বাংলাদেশের শিল্প ও রফতানি কাঁচামালের প্রধান সরবরাহকারী চীন। ভৌগোলিক অবস্থানের সুবিধা নিয়ে শিল্প-বাণিজ্য ও প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের কারণে গোটা বিশ্বই চীনের সঙ্গে কৌশলগত বাণিজ্যিক সম্পর্ক গড়তে চায়। তবে ভারসাম্যপূর্ণ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক গড়ার জন্য বাণিজ্য ঘাটতি কমিয়ে আনা অনেক জরুরি। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দায়িত্ব নেয়ার পর প্রথম সফর হিসেবে চীনে যান। সফরে উন্নয়ন সহযোগিতা, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, শিক্ষা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ এবং গণমাধ্যমে সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্পর্ক জোরদারের লক্ষ্যে একাধিক চুক্তি, সমঝোতা স্মারক ও অন্যান্য সহযোগিতা-সংক্রান্ত দলিলে স্বাক্ষর হয়। এখন বাণিজ্য ঘাটতি নিরসনের কৌশল তৈরির দিকে আমাদের মনোযোগ দিতে হবে।
চীন বিশ্বের প্রায় ১৪-১৫ শতাংশ রফতানি বাণিজ্য করে। চীন সফরে স্বাক্ষরিত চুক্তি ও সমঝোতাকে সঠিকভাবে কাজে লাগিয়ে রফতানি ও বিনিয়োগ আকর্ষণ করার পাশাপাশি দেশটি থেকে প্রযুক্তি হস্তান্তর বাড়াতে হবে। তাতে চীনের বাজারে বাংলাদেশের রফতানি বাণিজ্য দ্বিগুণেরও বেশি করা সম্ভব। টানা ১৫ বছর ধরে চীন আমাদের বড় বহির্বাণিজ্যিক অংশীদার। ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড সেন্টারের (আইটিসি) তথ্যমতে, ২০০৮ সালে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৪৬০ কোটি ডলার। ২০২৫ সালে তা বেড়ে ২ হাজার ৪১০ কোটি ডলারে পৌঁছেছে। এ প্রবৃদ্ধি মূলত একমুখী। ২০২৫ সালে আমরা চীন থেকে ২ হাজার ২৮০ কোটি ডলারের পণ্য আমদানি করেছিলাম। এর বিপরীতে চীনে রফতানি হয়েছে মাত্র ১৩০ কোটি ডলারের পণ্য। বিশাল এ বাণিজ্য ঘাটতি কেবল নীতিগত ব্যর্থতার ফল নয়। এর পেছনে গভীর কাঠামোগত কারণ রয়েছে। এশিয়া প্যাসিফিক ট্রেড এগ্রিমেন্টের (এপিটিএ) আওতায় ২০২২ সালের সেপ্টেম্বর থেকে চীন বাংলাদেশের ৮ হাজার ৯৩০টি পণ্যে শূন্য শুল্ক সুবিধা দিচ্ছে। এমন অগ্রাধিকার থাকার পরও বাংলাদেশ রফতানি আয় বাড়ানোর প্রত্যাশিত সাফল্য পায়নি।
চীনের বাজারে যে ধরনের পণ্যের চাহিদা আছে তেমন পণ্য মান নিশ্চিত করে উৎপাদন করতে না পারলে রফতানি বাড়বে না। এর প্রমাণ সম্প্রতি আয়োজিত দশম ‘কুন মিং এক্সপো’। এ প্রদর্শনীতে থিম কান্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশ বিপুল সংখ্যক ডেলিগেশন নিয়ে যোগ দিয়েছিল। কিন্তু ১০-১২টি পণ্য ছাড়া অধিকাংশ পণ্যই চীনের বাজারের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে প্রদর্শন করা যায়নি। চীনের বাজারে দীর্ঘমেয়াদের রফতানি সম্ভাবনা ধরে রাখার মতো পণ্য নির্বাচনে আমাদের দুর্বলতাই বাণিজ্য ঘাটতির কারণ
