সাম্প্রতিক সময়ে ইউরোপ ও যুক্তরাজ্যজুড়ে অভূতপূর্ব তাপদাহ, তীব্র খরা এবং দাবানলের প্রভাব সরাসরি কৃষি খাতের ওপর পড়েছে। এতে খাদ্যনিরাপত্তায় মারাত্মক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে। সপ্তাহান্তের বৃষ্টিপাত সাধারণ মানুষের জন্য খানিকটা স্বস্তি আনলেও ক্ষতিগ্রস্ত চাষীদের জন্য তা অত্যন্ত অপ্রতুল ও অনেক দেরিতে আসা সহায়তা মাত্র। এ প্রতিকূল আবহাওয়ার ফলস্বরূপ শস্য উৎপাদনে ব্যাপক ধস নেমেছে। যুক্তরাজ্যের সার্বিক কৃষি ব্যবস্থায় গম, ওটস এবং স্প্রিং বার্লির উৎপাদন স্বাভাবিক গড় পরিমাণের চেয়ে বহু নিচে নেমে গেছে। সাধারণত গরমের মৌসুমে যুক্তরাজ্যের বাজারে ব্রোকলি এবং বিভিন্ন সবুজ শাকসবজির যে চাহিদা থাকে, তা স্থানীয় চাষীদের পক্ষে সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
একই চিত্র ফুটে উঠেছে মহাদেশীয় ইউরোপেও। ইতালির ধান চাষীরা তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে সম্পূর্ণ ধানখেত হারিয়ে চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন, যা অনেককে ব্যবসা গুটিয়ে দেয়ার বা দেউলিয়া হওয়ার ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। অর্থাৎ পরিবর্তনশীল আবহাওয়ার কারণে ফসল উৎপাদনের এ ধারাবাহিক বিপর্যয় কেবল কৃষকদের জীবন-জীবিকাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, বরং বিশ্বজুড়ে খাদ্য সরবরাহ শৃঙ্খল ও সাধারণ মানুষের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস ও নিরাপত্তার ওপর বড় ধরনের সংকট তৈরি করছে।
[ব্লুমবার্গ থেকে সংক্ষেপিত অনুবাদ]
লারা উইলিয়ামস: ব্লুমবার্গের আবহাওয়া ও জলবায়ুবিষয়ক কলামিস্ট