবে না। তখন আমদানীকারকদের পাশাপাশি বাণিজ্যিক ব্যাংকও লোকসানের মুখে পড়বে। প্রতিনিয়ত ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাওয়ায় রফতানিকারক ও রেমিটাররা লাভবান হলেও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আমদানিকারক ও সাধারণ মানুষ। কারণ ডলারের দাম বৃদ্ধির কারণে আমদানি খরচ বাড়লে পণ্যমূল্যও বাড়ে। এরই মধ্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন পন্যের দাম বেশ বেড়েছে। এতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। এমন সময়ে একদিনে ডলারের সর্বোচ্চ দর বৃদ্ধি সমস্যাকে আরো প্রকট করবে।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে কেন বেড়েছে ডলারের
দাম?
প্রবাসী আয়ের নিম্নমুখি প্রবণতা
ও আমদানি ব্যয়ের অস্বাভাবিক বৃদ্ধিতে গত বছরের পাঁচ আগস্ট থেকে হঠাৎ করেই ডলারের দাম
বাড়তে শুরু করে। এজন্য প্রতিনিয়ত ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমে যাচ্ছে। অথচ বাংলাদেশে
মহামারির সময়ও ডলারের দাম বাড়েনি। এখন ডলারের দাম বৃদ্ধির পেছনে যুক্তি কী, এমন প্রশ্নের
জবাবে বাজার সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত সেসময় থেকে বিমান যাত্রা এবং পণ্য পরিবহন স্বাভাবিক
হতে শুরু করে। ওই সময় থেকে পেশাগত কাজ, শিক্ষা, চিকিৎসা এবং ভ্রমণের জন্য বিদেশে যাতায়াত
শুরু হয়। এর আগে আমদানি কম ছিল। এখন করোনা পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসায় আমদানি বিশেষ
করে ভারী যন্ত্রপাতির আমদানির জন্য এলসি করতে হচ্ছে। খাদ্যপণ্য এবং শিল্পের কাঁচামাল
আমদানিও বেড়েছে। এছাড়া করোনাভাইরাসের টিকার মূল্য পরিশোধ করতে হচ্ছে। সার্বিক বিবেচনায়
সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের ওপর চাপ পড়েছে। এছাড়া কভিড-১৯ পরিস্থিতির তীব্রতা গত কয়েকমাসে
কমে আসায় বিভিন্ন দেশে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা শিথিল হচ্ছে, যে কারণে মানুষ বিদেশ ভ্রমণে
বেশি যাচ্ছে। এর সঙ্গে বেড়েছে বৈদেশিক মুদ্রার চাহিদা। এছাড়া গত কয়েক মাসে রেমিটেন্স
ও রপ্তানি আয় হ্রাসের সঙ্গেও ডলারের মূল্য বৃদ্ধির সম্পর্ক থাকতে পারে বলে মনে করেন
অনেকে।
যদিও ব্যাংকাররা বলছেন,বিশ্ববাজারে
তেলসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম বেড়েছে ফলে ডলারের চাহিদা বেড়েছে, তবে সেই তুলনায় আমদানি
নেই ডলারের। অন্যদিকে গেলো কয়েক মাসে কমেছে বিদেশ থেকে আসা রেমিটেন্সও।
এর আগেও বাজারে ডলারের সংকট দেখা
দিয়েছে। অবশ্য সে সময় বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন পলিসি গ্রহণ করে তা সহনীয় পর্যায়ে রাখতে
চেষ্টা করেছে। অনেকে মনে করছেন এমন পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের উচিত আরো বেশি ডলার
সরবরাহ করা। কিন্তু বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সরকারের বিভিন্ন মহল থেকে আগের মত উল্লেখযোগ্য
কোনো কার্যকর পদক্ষেপ এবার দেখা যাচ্ছে না।
অতিরিক্ত আমদানী ব্যয়, কম রেমিটেন্স,