বাণিজ্য ঘাটতি কমানোয় ব্যর্থতার অনেকগুলো কারণ রয়েছে। চীনা ভোক্তাদের বহুমুখী ও উচ্চমানসম্পন্ন চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পণ্য উৎপাদন করার ক্ষেত্রে আমরা ব্যর্থ। চীনের সঙ্গে রফতানি বাণিজ্যে বাংলাদেশ এখনো তৈরি পোশাক খাতনির্ভর। চীন নিজেই বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ পোশাক উৎপাদন ও রফতানিকারক দেশ। ফলে এ খাতে তাদের আমদানির চাহিদা (১ হাজার কোটি ডলার) সীমিত। তাই তৈরি পোশাক রফতানি করে চীনের বাজারে বাণিজ্য সম্প্রসারণের সুযোগ খোঁজা সঠিক কৌশল নয়। অবশ্য সম্প্রতি তারা উচ্চ মূল্য সংযোজিত তৈরি পোশাক রফতানিতে ঝুঁকেছে। এটা একটা সুযোগ। কারণ চীনে প্রায় ১৫-২৫ শতাংশ মানুষ নিম্ন মধ্যবিত্ত শ্রেণীর। তাদের লক্ষ্য করে কম মূল্য সংযোজিত তৈরি পোশাক রফতানির সুযোগ আছে। তবে চীনে চাহিদার বহুমুখীকরণ হওয়ায় প্রতিনিয়ত পরিবর্তন ও সংশোধনের মাধ্যমে বাজারকে ধরে রাখতে হবে।
এপিটিএর আওতায় শূন্য শুল্ক সুবিধার জন্য ন্যূনতম ৪০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজন (লোকাল ভ্যালু অ্যাডিশন) থাকা জরুরি। বাংলাদেশের রফতানিযোগ্য পণ্যের অধিকাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করা কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এ শর্ত পূরণ করা কঠিন হয়ে যায়। আবার শুল্ক সুবিধা থেকে প্রতিযোগিতামূলক সুবিধাও সীমিত (৬ দশমিক ৭ শতাংশ)। এ সীমিত সুবিধা দিয়ে ভিয়েতনাম বা ইতালির মতো নিকটতম প্রতিযোগীদের সঙ্গে চীনের বাজারে প্রতিযোগিতা করার জন্য যথেষ্ট নয়। চীনা বাজারে প্রতিযোগিতা করার মানসিকতা গড়া জরুরি। কারণ বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের বাণিজ্য ঘাটতি শুধু অর্থনৈতিক নির্ভরতার সূচক হিসেবে দেখা যাবে না। দেশের শিল্প খাত, বিশেষত তৈরি পোশাক শিল্প চীনের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খলের অংশে পরিণত হয়েছে। দেশের তৈরি পোশাক খাত চীন থেকে আনা কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল হলেও এখন আমাদের কিছুটা পরিবর্তন আসছে। বাংলাদেশের কিছু কিছু শিল্প কৃত্রিম ও মানবসৃষ্ট তন্তু উৎপাদনে এগিয়ে আসছে। এ পণ্যই ভবিষ্যতে লাভজনক। এখন চীন থেকে আমাদের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সহায়তা আদায় করার চেষ্টা করতে হবে। তাহলে দেশের শিল্পের উন্নয়ন হবে।
বৈদেশিক বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণের মাধ্যমে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়িয়ে পণ্য বহুমুখীকরণ করতে হবে। চীনের বাজার অনেক বড়। আবার চীনের সহযোগিতার পরিধিও বিস্তৃত। চীনের সহযোগিতাকে কাজে লাগিয়ে তাদের থেকেই বিনিয়োগ আকর্ষণ করে বাণিজ্য ঘাটতি মেটানো সম্ভব। বাংলাদেশে বিদ্যুৎ খাত, বস্ত্র ও তৈরি পোশাক এবং ওষুধ ও রাসায়নিক শিল্প—এ তিন গুরুত্বপূর্ণ খাতে সর্বাধিক চীনা বিনিয়োগ হয়েছে। চীন এখনো বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম এফডিআই উৎস হলেও অন্য এশীয় দেশের তুলনায় এ বিনিয়োগের পরিমাণও কম। এই যেমন ২০২৪ সালে ভিয়েতনাম এক বছরে চীনের কাছ থেকে ২৫০ কোটি ডলারেরও বেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করেছিল। কম্বোডিয়ার মোট এফডিআইয়ের ৫০ শতাংশই আসে চীন থেকে। তুলনামূলক বিচারে ২০২৫ সালে নেদারল্যান্ডস আমাদের সবচেয়ে বড় এফডিআই উৎস ছিল। ওই বছর নেদারল্যান্ডসের বাংলাদেশে বিনিয়োগের পরিমাণ ছিল ৫৪ হাজার ৪৬১ লাখ ডলার, যা মোট এফডিআই প্রবাহের ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ।
এরই মধ্যে আনোয়ারার বেলচূড়া এলাকায় ৭৮৩ একর জমিতে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চলের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ ও চীনের জিটুজি উদ্যোগের এ প্রকল্পে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি বিদেশী বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে। যদি এগুলো ভালোভাবে বাস্তবায়ন করা যায় তখন আমাদের বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর কৌশলও বহুমুখী করা যাবে। আমাদের বিকল্প কিছু পণ্যে মনোযোগ দিতে হবে। বিল্ড ২০২৩ সালে চীনের বাজারে বাংলাদেশের রফতানি সক্ষমতা বিশ্লেষণে একটি গবেষণা পরিচালনা করে। তাতে দেখা যায়, দেশটিতে বাংলাদেশের রফতানি প্রধানত তৈরি পোশাক (৪২ দশমিক ৭৮ শতাংশ) এবং পাট ও পাটজাত পণ্যের (১৮ শতাংশ) ওপর নির্ভরশীল। অথচ চীনে আমদানীকৃত শীর্ষ ২০ পণ্যের দিকে তাকালে দেখা যাবে সেগুলো একেবারেই ভিন্ন। এ জায়গায় আমাদের মনোযোগ বাড়ানো দরকার।
চীনের আমদানিকৃত পণ্যগুলো আমরা রফতানি করতে পারব এমনটি এখনই ভাবা যাচ্ছে না। তবে যদি আরো তিন-চারটি পণ্য রফতানিযোগ্য করা যায় আর চীনের বাজারে একটা শক্ত অবস্থান গড়ে, তাহলে আমাদেরই উপকার হবে। এজন্য সমন্বিত কৌশল আরো শক্তিশালী করতে হবে। এমন না যে চীনের বাজারে বহুমুখী পণ্য রফতানির সক্ষমতা আমাদের একেবারেই নেই। চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, হিমায়িত ও তাজা মাছ, মানবচুলজাত পণ্য, কাঠ ও কাঠজাত পণ্য, প্লাস্টিক, আকরিক, স্ল্যাগ ও অ্যাশ, তামা, অ্যালুমিনিয়াম, ওষুধ ও বৈদ্যুতিক সরঞ্জামের মতো পণ্যের চাহিদা অনেক বেশি চীনের বাজারে। এ প্রতিটি পণ্যের জন্য আলাদা কিন্তু সমন্বিত রফতানি কৌশল থাকা দরকার। কারণ আমাদের নিকটতম প্রতিবেশী ভারতের রফতানি ঝুড়ি তুলনামূলকভাবে বৈচিত্র্যময় ও ভারসাম্যপূর্ণ হওয়ার পরও দেশটি চীনের মোট আমদানির শূন্য দশমিক শূন্য ৬ শতাংশ সরবরাহ করেছে। এদিকে ভিয়েতনাম করেছে ৩ দশমিক ২৪ শতাংশ। তারা মূলত বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতিকে চীনের বাজারে প্রবেশ করাতে চেয়েছে। থাইল্যান্ডও চীনের আমদানি চাহিদা পূরণের জন্য অত্যন্ত পরিকল্পিত ও কার্যকর রফতানি কৌশল নিয়েছে।
এসব প্রতিযোগী দেশ আসিয়ান-চীন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি ও রিজিওনাল কমপ্রিহেনসিভ ইকোনমিক্যাল পার্টনারশিপের (আরসিইপি) আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধা পেতে থাকবে। আর এলডিসি উত্তরণের পর বাংলাদেশ এ সুবিধা হারিয়ে তীব্র প্রতিযোগিতার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে পারে। এজন্য বাংলাদেশকে যত দ্রুত সম্ভব আরসিইপির সদস্যপদ আদায়ের চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। এমনিতে এখন আমরা যেসব পণ্য রফতানি করি