ব্যালেন্স অব পেমেন্টের গ্যাপ বৃদ্ধি ও গার্মেন্টস রফতানিতে কম্পিটিটিভনেস বাড়াতে প্রয়োজনে
টাকার পূনর্মূল্যায়ন করার পাশাপাশি সব ব্যাংকের তা সঠিকভাবে পালন করা উচিত বলে মনে
করছি। আর সেটি হলে আমদানীকারকরা সেই অনুযায়ী তার পণ্যের খরচ ও মূল্য নির্ধারণ করে দেনা
লিপিবদ্ধ করবে। এর ফলে এ ধরনের অনিশ্চিত পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হবে না।
মূলত ডেফার্ড ও ইউপাস লেটার অব
ক্রেডিটের (এলসি) মাধ্যমে ছয় মাসের ক্রেডিটে ঋণপত্র খোলেন আমদানীকারকরা। কোনো আমদানীকারক
কোনো ব্যাংকে যে ঋণপত্রের বিপরীতে পরিশোধ করছে তা কম-বেশি ছয় মাস আগের বিল। ছয় মাস
আগে টাকার বিপরীতে ডলারের দর ছিল ৮৪ টাকা থেকে ৮৬ টাকার মধ্যে। সে রেট ধরেই আমদানীকারকরা
পণ্যের খরচ এবং মূল্য ঠিক অর্থাৎ গড়ে ৮৫ টাকা করে পণ্য বাজারে বিক্রি করে দিয়েছেন।
সেই ৮৫ টাকা হারে যে ঋণপত্র ছয় মাস আগে নির্ধারিত হয়েছিল তা এখন শোধ করতে হচ্ছে ৯১
টাকা ৭০ পয়সা থেকে ৯৩ টাকা।
কোনো আমদানীকারকের যদি এক লাখ ডলারের একটি এলসি পেমেন্ট সেটেলমেন্ট করতে হয় তবে তাকে আজকের দিনে অতিরিক্ত প্রায় সাত লাখ টাকা বেশি দিতে হচ্ছে, যা শতকরা আট ভাগেরও বেশি। কিন্তু প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সব পণ্যে আট শতাংশ নিট মুনাফা সম্ভব নয়। যদিও এমন বিরূপ পরিস্থিতিতে আমদানীকারকরা সংকটে পড়লেও লাভবান হচ্ছেন রফতানিকারকরা।
এদিকে ব্যাংকগুলোতেও চলছে ডলারের সংকট। বেধে দেয়া দামের চেয়ে বাড়তি দাম দিয়েও চাহিদানুযায়ী মিলছেনা ডলার। অতিরিক্ত আমদানি উস্কে দিচ্ছে এই সংকট। করোনা পরিস্থিতি উন্নতি হওয়ার পর থেকে দেশে অস্বাভাবিক গতিতে বাড়ছে বিভিন্ন পণ্যের আমদানি। মূলধনী যন্ত্রপাতি, শিল্পের কাঁচামাল, শিল্পের মধ্যবর্তী পণ্য, খাদ্যপণ্য, জ্বালানি তেলসহ সব পণ্যের আমদানিই এখন বেশ ঊর্ধ্বমুখী। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে পণ্য আমদানি বেড়েছে প্রায় সাড়ে ৪৯ শতাংশ। একই সময়ে বিভিন্ন পণ্যের এলসি বেড়েছে প্রায় ৪৬ শতাংশ। ফলে আমদানিতে ডলারের চাহিদা বেশ বেড়েছে। কিন্তু ব্যাংকের কাছে ডলার আসার উৎস রেমিটেন্স প্রবাহ কমছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম নয় মাসে রেমিটেন্স কমেছে প্রায় ১৮ শতাংশ। এদিকে আমদানিতে ডলারের চাহিদা বৃদ্ধির পর থেকে ব্যাংকগুলোর কাছে ডলার বিক্রি অব্যাহত রেখেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। চলতি অর্থবছরের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যাংকের কাছে ডলার বিক্রি করা হয়েছে প্রায় ৪৫০ কোটি ডলার।
সাধারণত বাজারে ডলারের চাহিদা ও
যোগানের উপর ভিত্তিতে মার্কিন ডলারের সঙ্গে বাংলাদেশী টাকার বিনিময় মূল্য নির্ধারিত
হয়ে থাকে। ডলারের দাম বেড়ে গেলে আমদানী ব্যয় বেড়ে যায়। ফলে পণ্যের দামও আনুপাতিক হারে
বৃদ্ধি পায় যা মূলত ভোক্তাদের উপর বর্তায়, এতে আমদানীকারকদের কোনো দায় থাকেনা। এ ধরনের
পরিস্থিতি চলতে থাকলে তা দেশের অর্থনীতি এবং দেশের মানুষের জীবনমানের উপর বিরূপ প্রভাব