সেগুলোর চাহিদা চীনা বাজারে তুলনামূলক কম—এটি সত্য। তবে রফতানি উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানোর সুযোগ এখনো আছে। এ সুযোগ ব্যবহার করে আমাদের নিয়মিত রফতানি আয় অব্যাহত রাখা যাবে। একই সময় চীনের বাজারে উচ্চ চাহিদা রয়েছে এমন কিছু পণ্য উৎপাদন ও রফতানি বাড়ানোর চেষ্টা শুরু করতে হবে। প্লাস্টিক, অ্যালুমিনিয়াম, নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর ও বয়লার, তামা, অপটিক্যাল পণ্য, কাঠ ও কাঠজাত পণ্য, নানা রাসায়নিক পণ্য, উইগ ও মানবচুলজাত পণ্য ছাড়াও অনেক পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা আমাদের কিছুটা হলেও আছে।
সম্প্রতি চীনের নয়টি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখিয়েছে। বিনিয়োগ নিশ্চিত হলে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য উন্নয়নের সম্ভাবনা ব্যাপক। কিন্তু বিনিয়োগ আকর্ষণের নির্ভরযোগ্যতা তৈরির জন্য দেশে বিদ্যমান জ্বালানি সংকট এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের তারল্য সংকটের মতো অস্বস্তিকর সমস্যার সমাধান করতে হবে। চীনের বাজারে যে ধরনের পণ্যের চাহিদা আছে তেমন পণ্য মান নিশ্চিত করে উৎপাদন করতে না পারলে রফতানি বাড়বে না। এর প্রমাণ সম্প্রতি আয়োজিত দশম ‘কুন মিং এক্সপো’। এ প্রদর্শনীতে থিম কান্ট্রি হিসেবে বাংলাদেশ বিপুল সংখ্যক ডেলিগেশন নিয়ে যোগ দিয়েছিল। কিন্তু ১০-১২টি পণ্য ছাড়া অধিকাংশ পণ্যই চীনের বাজারের চাহিদার সঙ্গে সংগতি রেখে প্রদর্শন করা যায়নি। চীনের বাজারে দীর্ঘমেয়াদের রফতানি সম্ভাবনা ধরে রাখার মতো পণ্য নির্বাচনে আমাদের দুর্বলতাই বাণিজ্য ঘাটতির কারণ।
চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক একীভবন বাংলাদেশের কূটনৈতিক সক্ষমতাকে শক্তিশালী করে এবং একই সময়ে সীমাবদ্ধও করে। ফলে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়, যাকে ‘হেজিং সমতা’ বলা যেতে পারে। এক্ষেত্রে অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা ও ভূরাজনৈতিক নমনীয়তার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে হয় এবং পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সেই ভারসাম্যকে নিয়মিত পুনর্নির্ধারণ করতে হয়। এ বিষয়কে গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেয়া দরকার।
বাংলাদেশ চীনের সম্পৃক্ততাকে অর্থনৈতিক আধুনিকায়নের জন্য কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে সক্ষম হতে পারে, তবে এ কৌশলের দীর্ঘমেয়াদি সাফল্য নির্ভর করবে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের ওপর। বাণিজ্য কাঠামোর বিদ্যমান বৈষম্য দূর করা, প্রকৃত প্রযুক্তি স্থানান্তর নিশ্চিত করা এবং বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শাসন ব্যবস্থাগত চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা আরো শক্তিশালী করা এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ
ফেরদাউস আরা বেগম: সিইও, বিল্ড—একটি পাবলিক প্রাইভেট ডায়ালগ প্লাটফর্ম