ফেলবে।
সম্প্রতি আমদানী কমাতে বাংলাদেশ
ব্যাংকের নতুন এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে ঋণপত্রের মার্জিন (কিছু ক্ষেত্র ব্যতিত) নূন্যতম
২৫ শতাংশ রাখতে হবে। এটি নতুন সমস্যা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। কেননা ব্যাংক-গ্রাহক সর্ম্পকের
ভিত্তিতে ভালো গ্রাহকদের ঋণ পরিশোধের ধারাবাহিক সক্ষমতার ভিত্তিতে মার্জিন এর হার নির্ধারিত
হয়ে থাকে যা ক্ষেত্র বিশেষে শুন্য ভাগও হয়ে থাকে। নতুন এই বিজ্ঞপ্তির কারণে আমদানীকারকদের
নগদ অর্থের সংস্থান আরো বাড়াতে হবে এতে কস্ট অব ক্যাপিটাল আরো বেড়ে যাবে। অতিরিক্ত
মার্জিন প্রদান করাতে আমদানীকারক ও ভোক্তা সাধারণ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ব্যাংকগুলো বিশেষ
সুবিধা পাবে। আবার ব্যাংকের এ ধরনের সুবিধার বিপরীতে গ্রাহকের কোনো সুবিধা প্রদানের
নির্দেশনা ওই বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়নি। সব মিলিয়ে দেশের আমদানিকারকরা এক অসম পরিস্থিতির
মধ্যে পড়েছে, যা একদমই সঠিক নয়। দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য হলেও এমন পরিস্থিতি
চলতে দেয়া উচিত না।
তবে এখানে একটি বিষয়ে গুরুত্বারোপ
করা জরুরি বলে মনে করছি। তা হলো কেবল সরকার ও বাংলাদেশ ব্যাংকের ওপর ঢালাওভাবে সব দায়ভার
চাপিয়ে দেয়া যুক্তিযুক্ত হবে না। ব্যবসায়ীদেরও করণীয় আছে বলে মনে করি। যেমন, ডেফারড
এলসি বা ইউপাস এলসি ব্যবহার করে পণ্য আমদানি করার পর যে দায় সৃষ্টি হয় সেটি যেমন ডলারে
রাখা যায় তেমনি হেজিং পদ্ধতির মাধ্যমে লোকাল কারেন্সি তথা বাংলাদেশী মুদ্রায় রাখা যায়।
তবে অতিরিক্ত প্রিমিয়ামের কারণে অনেক ব্যবসায়ীই এটি করতে সক্ষম হন না কিংবা উৎসাহিত
হন না। অর্থাৎ তখন ইউপাসের রেটে পেমেন্ট হবে কিন্তু পেমেন্ট চুক্তি হবে বাংলাদেশী মুদ্রায়।
ফলে আমরা রেট কম পাবো কিন্তু বাংলাদেশী মুদ্রায় চুক্তি হওয়ায় বৈদেশিক মুদ্রার ওঠানামার
হারের লোকসান হওয়ার ঝুঁকিটা ব্যক্তি কিংবা ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের কাছে না থেকে ব্যাংকার
তথা ব্যাংকিং প্রনালীতে চলে যাবে। আর এমন হলে ব্যবসায়ীরা ঝুঁকি থেকে দূরে থাকতে পারবে।
তবে এখানে ব্যাংকের করণীয় হচ্ছে হেজিং সিস্টেমের অতিরিক্ত প্রিমিয়াম কমানো যায় কিনা
সেটি নিয়ে চিন্তা করা এবং হেজিং ইনস্ট্রুমেন্ট পদ্ধতিকে কীভাবে আারো জনপ্রিয় করা যায়
সেটি নিয়ে চিন্তা করা।
সম্প্রতি শ্রীলংকার সামগ্রিক অর্থনীতি
ধসের কারণে আমরা অতিরিক্ত আতঙ্কিত হয়ে পড়েছি এবং ডলার মার্কেট নিয়ন্ত্রণে বাংলাদেশ
ব্যাংক তার রিজার্ভ খরচে অতিরিক্ত হিসেবি হয়ে পড়েছে। সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করলে
আমাদের এখনই এতটা আতঙ্কিত হবার তেমন কোনো কারণ নেই। রফতানির বিপরীতে আমদানি ব্যয়ের
যে আধিক্য আমরা দেখছি, একটু গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে তা এতটা প্রকট মনে হবে না। আমদানীর
পরিমান যতটুকু বেড়েছে তার সিংহভাগ হচ্ছে তৈরী পোশাকের মধ্যবর্তী পণ্য যা সময়ের ব্যবধানে
পুনরায় রপ্তানী হবে এবং রপ্তানীর প্রবৃদ্ধি বাড়াবে যা আমাদের জন্য স্বস্তির বিষয়। সুতরাং
আমদানী ব্যয় বাড়ার কারণে ডলার সংকট দেখা দিয়েছে তা এককভাবে সঠিক নয়। এখানে কোনো সেন্ডিকেশন
কাজ করছে কিনা তা গভীরভাবে পর্যবেক্ষন করা জরুরি। তবে রেমিটেন্স প্রবাহ কমে যাওয়ার
বিষয়টি সত্যিই উদ্বেগজনক। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি।
উদ্বেগের এই অংশটুকু বাদ দিলে ডলার
বাজার নিয়ন্ত্রনে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে প্রয়োজনীয় কিছু ডলার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে
সরবরাহ করলে চলমান সংকট দূর হবে এবং টাকা-ডলারের বিনিময় মূল্য যৌক্তিকভাবে পূর্নমূল্যায়ন
করলে আমদানীকারকদের সংকট দূর হবে বলে সংশ্লিষ্টদের মতামত।
ধরা হয়ে থাকে কোনো দেশের তিন মাসের
আমদানি ব্যয় পরিশোধের সমান ডলার রিজার্ভ থাকলে তা স্ট্যান্ডার্ড। বর্তমানে বাংলাদেশ
ব্যাংকে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের পরিমান ৪৪ বিলিয়ন ডলার আর বাংলাদেশের মাসিক আমদানী
ব্যয় প্রায় সাত বিলিয়ন ডলার। সেই হিসেবে ছয় মাসের অধিক আমদানী ব্যয় মেটানোর সক্ষমতা
রয়েছে যা ওয়ার্ল্ড স্ট্যান্ডার্ড এর ডাবল। সুতরাং বর্তমান সংকট মোকাবেলায় দুই বিলিয়নের
মত ডলার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে সরবরাহ করলে আতঙ্কিত হওয়ার মোটেও কোনো কারণ থাকার কথা
নয়।
বিভিন্ন প্রকল্পের যে দুর্নীতির
খবর সংবাদ মাধ্যমে আমরা জানতে পারছি তার ফলে কিছু অসাধু কর্মকর্তার হাতে যদি অগাধ অর্থের
আগমন ঘটে থাকে, রেগুলেটারি বিভিন্ন বাধ্যবাধকতার কারণে এসব অর্থ দেশে বিনিয়োগ করা সম্ভব
হয় না ফলশ্রুতিতে এসব অর্থের চূড়ান্ত পরিণতি হয় পাচার। কিছু অর্থ ব্যয় হয় অপ্রয়োজনীয়
ভোগ বিলাসে যা মুল্যস্ফীতি বাড়ায় আর মুল্যস্ফীতি বাড়লে মুদ্রার মান কমবে বিপরীতে ডলারের
দাম বাড়বে। দেশীয় বিকল্প পণ্য থাকা সত্ত্বেও এমন অনেক বিলাসী পণ্য দেশে আমদানী হচ্ছে
যা নিষিদ্ধ করা জরুরি। অনিয়ন্ত্রিত প্রকল্প ব্যয় ও প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় কমানো জরুরি।
অন্যদিকে প্রবাসী রেমিটেন্স বাড়ানোর লক্ষ্যে কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে, অবৈধ
উপায়ে প্রবাসীদের দেশে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়ার ওপর নজরদারী ও বৈধ চ্যানেলে অর্থ পাঠানোর
উপর ক্যাশ ইনসেনটিভ বাড়াতে হবে, খোলা বাজারে ডলার লেনদেনে বিধি নিষেধ আরোপ করতে হবে,
জরুরি প্রয়োজন ছাড়া ডলার কেনায় নিষেধাজ্ঞা আরোপ করতে হবে। একইসঙ্গে সব বিষয় বিবেচনা
করে মার্কিন ডলারের এমন দর নিয়ন্ত্রণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যথাযথ পদক্ষেপ নেয়া অতি
জরুরি বলে মনে করছি।
লেখক: ফেলো চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট
ও কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্ট